somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমাকে চিঠি লেখার পরিবর্তে, এসো কিছুক্ষণ রিতিমতো তর্ক করি

২৪ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন উপায় পেলাম না। আরম্ভের জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রিতায় তুমি হয়তো ভাবছো, আজ আর হলো না। কিন্তু আমার কি হয় জানো, ইদানীং, তোমাকে চিঠি লিখতে গিয়েই, রিতিমতো ইনসোমোনিয়া। একে জরুরী অবস্থা, তার উপর ইনসোমোনিয়া, এবং তোমাকে চিঠি লেখা ছাড়া আমার আর সবগুলো ভাষা বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার। এবং চিঠিতেও কখনো কখনো সেন্সর। আমার হাসি আসে, আমাদের প্রেমপত্র, সরকারের কি এমন ক্ষতি করে। রাতে চা খেতে তুমিই নিষেধ করেছিলে। আমি আবার চায়ের পাগল। তুমি একটি কবিতা লিখেছিলে না, ইনসোমোনিয়া একটি চাকমা মেয়ের নাম।

কিন্তু আজ আর সত্যিই তোমাকে চিঠি নয়, কখনো কখনো তোমার সাথে তর্ক করতেই আমার ভাল লাগে। কেননা তুমি একটি স্বচ্ছ আয়নার নাম। মানুষ, রাজনীতি আর প্রেম আমি তোমার মধ্য দিয়েই বুঝতে পারি।

তুমি চেতনার কথা বলছিলে। এই শব্দটি আমি ফ্রয়েডে পেয়েছি। যতটুকু বুঝি, এই শব্দটির সাথে জৈবিক কাঙ্ক্ষার দারুণ যোগ। এর মহত্তর অর্থ হলো উল্লম্ফন। এই শব্দটি যেখানেই থাকে, তার সাথে উল্লম্ফন যোগ হয়। আমি তাই এই শব্দটি যেসব জায়গায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিবেক নামক শব্দ দিয়ে পরিবর্তনে আগ্রহী। চেতনা যেখানে জৈবিক উল্লম্ফন উদ্ধৃত করে এবং কাঙ্ক্ষা জাগায়, বিবেক সেখানে মানুষ এবং ন্যায় নির্মাণ করে।

১৯৮০ সালে আমার জন্ম। তাই আমার কাছে ৭১ এর কোন স্মৃতি নেই। তাই কোন স্মৃতিকাতরতা নেই। না থাকাই স্বাভাবিক। আমার কোন চেতনাও নেই। কিছু বোধ আছে। বাবা সেইসব বোধের কথা বলতেন। বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুব ভক্ত। আমরাও ছোটকালে খুব ভক্তি সহকারে তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ শুনতাম। আর সেই শুনে শুনে বড় হওয়া। আর ভাবতে শেখা। দেশ। এত্ত সুন্দর দেশ আমার। এবং দেশ প্রেম।

৭১ এ বাবারা যুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর মনের ভাবনাগুলো আমি জানি। কী চেতনা নিয়ে তাঁর নেতারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেটি রাজনীতি। সাধারণ মানুষ কোন বোধ এবং দেশপ্রেম নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, সেটা বোধ। প্রত্যেকটা আমার কাছে আলাদাভাবে দেখার বিষয়। কারো সাথে কোনটা মিলবে না। যদি মিলত, দেশের মানুষ রণাঙ্গনে যুদ্ধ করাকালে, নেতারা কলকাতায় বসে তাস আর মদে চুর হয়ে বসে থাকতো না। (দেখুন: অলাতচক্র: আহমদ ছফা)

আমিও। সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। আমি কোন চেতনার সাথে একমত নই। আমার পিতৃপুরুষের সাথেও না। যদি একমত হতাম, তাহলে সেই দুর্বিষহ দিনগুলো ফিরে পেতে চাইতাম, যখন রক্ষিবাহিনী দেশের বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছিল, যখন চেতনায় উজ্জ্বীবিত রাষ্ট্রপ্রধান গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন। তিন বিঘা করিডোরের কথা কি মনে আছে? বড়ো অযৌক্তিক বৈকি। পূর্বপুরুষ কোন চেতনা নিয়ে একদিন ১৭ সওয়ারীর যুদ্ধে বঙ্গ বিজয় করেছিল, তারো আগে কোন রাজপুরুষ ধর্মরাষ্ট্রের ইচ্ছা করেছিল, আমরা কি এখনো সেইসব চেতনা বহন করে চিল্লাতে থাকব। যারা চেতনার কথা বলছেন তারা কেউই আম জনতা নয়। একজন কৃষক, যে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাঁর বোধের সাথে কলকাতায় রাত যাপন করা সেইসব নেতাদের চেতনা মিলার কথা নয়।

আর। তোমাকে তো বলেইছি, চেতনা মানে উল্লম্ফন। চেতনা পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে, বিবেক মানুষ নির্মাণ করে। সৃষ্টি করে।

এই দেশটি আমার। আমি জন্মের সময় এই দেশেই জন্মেছি। আমার পিতার ঔরসে। তাই বলে আমার পিতার ইচ্ছা এবং চেতনা আমাকে গাধার মতো বহন করতে হবে, আমি তার কোন সমালোচনা বা গ্রহণ বর্জন করতে পারবো না, সেই মানুষ জন্ম আমার হতে পারে না।

আমি পরিবর্তন চাই। কারণ বিপ্লব এবং ক্রমাগত পরিবর্তনই মহত্তর মানুষের জন্ম দেয়।

অনিন্দিতা, আমার ভালবাসা নিও।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১০
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×