আমার প্রিয় পোস্ট
- বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া - রিফাত হাসান
- খালেদা জিয়া: দগ্ধ থেকে বিদগ্ধতা - রিফাত হাসান
- শার্লক হোমস রাজনীতিবিদগণ ও কয়েকটি বিলম্বিত নোট - রিফাত হাসান
- ল্যামপোস্টের আলোয়: আরো কিছু জরুরী কথা-বার্তা - রিফাত হাসান
- ‘জিহাদি বই’ সিন্ড্রোম, ‘শিবির’ সন্দেহে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আলাপ - রিফাত হাসান
- রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার - রিফাত হাসান
- বিস্তর পরের নোট: ব্লগে আমার দুই বছর পূর্তিতে আড়মোড়া ও কিছু পুরনো আলাপ - রিফাত হাসান
- এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব, প্রাণ প্রকৃতি ও ভূখণ্ডের উপর আমাদের নায্য হকের লড়াই এবং একটি পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়া - রিফাত হাসান
- সরকারের প্রেসনোট, জননিরাপত্তার প্রেতাত্মা ও হিজবুত তাহরীর - রিফাত হাসান
- রাষ্ট্রের ধর্মবাসনা, দলের ভণ্ডামি, জামাত নেতৃত্বের গ্রেফতার ও অন্যান্য প্রশ্ন - রিফাত হাসান
- বাংলাদেশের 'উত্তর-ঔপনিবেশিক' বিচারকবৃন্দ: ব্লাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস - রিফাত হাসান
- সংবিধান মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা - রিফাত হাসান
- কনষ্টিটিউশন পর্যালোচনাঃ সুরঞ্জিতের বক্তব্য অনুযায়ী বাকশাল চতুর্থ সংশোধনীও অবৈধ (পর্ব-৩) - পি মুন্সী
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট - রিফাত হাসান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট - রিফাত হাসান
- বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন - রিফাত হাসান
- আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি, তারেক রহমান ও তার মায়ের অপরাধ ও শাস্তি এবং আমাদের নারী ভাবনা - রিফাত হাসান
- একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি - রিফাত হাসান
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ
১৩ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
আলাপ
২০ মার্চ ২০০৮ তারিখে পোস্ট করা ফাহমিদুল হকের একটি লেখা পড়ছিলাম সামহোয়ারইনে। বেশিদিনের পুরনো নয়। কিন্তু সামহোয়ারে আসার পর আমার পড়া প্রথম দিককার পোস্টগুলার একটি ফাহমিদুল হকের এই লেখা। তখনো আমার এই ব্লগে মন্তব্য করার অধিকার জন্মায় নাই। আর জন্মাইলেও তাতে মন্তব্য হয়তো করতাম না তখনই। ভাবনা গজাইলেই তাতে কমেন্ট করার স্বভাব এবং আর্টটা আমি এখনো রপ্ত করতে পারি নাই। তখনতো নয়ই। তবে লেখার বিষয় এবং কমেন্টের ব্যাপ্তি কৌতুহলজনক ছিল খুব। আমি পড়ে মজা পেয়েছি। পোষ্টটাতে অনেকগুলো বাজারি বিতর্কের হদিস পাওয়া গিয়েছিল। এটি ২৯৬৪ বার পঠিত হয়েছে এ পর্যন্ত এবং ৩৯৬ টি মন্তব্য পেয়েছে। এই পরিসংখ্যানটা বিষয়ের জনপ্রিয়তা এবং বাজারি গুরুত্ব বুঝানোর জন্য দিলাম। লেখক নিজে এবং আরো অনেকেই পোস্টের বিতর্কে অংশ নিয়েছেন সেসময়। সম্ভবত এখনো চলছে সেই বিতর্কগুলো ওখানে।
আমি লেখাটা এবং বিতর্কগুলো খুব আগ্রহের সাথে পড়েছি।
সেদিন সেই বিতর্কগুলো পড়তে গিয়ে তার প্রবণতাসমূহ যা আমার চোখে পড়েছে এবং পরবর্তীতে আমার অভিজ্ঞতায় আরো অনেকগুলো প্রপঞ্চের ভাবনার কথা এখানে বলার চেষ্টা করবো। তার আগে অন্য একটি
আলাপ পাড়তে চাই, আমার এক বন্ধু জহিরের কথা বলে।
আমার একজন বন্ধু আছে, জহির নাম। নামটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারে কোন বিষয় আপনি বলার পরে তার যাবতীয় দৃষ্টি এবং ধৈর্য নিয়ে তার প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা আপনাকে দিয়ে দিতে হবে। তা হলো, এতে আপনার পলিটিক্সটা কোন জায়গায়। তারে নিয়ে আমাদের বন্ধুমহলে একটা গল্প রচিত হয়েছে ইদানীং, তার অজান্তে।
সেটা এরকম: ধরা যাক ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ স. ইসলাম নিয়ে আসলেন কার্লমার্কসের যুগের পরে। খুব ঠাণ্ডা মাথায় মুহাম্মদের কাছে বন্ধুটির প্রথম প্রশ্ন হবে এরকম: আপনার পলিটিক্সটা কোন জায়গায় একটু খোলাসা করবেন?
