আমার প্রিয় পোস্ট

বেঁচে থাকাই জীবন নয়, সত্যকে জানাতেই আছে জীবন!

সুমন প্রবাহনের কবিতা (কাব্যগ্রন্হ : পতন ও প্রার্থনা) ও স্বার্থপর আমরা !

১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩১

শেয়ারঃ
0 1 0

সুমন প্রবাহন ফাসিকাস্ঠে দন্ডায়মান এক যুবক, ভাবালুতায় নয়, জীবনের গভীর ভাববোধের অন্তর্স্থল থেকে তীব্র যন্ত্রনার ফাসিকাস্ঠে আজন্মের মত জ্বলিয়ে রেখে গেল চরম আত্মকেন্দ্রিক এই পৃথিবীটাকে। পৃথিবীর প্রস্থান যতই দ্রুত হয় ততই দমবদ্ধ পাকস্থলীতে একটা পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকা কুয়াশাছন্ন মনের পর্দায় জেগে ওঠে মায়ের চুলের গন্ধ, অনাগত শিশুরা, যারা আর আসবেনা তাদের কথা, আদিমতার চরমে যাদের জন্ম অথচ নিস্পাপ নিটোল তাদের অবয়ব। জীবনের শেষ মুহুর্তেও বেঁচে থাকার প্রচন্ড ইচ্ছাও জাগতিক বাস্তবতার কাছে আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে আসে, জাগিয়ে তোলে প্রস্থানের গল্প। স্মৃতির বর্ষা জেগে ওঠে মনে, ভাগ্যবিধাতা, ঈশ্বর অথবা প্রকৃতিরূপে শুরু হয় জেনারেলের সাথে দীর্ঘ আলাপন। রাত একটা পনের মিনিট। প্রার্থিত হয় পাখি হয়ে আকাশে উড়ে ডানে বায়ে ভর করে টলতে টলতে অস্পৃশ্যলয়ে গমনের ইচ্ছা অথচ সেখানেও জেগে ওঠে ধ্রুবতারা দেখার আশা, সুন্দরকে যেন ভুলতে পারে না এই ভাবুক চেতনা। অভিমানে ডুকরে কেদে ওঠে মনটা, চেনা পৃথিবীর তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও ভুলে থাকার প্রানপণ চেষ্টাতেও যেন জেনারেল তার সমগ্র চেতনাকে ধারন করে রাখে। চলে গিয়েও থেকে যাবার প্রত্যাশাটুকু জ্বলতে থাকে বুকের ভেতর। নিকোটিনের তৃষ্না বেড়েই চলে, জীবন সায়ান্হে এক কাপ চায়ের জন্য ছটফট করে শরীরটা। শরীরটা যতই বিদ্রোহ করুক না কেন, শেষভাগে এসে সিগারেটের শেষ টানের মত সবকিছুকে আকড়ে ধরতে চায় এই আত্মা। বন্চিত হৃদয়ের কান্না গোপনেই থাকে, কাওকে বিব্রত করার ইচ্ছা আর হয় না। অধিকার থাকলেও আজ সেসব আজ অতীত। অধিকারে আজ অনুপ্রবেশের সাইনবোর্ড ঝুলতে থাকে। ক্রমশ ভুল হতে থাকে সবকিছুতেই, হয়ত কবিদের এমনই হয়। হয়তো। হয়তোবা তাদের সেই ভুলগুলোই সমাজের আর্তনাদ, আমাদের স্বার্থপর জগতের রাজটিকার শলতেতে আগুন লাগিয়ে দেয় নিরবেই। নাহ, এই শলতেতে আমাদের চৈতন্যবোধ ঘটেনি। ঘটবেও না। তবুও কবিরা বলে যাবে এই পোড়া ভালবাসার কথা, পাখির ডানায় ভর করে আকাশ দেখার কথা, লাবিবের বালু-ট্রাক ভরা খেলার কথা। হয়ত অনেক কিছুই বলেছে কবি। কতটুকুই বা আমরা ধরতে পেরেছি। আসলে কিছুই পারি নাই। কবির বোধের সাথে একাত্ব হতে পারার মত শুদ্ধতা আমাদের নেই। জন্মঘোর যেখানে মৃত্যুর আহবানে জর্জড়িত সেখানে আমরা কোনদিনই কোন কবির কান্না বুঝতে পারব না। বন্ধু হলেও পাশে দাড়াব না। নিজের কেরিয়ারকে ধরে থাকব। থাকুক কবি , থাকুক তার জগতে। জেনারেলকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে বলুক তাকে তার আর্তবেদনার কথা, আমাদের তাতে কি ! আমরা গোপনে মুখ ঘুরিয়ে এড়িয়ে যাব সব চৈতন্যবোধের সুরকে, যেখানে কবি শুয়ে থাকে বাশির সুরে কাত হয়ে। আমরা খাবার টেবিলে বিপ্লব তুলব, আফগানিস্থানের সব জ্বালা একদিনেই দূর করে দেব। থাকুক কবি তার বুকেই, ঈশ্বরের বুকে, সমগ্র চেতনাকে নিয়ে তার সুখের দেশে। কবি পারলাম না। ক্ষমা কর !




