তাঁর পুরো নাম অ্যাগনেস গোনাক্সা বোজাঝিউ। বাবা, মা আর তিন ভাই বোন নিয়ে ছিলো তাঁদের সংসার। অ্যাগনেস ছিলেন সবার ছোটো। ম্যাসিডোনিয়ার স্কপজে শহরে জন্মে ছিলেন তিনি। সময়টা ছিলো ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট। বাবা নিকোলাস বোজাঝিউকে হারান আট বছর বয়সেই। ছোট্ট অ্যাগনেস তখন থেকেই নিজের মনকে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের জন্য তৈরি করতে থাকেন। এক্ষেত্রে মা ড্রানাফাইল বোজাঝিউ-এর সহযোগিতা তাঁকে উৎসাহ যুগিয়েছে। ১৯২৯ সাল। যখন অষ্টাদশী অ্যাগনেস আয়ারল্যান্ডের লরেটো সংঘ থেকে শিক্ষকতার মানসে পাড়ি দেন কোলকাতা। লরেটো কনভেন্ট বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষকতার হাতেখড়ি। এখানে কাজ করার সময় স্কুল প্রাচীরের পাশে মতিঝিল বস্তির মানুষগুলোর মানবেতর জীবন যাপন তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। রোগ, শোক, জরা আর মৃত্যু তাদের নিত্যসঙ্গী। ক্লাশের ফাঁকে যখন সেই ক্লান্ত করুণ মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতো তখন গভীর বিষাদে তাঁর মন ছেয়ে যেতো। অবশেষে ১৯৩১ সালে তিনি সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করলেন, আর সেই সঙ্গে হারিয়ে গেলো তাঁর অ্যাগনেস নামটি। তিনি আবির্ভুত হলেন মাদার তেরেসা নামে। ১৯৪৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এক অলৌকিক ক্ষমতাবলে তিনি যেনো যীশুর বাণী শুনতে পেলেন। তখন থেকেই দরিদ্র মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করলেন।
এ যেনো পরম পিতার আহবান। নীল পাড়ের সাদা সুতি শাড়ি গায়ে জড়িয়ে একে একে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’। বিংশ শতাব্দীর ঠিক মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ ১৯৫০ সালে। কালীঘাটে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘নির্মল হৃদয়’ আশ্রম, যেখানে আশ্রয়হীন মুমূর্ষ নর-নারীরা অন্তিম মুহূর্তে পেলো মমতাময়ী জননীর স্নেহস্পর্শ। ১৯৫৫ সালে অনাথ শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন ‘নির্মলা শিশুভবন’। যার ফলে নতুন আশ্বাস আর আশার আলোতে ভরে উঠলো বঞ্চিত জীবন। মাদার তেরেসার এ মহৎ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দিলেন ‘পদ্মশ্রী’র সম্মান। তাঁকে ‘ভারতরতœ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় ১৯৮০ সালে। তার ঠিক এক বছর আগেই, অর্থাৎ ১৯৭৯ সালে পেলেন শ্রেষ্ঠ সম্মান নোবেল শান্তি পুরস্কার। এই মহিয়সী নারী ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে যিনি এই ছায়াহীন রৌদ্রদগ্ধ শুষ্ক জীবনমরুতে রচনা করেছিলেন ছায়াঘন প্রেমের পঞ্চবটী।
লেখাটি পূর্বে আমার এই ব্লগে প্রকাশিত
ইম্মরটাল ফেম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