ইসলামের নবীর সামনে জহিরের এপ্রোচটা কী হতো জানা সম্ভব নয়, নবীতো সবাই হন না, আমরা যারা মানবিক সংসারে মানুষ হিশেবেই টিকে থাকার লড়াই করে যাই; এই ডিসকোর্সের কালে আমাদের রাজনৈতিক সচেতনা আমাদেরকে তার পলিটিকসটা বুঝতে প্ররোচনা দেয়। পলিটিকসটা বুঝতে পারলে আমাদের মানবিকতাবোধের লড়াই সহজতরো হবে।
আমারো তাই পলিটিকসটা মাথায় আসে প্রথমে।
ফাহমিদুল হককে আমি চিনি না, পাঠ করতে গিয়ে জানতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক, একটি পত্রিকা সম্পাদনার সাথেও যুক্ত আছেন তিনি। তার এই পরিচয়টা গুরুত্বপূর্ণ নয় এই আলোচনায়, কিন্তু তাঁর শ্রেণীচরিত্র এবং প্রবণতা বুঝার জন্য এটাও একটি জরুরী এলিমেন্ট হিশেবে বিবেচিত হতে পারে আলোচনার কোন এক পর্যায়ে। এবং ব্লগের লিখিয়েরা, যারা সেই বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন, ফাহমিদুল হকের মতই তাঁরা আমার কাছে অপরিচিত, তাদের লেখার অংশটি ছাড়া।
ফাহমিদুল হক এবং অন্যান্য ব্লগাররা যারা এই লেখাটা পড়ছেন, আমাকে ক্ষমা করবেন। ব্যক্তিকে বিশ্লেষণ এখানে আলোচনার উদ্দেশ্য নয়। গণমাধ্যমে ফাহমিদুল হকের প্রকাশিত একটি লেখা এবং সেই লেখাকেন্দ্রিক তর্ক-বিতর্কে প্রবলভাবে উপস্থিত শ্রেণীপ্রবণতাটা আমি নিজের ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে পড়তে চাই। আমি তার পলিটিকসটা ধরতে চাই, যার মইধ্যে একই সাথে আমাদের বুদ্ধিজীবীতা এবং রাজনীতির সংকট জড়িত।
বিস্তার
প্রসঙ্গে যাবার আগে কিছু প্রাকইতিহাস বলা প্রয়োজন।
প্রথমত বাংলাদেশের উত্থান মুহূর্তে ভূমিকা পালনকারী দৃশ্যমান দুটি শ্রেণী, বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত্বশ্রেণী-উদ্ভূত পলিটিক্যাল এলিট এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট; উভয়ের পাকিস্তানী হেজিমনির বিরুদ্ধে যে দৃশ্যত অবস্থান (দৃশ্যত বলা হচ্ছে, কারণ তার ভিতরে একটি সুবিধাবাদী অবস্থানও ছিল), তা বাংলাদেশ-বিপ্লব পরবর্তী সময়ে তার চরিত্রের মৌলিক কোন ট্রান্সফরমেশন ঘটাতে পারে নি। ফলে এই উভয়বিধ শ্রেণী বাংলাদেশ-বিপ্লবের অন্তর্নিহিত মর্মার্থ- হাজার বছরের লড়াই, সংগ্রাম ইত্যাদির ভিতরকার নানা বাঁক, টানাপোড়ন ও শক্তির জায়গাগুলো- ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের উত্থানের পর ক্লাস ফরমেশনের যে প্রক্রিয়া, তাতে দেখা যায় মনস্তাত্ত্বিকভাবে উভয় শ্রেণীই কোন না কোনভাবে পার্টিলগ্ন হয়ে পড়েছে। এই পার্টিলগ্নতার চরিত্র আমাদের খুব পরিচিত বাঙালী বনাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিতর্কে স্থুলভাবে দৃষ্ট। প্রবণতাটা আমাদের বুদ্ধিজীবী শ্রেণী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুটি আলাদা ফ্র্যাকশনে বিভক্ত করে ফেলেছে; যেটা তৃতীয় বিশ্বের ছোট দেশগুলির নিরাপত্তা বলে কথিত বিষয়টিকে ভিতর থেকে হুমকির মুখোমুখি করে। ফলত আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারাগুলো পার্টি ইন্টারেস্ট কাম ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কাম আন্তর্জাতিক কুটনীতির আওতায় তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