রাত একটা পনেরো মিনিট
সুমন প্রবাহন


ফাঁসির কাঠে ঝুঁকে রইলাম এবং নিঃশব্দে দীর্ঘ শ্বাস
প্রশ্বাস আমার পাকস্থলি ঘুরে আসে
মায়ের চুলের গন্ধ মনে আসে
শিশুদের কথা ভাবি কল্পনার
এত সুন্দর আমার শিশুরা
আবারও জীবন পেতে ইচ্ছে হয়
মনে হয়
সুদীর্ঘ আদিম হতে এই যে মানবযাত্রা
এর শেষফল এই শিশু
যতনের হীরামণি !
বর্ষা জানালায় ভিড় করে স্মৃতিচারণে।
এখন কুয়াশায়-
চাদরমুড়ি ভাঁপা পিঠা
জেনারেল আমার মৃত্যুযন্ত্রণা বেশিক্ষণ স্থায়ী না হয়
জেনারেল দ্রুত; দ্রুত করো
আর আত্মায় ভর করে চলে যাবো
নিঃশব্দে অস্পৃশ্যালয়ে
ধ্রবতারা দেখে
কখনও ডানে ভর করি কখনও বামে
আর আমি তো সূক্ষ্ম সুতোয় ভর করে
টলে টলে হাঁটি
ধীরে খুব ধীরে হাত সামলে নেই
উৎপল আমায় জানিয়েছে এমনই হয়
তবু আমি সমুদ্রপাড়ে দীর্ঘ প্রলাপে প্রলাপে ভাবি
শেষ নেই
জেনারেল এসব কথা হয়তো আপনি জানেন
আপনার উপস্থিতিতে আমি বলে উঠি, ইয়েস্ স্যার
এবং হাঁটি, বাম ডান... বাম...
এবং আমি ফাঁসি কাঠে
জেনারেল ফাঁসির কাঠে আমার দীর্ঘশ্বাস
আপনি মনে রাখবেন।
আমার ফায়ারবক্সটা খুঁজে পাচ্ছি না
জেনারেল সিগারেট
জেনারেল ম্যাচটা ধরুন
আমার হাতটা উড়ে গেছে।
জেনারেল মাথায় আমার নিকোটিনের আহ্বান
কে জানে জন্মঘোর পেয়েছে বুঝি
তবু ভালবাসি
হাত থেকে সিগারেট খসে পড়ে
জেনারেল আমি অজানায় কাঁপি
জেনারেল আমি অজানা
জেনারেল প্রধানমন্ত্রী আমার খবর রাখেন
জেনারেল বিরোধী দলীয় নেত্রী
খুব শাসিয়ে গেলেন আমাকে
জেনারেল তবু সিগারেটের অবশিষ্টাংশে
ঠিকই চুমুক দেব
হয়তো খাবো আর এক কাপ চা
হয়তো জোর করে বলবো, মামস্,
বলো না স্কুলে কি হলো ?
লাবিব, আসো আরও কিছুণ বালু-ট্রাক ভরি
জেনারেল আপনার হাতের স্পর্শে
জোনাকি পোকা নিভে গেল
জেনারেল আমি
কখনও চোখের জল
দেখাবো না কাউকে
বাঁশি বাজে খুব
বাঁশি বাজে খুব
আমি সুরের পাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়ি
জেনারেল এমন হয়
আমাদের অর্থ্যাৎ কবিদের
আপনাদের হয় কিনা জানি না
এখনও রাত জাগা কতটুকু স্থির হবে
স্থির করতে পারিনি
এখনও ভোর কতটুকু হবে স্থির করতে পারিনি
প্রায়ই আমি কিছুই স্থির করতে পারি না
বুঝলেন জেনারেল
আমার হয়, আপনার মত জানাবেন
আপনার সাথে
দুপুরের খাবার খেতে খেতে
মাংসের পেশি খুব ধীরে ধীরে
চিবুতে চিবুতে আমরা
রাষ্ট্র-বিপ্লব নিয়ে ভাববো না হয়
ভাববো আফগানিস্থান অতীতে কিংবা
বর্তমানে কতটা স্বচ্ছল আছে
আর পিপাসা
রাত যত গভীর হয়
আমার কণ্ঠনালী বেয়ে নামে পিপাসা
পিপাসার পুত্র আমি
বাবার নাম আকাশ নীল
এসব কথা যদি রাষ্ট্র হয়ে যায়
খুব একটা ভাববো না আমি
বরং ভাববো
এ বছর বোমার আঘাতে কতজন মানুষ পঙ্গু হলো
ভাববো; হয়তো কিছুই ভাববো না
বিবশ হয়ে বসে দেখবো
চড়ুই বাঁধে বাসা
প্রান্তে আমার ঘরের
শালিকেরা উড়ে গেছে কবে বহুদূরে।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: সুমন প্রবাহন  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:১৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৯
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: কবিতাটি পড়লাম স্তব্ধ হলাম আরেকবার।

