somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাই কাজ তো খই ভাঁজ

২২ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এস.এস.সি. তে চরম ভালো রেজাল্ট করার পরেও বাসায় কেউ খুশি না স্কুলের আর একটা মেয়ে আমার থেকে একটা সাবজেক্ট বেশি লেটার মার্কস পেয়েছে বলে.. .. আজব X(। ভাইয়া চিঠি লিখে বললো ”ওকে টিএ্যান্ডটি-র নাইট শিফটে ভর্তি করে দাও। আর একটা গার্মেন্টসে ঢুকিয়ে দাও। দিনের বেলা কাজ করবে আর রাতে পড়বে :|”। এত মেজাজ খারাপ হলো আমার। সায়েন্স ছিল। অংক ভাললাগেনা। বললাম আর্টস নিয়ে ভিকারুন্নেসায় ভর্তি হবো। কেউ রাজী না। স্কুলের স্যাররাও এসে বলে গেলেন ”এত ভালো রেজাল্ট করে কি জন্যে আর্টস নিবি?/:)

ভর্তি হলাম মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ এ। ভাইভাতে জিজ্ঞেস করলো দোয়া কুনুত:||। ক্লাস ফাইভ থেকে সবকয়টা রোযা রাখি। সেই ছোট্রবেলা থেকেই এক ওয়াক্ত নামায বাদ দিলে একবেলা খ্ওায়া বন্ধ। সেই আমার জন্যে দোয়া কুনুত আর এমন কি/:)। কপালের সামনের দিকের কাটা চুল ক্লিপ দিয়ে আটকে গিয়েছিলাম। ম্যাডাম এর চোখ তা এড়ালোনা। বললো ”এসব তো এখানে চলবেনা।” আমি বললাম ”জ্বি”। ভর্তি হ্ওয়ার পর প্রথম ক্লাশের দিন গায়ে এ্যাপ্রোন আর বিশাল একখান ওড়না দিয়ে নিজেকে ঢেকে ক্লাশের দরজার সামনে তিন বান্ধবী দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ এক ম্যাডাম-কে আসতে দেখে ক্লাশে চলে আসলাম। কিছুক্ষন পর ম্যাডাম দেখি আমাদের ক্লাশেই আসলেন। ”কোন তিনজন বারান্দায় ছিলা”.. .. হুংকার দিলেন।:-/ দাঁড়ালাম। নাম আর রোল নাম্বার টুকে নিলেন আর সাবধান করে গেলেন যতক্ষন কলেজে আছি যেন ক্লাশের বাইরে না যাই/:)। প্রতিদিন সকালে কলেজের সামনে রিক্সা পৌঁছানো মাত্র মনে হোত পালাই।:((