দ্বিতীয়ত মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর আবহ নিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রজন্মের (সংবেদনশীল তরুণদের কথা ব্যতিরেকে) যে জনপ্রিয় আগ্রহ বর্তমানে জারি আছে তাতে উল্লেখিত দুটি শ্রেণীরই ইমেজ বীরসুলভ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে প্রগতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের যে রেডিক্যাল বিপ্লবী অবস্থানের দরকার ছিল, সেটি স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ অভিজ্ঞতায় প্রবলভাবে অনুপস্থিত। হয়তো শ্রেণী হিশেবে গঠিত হওয়ার সময়কার আর্থ সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত তাদের মনোগঠনে প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা সরবরাহ করতে পারেনি এবং কনক্রিট সামাজিক ঐতিহাসিক বাস্তবতায় উল্লেখিত শ্রেণী দুটি অনেকটা অপরিপক্ক অবস্থায় বাংলাদেশ বিপ্লবের সামনে হাজির হয়েছিল।
আমাদের বর্তমান আলোচনায় যতটুকু ইতিবৃত্ত হাজির হল তাতে শ্রেণী দুটির গঠন, ক্রমবিকাশ এবং হালনাগাদ উত্তরাধিকার বিবেচনায় নিয়ে আমরা যারা ব্লগে লেখালেখি করছি, আমাদের সকলের শ্রেণী অবস্থান এবং তার প্রবণতা সমূহ চিহ্ণিত করা যায়। এটিও ভাববার বিষয়; আমাদের যারা অসীম সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের জন্য রেডিক্যাল বিপ্লবী অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁরা এর কোন বিপ্লবী দার্শনিক ভাষ্য নির্মাণ করতে পারেননি এবং সুনির্দিষ্টভাবে কাজের ক্ষেত্রও নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইতিহাসে প্রচেষ্টাগুলো তাই কবিসুলভ রোমান্টিক হটকারিতায় পরিণতি লাভ করেছে।
প্রবেশ
প্রসঙ্গের অবতারণা হিসেবে আরো একটি বিষয় এবার আমাদের আলোচনায় আসবে: বহুল আলোচিত মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এ সংক্রান্ত ধারণাগুলোর পর্যালোচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে দু ধরণের অভিমুখের সন্ধান পাওয়া যায়। একটি হল ফ্রিডম অব চয়েজ, অন্যটি ফ্রি উইল।
প্রাচ্যীয় ঐতিহ্যগুলোতে ফ্রিডম অব চয়েজের প্রাধান্য, যেখানে কনশেন্সের নীতি অনুসরণ করে অসংখ্য বিকল্পের মধ্যে ভার্চুয়াস বিকল্পকে বাছাইয়ের উপর গুরুত্ত্ব দেওয়া হয়। ধর্মগ্রন্থগুলো এটির উপর গুরুত্ত্বারোপ করে।
অন্যদিকে ধ্রুপদি গ্রেকো-রোমান এবং সেই সাথে রেনেসাঁস ও এনলাইটেনম্যান্ট আনিত আধুনিকতার মূল মটো হল ফ্রি উইল। যার ভৌত প্রকাশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন। ওয়েস্টার্ন এনলাইটেনমেন্টর অন্যতম প্রপাগেটর ভলতেয়ারের ভাষ্যে এটি হচ্ছে এরকম: তোমার মতামতের সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি প্রাণ দেব।
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বলে, ব্লগের লিখিয়েরা সকলে শেষোক্ত অভিমুখকেই ইমিটেশন অর্থে ধারণ করেন। ফাহমিদুল হক, যার লেখাকে কেন্দ্র করে আজকের এই আলোচনার অবতারণা, এবং যারা পোস্টটিতে তার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারাও এর ব্যতিক্রম নয় ঠেকে।
ফলত ব্লগে জামাত নেতা কামরুজ্জামানের ছেলে ওয়ামী তার পিতার নাজেহালকারীদেরকে উদ্দেশ্য করে 'কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে' বলায় 'তাকে ব্যান করার পক্ষ বিপক্ষ' এই অর্থে মুক্তিযুদ্ধের 'স্বপক্ষ' এবং 'বিপক্ষ' উভয় গোষ্ঠিই পরস্পরের মতামত রুদ্ধ করে দেয়ার জন্য যে ধরণের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ( ক্ষেত্র-বিশেষে একঘরে করা, বর্জন, ব্যান এবং গালি-গালাজ দিয়ে হেনস্থা) অবলম্বন করেছেন তাতে আমাদের দেশের হালনাগাদ ইন্টেলেকচুয়াল এলিটদের মধ্যে পাকিস্তানি আমলের উল্লেখিত দুই শ্রেণীর ভিতরকার বিরাজমান সার্বিক অপরিপক্কতার বিষয়টিই নতুনভাবে দৃষ্ট হয়।
