
অনেকেই আছে যারা অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে না , কিন্তু আমি করি । আসলে অলৌকিক বলতে কি বুঝি আমি ? যে ঘটনার কোন ব্যাখ্যা আমি পাই না আর যে ঘটনা কাউকে বললেও সে খুব একটা বিশ্বাস করে না সেটাকেই অলৌকিক বলে মনে হয় । কারন যে ব্যাখ্যাতীত ঘটনাটা ঘটে তা আমার সামনেই ঘটে ফলে একমাত্র সাক্ষী থাকি আমি তাই অন্যজনের তা বিশ্বাস করা কঠিনই বটে যদি না সেও এই রকম কোন ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকে ।
যাকগে অনেক কথা বলে ফেললাম , আসল কথায় আসি । গতকাল আনুমানিক রাত তিনটার দিকে হঠাতই ঘুম ভেঙ্গে যায় , কখন যেন শুয়ে পরেছিলাম মনে করতে পারছি না , মাথাটা এমন ভারী হয়ে আছে , একটু আগে একটা উদ্ভট স্বপ্ন দেখলাম , আমি স্বপ্নটা মনে করার চেষ্টা করতেছি আসলে । আমার মাথাটা এক্সপি এর চেয়েও স্লো । ধীরে ধীরে যখন মোটামুটি ধাতস্ত হলাম তখন একটু একটু স্বপ্নটা মনে পরছে । স্বপ্নটা ছিলো এ রকম কোন এক ভীষণ ধোঁয়াশা এলাকা আর খুব গরম , আমি যেন হাঁস ফাঁস করছি এই গরমে , এমন সময় লাল রঙের জামা পরা কোনো একজনের ছায়া এগিয়ে আসতে দেখলাম , সেটা ছেলে ছিলো না মেয়ে ছিলো ঠিক বোঝা গেলো না , কিন্তু খুব করুণ আর কান্না সুরে বললো ,
" রাতুল , আজ খুব সাবধানে থেকো , ঠিক আছে ? আজকের দিনে খুব সাবধান ! "
এদিকে আমার প্রচন্ড গরম লাগছে ,
" আপনি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান , আর কিছুক্ষণ থাকলে আমি মারাই যাবো "
প্রচন্ড অসহায়ত্ব নিয়ে বললাম আমি । কিন্তু সেই ছায়াটা আরো করুন সুরে বললো ,
" চুপ , রাতুল ! মারা যাবার কথা বোলনা , এখন মারা গেলে কি হবে ? সামনে অনেক কাজ বাকি ! তুমি একটু ওদিক গিয়ে বসো , ভালো লাগবে দেখো । আমি যাই , আবারও বলছি সাবধানে থেকো "
তারপর ছায়াত যেন কোথায় মিলিয়ে গেলো , আর আমি যেদিকে গিয়ে বসলাম সেটা ছিলো একটা কুয়ার পাশে , আমি যেন খানিকটা পানি তুলে খেলাম এবং অনেক শান্তি পেলাম ।
স্বপ্নটা ছিলো এই । আমি তখন ঘরের ভিতর অন্ধকারে বসে ছিলাম , আর বাতাসবিহীন দখিন জানালার দিকে তাকালাম , আক্ষরিক অর্থে কিছুটা ভয় জাকিয়ে বসলো আমার ভিতর ! আমি আস্তে আস্তে সুইচ খুঁজে লাইট জ্বালালাম , কম্পিউটার চালু করলাম , জিমেইল একাউন্ট চেক করলাম । ইয়াহু চেক করলাম , টুইটার চেক করলাম , সামু ব্লগে একবার ঢু মারলাম , তারপর ফেসবুকে ঢুকলাম , দেখলাম সামীর ভাই কি কি নিউজ দিতে হবে তার লিঙ্ক দিয়ে মেসেজ পাঠিয়ে দিয়েছেন । সেগুলো জাস্ট একবার চোখ বুলালাম , তখন বুঝলাম এখনো ঘুম যায়নি , উঠে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এলাম , আর কাজ শুরু করলাম এবং স্বপ্নটার কথা বেমালুম ভুলে গেলাম !