সুমনের প্রতি আপনার মূল্যায়নটি খুবই ভালো লাগলো।

"কবির বোধের সাথে একাত্ব হতে পারার মত শুদ্ধতা আমাদের নেই। জন্মঘোর যেখানে মৃত্যুর আহবানে জর্জড়িত সেখানে আমরা কোনদিনই কোন কবির কান্না বুঝতে পারব না। বন্ধু হলেও পাশে দাড়াব না। নিজের কেরিয়ারকে ধরে থাকব। থাকুক কবি , থাকুক তার জগতে। জেনারেলকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে বলুক তাকে তার আর্তবেদনার কথা, আমাদের তাতে কি !"

এইসব দুঃখ বিজারিত সত্য কথা আর কতবার বিভাজিত করবে আমাদের অভিন্ন সত্তা হতে??

কেমন আছেন??
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৩

লেখক বলেছেন: কবিতাটি যতবারই পড়ি, ততই খারাপ লাগে। কিছু আর তখন ভাল লাগে না। আমাদের মত মানুষ যতটুকু ভাল থাকতে পারে ততটুকু আছি। আমি সুমনকে মুল্যায়ন করার মত যোগ্যতা রাখি না। ও আমাকে হাত ধরে শিখিয়েছিল কবিতা কি। তারপরেও এখনও একটু বুঝি না। কবিতার মত সুমনকেও যে বুঝতে পারি নাই, তা প্রথমবারের মত বুঝতে পারলাম, যখন আর শুধরানোর কিছু নাই।

১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫২

লেখক বলেছেন: হমম

৩. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৮
খিলালী বলেছেন: পেটে ভাত নাই পান খাইয়া মুখ লাল। কবিতা পড়তে হইবো না। আর কয়দিন পরে পাছার কাপড় এমনেই জেনারেলের চামচাগ হাতে থাকবো। ফালতু পোস্ট। মাইনাস।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:২৯

লেখক বলেছেন: জুসি লেজ দেখা যায়।

১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৫. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:০২
চাঙ্কু বলেছেন: এই রকম কবিতা মিস করলাম কিভাবে ??

