যেদিন প্রথম সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালাম... আমার ভীষন কান্না পাচ্ছিলো। কান্নাটা দলা পাকাতে পাকাতে কন্ঠনালীতে এসে আটকে গেলো; চোখ দুটো ফেটে যাচ্ছিলো দু’ফোঁটা অশ্রর স্পর্শ পেতে। কিন্তু আরো খরখরে হয়ে চোখদুটো আমার জ্বলে যাচ্ছিলো। ভেবে রেখেছিলাম এবং সমুদ্রে যাওয়ার সারাটা রাস্তা আমার মনেও হয়েছিলো দূর থেকে যখনই আমার সমুদ্রটাকে দেখবো, ওমনি একটা দৌড় লাগাবো। এক ছুটে.. .. এক নিঃশ্বাসে ছোঁব আমার সমুদ্রকে; ঝাঁপিয়ে পড়বো ওর বুকে। অথচ সমুদ্র নজরে আসা মাত্রই আমার পা’দুখানির যেন শিকড় গজিয়ে গেল। টেনেও তাকে সামনে নিতে পারিনা। আমি যখন পলকহীন চোখে কোনমতে পাথর পা’দুটোকে টেনে হিঁচড়ে ওর সামনে হাজির হোলাম.. .. তখন আমার সমস্ত চিন্তাশক্তি লোপ পেলো। আমার কেমন পাগল পাগল লাগতে শুরু করলো। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হোল।
কতক্ষন আমি ওই ঘোরের মধ্যে ছিলাম জানিনা। ঘোর যখন কাটলো তখন আমি আমার প্রিয়তম’র বুকে। হুম...প্রিয়তম-ই বৈকি। শয়নে-স্বপনে, নিদ্রায়-জাগরণে সর্বক্ষন যে আমার মনের আঙ্গিনা দাবড়ে বেড়ায়; যার ডাক শোনার জন্যে সব ভুলে আমি কান পেতে থাকি সে আমার প্রিয়তম বৈকি। কখন, কেমন করে তার বুকে আমি ভাসতে শুরু করলাম জানিনি। যখন টের পেলাম তখন দেখি ভেতরে আর কোন যন্ত্রনা নেই। গুমোট ভাব নেই। আমি একেবারেই হালকা-পলকা হয়ে ভাসছি তার বুকে। কি যে সুখ! কখনো সে আমার পায়ের তলা থেকে বালুর ঠাঁই সরিয়ে টেনে নিচ্ছে আমাকে নিজের মধ্যে; কখনো আবার ঢেউয়ের মাথায় তুলে ছুঁড়ে ফেলছে ওর সৈকতে। এ যেন দোল দোল দুলুনি.. .. পেছনে-সামনে; সামনে-পিছনে। সে যে কি উত্তাল দুষ্টুমি তার। যেন আমাকে নিয়ে লুফালুফি খেলাতেই ওর আনন্দ।
আমি টের পাই ভীষন অভিমান নিয়ে ও অপেক্ষা করে আছে আমার জন্যে। আমি যে ওর ডাক উপেক্ষা করতে পারিনা বলেও করেছি। শুনতে পেয়েও না শোনার ভান করেছি বহুবার। ...................................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


