somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাঠ প্রতিক্রিয়া অথবা পাঠ প্রতিক্রিয়া নাঃ মন্মথের মেলানকোলিয়া

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এখন পর্যন্ত বইমেলা থেকে একটাই বই কিনেছি। বইয়ের নাম মন্মথের মেলানকোলিয়া। লেখক হাসান মাহবুব। আজ সেটা পড়ে শেষ করলাম। এবং পড়ার পর দুটো শব্দ মাথায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে খেলা করেছে। শব্দদুটো হলো “ইন্টারেস্টিং” এবং প্রেডিক্টেবল”। প্রেডিক্টেবল কারন হাসান ভাইয়ের গল্পের সাথে আমি পরিচিত। তাই তার প্রথম উপন্যাস পড়ে আমি ধাক্কা খাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এবং যেহেতু প্রস্তুত ছিলাম তাই অবাক হইনি। এবার কিছু পর্যবেক্ষণের কথা বলা যেতে পারে। অর্থাৎ পড়ার সময় এবং পড়ার পর যা মনে হয়েছে তা সোজাসাপ্টা ভাবে বলে দেওয়া।


হাসান ভাইয়ের লেখার সাথে যেহেতু পূর্বপরিচিত তাই ধরেই নিয়েছিলাম এই বই একটানে পড়ে ফেলা যাবেনা। অর্থাৎ মনোযোগ ধরে রাখা যাবেনা। এবং পড়া শুরু করার পর ঘটনা ঠিক তাই ঘটল। কারন একঘেঁয়ে বর্ননা। এবং সেটা অনেকটা নিজের সাথে নিজের কথোপকথন টাইপ। অর্থাৎ লেখক এখানে পাঠককে অপশন দিয়ে দিচ্ছে। পড়বা কি পড়বা না? পড়লে মনোযোগ দাও। আরো গভীরে যাও। মেটাফোর নিয়ে একটু খেলে দেখ! আমি পড়া না থামিয়ে আরো গভীর মনোযোগে মন্মথের মেলানকোলিয়ায় ডুব দিলাম। যদিও ব্যাপারটা স্বতঃস্ফূর্ত ছিলনা।


উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ন এক চরিত্র হচ্ছে বিট্টু নামক এক কুকুর। বিট্টু তার চারপাশের জগত সম্পর্কে কী ভাবছে বা কী ফিল করছে এসবের বর্ননা আছে। অর্থাৎ একটি কুকুরের চোখ দিয়ে জগতকে দেখার চেষ্টা। কাজটা করার জন্য লেখককে কুকুর নিয়ে বেশ কিছু পড়ালেখা করতে হয়েছে বলে মনে হয়। যার ছাপ এ লেখায় আছে। কিছু কিছু তথ্য লেখক নিজেই সুকৌশলে তার চরিত্রগুলোর মুখ বা ভাবনা দিয়ে বলিয়েছে। যাইহোক বিট্টুকে পড়ার সময় সুনীলের কবিতার বিখ্যাত কিছু লাইন মনে পড়ে যাচ্ছিল। “আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি, মানুষের ভেতরের কুকুরটাকে দেখব বলে”। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিট্টু কি আসলেই কুকুর নাকি একটা ডিভাইস? যে ডিভাইসকে একদল মানুষের মাঝে ফেলে দিয়ে মূলত মানুষকেই ব্যাখা করার চেষ্টা করা হয়। এই ব্যাখ্যার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এবং এই সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে লেখকের পক্ষপাতিত্ব আছে। অবসেশনও হতে পারে।


কাজলী খুব একটা কমপ্লেক্স চরিত্র না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তার চরিত্র খুব স্পষ্ট। এবং তার পরিনতিও অনুমান করা যাচ্ছিল। তবে কাজলীকে দিয়ে বা তাকে বিশ্লেষন করে আরো তুলনামূলক কমপ্লেক্স কিছু ব্যাপার বুঝার বা ফিল করার সুযোগ আছে। আরো সহজ করে বললে বলতে হয় অদৃষ্টবাদের সাথে মানুষের অসহায়ত্বের যে সম্পর্ক তার একটা সিম্বল হচ্ছে এই কাজলী চরিত্র।