সোহাগ ভাই @ অনেক ধন্যবাদ সুন্দর কবিতাটা পোষত করার জন্য ।

আছেন কেমন ?? ভালানি ??
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৩১

লেখক বলেছেন: নাহ, ভাল নাই। সত্য কথাটাই বললাম :(

৬. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৩২
চাঙ্কু বলেছেন: সোহাগ ভাই @ ভালা নাই কেন ?? কাহিনি কিতা ??
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৩৪

লেখক বলেছেন: জানি না। আজকে ছুটির দিন, তবুও বস ছুটি দেয় নাই।

৭. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৩৪
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: অসাধারণ!! একটা কবিতা।
দুইবার পড়লাম। মুগ্ধ !!!!!!!!!!!!

আপনার কাব্যিক সমলোচান দারুন!!
ভালো লাগলো

শুভেচ্ছআ
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৩৬

লেখক বলেছেন: সাইনে কয়দিন ধরে খুব কম আছি। কারও সাথে দেখা হয় না, কারও পোস্ট পড়া হয়না। তবুও আপনি যে এই পোস্টটা পড়ে গেলেন , খুব ভাল লাগল। আমি চাই সবাই এই কবিতাটা পড়ুক।
আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা।

৮. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:০৯
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: এত সুন্দর করে লেখা।সুমন কে নিয়ে অনেকগুলো লেখা পড়েছি।আজকের লেখাটা এত সুন্দর।মন খারাপ লাগলো।মন ছুঁয়ে গেলো।
কেনো চলে গেলো ছেলেটা?
এত অভিমান বুকে নিয়ে?
কবিতাটা অসাধারণ.......
ওর জন্য অনেক অনেক প্রার্থণা।

ভালো থেকো সোহাগ।ব্যস্ততায় ভালো থেকো।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর শুভকামনা।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন: আপা এই অভিমান আর ভাংগা যাবে না। ও যদি চাইতো গাড়ি হাকিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারত আজ লন্ডন আমেরিকায় ফ্রান্সে। ও কোনদিনই বৈষয়িক দিকে যেতে চাই নি। ওর ধরনটাই ছিল অন্যরকম, সবার মাঝে চোখে পড়ে। মা মারা যাবার আগে ওর যে ছবিটা আমার মনে ভাসে তাতে ওর চোখ জ্বলতো জেতার জন্য, পাবার জন্য। ও অনেক মানুষেরই উপকারই করেছে জীবনে, কিন্তু সময়ে ও ছিল অনেক একা। আর ওর দরকারের সময় আমি চলে আসি বিদেশে আমার কেরিয়ারের জন্য। ও আর আমি ছিলাম একাত্বক, কিন্তু জীবনের চাপে অনেক দূরে সরে গিয়েছিলাম। নিজেকে ক্ষমার করতে পারি না। ভাল লাগে না।

৯. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:১৯
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: এই লেখা টি ৭ আগষ্ট ২০০৮ দৈনিক যায়যায়দিন এ ছাপা হয়।
কবি সুমন প্রবাহন এর অশেষ ভালোবাসা আমার।-ফকির ইলিয়াস
--------------------------------------------------------------------------------

অচেনা অন্ধকারে /সরদার ইব্রাহীম
======================

পতন ও প্রার্থনা। সুমন প্রবাহন
দি ঢাকা প্রিন্টার্স। জুন ২০০৮
পৃষ্ঠা ১০৪। দাম ১০০ টাকা
======================

