somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার গল্প: সংশয়বাদ অথবা সুবিধাবাদ

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেন আমি আমার প্রত্যেকটা কাজের পেছনে আমার নিজের ভূমিকা দেখি না? এর একটাই কারণ। আমি সেইভাবে ভাবতে শিখি নাই। আমি শিখেছি এই যে এই কী বোর্ডে হাত দিয়ে টাইপিং করছি এই হাতে আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। এবং প্রত্যেকটা কাজের পেছনে যে যুক্তি সে যুক্তি কখনোই আমার মনকে বোঝানোর জন্য যথেষ্ঠ নয়। আমি সব সময় আমার বাবা মায়ের অবাধ্য ছিলাম। এবং এর জন্য আমি অনেক খারাপ বোধ করি। আমি অনেক খারাপ বোধ করি এই ভেবে যে, যেই আগ্রহ ও স্বপ্ন নিয়ে আমার নিন্ম মধ্যবিত্ত বাবা-মা আমাকে পড়িয়েছেন আমি সেই আগ্রহ ও স্বপ্নের মর্যাদা রাখতে পারি নি। সব সময় মনে হয় আমি এর চেয়ে ভালো করতে পারি। যেইবার আমি পরীক্ষায় থার্ড বা সেকেন্ড হই সে বারও আমার এমন মনে হয়। মনে হয় আমার পক্ষে তো প্রথম হওয়া সম্ভব ছিল। তাহলে কেন পারলাম না? ভাবি আমি ক্লাস ফাঁকি দেই, আমি দিতামও। আমি প্রচুর ফাঁকিবাজি করি। এখনো করি। আমি সবসময় দায়িত্বে অবহেলা করি। তাই এরপরও যখন আমি ভালো করি তখন আমার মনে হয় এইটুকু ভালো করাও তো আমার সাজে না। কারণ অন্য অনেক সিরিয়াস ছাত্র-ছাত্রী আছে, যারা আমার চাইতে অনেক বেশি আগ্রহী অনেক বেশি পরিশ্রমী। তবে কেন আমার এইভাবে ভালো করে যাওয়া? কেন আমি একটা প্রশ্ন পড়ে যাই সেইটাই কমন পড়ে যায়? স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার ছবিটাকে আমি ভালো বলি এই বিবেচনায়। সেখানে আমরা এই ধরণের সত্যতা দেখতে পাই।

মানুষের পক্ষে সবজান্তা হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের এমন অফুরন্ত সময় নেই। আমি যখন টিভির সামনে বসি কিংবা পিসির সামনে বসি কিছু করা শুরুর আগেই আমার সময় শেষ হয়ে যায়। অনেক আগ্রহ থাকা সত্তেও আমি একটা কবিতা লিখতে পারি না। একটা প্রবন্ধ লিখতে পারি না। কিংবা একটা ভাল পোস্ট খুজে বের করে একটা ভাল মন্তব্য করতে পারি না। অথচ আমার মনেপ্রাণে এমনই ইচ্ছা থাকে। তবু পারি না। পৃথিবীর সবকিছু আমাকে আকর্ষণ করে। প্রত্যেকটা ছোট জিনিস। আমি দুইবার দেখলেই প্রেমে পড়ে যাই। অথচ এমনটা করার ইচ্ছেও আমার থাকে না। ভাবতে অবাক লাগে এই ভেবে যে এই সব কিছু আমরাই তৈরী করেছি। এই যে আমি লাইনের পর লাইন লিখে যাচ্ছি আমার ভাবনা আসছে কোথা হতে? আমার ব্রেইনের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে আছে। আবার একটু পরেই আমি টায়ার্ড হয়ে পড়বো। তখন শত চেষ্টা করেও আমার পক্ষে এই লেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। আমার ঘুম অবশ্যম্ভাবী। আমার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। আমি জানি। আমি আমার মেঝ খালাব্বাকে আমার হাতের উপরে মরতে দেখেছি। এবং সেই ভয়টা আমার আছে। আমি জানি আমার ত্বকে ব্লেডের এক আঁকায় ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরবে। তারপর যথাযথ চিকিৎসার পরে তা সুস্থও হয়ে উঠবে। এবং তার জন্য আমাকে কিছুটা অপেক্ষাও করতে হবে। কারণ এখনো সায়েন্স সে রকম অগ্রগতি পায়নি। হয়ত সামনে পাবে। ব্যাথার সাথে সাথে তাকে সারিয়ে তোলা যাবে। তাহলে এইখানে সায়েন্স কী করে? আমি কী করি? আমরা কেবল সেই কারণ গুলাই জানি। প্রকৃত কারণ জানি না। আমি তেমনই ভাবি। আইন্সটাইনও আমাকে সাপোর্ট করে গেছেন বলে আমার মনে হয়। আসলে আমি যতোই দাবী করি না কেন আমি জানি আমি বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি যে আমার প্রত্যেকটা কাজের মাঝে আমার নিজেরই কেবল ভূমিকা না। ধরেন আপনি আমিাকে কিছু একটা পড়তে দিয়েছেন। আপনি চাচ্ছেন যে আমি পড়া সেই অংশটুকুর কিছু অংশ বিশেষভাবে নোটিস করি। কিন্তু যখন ঘন্টার পর পর ঘন্টা শতবারের উপরে পড়ার পরেও আপনি যা চেয়েছেন তা হয়তো আমি ধরতে পারবো না। আমি জানি আমি সব দিক দিয়েই খুব দূর্বল। হলিউডের ছবিগুলা আমার খুব ভালো লাগে। এর কারণ হলো হয়ত সেই ছবিগুলাই আমাকে এইভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আমি খুব বেশি ভালো বই জীবণে পড়িনি। হেলবয় ছবির একটা ডায়লগ মনে পড়ছে এখন, “If you can not command, you have to follow.” এই সংলাপটাতে আমি যা দেখতে পাই তা হলো এক অদ্ভুত ধরণের নিষ্ঠুরতা। যা বলে আপনি অবিশ্বাসী না হলে আপনাকে বিশ্বাসী হতেই হবে! অদ্ভুত না?

