গতকাল সকালে আমি যখন বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলাম তখন হঠাত দেখলাম খিলগাও বাগিচা মসজিদের সামনে অনেক লোকের ভিড়।ব্যাপার কি তা বোঝার জন্য ভীড় ঠেলে সামনে এগুলাম।সামনে গিয়ে দেখলাম একটি অন্ধ ছেলে রিকশায় বসে গান গাচ্ছে আর রিকশাওয়ালা টাকা তুলছে।ছেলেটির গানের গলা মনে হলো যেন লালল স্বয়ং নিজেই গাচ্ছে।আমার কৌতুহল আরো বেড়ে গেল।ছেলেটী সম্পর্কে আরো জানতে ইচ্ছে হলো।আমি রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলাম ওর সম্পর্কে।তার কাছে থেকে জানলাম ছেলেটির নাম ইসমাইল।থাকে গোড়ান নবাবী মোড় এর দিকে।বয়স ১২-১৩ হবে।সে একজন প্রতিবন্ধী।চোখে দেখে না ও কানে ঠিক মত শুনতে পারে না।হাতেও একটু সমস্যা আছে।তবু সে তার হাত দিয়ে বাজিয়ে যায় দোতারার মধুর সুর।ইসমাইলের দেশের বাড়ি গাইবান্ধা।বাবা মোঃশামসুল হক।দারিদ্রর জন্য ইসমাইলের চিকিতসার খরচও দিতে পারে না।অবশেষে ইসমাইলের চাচাতো ভাই সামসুল হক(রিকশা চালক) ইসমাইলকে ঢাকা নিয়ে আসে।ছোট বেলা থেকেই ইসমাইল টূকটাক গান গাইতো।বাবার দোতারা বাজাতে বাজাতে একসময় দোতারায় গান গাইত।ইসমাইল ঢাকা এসেছে প্রায় আড়াই মাস।ভাই সামসুল সারা দিল রাস্তায় রাস্তায় ইসমাইলকে নিয়ে রিকশায় ঘুরে।ইসমাইল রিকশায় গান গায় আর সামসুল টাকা তোলে এভাবেই ওদের জীবন চলছে।কিন্তু ইসমাইল কত দিন এভাবে চলবে সে নিজেও জানে না।সে নিজেও বলতে পারে না ওর শেষ।আমি যখন ওকে টাকা দিলাম আর ওর সম্পর্কে জানলাম তখন ও আমাকে খুশি হয়ে একটা গান শোনালো।গানটা আমি আমার সাথে রেকর্ড করে নিয়ে এসেছি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য নিচে লিংক দিলাম।
Click here for this song
এরকম হাজারো ইসমাইল আছে আমাদের সমাজে।তবে আমার মনে আজ শুধু একটাই প্রশ্ন,ইসমাইলের মত মানুষের দুঃখ কি কোনদিন ঘুচবে না? সরকার বা কোন সংস্থা কি নেই ওদের জন্য?
Rehman Rahat

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


