somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রদ্ধা তোমায় মাদার তেরেসা

২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল ছিল মাদার টেরেসার জন্মদিন। মহীয়সী এই নারীর জীবণী সংক্ষেপে এখানে_ _
তাঁর পুরো নাম অ্যাগনেস গোনাক্সা বোজাঝিউ। বাবা, মা আর তিন ভাই বোন নিয়ে ছিলো তাঁদের সংসার। অ্যাগনেস ছিলেন সবার ছোটো। ম্যাসিডোনিয়ার স্কপজে শহরে জন্মে ছিলেন তিনি। সময়টা ছিলো ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট। বাবা নিকোলাস বোজাঝিউকে হারান আট বছর বয়সেই। ছোট্ট অ্যাগনেস তখন থেকেই নিজের মনকে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের জন্য তৈরি করতে থাকেন। এক্ষেত্রে মা ড্রানাফাইল বোজাঝিউ-এর সহযোগিতা তাঁকে উৎসাহ যুগিয়েছে। ১৯২৯ সাল। যখন অষ্টাদশী অ্যাগনেস আয়ারল্যান্ডের লরেটো সংঘ থেকে শিক্ষকতার মানসে পাড়ি দেন কোলকাতা। লরেটো কনভেন্ট বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষকতার হাতেখড়ি। এখানে কাজ করার সময় স্কুল প্রাচীরের পাশে মতিঝিল বস্তির মানুষগুলোর মানবেতর জীবন যাপন তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। রোগ, শোক, জরা আর মৃত্যু তাদের নিত্যসঙ্গী। ক্লাশের ফাঁকে যখন সেই ক্লান্ত করুণ মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতো তখন গভীর বিষাদে তাঁর মন ছেয়ে যেতো। অবশেষে ১৯৩১ সালে তিনি সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করলেন, আর সেই সঙ্গে হারিয়ে গেলো তাঁর অ্যাগনেস নামটি। তিনি আবির্ভুত হলেন মাদার তেরেসা নামে। ১৯৪৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এক অলৌকিক ক্ষমতাবলে তিনি যেনো যীশুর বাণী শুনতে পেলেন। তখন থেকেই দরিদ্র মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করলেন।

এ যেনো পরম পিতার আহবান। নীল পাড়ের সাদা সুতি শাড়ি গায়ে জড়িয়ে একে একে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’। বিংশ শতাব্দীর ঠিক মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ ১৯৫০ সালে। কালীঘাটে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘নির্মল হৃদয়’ আশ্রম, যেখানে আশ্রয়হীন মুমূর্ষ নর-নারীরা অন্তিম মুহূর্তে পেলো মমতাময়ী জননীর স্নেহস্পর্শ। ১৯৫৫ সালে অনাথ শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন ‘নির্মলা শিশুভবন’। যার ফলে নতুন আশ্বাস আর আশার আলোতে ভরে উঠলো বঞ্চিত জীবন। মাদার তেরেসার এ মহৎ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দিলেন ‘পদ্মশ্রী’র সম্মান। তাঁকে ‘ভারতরতœ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় ১৯৮০ সালে। তার ঠিক এক বছর আগেই, অর্থাৎ ১৯৭৯ সালে পেলেন শ্রেষ্ঠ সম্মান নোবেল শান্তি পুরস্কার। এই মহিয়সী নারী ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে যিনি এই ছায়াহীন রৌদ্রদগ্ধ শুষ্ক জীবনমরুতে রচনা করেছিলেন ছায়াঘন প্রেমের পঞ্চবটী।

লেখাটি পূর্বে আমার এই ব্লগে প্রকাশিত
ইম্মরটাল ফেম
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×