লক্ষ্য রাখতে হবে, প্রগতিশীলতার বৈশিষ্ট্য হিশেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নামক যে প্রপঞ্চটি আমরা বহুবার আওড়িয়েছি, সেটির অন্তর্নিহিত অনুপ্রেরণার সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ আমরা প্রদর্শন করছি এইসব ক্ষেত্রে। কোন ব্যক্তির কৃত অপরাধের জন্য তাকে শাস্তি দেয়ার আইনি প্রক্রিয়ার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা এবং আইনি প্রক্রিয়া চালু করা এক কথা, আবার উল্লেখিত ব্যক্তির নিজের অপরাধের কিংবা নির্দোষিতার পক্ষে কথা বলতে চাওয়ার অধিকারকে ঢালাওভাবে রুদ্ধ করার চেষ্টা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার।
আর একটা লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হচ্ছে ব্লগে নারীর অবস্থান সম্পর্কিত আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী। আমাদের সময়ে বেড়ে উঠা প্রজন্মের মধ্যে যারা ব্লগিং ইত্যাদিতে অভ্যস্ত, তারা শফিক রেহমানীয় অর্থে স্মার্ট। এবং দেখা গেছে তাদের সেই স্মার্টনেসে নারীরা একটু কোমল নরম এবং কম্প্রোমাইজিং অর্থে বৈশিষ্টায়িত। ফলত দৃষ্টিভঙ্গীটি অনিবার্যভাবেই ফিউডালিস্টিক। এটা প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয় যখন সামহোয়ারের নারী ব্লগাররা ভিক্টোরীয় নারী চরিত্রে কুশীলব ছিল তখন পুরুষ ব্লগারদের উচ্ছাস এবং তাদের পোস্টে প্রশংসাসুলভ অংশগ্রহণ, আবার পরপরই যখন তাঁরা আমাদের আলোচ্য বিতর্কে অংশগ্রহণ করে কোন প্রতিষ্ঠিত মতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তখন ফ্যাসিবাদী-সামন্ততান্ত্রিক-পুরুষতান্ত্রিক ভঙ্গীতে রমনী (রমনযোগ্য) হিশেবেই ব্যক্তিগতভাবে তাকে ট্রিট করা হয়েছে।
লক্ষ রাখতে হবে, পশ্চিমা সমাজের নিজস্ব বিকাশ এবং চলতি গতি-প্রকৃতির নিরিখে নারীবাদের জনপ্রিয় স্বরূপ, যেটি জাতিসংঘ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ এবং অন্যান্য পলিসি প্রেসক্রাইবিং প্রতিষ্ঠান-সম্পৃক্ত দাতা সংস্থা কাম এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে 'উইম্যান এম্পাওয়ারম্যান্ট', 'ইকুয়াল স্ট্যাটাস অব উইম্যান' ইত্যাদি অভিমুখ নিয়ে আলটিমেটলি রাজনৈতিকভাবে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের পারপাস চরিতার্থে সহায়তা করে, সেই পাটাতনে আমার অবস্থান নয়।
আমরা অনেক সময় 'উইম্যানহুড' বা 'ফ্যামিনিনিটি' এবং 'প্রচলিত ফ্যামিনিজম' দুয়ের মধ্যেকার ডিসটিংশন কনসেপচুয়ালী গুলিয়ে ফেলি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে উইম্যানহুডের বৈপ্লবিক উত্থানের প্রত্যাশী।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের এত বছর পরেও আমাদের মধ্যেকার এইসব দ্বিধামুখরতা ও আত্মবৈপরীত্যসমূহ আসলে এই দেশটির সার্বিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিসূচকের ট্রায়াল এন্ড এরর প্রক্রিয়ার সমান্তরালে বিরাজমান, এটি মনে রাখতে হবে।
আরো কিছু আলাপচারিতা
নম শুদ্রের বাংলাদেশ বিপ্লব: একটি নতুন প্রারম্ভ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভূখণ্ডকেন্দ্রীক জনগোষ্ঠীর সংগ্রামসমূহ, আদর্শবাদ ও উদ্দেশ্যবাদ, সংগ্রামসমূহে বিভিন্ন শ্রেণীর প্রদর্শিত ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়াদি কিছু নির্দিষ্ট ধরণের ঐতিহাসিক সাহিত্য ও রাজনৈতিক প্রপাগাণ্ডা আকারে একাত্তর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হাজির। এই সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সাহিত্য, রাজনৈতিক নেতাদের বিবৃতি এবং সর্বব্যপ্ত প্রপাগাণ্ডাসমূহের একটি সামগ্রিক পর্যবেক্ষণে মূখ্যত দু'টি কোর প্রত্যয়কে আমাদের আলোচনার সুবিধার্থে বাছাই করা যায়।
