সত্য বলতে কি প্রবাস জীবন যত বাড়তে লাগলো ততই আমার ভিতরে এই ইচ্ছেটা প্রবল হতে থাকলো। সেটা আরো বেগবান হলো যখন সমবয়সী নতুন বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার আমাদের দলে যোগ দিল। সেও আমার মত কিছুটা ভদ্র, কিছুটা অভদ্র, কিছুটা অসংযত, কিছুটা লুল। শুধু সুন্দরী ললিতাদের দেখার জন্য অপ্রয়োজনীয় টাকা খরচ করতে শুরু করলাম। ২ একটা ঘটনার কথা বলি। প্রবেশ মূল্য মাত্র ৭০০ টাকা।যাওয়া আসা খরচ ১০০০ টাকা। খাওয়া দাওযা আনুসাংগিক খরচ ১০০০ টাকা। মোট ২৭০০ টাকা। আমারমত ফকিরনির জন্য এটি একটি বিলাসিতা। অপ্রাসাং্গিক খরচ। তার পরেও যেতে হয়।দেহের ভিতর যে একখানা মন বাস করে, সে বলে এ কিছু না, তুমি চল। সে আমার ভিতর এক অপূর্ব আকাং্খা তৈরী করে, আমাকে লোভ দেখায়, সুন্দরী মেয়ে দেখার লোভ, পৃথিবীর সবচেয়ে কাংখিত, সৃস্টিকর্তার এক রহস্যময় সৃষ্টি – সুন্দরী নারী। আমি যে দুর্বল, আমি অসহায় এই আকাংখার কাছে। বৈশাখী মেলায় যাই। কনসার্ট হয়।ন্যান্সি গান গায়। আমি আর মশিউর স্টলে স্টলে ঘুরে বেড়াই মেয়েদের পিছু পিছু।
পান্তা ইলিশের দোকানে পান্তা ইলিশ খাই যতটা না খাওয়ার জন্য তার চেয়ে বেশি কারন ২ সুন্দরি বিক্রেতা। বাবার সাথে শখের দোকানদারী করতেছে। আমরা পান্তা ইলিশ নিয়ে খেতে খেতে, সুন্দরীদের সাথে কথা বলার জন্যই আরও একটু পিয়াজ চাইলাম, সুন্দরীদের একজন আমাদের পিয়াজতো দিলেন সেই সাথে বল্লেন, পিয়াজের দাম এক্সট্রা ১ রিয়াল দিতে হবে।মশিউর আমার চেয়ে কিছুটা সাহসি। সে বলে ওকে ২ জনের জন্য ২ রিয়াল দিব। ১ রিয়াল ভাল সার্ভিসের জন্য টিপস। আহা! তাহাদের সেই মন ভুলানো হাসি! এখনো আমরা দাবী করি আমাদের ৬০০০ টাকা লাভে আসলে উসুল হয়েছিল সেদিন। আমরা নগদ ২টাকা নিয়ে সুন্দরীদের সাধতে থাকলে তাদের বাবা এগিয়ে আসেন, ২ রিয়াল কিসের বিল? মেয়েদের মুখের দিকে তাকাই, দেখি তারা কিছুটা অপ্রস্তুত। আমি বলে উঠি আংকেল ২টা মিনারেল ওয়াটার। উনি ২ রিয়াল নিয়ে ক্যাশে রেখে দেন, আমরা দোকান থেকে বের হওয়ার আগে আড়চোখে চোখাচোখি হতে যে হাসির ঝিলিক দেখেছি তা চোখের সামনে এখনো ঝলমল করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


