somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম সমুদ্র-স্নান

২৯ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেদিন প্রথম সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালাম... আমার ভীষন কান্না পাচ্ছিলো। কান্নাটা দলা পাকাতে পাকাতে কন্ঠনালীতে এসে আটকে গেলো; চোখ দুটো ফেটে যাচ্ছিলো দু’ফোঁটা অশ্রর স্পর্শ পেতে। কিন্তু আরো খরখরে হয়ে চোখদুটো আমার জ্বলে যাচ্ছিলো। ভেবে রেখেছিলাম এবং সমুদ্রে যাওয়ার সারাটা রাস্তা আমার মনেও হয়েছিলো দূর থেকে যখনই আমার সমুদ্রটাকে দেখবো, ওমনি একটা দৌড় লাগাবো। এক ছুটে.. .. এক নিঃশ্বাসে ছোঁব আমার সমুদ্রকে; ঝাঁপিয়ে পড়বো ওর বুকে। অথচ সমুদ্র নজরে আসা মাত্রই আমার পা’দুখানির যেন শিকড় গজিয়ে গেল। টেনেও তাকে সামনে নিতে পারিনা। আমি যখন পলকহীন চোখে কোনমতে পাথর পা’দুটোকে টেনে হিঁচড়ে ওর সামনে হাজির হোলাম.. .. তখন আমার সমস্ত চিন্তাশক্তি লোপ পেলো। আমার কেমন পাগল পাগল লাগতে শুরু করলো। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হোল।

কতক্ষন আমি ওই ঘোরের মধ্যে ছিলাম জানিনা। ঘোর যখন কাটলো তখন আমি আমার প্রিয়তম’র বুকে। হুম...প্রিয়তম-ই বৈকি। শয়নে-স্বপনে, নিদ্রায়-জাগরণে সর্বক্ষন যে আমার মনের আঙ্গিনা দাবড়ে বেড়ায়; যার ডাক শোনার জন্যে সব ভুলে আমি কান পেতে থাকি সে আমার প্রিয়তম বৈকি। কখন, কেমন করে তার বুকে আমি ভাসতে শুরু করলাম জানিনি। যখন টের পেলাম তখন দেখি ভেতরে আর কোন যন্ত্রনা নেই। গুমোট ভাব নেই। আমি একেবারেই হালকা-পলকা হয়ে ভাসছি তার বুকে। কি যে সুখ! কখনো সে আমার পায়ের তলা থেকে বালুর ঠাঁই সরিয়ে টেনে নিচ্ছে আমাকে নিজের মধ্যে; কখনো আবার ঢেউয়ের মাথায় তুলে ছুঁড়ে ফেলছে ওর সৈকতে। এ যেন দোল দোল দুলুনি.. .. পেছনে-সামনে; সামনে-পিছনে। সে যে কি উত্তাল দুষ্টুমি তার। যেন আমাকে নিয়ে লুফালুফি খেলাতেই ওর আনন্দ।

আমি টের পাই ভীষন অভিমান নিয়ে ও অপেক্ষা করে আছে আমার জন্যে। আমি যে ওর ডাক উপেক্ষা করতে পারিনা বলেও করেছি। শুনতে পেয়েও না শোনার ভান করেছি বহুবার। ...................................


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০৪
৪৩টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×