এক. বাংলাদেশ বিপ্লবের আকষ্মিকতা কিংবা ঐতিহাসিকতা।
দুই. ভারতীয় উপমহাদেশের (বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতের বিদ্যমান) ইতিহাস চর্চার ধারা এবং এই একাডেমিক চর্চার সাথে সম্পর্কিত পলিটিক্যাল ইন্টারেস্ট সমূহ।
বাংলাদেশ বিপ্লব সংক্রান্ত বিরাজমান সমাজতাত্ত্বিক, নৃ-বৈজ্ঞানিক, রাজনীতিবিদ্যাগত এবং ইতিহাসবিদ্যাগত সাহিত্যসমূহে বাংলাদেশের উত্থানকে হয় আকষ্মিকতা নয়তো একটি ঐতিহাসিক ক্রম বিবর্তনের ফলাফল রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। উভয় উপস্থাপনায় আদর্শবাদ (ideology) কিংবা উদ্দেশ্যবাদের (teleology) পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন শ্রেণীর ঐতিহাসিক অবস্থান সে সাথে তাদের মনোগঠন, দ্বিধা, সাড়া, দ্বন্দ্ব ইত্যাদি খুবই মনোলিথিক সাধারণীকরণে পর্যবসিত। ফলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসসংক্রান্ত ধ্যান-ধারণা এবং আবেগের নির্মাণে এই সাধারণীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দৃষ্ট হয়। এবং এই সাধারণীকরণের সর্বব্যপ্ত প্রতিবেশ নির্মাণের ক্ষেত্র প্রস্তুতিতে প্রধানত ভূমিকা ছিল রাজনৈতিক নেতৃবর্গের।
অন্যদিকে, সাবেক বৃটিশ উপনিবেশ ভারতে নেটিভদের মধ্যে যে ধরণের ঐতিহাসিক কল্পনার প্রসার ঘটেছিল তা থেকে তিন ধরণের ইতিহাস লেখার ধারা গজিয়ে উঠে। প্রথমত মুসলিম জাতীয়তাবাদী যা পরবর্তীতে প্রো-পাকিস্তানী হিস্টোরিওগ্রাফি, দ্বিতীয়ত সর্বভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী যা পরবর্তীতে প্রো-ইণ্ডিয়ান হিস্টোরিওগ্রাফি এবং তৃতীয়ত সর্বভারতীয় ও স্থানিক মার্কসীয় হিস্টোরিওগ্রাফি। গবেষকদের ধারণায়, পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রচার এবং প্রসারের ফলে নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি আত্মবিশ্বাসহীনতা এজ ওয়েল এজ নিজ কল্পিত স্বপ্নরাজ্যের ঐতিহাসিক পটভূমি খোঁজার আত্মপক্ষ সমর্থনীয় দৃষ্টিভঙ্গিগুলো, সেই সাথে তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজ্যের শাসন এবং শোষনে এক একটি আলাদা সম্প্রদায় হিশেবে দুটি সম্প্রদায়ই যে ধরণের প্রতিক্রিয়া ও আকাংক্ষা পোষণ করেছে সেটিই এ ধরণের ঐতিহাসিক কল্পনার জন্ম দিয়েছে।
বৃটিশ উপনিবেশিক সময় থেকে বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের আগ পর্যন্ত সংগ্রামমুখর দিনগুলোতে পলিটিক্যাল এলিট, ইন্ট্যালেকচুয়াল এলিট ও সাধারণ জনগণের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া এবং সংগ্রামের গতি প্রকৃতি নির্ধারণে মার্কসবাদীদের ম্যাকানিক্যাল/সৃজনশীল ইন্টারেপশনের ফলে এই ঐতিহাসিক কল্পনাসমূহ হাজার হাজার মানুষের কল্পনায় রূপায়িত হয়েছে।
তাই দেখা যায়, বাস্তবতায় আমাদের সংগ্রামের বহুমাত্রিক ধারাটি যাই হোক না কেন, তার কল্পনা নির্মাণ ও প্রচারে আমাদের একাডেমিশিয়ানরা ও রাজনৈতিক নেতৃবর্গ একটি চরম অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যেটি একই সাথে ইতিহাস চর্চার ধারাগুলোর অবস্থানও বটে।
এখানে উল্লেখ্য যে, ভারতে ষাটের দশকের নকশাল আন্দোলনের উত্থান ও পতনের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কসীয় তাত্ত্বিকদের মধ্যে উদ্ভূত তর্ক-বিতর্কের বৃহত আবহের বাতাবরণে জন্ম নেওয়া সাব অলটার্ন ইতিহাস চর্চার ধারা এবং বিভিন্ন পলিসি প্রেসক্রাইবিং প্রতিষ্ঠান-স্পনসরকৃত গবেষণায় বেরিয়ে আসা অবকাঠামোগত সমস্যাকে ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমা উদারনৈতিক তত্ত্বায়নের মধ্যে ছাঁচকৃত ইতিহাস চর্চার ধারা আমাদের আলোচনার বাইরেই রয়ে গেছে এই ধারাগুলোর গঠনগত দশার উত্তরণ ঘটেনি বলে।
