somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আগামীকাল শোক র‌্যালি ২০০৮

২২ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক র‌্যালি ২০০৮
ঘনঘন নৌ-দুর্ঘটনার জবাব দেবে কে ?

প্রতি বছর ঘটছে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানি। তদন্ত কমিটি হয়, প্রতিবেদন পেশ করা হয়, দুর্ঘটনা বন্ধের সুপারিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেই চলে। প্রতিবছর-ই বর্ষা মৌসুমে লঞ্চ দুর্ঘটনার পরপরই এইসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের রিপোর্ট মতে, লঞ্চ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ডি ক্যটাগরির অযোগ্য নৌ-চলাচল এবং অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝাই। বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দণি বাংলার মানুষের নৌ-দুর্ঘটনা নিয়ে আতংকে দিন কাটানোর দিন। নদী পথে যাতায়াতের একটি অন্যতম সহজ পথ হল দণি বাংলার মানুষের। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কর্তব্যে অবহেলা, অযোগ্য নৌযান চলাচলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে দুর্নীর্তির মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদান এবং নজরদারী না রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। লঞ্চ মালিক ও চালকদের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে নিয়ম-কানুনের প্রতি বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শণ এবং সর্বপরি নিরাপদ নৌ-চলাচল বিষয়টিকে সরকারের আমলে না নেওয়ার ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে চলছে। এর যেন কোনো প্রতিকার নেই। মানুষের জীবনের মূল্যকে এরা থোরাই কেয়ার করেন।

দুর্ঘটনার পর শত শত পরিবারের ক্রন্দনধ্বনি ওঠার পরেই কেবল কর্তৃপ কয়েক দিন এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়, তদন্ত কমিটি হয় এবং একটি দায়সারা গোছের তদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। আবারও যথারীতি আগের মতোই নৌ-মালিক ও চালক দস্যুদের রাজত্ব চলতে থাকে নৌ-রুটে। এটা যেন একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। যে লঞ্চ দুর্ঘটনায় শত শত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, নৌ-পরিবহন কর্তৃপরে সেখানে কাজটা কি ? তাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই ? এতোগুলো মানুষের মৃত্যুর জন্য শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করে কি দায় এড়ানো সম্ভব ? লঞ্চ চলাচলের অযোগ্য হওয়ার পর কিভাবে উপযুক্ততার সাটির্ফিকেট পায় ? কাদের মাধ্যমে পায়? রাষ্ট্র কি করে? রাষ্ট্রের কাজ কি শুধু বদমায়েশদের রাজত্ব করার সুযোগ করে দেওয়া ? রাষ্ট্রের কাজ কি শুধু খারাপ মানুয়ের পে কাজ করা ? জনগণের টাকায় যে রাষ্ট্র চলে, সেই রাষ্ট্রের যারা কর্মকর্তা, কর্মচারী, তাদের তাহলে দায়িত্বটা কি? আমরা ট্যাক্স দিয়ে রাষ্ট্রের এতোসব বাহিনী পালছি, তাদের কর্তব্যটা আসলে কি? নিরাপদ নৌ-চলাচলে নৌ-পুলিশের ব্যর্থতার দায়ে তো কারো কখনো দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়নি। কোনো লঞ্চ মালিকের সাজা হয়নি। কোনো নৌ-চালকের সাজা হয়নি? নৌ-পুলিশ ব্যর্থ হলে নৌ-বাহিনী কি করছে? সেনা-বাহিনী কি করছে? রাষ্ট্র কি করছে? আমরা কি শুধুই দুর্ঘটনার শিকার হতে থাকবো? তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্রের দরকারটা কি? আমরা কি তাহলে এখনো মগের মুল্লুকে বাস করছি না? আমরা কি এখনো কতিপয় দস্যুর রাজত্বে বসবাস করছি না? এতোসব বিষয়ের জবাব কে দেবে? আমরা চাই যান্ত্রিক ত্র“টি বা নৌ-চালকের খামখেয়ালীতে বা নৌ-রুটের নিয়ম কানুন উপো করে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের জন্য আর যেন কোনো নৌ-দুর্ঘটনা না ঘটে। সরকারকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। এ যাবৎ সংগঠিত সকল নৌ-দুর্ঘটনার যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রে কেউই যে আইনের উর্ধ্বে নয় সেই সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বর্তমান সেনা-বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ঘন ঘন লঞ্চ দুর্ঘটনার বিষয়গুলি আরো কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব।
আমরা চাই প্রত্যেক বছর ঘন ঘন লঞ্চ দুর্ঘটনা এড়াতে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন নৌযান ও আধুনিক নৌ-ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন। মানুষের জীবনের মূল্যের চেয়ে অন্য কোনো অযৌক্তিক যুক্তিকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপদ নৌ-চলাচল বাস্তবায়ন মুভমেন্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য প্রতি বছর ২৩ মে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শোক র‌্যালি ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বল করে জনগণকে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। এ বছরও নিরাপদ নৌ-চলাচল বাস্তবায়ন মুভমেন্ট ২৩ মে ২০০৮ শুক্রবার বিকাল ৪.৩০টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শোক র‌্যালি বের করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ সহযোগিতা করতে আহবান জানাবে।

নিরাপদ নৌ-চলাচল বাস্তবায়ন মুভমেন্ট কর্তৃক আয়োজিত শোক র‌্যালি ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে আপনি স্ব-বান্ধব উপস্থিত হয়ে আপনার মূল্যবান মতামত তুলে ধরবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানের সময়: ২৩ মে ২০০৮, রোজ শুক্রবার, বিকেল ৪.৩০ মিনিট
স্থান: জাতীয় জাদুঘর ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ
আয়োজন: নিরাপদ নৌ-চলাচল বাস্তবায়ন মুভমেন্ট

ধন্যবাদন্তে
সুমন শামস ও রেজা ঘটক
নিরাপদ নৌ-চলাচল বাস্তবায়ন মুভমেন্ট
প্রয়োজনে:০১৭১১-১৬৫৮৬৩, ০১১৯৯৫২১৭৫৯।
Email: [email protected] or [email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×