somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ এমন পরিচয়!

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


"শুধু তোমায় ভেবে ভেবে কত দিন রাত গেছে বয়ে
তুমি এসেই চলে গেছো শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে।......."

গানটা শুনতে শুনতে বর্ষার মনে পড়ে গেলো ইফতি-র কথা। ইফতি……ওর জীবনের এমন একটা অধ্যায়, যা বর্ষা অনেক চেষ্টা করেও মুছে ফেলতে পারেনি। মুছে ফেলতে চায়ওনা হয়তো। বৃষ্টিমুখর ছুটির দিনে জানালার পাশে ইজিচেয়ারে দোল খেতে খেতে বর্ষা ডুবে যায় কষ্টের শৈবাল দিঘীতে......

অফিস আসার পথে তুমুল বৃষ্টি। বর্ষার ছোট্র ছাতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বৃষ্টি ওকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। এতে বর্ষার কোন সমস্যা নেই যদিও।বৃষ্টি ওর বড় প্রিয়। কিন্তু এই অবস্থাতে অফিস করতে হবে এটাই এখন সমস্যা। পুরো ভিজে গেছে। বাসায় গিয়ে চেঞ্জ করে আসতে গেলে অনেক দেরী হয়ে যাবে। অফিসে সেকেন্ড বস্ বলতে গেলে ও। যদিও পজিশনটা অত বড় নয়। বস্ এর পিএস বলা যায়, কাগজে কলমে 'অফিস সেক্রেটারী' হলেও। অফিসের স্টার্টিং বর্ষা ছাড়া অসম্ভব। অফিসে ঢুকেই বসে পড়তে হবে ১৭" এলসিডি মনিটরের সামনে। টপাটপ বেশ কয়েকটা মেইলের রিপ্লাই এর পাশাপাশি চলতে থাকে Buyer এর সাথে অনলাইন কথোপকথন। একই সাথে এক কাপ গরম চা, সেই সাথে স্টাফ এ্যাটেন্ডেন্স চেক করে নেয়া। সকালটা চরম ব্যস্ততায় কাটে বর্ষার। অফিসের এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই জোড়ে একটা ধাক্কা। আরেকটু হলেই পড়ে যেত বর্ষা। অথচ বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে শুধু একটু বিব্রত হাসি দিয়ে দিব্যি ওকে পেছনে ফেলে হন্তদন্তু সামনে এগিয়ে গেলো ছেলেটি মানে ধাক্কাদাতা। বর্ষা ঘটনার আকষ্নিকতা সামলে উঠতেই ছেলেটি হাওয়া। মুহূর্তেই মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেলো বর্ষার। বিশেষ করে ছেলেটিকে যে কড়া করে একটা ধমক পর্যন্ত দিতে পারলোনা এটাই ওকে খোঁচাচ্ছে।

অফিসে ঢুকে পিসি অন করতে করতেই পিওন চা দিয়ে গেলো। মেজাজ প্রচন্ড খারাপ। ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। ইনবক্স ভরে আছে ১০/১২ টা ইমেইলে। বেশিরভাগই ইনকোয়ারি। মাথা ঠান্ডা করে রিপ্লাই করতে হবে। কিছু আছে বস্ এর সাথে ডিসকাস করতে হবে। চা শেষ হতে হতেই ইন্টারকমে বস্-এর ডাক। বস্ সপ্তাহের প্রায় প্রতিটা দিন সকাল ৯টার মধ্যে হাজির থাকেন। যেদিন কোন কাজে অন্য কোথাও এনগেজ থাকেন সেদিন ঠিক ৯টার সময় ফোন। অফিসের সবাই প্রেজেন্ট কিনা, কোন জরুরী ইমেইল বা ম্যাসেজ আছে কিনা ইত্যাদি খবর নিয়ে বর্ষাকে প্রয়োজনীয় ইনস্ট্রাকশন দিয়ে তবে ফোন রাখেন। আজ একেবারে ৯টার মধ্যে হাজির। এই বৃষ্টির মধ্যেও সবাইকে টাইমলি আসতে হবে। অথচ যাওয়ার বেলায় টাইমিংটা উনার মাথায় থাকেনা। খাইস্টা একটা। মনে মনে গাল-টা চলে আসে বর্ষার বস্ এর উদ্দেশ্যে।

বস্ এর রুমে ঢুকে থমকে যায় বর্ষা। বস এর সামনের চেয়ারে বসে আছে ছেলেটা - ধাক্কাদাতা। যার কারণে আজ আরেকটু হলেই কাদাপানিতে গোসল দিতে হোত ওকে। ওর দিকে এক পলকের জন্যে তাকালো ছেলেটি। কোন ভাবান্তর নেই। যেন এই প্রথম দেখলো বর্ষাকে। বর্ষা সামলে নিলো নিজেকে। কারন ওর বস ওকে খেয়াল করছেন। শকুনের চোখ ব্যাটার। ... "বর্ষা, এ হোল ইমতিয়াজ। আমাদের এখানে আগে কাজ করতো। মাঝখানে অফ ছিলো বেশ কিছু দিন। তুমি ওকে একটা এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দাও ওর রি-জয়েনিং এ্যাপ্লিকেশন এর এগেইনস্টে।" বস্ এর ইস্ট্রাকশন। ইমতিয়াজকে বলে দিলেন একটা এ্যাপ্লিকেশন ড্রপ করতে এবং নেক্সট ডে থেকে কাজ শুরু করতে। বস্ এর রুম থেকে বের হয়ে ইমতিয়াজ অন্য কলিগদের সাথে আড্ডায় মেতে গেলো।

আচ্ছা...ইনিই তাহলে তিনি! মিঃ ইমতিয়াজ!? নিজের রুমে বসে ভাবতে থাকে বর্ষা। ঠোঁটে এক চিলতে হাসি খেলা করে ওর। চোখে দুষ্টুমি। সারা মুখে খুশির ঝিলিক। ভীষন রহস্যময়ী লাগে ওকে।


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০৮
৩২টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×