somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আকাশচারিতা

২৯ শে মে, ২০১০ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশচারিতা

“দেখা করবে আমার সাথে?”

রায়হানের প্রশ্নটা স্তম্ভিত করে দিল। বলে কি ও? দেখা করা? হোক না সে ভারচুয়াল পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে প্রিয়জন, আমার ফেইভারেট তালিকার শীর্ষাধিকারী। তবু অচেনাই তো। কিন্তু ও তো থাকে পৃথিবীর অপর প্রান্তে। তাইতো, দেখা করব বললেই তো হবে না। কেন যেন এই বোধটা সস্তি ফিরিয়ে আনল।

হাসির ইমোটিকনের ফোয়ারা ছুটিয়ে লিখলাম, “কিভাবে? তুমি থাক সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে।“

“চলে আসব, তুমি বললেই।“

“আহা, বীরপুরুষ! কিভাবে আসবে শুনি? ভিসা পাবে কি করে? আমেরিকা আসা এত সোজা না বুঝলে।“

“তোমার জন্য রাখতে পারি এ জীবনটা বাজি
অপ্রতিরোধ্য গতি আমার, তুমি থাকলে রাজি
কেমনে রুখে দেখব আমায় তুচ্ছ ভিসার কারসাজি!”

“উফফ, তুমি কেমন করে ঝটপট এমন ছন্দ মিলাও বলত? তোমার ফাইন্যান্স না পড়ে সাহিত্য পড়া উচিত ছিল।“

“তাইই পড়তাম যদি তখন তোমায় চিনতাম। :) কবিতা আর চিনে বাদাম দিতাম উপহার! LOL!”

“আজকে কি খেয়েছ? সাত সকালে এত রোমান্টিকতা আসে কোত্থেকে? অফিসে বসে দিব্যি অনলাইনে প্রেম প্রেম খেলছ, বস আসে নাই?”

“তোমার মতন বেরসিক আর দেখি নাই। বস আসছে, কিন্তু আমি কি ডরাই সখি বস রাঘবে? এখন আমার কফি ব্রেক।“

“জানা আছে আপনার দৌড়! বসের গলা শুনলেই তোমার হৃৎকম্প শুরু হয়। গত সেমিস্টারে ডাব্বা মেরে যখন আমার ফান্ডিং যায় যায়, সেই ক্রাইসিসের সময় তুমি আমার বুকভাসানো কান্নার মাঝখানে, “বস” বলে ঝট করে যে সাইন-অফ করলা আর সারারাত, আই মিন, সারাদিন খবর নাই! এক সপ্তাহ কথা বলি নাই মনে আছে?”

“তা থাকবে না আবার। কি পাষানী রে তুমি। সাতদিনে ৭০০০ বার সরি বলেছি, কমসে কম ৭০০ ইমেইলে। তারপর কন্যার মান ভাঙল!”

“এই বাড়িয়ে বলবে না! মাত্র ১৫টা ইমেইল করেছিলে। আর একটাতো হাজার বার “সরি সরি” পেস্ট করে পাতা ভরিয়ে একশেষ। ওটা তো বাদ। আচ্ছা, তুমি তখন এত রোমান্টিক সব কথা লিখেছিলে, কই আর তো আমাকে ইমেইল কর না রায়হান! পুরান হয়ে যাচ্ছি?”

“কি আবোল তাবোল বলছ? বরং আমিই পুরান তোমার কাছে। বললাম, দেখা করবে কিনা, তোমার তো কোন ইচ্ছাই দেখলাম না।“

“আর ইউ সিরিয়াস? দেখা কিভাবে করব? আগামী ৪ বছর দেশে যাবার কোন চান্স নাই জান!”

“ইউ এস এ আসছি আমি কনা,
শুনব না তোমার কোন মানা”

“ঊফফ, মানে কি? স্পষ্ট করে বল না।“

“মানে হল, আজকে সকালে একটা ইমেইল পেলাম। ওবামা ভাই আমাকে আমেরিকা যাবার দাওয়াত দিচ্ছেন! নুতন ইমিগ্রেশন ল নাকি পাশ হয়েছে, আমার গ্রীনকার্ড রেডি, এপ্লাইও করা লাগে নাই। এখন খালি বোচকা নিয়ে প্লেন উঠার অপেক্ষা সুন্দরী!”

“তুমি এত ফাজিল! একটা স্প্যাম ইমেইল নিয়ে এতক্ষন আমাকে টেনশনে রাখলে। গতবার নাইজেরিয়াতে কাউকে চিনি কিনা, বেড়াতে যাব কিনা, তাও প্লেনের ফার্স্ট ক্লাসে চড়ে বলে অনেক দুস্টুমি করার পর জানলাম, কোন জেনারেলের বিধবা তোমাকে দশ মিলিয়ন ডলার দিবে বলে ইমেইল করেছে! এত শয়তানী বুদ্ধি নিয়ে তুমি ঘুমাও কেমনে?”

“ঘুমাই কে বলল ডারলিং, সারারাত তোমার স্বপ্ন দেখি!”

হঠাৎ বুকের সব ভার নেমে গেল। আমি রায়হানকে বাস্তবে দেখতে চাই কিনা সেটা আমি জানি না। তবে ও আমার অনেক প্রিয়, অনেক কাছের আকাশ-বন্ধু এটা ঠিক। বাস্তব অনেক জটিল। আমি জানি এ ব্যাপারটা ওর জন্যও সত্যি। ওর হয়তো খুব মিষ্টি একটা প্রেমিকা বা বউ আছে, প্রতি সন্ধ্যায় হয়তো তার জন্য ও ফুল কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এই বন্ধুত্ব, খুনশুটি, এই নির্ভরতাও তো মিথ্যে নয়! আবার এক গাদা চোখ-ছানাবড়া এমোটিকনের বন্যা বইয়ে লিখলাম,

“আমার স্বপ্ন? কেন সারারাত যাদের সাথে ফোনে কথা বলতে, তোমার সব প্রেমিকারা কই? এক সাথে ব্রেকাপ করছে?”

“সব পাষান! আমার জাতীয় সঙ্গীত এখন “এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে?”

“হু। তোমার মামদোভুত মার্কা চেহারা দেখে সব কেটে পড়ছে বল!

“হতে পারে। আমাকে রীতিমত ছ্যাক খাওয়া ছড়াকার বানিয়ে ছাড়লে তোমরা,

নারীজাতি পাষান অতি
না দেয় কভু ধরা
প্রেমের ভানে পারদর্শি
মন ছলনায় ভরা!”

ও এত হাসাতে পারে, আমার সব টেনশন চলে যায় এক লহমায়। ন্যায় অন্যায় জানি না, আমার আকাশ বন্ধুকে আমি ছাড়ব না এটা আমি জানি।

“ছ্যাকই ভাল, বেতনের পয়সা পকেটে থাকছে। হয়তো সত্যি একদিন আসতে পারবে আমার কাছে। :)

রোজ বিনাপয়সায় যাই স্বপ্নে, পয়সা খরচ করব কেন! অহ, কনা বস! গেলাম! টিসি। লাভ ইউ। বাই।“


------
(ফেসবুক বন্ধ, অনেকের মন খারাপ, তাদের জন্য এ random কথপোকথনের অর্থহীন গল্প!)
২৯টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×