মেটাফোরের ভালো খেলা আছে। পাজল আছে। সমাধানও আছে। লেখকের অবচেতন মনও আছে। যা চরিত্রগুলোর চেতন মনে ক্রীয়াশীল।


সব মানুষই পশু। কিন্তু সব পশুই মানুষ না।

বাংলা সাহিত্য নিয়ে আমার পড়ালেখা খুব কম। তবে যা পড়েছি তার ভিত্তিতে বলা যায় হাসান ভাই নিজের মত করেই একটা ইউনিক স্টাইলের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন। মনের অন্ধকার অলি গলি এক্সপ্লোর করে তাকে মেটাফোরিক পাজলে রূপান্তর করা খুব সহজ কাজ নয়। তবে একজন পাঠক হিসাবে সেটা দেখা এবং বুঝার চেষ্টাটা আমার কাছে উপভোগ্য।






সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৯
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অমিতাভ-রেখার প্রেম ও বাস্তবতা: রূপকথার রাজা-রাণীর মিথ

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:০৩



দিল্লির ছেলে অমিতাভ বচ্চনের ছোটবেলা কেটেছে এলাহবাদে। বিজ্ঞানের ছাত্র অমিতাভ পড়াশুনার পাট চুকিয়ে চাকরী নেন কলকাতার বার্ড কোম্পানীতে সেলস এক্সিকিউটিভ পদে। মাস মাইনে ৪৮০রূপি।কিন্তু চাকরীতে মনোনিবেশ করতে পারছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার নির্যাস

লিখেছেন নূর-ই-হাফসা, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:৩৪



প্রতি রাতে ঘুম ভেঙ্গে
ঘুমের ঘোরে দেখি,সে আছে সঙ্গে।
প্রতি বিকেল কেটে যায় আনমনায়,
দূর থেকে দেখি সে ডাকছে ইশারায়;
সন্ধাবেলায় ফুল ছিড়ে জুড়ে দিই খোঁপায়
অবাক হয়ে ভাবি,তার হাসি কেন এত রাঙ্গায়!
রাত্রিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ যেন পুরো বাংলার প্রতিধ্বনি !

লিখেছেন কথাকথিকেথিকথন, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:৩৫


খোকার মুখের বুঝতে না পারা প্রথম বুলি
একটি বাংলা শব্দ
খোকা শুনে এসেছে কতকথা জন্মের পূর্বে
মাতৃগর্ভে গুটিসুটি হয়ে বসে ছিলো
তারও বেশ ইচ্ছে হয়েছিলো কিছু বলার
সেই ইচ্ছেটুকু ছিলো বাংলাভাষা।
সে কানপেতে ছিলো-
বৃদ্ধ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

''শুভ জন্মদিন'' প্রিয় মনিরা'পু

লিখেছেন কি করি আজ ভেবে না পাই, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০০



সাদাসিধে,মুখচোরা
ক'বে কথা মেপে;
ফেবুতেও বাড্ডেটা
রেখেছে সে চেপে!

ভাব যেনো তোদের কি
উপভোগি একা তা;
কেক-পার্টি খাওয়ানোর
অত কি হে ঠ্যাকাটা?

তুমি চলো ডালে আপু
মোরা চলি পাতাতে;
খাতাতে টুকেছি আগে
'জিজু'সনে আঁতাতে।

লাগবেনা পার্টিসার্টি
কেমন মিনসে ছাই;
হরষে-পুলকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই ফাল্গুনে, এই ফাল্গুনে

লিখেছেন মলাসইলমুইনা, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৮:৫৪



সেই ফাল্গুনে, হালকা শীতের সকালে ছিল
ধুলো, ধোঁয়া, কুয়াশা আর গোলা বারুদের গন্ধ |
ছিল পুলিশ, সেনাবাহিনীর গুলি, ধরপাকড়, জেল জুলুম
রাজপথ উত্তাল ছিল তবু ভাষার দাবি, বিক্ষোভে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×