একেতো অপছন্দের কলেজ, তারউপর সায়েন্স। মনটা বিতৃষ্ণায় ভরে গেল। ওদিকে এক বান্ধবী কমার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছে ভিকারুন্নেসায়। আজ এই প্রোগ্রাম, কাল সেই প্রোগ্রাম। শাড়ী পড়ে, সেজেগুজে প্রায়ই দেখি যাচ্ছে। ঠিক করলাম ফ্যামিলি-কে শাস্তি দেব। পড়াশোনা ছেড়ে দিলাম। একজন মাস্টার রাখা হলো। কিছুদিন পর আমাকে কিছুতেই পড়াতে না পেরে (ম্যাথ বোঝাতেও পারতেন না) তিনি ভাগলেন;)। ছোড়দা অনেক খুঁজে নিয়ে এলো ওর দোস্ত ... বুয়েটে পড়ে। রোগা, শ্যামলা, চেহারায় একট্ওু ভালো ছাত্রের লক্ষন নাই।:-P ঠিক হোল সপ্তাহে তিনদিন তিনি আমাকে পড়াবেন.. .. সন্ধ্যার পর। কিছুদিন যাওয়ার পর তিনি সপ্তাহে প্রতিদিন আসতে লাগলেন।:| রেগে জিজ্ঞেস করলাম ”আর কোন কাজ নাই?”। বললো ”নাহ।”:-* আমি বললাম ”আপনার কাজ না থাকলেও আমার কাজ থাকে। তিনদিন আসার কথা তিনদিনই আসবেন।” কিন্তু তার আসা বন্ধ হোলনা। একদিন কারেন্ট নেই। মনে মনে ভাবলাম বাঁচগ্যায়া:)। কিন্তু কিছুক্ষন পর কলিংবেল বেজে উঠলো। স্যার হতেই পারেনা ভেবে মোম বাতি হাতে আমিই দরজা খুললাম। দেখি মূর্তিমান। বললাম ”কারেন্ট নাই দেখেন নাই?”X(( বললো ”মোমবাতি আছে তো।” আমি বললাম ”মোমবাতির আলোয় আমার মাথা ধরে। পড়বোনা।” বললো ”আচ্ছা, পড়তে হবে না, সরো একটু বসি।”:| আররি আজব! মা বললেন ”পড়তে বয়।” গজগজ করতে করতে ফিজিক্স নিয়ে বসি। ফিজিক্স, হায়ার ম্যাথ চমৎকার বুঝাতেন তিনি.. .. স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু আমি তো পণ করেছি পড়বোনা। পড়ানোর ফাঁকে গুটগুট করে গল্প করতেন। একাই করতেন। আমি তখন চির কুমারী থাকার মহান ব্রত নিয়েছিলাম কিনা :!>, কোন ছেলের প্রতিই এক্সট্রা কোন ফিলিংস বোধ করতাম না। আমাকে পড়তে অনুরোধ করতেন, মধুর সুরে বকা দিতেন:P। তবে ছোড়দা বা মা কেউ এলে তাদের সামনে চুপ হয়ে যেতেন। একদিন বিকালে বান্ধবীর জন্মদিনে যাবো। শাড়ি পড়ে রেডি হয়ে অপেক্ষা করছি আরেক বান্ধবী আসার। বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই দেখি স্যার।/:) উপর থেকেই বললাম ”বান্ধবীর জন্মদিনে যাবো। পড়বোনা।” বলে ঘরে চলে এলাম। মেজাজ সপ্তমে। আজ তার আসার কথা না, তবু এসেছে। কিছুক্ষন পর মা এসে বললো ”যা, আকতার আসছে।” আমি তো টাসকি। শাড়ী পড়ে স্যারের সামনে কি যাবো? বললাম ”তুমি গিয়ে বলো আমি পড়বোনা।” মা বললেন ”বলছি। তোর সাথে নাকি কি দরকার। যা দেখা করে আয়।” ক্যামন লাগে!! ইচ্ছা করছিলো এক গামলা গরম পানি মাথায় ঢালি। গেলাম। ভীষন জরসর হয়ে বসলাম। মুড অক্ষুন্ন রেখে বললাম ”উপর থেকে না বললাম পড়বোনা। তারপরও আসছেন ক্যান?”X(( বলে ”এমনি”। আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে।:#> বুঝি শাড়ী পড়া পুরোটা আমাকে দেখতেই তার উপরে আসা। একদিন এসে বললেন ”জানো, আমি একটা উপন্যাস লেখা শুরু করছি।” আমি তাচ্ছিল্যভরে বললাম ”তাই নাকি?” ”হুমম। নায়িকার নাম বর্ষা।” চান্দি গরম হয়ে গেল। ”কেন বর্ষা কেন? দুনিয়ায় আর নাম নাই। আপনি আমাকে নিয়ে উপন্যাস লিখছেন? আপনার তো সাহস কম না।”X(( ”দুনিয়ায় তোমার একার নামই বর্ষা নাকি? বর্ষা নামে আর কেউ নেই?”X(( ”ওহ আপনি অন্য কাউকে ভেবে লিখেছেন? তাহলে ঠিক আছে।” ”না.. .. আমি তোমাকে ভেবেই লিখেছি।”:-/ ভীষন মেজাজ খারাপ হয়ে গেল আমার। বললাম ”মানে কি? আপনি আজই আপনার উপন্যাস থেকে আমার নাম ডিলিট করবেন।” উনি বললেন ”এত মেজাজ কেন তোমার? এরকম মেজাজ হলে তো কেউ তোমাকে বিয়ে করবেনা।”:| আররে .. .. এ তো আজ বোম ফাটাবে। ”আমি কখ্খনো কাউকে বিয়ে করবোনা।X( আর আপনার এত টেনশন করতে হবনো।” ”আচ্ছা.. .. কখ্খনো বিয়ে করবেনা? বেশ.. .. আমি যেখানেই থাকি তোমার খোঁজ আমি ঠিকই রাখবো। আমি দেখতে চাই তুমি বিয়ে করো কিনা।”/:)

স্যার হিসেবে চমৎকার ছিলেন। দারুন পড়াতেন। খালি ওইসব বাদ দিলে। আমি যদি উনার সাথে কো-অপারেট করতাম নির্ঘাত চমৎকার রেজাল্ট করতাম। আমাকে যখন তিনি পড়াতেন তখন অন্য সব টিউশ্যনি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কেন কে জানে। উনাকে পরে অনেক খুঁজেছি মনে মনে। বিশেষ করে আমার বিয়ের দিনটাতে। কেন যেন মনে হয় উনি ঠিকই আমার খবর রেখেছেন। বিয়ে করে ফেলছি বলে সামনে আসেন না।:P
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০৫
৬০টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×