দুপুর বেলা ২টার দিকে কনফার্ম হলাম যাত্রাবাড়ি যাওয়া লাগবে , এই কড়া রোদ , আর গরমে বাইরে যেতে খুব ইচ্ছা করে না , কিন্তু কি করা ? যেতে যে হবেই ! গোসল খাওয়া দাওয়া করে ৪টার দিকে বেরিয়ে পরলাম , বাংলাদেশের মহান ট্রাফিকের কারনে পাক্কা তিনঘন্টা লাগিয়ে ৭টায় গিয়ে যাত্রাবাড়ি পৌছলাম , প্রয়োজনীয় কথা বার্তা আর কাজ সেরে ৮.৩০টায় আবার বাড়ির পথ ধরলাম । যাত্রাবাড়ি থেকে বিকল্প বাসে আমি ডাইরেক্ট আসি । বাসে উঠে জানালার পাশের সিটটা দখল করে বসলাম । বাস সিটিং হয়ে গেছে প্রায় ছেড়ে দিবে , এমন সময় এক বাচ্চা সহ এক দম্পতি উঠলো , কিন্তু কোন ডাবল সিট খালি নেই । ফলে বাসের হেলপার আমাকে এসে বললো ।
" ছ্যার , আপনি ওই সিটে বসেন , বুঝেনইতো মহিলা সহ উঠছে আর সাথে এক বাচ্চাও আছে । "
আমি যদিও বিরক্ত হলাম , এত গরম তার উপর জানালার পাশের সিটটা ছেড়ে দিতে হচ্ছে ভেবে , বিরোধিতা করলাম ছাড়ব না , কিন্তু আশেপাশে যাত্রীদের কথায় অনিচ্ছা স্বত্বেও ছেড়ে দিয়ে অন্য সিটে যেখানে আমার মতই আর একজন জানালার পাশে বসে ছিলো , তার সাথে গিয়ে বসলাম ।
রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম , গাড়ি চলছে ধীরে ধীরে , মাঝে মাঝে আমি মাথা হেলিয়ে ঘুমিয়ে পরছি আবার গাড়ির ব্রেকে ঘুম ভেঙ্গেও যাচ্ছে । এইভাবে মতিঝিল আসতেই লাগলো এক ঘন্টা । এমন সময় বিকট চিত্কার করে কান্না ভেসে আসলো । কি হলো , কি হলো ? ওই বাচ্চাটার মাথায় আঘাত লেগেছে আর হাতের কয়েকটা আঙ্গুল কেটে গেছে , উফ ! কি করে হলো ? বাচ্চাটা বাইরে মাথা আর হাত দিয়ে রেখেছিলো , হঠাত অন্য একটা বাস এসে পরাতে এই অঘটন ঘটলো । কিন্তু মাতো সাথেই ছিলো , তাহলে তিনি খেয়াল করেন নি কেন যে বাচ্চাটা বাইরে মাথা আর হাত দিয়ে রেখেছিলো ? আসলে তিনি বাচ্চাকে মানা করেছিলেন বাইরে হাত দিও না , মানা করে তিনি খানিকটা ঘুমিয়ে গেছিলেন আর তাতেই নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি বাচ্চাটার কৌতুহল জেগে ওঠে , ফলাফল দুর্ঘটনা । দম্পতি তাড়াতাড়ি বাস থেকে নেমে হাসপাতালের দিকে রওনা দিলেন । আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম । হঠাত নজরে পরলো সেই জানালার পাশে আমি বসেছিলাম ! কি সাংঘাতিক , আর হ্যা এইতো প্রচন্ড গরম লাগছে ! বাচ্চাটার জায়গায় যদি আমি থাকতাম আর ঘুমের ঘোরে যদি মাথা জানালার বাইরে হেলে পরতো তাহলেতো আমারও .......
স্বপ্নটার কথা মনে পরলো তত্ক্ষনাত ! নাহ , ভয়ে বুকের ভিতর ঠান্ডা হয়ে এলো , প্রচন্ড পানি পিপাসা পেলো । এমন সময় কে যেন চিত্কার করছে
" পানি পানি ঠান্ডা পানির বোতল ১০ টাকা "
আমি কিনলাম খাবো বলে , পানি খেয়ে পিপাসা মিটিয়ে শান্তি পেলাম এবার বাকিটুকুও মনে পরলো ! আমি কুয়া থেকে পানি খেয়ে শান্তি পেয়েছিলাম স্বপ্নেও !
সারারাস্তা আমি অনেকটা ঘোরের ভিতর ছিলাম । বাসায় এসে , গোসল করে দিলাম আবার ঘুম ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১২ রাত ১২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