আমি জানি পৃথিবী নিয়মের শাসনে চলে। পৃথিবীকে চলতে হয়। যারা নিয়মের বাইরে চলে তারা হচ্ছে মানুষ। কমার্স কলেজে থাকতে আমাদের বাংলার একজন স্যার ছিলেন। হাসানুর রশীদ ছিলো নাম। উনি বলতেন, “বিলিভ করো আর না করো তোমাদের বিহেইভ করতে হবে, নিয়ম মানতে হবেই হবে”। বলাই বাহুল্য স্যার অনেক কড়া ছিলেন। এই কারণে উনি অনেক সম্মানও পেতেন আমার কাছে। তবু আমি কোন নিয়মই মানিনি। আমি অবাধ্য এবং এর জন্য আমি দু;খিত। কিন্তু আমি লজ্জিত নই। কারণ আমি বিশ্বাস করি তারা কেউই কিছু জানেন না। আমি নিজেও যে জানি এমন কথাও আমি বলছি না।

ধর্ম আপনাকে সার্থকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে এবং মৃত্যু পর্যন্ত আপনার সব কিছু ঠিকভাবে করিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু এর জন্য আপনাকে পুরোপুরি সেইটা বিশ্বাস করতে হবে। ধর্মের প্রতিটা আপত্তিকর এবং অনাপত্তিকর জিনিস আপনাকে মেনে চলতে হবে তেমন হতে হলে। আমার এইখান থেকেই অবিশ্বাসটা আসে। ধর্ম হলো সেই অসম্পূর্ণ বিজ্ঞান যা আপনাকে প্রকৃত কার্যকারণ শেখায় না। অন্য একটা শেখায়। যেমন, ধর্ম আপনাকে শেখায় শয়তানের কথা যেখানে প্রকৃত পাপী আপনি নিজে। ধর্ম আমার ছোট বেলার খেলার সাথী বান্ধবী যার সাথে একত্রে খেলে চলে বড় হয়েছি তাকে পর্দার আড়ালে ঢুকিয়ে দেয় এবং সত্যটা আমি যখন জানতে পারি তখন আমি তার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যায়। ধর্ম আমার নিজেকে পশু ভাবতে শেখায় না কারণ এটা বলে যে এর আড়ালে শয়তান আছে। কিন্তু আমাকে পশুর মতো আচরণ করায়। কিন্তু এরপরও আমি বলবো না ধর্ম ব্যার্থ। আমি বলবো না সব কিছু কনস্পিরেসী থিওরী। কারণ প্রতিটা মানুষই গভীর। আমি কেন ভাববো যে আমি যেটা বুঝি সেটা আরেকজন বুঝতে অপারগ হবে? নাহ আমি এমন না।

ঈশ্বর আছেন নাকি জানি না। ঈশ্বর থাকলে মানুষকে ঈশ্বরের ভুমিকায় নামতে হতো না। ঈশ্বর ন্যায় বিচার করতেন। যেমনটি ধর্ম আমাদের স্বপ্ন দেখায়। মানুষকে যুগে যুগে ঈশ্বর সেজে মানুষরুপী আরকিছু ঈশ্বরের সাথে সংগ্রাম করে যেতে হয় না। তারপরও ঈশ্বর নেই এমন কথা আমি বলতে পারি না। কারণ আমি যখন আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকে হারাই তখনও আমি সুইসাইড করার কারণ খুঁজে পাই নি, আমি বেঁচে থাকার কারণ আমি আমার সেই প্রিয় জিনিসটার সাথে হারিয়েছি। ঈশ্বর আছেন হয়ত অলস অবস্থায় আছেন। ঠিক যেমনি আমিও অলস মুডে বেঁচে আছি।

নাস্তিকতার এইখানে এসে আমার ব্রেইন ভাবণা বন্ধ করে দেয়। আমি এই ব্যাপারে অনেক পড়ালেখা করতে চাই। তবে আমার চাওয়া হচ্ছে নজরুলের মতো। আমি মানবপ্রেম চাই। আমি সৌহার্দ্য চাই। আমি চাই না কেবল ধর্মীয় বিলিফের কারণে আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরী হৌক। সুতরাং আমি এরপরও বলছি না ধর্ম মিথ্যা কিংবা বা নাস্তিকতা ভুল। আমাকে সুবিধাবাদী ভাবতেই পারেন। শুধু চাই সবাই সুখে থাকুক। সবাই ভালো থাকুক। সবকিছু সুন্দর হৌক। পৃথিবীতে ন্যায় টিকে থাক। সত্য হোক সব কিছু।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:৪৪
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×