আমাদের শুরু করতে হবে এই আলোচনাগুলো শেষ করেই।
প্রকাশ করা হয়েছে: ছোটগল্প বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
কৌশিক বলেছেন:
মনে হচ্ছে এ বিষয়ের আগের তিনটা পোস্টের কম্পাইলেশন। আগ্রহ পাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: বন্ধুদের পরামর্শে নতুন কিস্তিটা পোস্টানোর সময় সবগুলো কিস্তি একসাথে সংযুক্ত করে দিলাম, অনেকের পড়তে সুবিধা হবে ভেবে। আর পুরাতন কিস্তিগুলোও ঈষৎ সম্পাদিত হয়েছে, অনেকাংশে পরিবর্তিত।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
শিরোনামে ফাহমিদুল হকের নাম দিয়ে বারংবার পোস্ট দেখে আর ভেতরের লেখা পড়তে ইচ্ছা হয় না ।মনে হয় আপনি ফাহমিদ গবেষক হিসেবে ইতিহাসে ঠাই করে নেয়ার চেষ্টায় রত ।
"আলাপ" অংশটুকু পড়ে গেলাম ।
"বিস্তার" পড়ার চেষ্টা করব ।
তারপরে পূর্ণাঙ্গ মন্তব্য করা যাবে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরিফ জেবতিক, আলাপটুকু পড়ার জন্য। আমার লেখায় ফাহমিদ প্রাসঙ্গিক, অপরিহার্য নয়। বিস্তারটুকু পড়লে নিশ্চয় বুঝবেন। পূর্ণাঙ্গ মন্তব্য পেলে তখন অন্য কথা হবে।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
আমি আপনার কমেন্ট থেকে আগেই আপনাকে প্রতিভাবান বলে শনাক্ত করেছিলাম। ধীরে ধীরে অনুধাবন করছি। আপনার প্রস্তাবের সঙ্গে আমার ভিন্নমতের জায়গা নেই বলেই চলে। খুব ভাল একটা পোস্ট। গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক বলেছেন: মাহবুব ভাই, বিষয়টাকে আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। আপনি তাতে সায় দিযেছেন বলে অশেষ ধন্যবাদ।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
আপনার পাঠপরিসর বিস্তৃত বোঝা যায়। কিন্তু শিরোনামের সঙ্গে ভেতরের আলোচনা আলগ্ন নয়। আপনার আলোচনা কি শেষ হলো?
এখানে আমার ঐ পোস্টটার ব্যবচ্ছেদ হলো কি? যেক্ষেত্রে আপনি তেমন কোনো রেফারেন্স/উদাহরণ টানেননি।
শ্রেণী-অবস্থানের কারণে আমি কী গোলমাল করেছি সেটাও স্পষ্ট হলোনা। হয়তো আপনি স্পষ্ট করেছেন, কিন্তু তাত্ত্বিক রেটোরিক সেটা খেয়ে ফেলেছে।
রেটরিক এড়িয়ে যদি আপনি বিষয়ানুগ আলোচনা করেন, তবে ধরে নেয়া যায় একজন শক্তিশালী ব্লগারের আগমণ ঘটেছে।
লেখক বলেছেন: ফাহমিদ ভাই, ধন্যবাদ ব্লগে আসার জন্য এবং কমেন্ট করার জন্য। শিরোনামে ফাহমিদুল হক উল্লেখ করে যদি আপনাকে বিভ্রান্ত করে থাকি, সে দায় অবশ্যই আমার এবং তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। সবিনয়ে আপনার জ্ঞাতার্তে বলছি, ঐ পোস্টটার ব্যবচ্ছেদ করা আমার কখনোই গন্তব্য ছিল না। তাই নির্দিষ্ট রেফারেন্স না-উল্লেখ করেই আমার কাজ হয়ে যায়। আমার গন্তব্য আপাতত এটুকুই।
আর শ্রেণী অবস্থানটা আপনার একার নয়, আমাদের সবার। কাউকে নির্দিষ্টভাবে বলার চেয়ে আমি আলোচনাটুকুই প্রাধান্য দিতে চেয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত আপনি উপলক্ষ হয়ে গেছেন। সেই দায়টা আমার, কারণ এই প্রসঙ্গে লেখালেখিগুলোর মধ্যে আপনারটি আমার ভাল লেগে গিয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, সমৃদ্ধ আলোচনা করেছেন সন্দেহ নেই।
'প্রগতিশীলতার বৈশিষ্ট্য হিশেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নামক যে প্রপঞ্চটি আমরা বহুবার আওড়িয়েছি, সেটির অন্তর্নিহিত অনুপ্রেরণার সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ আমরা প্রদর্শন করছি এইসব ক্ষেত্রে।'