কবি বলছেন, কখনো ঢুকে পড়ি এমন চোরাবালিতে। যে পথ করতে পারি না। ভীষণ ক্লান্ত হই তখন/দীর্ঘশ্বাস এসো না কাছে। তুমি গোপনভাবের বয়ঃসন্ধিতে ঝুলে থাকো। ভেতরে বেড়ে ওঠা নানা মানুষ নানা কথা। নানাভাবে বেড়ে ওঠে একই ঠিকানায়। কচুঘেঁচু যাই ভাবি/ভাবনা সত্যি (রোদের গন্ধ)।
কবি কিন্তু শুধু ভাবনার জগতেই বিচরণ করেন না, ছুটে বেড়ান মেঘে মেঘে এভাবেÑ এখন নিশি রাতে/আমার কবি হারিকেনের চিমনি বেয়ে/গলে গলে ছড়িয়ে পড়ে/কিষানি বধূর কাঁকন-লেপা দুবেলা উঠানে/তালগাছের পেছনে ওই তো নীল আকাশ/আর আকাশের পাড়ে একা চাঁদ জাগে। জেগে জেগে ছুটে বেড়ায়/মেঘে মেঘে। (জেগে জেগে ছুটে বেড়ায় মেঘে মেঘে)।
মেঘে মেঘে ছুটতে ছুটতে আচমকা হাত বাড়িয়ে আকাশ ছিঁড়তে ইচ্ছে হয় কবির। আকাশের নীলে হাত বাড়িয়ে আকাশ ছিঁড়ি। যেন কাগজ। (ঠেলে ধরি ঢেউয়ের দেয়াল) কবি কিন্তু শেষ পর্যন্ত আকাশ ছিঁড়তে পারেননি। তার ভেতরে জৈবিক কামনা তীব্র হয়ে ওঠে। বরং কামনায় নিজের ভেতরে নিজে ঘুরে উঠি/আমি নই আমারই কেউ/ওর শরীর ছুঁয়ে স্তনবৃন্ত নাভি/যাবতীয় মন্থনে মন্থনে/যুব এক ঘুম শুয়ে পড়ি/এভাবে দিন কাটে/অপরাধী হতে আমিও জানি, হয়তো না/কিন্তু পা/আমার পা সরে না। (পেন্সিল স্কেচ)
কাব্যগ্রন্থ ‘পতন ও প্রার্থনা’। এ গ্রন্থে কবির সচেতন আত্মা জেগে ওঠে। কবির কামনা উদগ্র রূপ লাভ করে ঠিক, কিন্তু ওই পর্যন্তই। ভেতরের প্রতিবন্ধকতায় কবির কণ্ঠে উচ্চকিত হতে থাকে, আর ঈশ্বর তুমি কৃপা করো,/দরজা খোলো/আমি নিজের পথেই দাঁড়াতে চাই/সম্মানের গালিচায়/বস্তুবাদী পৃথিবীর সাফল্য আমি জানি/জেনে যতোটা অবাক/তারও চেয়ে গভীর বিস্ময়/ওই সূর্যের আলো। (কয়েক মিনিটের মুখ)
ইশ্বরের কৃপা শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় কিনা নিশ্চিত নই কিন্তু কবির ভেতর থেকে ‘আশা’ হারিয়ে যায়। আশা নামে একটি যুবক হারিয়ে গ্যাছে/তার বয়স তেইশ/পরনে আকাশি জামা মেঘকালো প্যান্ট/তাহার গায়ের রঙ গাঢ় নীলে লাল/অমনোযোগী হৃদয়ে/খুরের গভীর চিকিৎসা,/তার এক চোখ লক্ষ্মীটেরা।/(নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি)।
