এবং আবার তোমাকে চিঠি লিখতে বসি। আমাকে নতুন করে আরম্ভ করতে হয়। তাই আরম্ভের গল্পটুক শেষ হয়না।
তোমাকে চিঠি লিখতে গিয়ে, চিঠি লেখার পরিবর্তে, তখন, রিতিমতো তর্ক জুড়ে দিয়েছিলাম। এবং তুমি নিরব হতে হতে, আমাদের আসর থেকে চলে গেলে। চায়ের পিরিচ থেকে লিকার গড়িয়ে পড়তে পড়তে, আমাদের রাতদুপুরের বিকেলটা মলিন হতে শুরু করলো।
আর জানোতো, তুমি যখন নিরব হও, তখন পৃথিবীর দিনগুলো সূর্য হতে এতো দূরে চলে আসে, আমি, আমরা সকলে, এবং ইতিহাসের কলকব্জা সব, বরফযুগের মমি হয়ে যায়। আড্ডা ভেঙে পড়ে। আমরা তার মধ্যে প্রাচীন প্রবীন পাখি হয়ে আমাদের একার আকাশে মেঘ। ভাবো, আমাদের গন্তব্য কোথায় তখন!
সেই প্রাগৈতিহাসিক ভোরে, যখন শীত ছাড়া আর কোন ঋতু নেই, জড়তায় ভরে গেছে ইতিহাস, তোমার জন্য, আমাদের পবিত্রতম, সুন্দরতম ভাষাগুলো হাতড়ে ফিরি তখন।
মানে ইতিহাস হাতড়ে ফিরা। আবার আরম্ভের গল্প শুরু। আমার আরম্ভ করতে করতেই দিন শেষ হয়ে যায়। দ্বিধা। আমার আরম্ভকাল দীর্ঘ, প্রলম্বিততর হয়।
ভাষা। তুমি জানোইতো, ভাষা মানেই ইতিহাস; আর ইতিহাস মানেই রাজনীতি। রাজনীতি মানেই, তোমার সাথে একটি নতুনতরো বিতর্কের শুরু। তাহলে আমরা কোথায় যাবো? রাজনীতি ছাড়া কোন ভাষা নেই। তাই, আরম্ভ করতে করতেই থেমে যাই। নি-ভাষার খোঁজে। অনেতিহাসের খোঁজে।
কথার সিভিলাইজেশন থেকে আমরা তখন নৈঃশব্দ প্রার্থনা করি। তোমার জন্য ভাষা প্রযোজ্য নয়। ভাষা হলো কতগুলো কাগজের ফুল বা পাখি। ইনফিনিট জাস্টিস বা মানবাধিকার এরকম কিছু ভাষাদূষণ। ভাষা হলো সাম্রাজ্যের কুকুর। ইতিহাসে কোন পবিত্রতম ভাষা নেই। আমরা বলি যে ভাষা হলো ইতিহাস। আর মানুষতো অনেতিহাসের যাত্রী। আমাদের কোন ভাষা নেই।
অনিন্দিতা, এসো আমরা নিজেরাই অধিভাষা হয়ে উঠি। আমরা অনেতিহাসে যাবো। তোমাকে ভালবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



