somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামহোয়ার ইন-এ আমার ২ মাসের পর্যবেক্ষণ এবং মুল্যায়ন

২৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙ্গালী হিসাবে আমাদের একটা অতি সাধারণ বৈশিষ্ট হল কোন জিনিসকে খুব তাড়াতাড়ি পঁচিয়ে ফেলা বা বিতর্কিত করে তোলা। এই যেমন ধরুন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ কারার পরপরই আমরা যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলাম। আমার মনে হয় বাংলাদেশে এমন একটি মানুষও পাওয়া যাবেনা যে ১১ জানুয়ারীর পট পরিবর্তনে খুশি হয়নি। আমরা বুঝো হউক আর না বুঝেই হউক, ফখরুদ্দীন আহমদ-এর সরকারকে প্রাণ ভরে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু পদ্মা-মেঘনা-যমুনার পানি খুব বেশী গড়াতে পারেনি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সেই সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাতে শুরু করে দিলাম।


ভাল-মন্দ সবার ক্ষেত্রেই সত্য। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে শুধু ভাল কাজই করছে সে অবশ্যই বলব না। স্বাধীনতার পর থেকে ৩৬ বছরে সবগুলো রাজনৈতিক দলের সরকার আমরা দেখেছি। আমরা যদি নিরপেক্ষ আবস্থান থেকে বিচার করি, তবে কি বর্তমান সরকারকে খুব বেশী খারাপ বলা যায়? তারা খুব কি খারাপ কাজ করছে? একটি সুস্থ্য ধারার রাজনীতির আশায় স্বাধীনতার পর ৩৬ টি বছর আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। পাইনি। ফখরুদ্দীন সরকারতো মাত্র দেড় বছর সময় চেয়েছে। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, আওয়ামীলীগ-এর সরকার গুলোকে যদি আমরা ৩৬ বছর সময় দিতে পারি, বর্তমান সরকারকে কি আমরা মাত্র দেড়টি বছর সময় দিতে পারিনা? দেখিনা ওরা কি করতে চায় বা কি করতে পারে।


এবার ব্লগ সম্পর্কে কয়েকটা কথা বলি। শ্লীল-অশ্লীল-এর ব্যাপারটায় আমরা খুব বেশী বায়াস্ড হয়ে যাই। ইউরোপ-আমেরিকায় যেটা শ্লীল, আমাদের বাংলাদেশে সেটা চরম অশ্লীল হিসাবে দেখা হয়। মনে রাখতে হবে আমরা ইউরোপ-আমেরিকায় থাকি না। আমাদের বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট এবং মুল্যবোধের ভিত্তিতেই কোন একটা জিনিস শ্লীল কি বা অশ্লীল, সেটা বিবেচনা করতে হবে এবং নির্ধারণ করতে হবে। শুধু এতটুকু করে বসে থাকলেই হবে না। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট কবেত হবে। যে কোন একটি জিনিসকে গ্রহণ করতে হবে। দুটি জিনিসকে এক সাথে এনে খিচুড়ি বানালে ব্লগটাও খিচুড়ি হয়ে যাবে। আর যাবেই বা কেন বলছি, অলরেডি হয়েই গেছে। প্রথম দিককার লেখাগুলোতে অনেক মৌলিকত্ত থাকত। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা হল খিস্তিখেউর। সামহোয়ারের ব্লগাররা সুস্পস্ট দু'টি ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি ব্লক অন্যটিকে যেভাবে পারছে, ডিফেন্ড করছে। সেখানে ব্যবহৃত ভাষা কোন ফ্যাক্ট থাকছেনা। আমার তো মনে হয় এখানকার ব্লগারদেরকে পল্টনে নিয়ে ছেড়ে দিলে তারা আরো একটি ২৮ অক্টোবর ঘটিয়ে ফেলবে। হায় আফসোস. আমরা কি সভ্যতা ধারণ করি, কি চেতনা লালন করি কে জানে!!!


প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান করতে হবে। বিরুদ্ধবাদীদের মতকে গ্রহণ করতে হবে, এমনতো নয়। আবার নিজের মতকে অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার মানসিকতা ও দূর করতে হবে। ব্লগাররা নিজেদের মতামত ব্লগে উপস্থাপন করতে পরেন। কিন্তু কে সেটা গ্রহণ করবে বা কে গ্রহণ করবে না, সেটা লেখকের বিবেচ্য হতে পারেনা। তর্ক হবে তথ্য-উপাত্ত আর যুক্তিতে। সব কিছুর পরও পাঠক যদি কোন কিছুকে গ্রহণ না করে, সে ক্ষেত্রেও কিন্তু লেখকের কিছু করার নেই। সর্বোপরি ভাষাটা হতে হবে মার্জিত, ভদ্র এবং সর্বজন শ্রবণযোগ্য।


কিন্তু আমরা সেটা করব না। কারণ, আমরা বাঙগালী বাংলাদেশী (যা-ই বলি না কেন)। আমাদের রক্তে বারুদের ত্যাজ। শান্ত-সভ্য থাকা আমাদের চরিত্রের সাথে মিলেনা। প্রতিবাদ আর প্রতিরোধই আমাদের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। কিন্তু কিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা কোথায় সেই প্রতিবাদ করলে এবং কিভাবে করলে ক্ষতি ছাড়াই দাবী আদায় হতে পারে, সেই প্রতিবাদের মাত্রাটাই বা কতটুকু হওয়া দরকার বা কি ভাবে প্রতিবাদ করতে হবে, আমরা সেটা জানি না। আমরা পিছিয়ে যাই সেখানেই।


সে যাক। এতগুলো কথা বলার পেছনে যেটা উদ্দেশ্য, তা হল আমরা খুব সহজেই এবং খুব তাড়াতাড়ি এই ব্লগটাকে পঁচিয়ে বা নষ্ট করে ফেলেছি। সুতরাং এই ব্লগটাকে যদি সুস্থ্য-সুন্দর, পরিচ্ছন্ন রাখার ইচ্ছে থাকে তবে ব্লগ কর্তৃপক্ষকে এখনই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে ব্লগাররা কি পছন্দ করে। ব্লগারদের পছন্দ-অপছন্দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে।

৬৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×