কবি কিন্তু আবারো ফিরে আসেন। মস্তিষ্কের অসংখ্য আত্মার ভিড় ঠেলে;/তখনও ফেরি আসেনি/পথে পথে মানুষের জিজ্ঞাসা/কে তুমি (ভ্যান চালক)। কবি একদম চুপ, কোনো উত্তর নেই। তাকে চিনে বলতে বলছেন বাইরের আবরণে নতুন মনের পীড়ানে। নিরুত্তর/দেহের আসবাবে চেনে কেউ? কেউবা মনের আসবাবে/কোন আসবাবে চাও তুমি?/যদি দ্যাখো বহিরাবরণ/আমি নই অন্য কেউ/যদি দ্যাখো মনের পীড়ানে/আমি সেখানে স্বয়ম্ভু/খোদার আসনে/(ভ্যান চালক)।
এক সময় মৃত্যুক্ষুধা জেগে ওঠে। যাচ্ছে তারা যাত্রী দল; পশ্চিম অভিমুখে সওদাগর/দেশে দেশে বিক্রি তাদের/যাবো/আমরাও যাবো ঠিক হয়তো বাণিজ্যে নয়/যেভাবে প্রাচীন প্রজ্ঞা দূরগামী হতো। (মৃত্যুক্ষুধা)।
লোকান্তরিত হয়ে কবি চলে যান প্রিয়জনের সান্নিধ্যে। অন্ধকার রাতে নিজস্ব নক্ষত্রের পাহারায়/অনেক চেনা কবরের অচেনা অন্ধকারে/কঙ্কালের গলা জড়িয়ে ধরি/মা, আমার গায়ে খুব জ্বর! (পতন)। কঙ্কালের গলা জড়িয়ে ধরে গায়ে জ্বর নিয়ে অলৌকিক বোধে স্থবির হয়ে যান কবি। স্থবির হয়ে আমি আশ্চর্য জহুরি/অলৌকিক বোধে বধির। কবি যেখানে একা একদম একা। কেউ নেই তার চারপাশে। কেউ নেই একা একক মহাবিশ্বে/আপন গ্যালাক্সির অখ্যাত পাড়ায়। (অলৌকিক বোধে বধির)। কবিই আবার বলছেন তিনি একা নন। অলৌকিকতার আওয়াজ তাকে ঘিরে ধরে। আমায় ঘিরে উৎসব নাচায় মৃত কঙ্কালেরা/চোখে চোখ রেখে পায়ে আমিও নাচি/আর হঠাৎ বেরিয়ে পড়ি কবর ফেটে/দেখো নখ গজিয়েছে, দেখো দাঁত/কানামাছি ভোঁ ভোঁ যাকে পাবি তাকে ছোঁ/যে আমাকে ছোঁয় তাকে মৃত্যু ছোঁবে। (আওয়াজ)।
৬৫টি কবিতা দিয়ে সাজানো তার কাব্যগ্রন্থ। ক্ষণজন্মা কবি বিচরণ করেছেন বাস্তবতা, লৌকিকতা এবং অলৌকিকতার সব মোড়কে। কখনো সাজিয়েছেন ‘রূপকথা’ কখনো বা আবার ‘আগুন ভাগ্যে’ কখনো বা বুকের বোতাম খুলে দিয়েছেন, ‘বুকের বোতাম খুলে দিলেই মাছ ছিল।’ পোশাক পরেছেন কমরেডের এবং সাম্যের গান গেয়েছেন ‘আমাদের পোশাক, কমরেড’ এ। সবশেষে প্রার্থনা করেছেন, তবে তো মাকেই বলি যাবতীয় ব্যর্থ গান ব্যথার কথকতা/চোখের সামনে রাত্রি হয় ভোর যন্ত্রণাকাতর/যেখানে আমি তার সাথে দেখা হবে কবে?/ ভোর দাও প্রভু/দেখা দাও যাপনলিপিতে/যেখানে উত্থান যে কোন পতিত পার্বণে/তোমারই আশায় দিন বয়ে যায়/ঝরাপালকে ঝরাপাতায়। (পতন ও প্রার্থনা-২)
কবি গ্রন্থটি মা দিলারা বেগম পারুলকে উৎসর্গ করে বলেছেন, অন্ধকার রাতে নিজস্ব নক্ষত্রের পাহারায়/অনেক চেনা কবরের অচেনা অন্ধকারে/কঙ্কলারের গলা জড়িয়ে ধরি/মা, আমার গায়ে খুব জ্বর।
=========================================












১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: ইলিয়াস ভাই কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেব লেখাটি শেয়ার করার জন্য যে জানি না। পেপার পড়াই হচ্ছে না। এত সুন্দর রিভিউ মিস করে ফেলছিলাম। অনেক গর্ব লাগছে আমার বন্ধুটার জন্য। ভাল থাকবেন। অনেক শুভেচ্ছা আপনাকে।

১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: হমমমম .কেমন আচ ?

১১. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:২০
সাইফুর বলেছেন: অনেক দিন পরে দেখলাম
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪

লেখক বলেছেন: একটু বিজি আছি

১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪

লেখক বলেছেন: ভাল নাইরে বন্ধু..।

১৩. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৬
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
এ বছর বোমার আঘাতে কতজন মানুষ পঙ্গু হলো
ভাববো; হয়তো কিছুই ভাববো না
বিবশ হয়ে বসে দেখবো
চড়ুই বাঁধে বাসা
প্রান্তে আমার ঘরের
শালিকেরা উড়ে গেছে কবে বহুদূরে।

কবিতাটা দারুন।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৭

লেখক বলেছেন: এই কবিতা টিকে যাবে আজীবনের মত,।

১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৮

লেখক বলেছেন: হমম

১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:২৬

লেখক বলেছেন: আরজু ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব উপকার করলেন

১৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৪৭
রাতিফ বলেছেন: সোহাগ ভাই, খুব সত্য কিছু কথা বলে ফেললেন.........আসলেই আমরা বড় স্বার্থপর:(
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:১২
চাচামিঞা বলেছেন: মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: কবিতাটি পড়লাম স্তব্ধ হলাম আরেকবার।
আমার বাড়ী অনেকদিন যাননা যে, কেমন আছেন?
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৫

লেখক বলেছেন: ব্লগে কম থাকা হয়, টাইম পাচ্ছি না। ভাল থাকবেন।

১৮. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৭
উত্তরাধিকার বলেছেন:
শুভ কামনা।
এই পাতাটি সাথে করে নয়ে গেলাম।
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া। আপনাকেও অনেক শুভকামনা

১৯. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩০
অন্তিম বলেছেন: কবি তোমায় সালাম।
অসাধারন:(। প্রিয়তে রেখে দিলাম।

ভাইয়া আপনি কি জানেন কবিট বইটি প্রকাশ পেয়েছে কিনা?
ভাল থাকবেন।
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৭

লেখক বলেছেন: জ্বী ভাইয়া, বইটা আপনি এখন শাহবাগের মার্কেটগুলোতে পাবেন।

"সুমন প্রবাহন স্বরন প্রয়াস" এর ব্লগে গেলে আপনি বিস্তারিত জানতে পারবেন।

২০. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:৪১
রাশেদ বলেছেন: হু! কিছু বলার নাই।

ভালো থাইকো।
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৭

লেখক বলেছেন: তুমিও ভাল থাইক।

২১. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:৪১
রাশেদ বলেছেন: ভাবীকে সালাম দিয়ো।
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৮

লেখক বলেছেন: এখন ল্যাবে। বাড়িতে যাবার পর সালাম পাঠাইয়া দিমু

২২. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪২
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: দারুন কাজ করছো দেখি!
তো ভালো নাই কেন?
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৮

লেখক বলেছেন: কিছু কিছু সময় থাকে যখন মানুষ ভাল থাকতে পারে না।

২৩. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:১৩
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: সোহাগ ভাই এতো সুন্দর করে এর আগে কেউ কবিতা নিয়ে পর্যবেক্ষণ লিখেছে কিনা আমার জানা নেই। তবে, আপনার লেখাটি খুব খুব ভালো লাগল। খুবই সুন্দর করে গোছিয়ে লিখেছেন।
বইটি অবশ্যই কিনতে হবে।
তারপর কেমন আছেন??
১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া। বইটা আমি এখনও হাতে পাই নি। ভাল থাকবেন। আমি একটু বিযি, তাই কম আসি। আপনার খবর কি ? কেমন আচেন ?

২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:১৬

লেখক বলেছেন: তাই নাকি, খুশি হলাম। দেখি তোমার নতুন ব্লগে কি কি লিখেছো :)

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩২০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
দূরে ......বহুদূরে....অথচ.............!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