এখানে দেখা যায়, পলিটিক্যাল ইগোসেন্ট্রিক আক্রমণ বা প্রত্যাখ্যান মূখ্য অনেকের কাছে। পয়েন্টেড ডিসকাশন না-কারেই নেতিবাচক খিস্তি-খেউড়। আগে অনেকের সাথে সাগ্রহে বিতর্ক করেছি। এখন অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয় অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছু নয়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সরওয়ার ভাই।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
আপনি লিখেছেন, "ফাহমিদুল হককে আমি চিনি না, পাঠ করতে গিয়ে জানতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক, একটি পত্রিকা সম্পাদনার সাথেও যুক্ত আছেন তিনি। তার এই পরিচয়টা গুরুত্বপূর্ণ নয় এই আলোচনায়, কিন্তু তাঁর শ্রেণীচরিত্র এবং প্রবণতা বুঝার জন্য এটাও একটি জরুরী এলিমেন্ট হিশেবে বিবেচিত হতে পারে আলোচনার কোন এক পর্যায়ে।" প্রথম পোস্ট পড়ে আমি ভেবেছিলাম আমার 'শ্রেণীচরিত্র'কে এখানে সমস্যাজনক হিসেবে নির্দেশ করা হচ্ছে। যাহোক, আপনার উত্তরে পরিস্কার হয়েছে।
তবে ব্যবচ্ছেদ না হোক, ঐ পোস্টে দৃষ্ট প্রবণতাসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার এই পোস্ট যদি হয়ে থাকে, তবে দুই পোস্টের মধ্যে কেমন একটা ফাঁক রয়ে গেল। কোনো একটা লিঙ্ক মিস করছি।
এর দায় আপনাকে নিতে হচ্ছে। নতুবা এই পোস্টের নিজস্ব শক্তি অনেক।
লেখক বলেছেন: দায় নিলাম। আপনার আরো আলোচনা প্রত্যাশা করছি।
লেখক বলেছেন: আমাকে অনেকগুলো মিসিং লিংকের ভিতর দিয়ে যেতে হয়েছে। আমার বিষয়টাকে খুঁজে পাবার জন্য।
সারাদিন বলেছেন:
খুবই গুরুতর আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা নিশ্চয়। কিন্তু এই পোস্টটাতে হিটের তুলনায় মন্তব্য এত অল্প কেন! বিষয়ের তুলনায় সেটিতো হবার কথা নয়।আপনার এই আলোচনা পড়ে ফাহমিদুল হকের স্বস্থিটাও কেমন অস্বস্থিকর। কারণ তাঁর উল্লেখিত পোস্টটি আমি পড়েছি, সেখানে ফাহমিদুল হক ব্লগে ''রাজাকার'' এবং ''রাজাকার পুত্র"দের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যান করার পক্ষে মত দিযেছেন এবং সেটাকেই তাঁর অপেক্ষাকৃত উদার এবং সুবিধাজনক অবস্থান মনে করেছেন: ''ব্রাত্যর ওয়ামীকেন্দ্রিক আপত্তি সন্দেহের জায়গা তৈরি করে (কিন্তু বিশ্বাস করি তিনি মগবাজারপুষ্ট নন)। তবে তার উগ্র জাতীয়তাবাদবিরোধিতা আমি সমর্থন করি। আর সমর্থন করি জামাতীদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যানের দাবি (সেহিসেবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকেও)। যদিও এই দাবিটির প্রতি কারও কোনো সমর্থন দেখা গেলনা। ''...
তার বিপরীতে আপনি রিফাত হাসান কাউকে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি উল্লেখতো করতেই চাননি, বরং সেই পদ্ধতি আর মানসিকতাকে প্রশ্ন করেছেন ঐতিহাসিকভাবে।
''ফলত ব্লগে জামাত নেতা কামরুজ্জামানের ছেলে ওয়ামী তার পিতার নাজেহালকারীদেরকে উদ্দেশ্য করে 'কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে' বলায় 'তাকে ব্যান করার পক্ষ বিপক্ষ' এই অর্থে মুক্তিযুদ্ধের 'স্বপক্ষ' এবং 'বিপক্ষ' উভয় গোষ্ঠিই পরস্পরের মতামত রুদ্ধ করে দেয়ার জন্য যে ধরণের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ( ক্ষেত্র-বিশেষে একঘরে করা, বর্জন, ব্যান এবং গালি-গালাজ দিয়ে হেনস্থা) অবলম্বন করেছেন তাতে আমাদের দেশের হালনাগাদ ইন্টেলেকচুয়াল এলিটদের মধ্যে পাকিস্তানি আমলের উল্লেখিত দুই শ্রেণীর ভিতরকার বিরাজমান সার্বিক অপরিপক্কতার বিষয়টিই নতুনভাবে দৃষ্ট হয়। ...''
''বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভূখণ্ডকেন্দ্রীক জনগোষ্ঠীর সংগ্রামসমূহ, আদর্শবাদ ও উদ্দেশ্যবাদ, সংগ্রামসমূহে বিভিন্ন শ্রেণীর প্রদর্শিত ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়াদি কিছু নির্দিষ্ট ধরণের ঐতিহাসিক সাহিত্য ও রাজনৈতিক প্রপাগাণ্ডা আকারে একাত্তর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হাজির। ..''
লেখক বলেছেন: সারাদিন, আপনার পলিটিকসটা কী। বিশ্লেষণটা আর একটু খোলাসা করুন।
সারাদিন বলেছেন:
ফাহমিদুল হক বলেছেন: প্রথম পোস্ট পড়ে আমি ভেবেছিলাম আমার 'শ্রেণীচরিত্র'কে এখানে সমস্যাজনক হিসেবে নির্দেশ করা হচ্ছে। যাহোক, আপনার উত্তরে পরিস্কার হয়েছে। ..লেখা থেকে পালিয়ে লেখকের ব্যক্তিগত মন্তব্যের ভিতর আশ্রয় খোঁজা মনে হচ্ছে। এই স্বস্থি খোঁজার ব্যাপারটায় ফাহমিদুল হক কি কোন মর্যাদা বোধ করেন এমনটি: "মানসকে আক্রমণের একপর্যায়ে আলম ভাই নামক ব্লগার 'মনে হয় ভুল হচ্ছে, মানস আসলে ওরকম নয়, ফাহমিদুল ভাইয়ের মতো বলা যায়' -- এরকম একটা মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন।..."
ফাহমিদ একই সাথে রাজাকার এবং রাজাকারপুত্র উভয়কেই ঘৃণা করেন। তার বাক্য দ্রষ্টব্য: সন্দেহটা তৈরী হয়েছে আগেই, তার অতি বিখ্যাত ও বিতর্কিত পোস্ট 'রাজাকারপুত্রদের ঘৃণা'সংক্রান্ত একটি পোস্টের কারণে। তাদের দিক থেকে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে তাকে তো ইদানীং দেখাই যায়না, ওয়ামীর ব্যান নিয়ে সরব হবার কারণ কী? তিনি কি রাজাকার বা তার পুত্রদের বিষয়ে দরদী?....
ব্যাপরগুলো কেমন গোলমেলে। ফাহমিদুল হকের প্রতিক্রিয়া এমন গা বাঁচিয়ে করা যে তাকে সুবিধাবাদী মনে হয়। আর রিফাত হাসান, আপনি তো তাঁকে শ্রেণীধন্দে ফেলে দিয়েছেন।
লেখক বলেছেন: ফাহিমদুল হক বা কাউরে এভাবে কাটাছেড়া করা আমার গন্তব্য নয়, ফাহমিদুল হক সম্ভবত সেটিই বুঝেছেন। তাই তাঁর স্বস্থি, আমার আপাতত অন্য কোন কিছু ভাবনার খোরাক তৈরী হয়নি। আপনি আগান, তাইলে হয়তো একসময় তৈরী হতে পারে।
লেখক বলেছেন: (অফটপিক)
এইরুম পোস্টে আর কার কার কমেন্ট থাকতারে? একটা লিস্টান।
লেখক বলেছেন: amar hate ei muhurte dictionary nei. toi apnar bloge ghuira ashlam. valoi to apnar vashagyan mone holo. tai ekta prosno jagse mone: vai moithunanonদ এই প্রশ্নে আপনের পলিটিকসটা কী।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
সারাদিনকে, রিফাতের পোস্টটি আমার দিক থেকে যদি স্বস্তির জন্ম দেয়, তবে পোস্ট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন তো আমার দিক থেকে থাকছেই না। তা আপনার দিক থেকে অস্বস্তিকর ঠেকছে কেন? এখানে লেখা থেকে পালানোর কোনো বিষয় নেই। রিফাত যখন এই পোস্টটাকে পর্বে ভেঙ্গে আলোচনা করছিলেন, তখনও আমি তার লেখার ওপরে মন্তব্য করেছি। এখানেও করেছি। আমার শ্রেণীঅবস্থান সংক্রান্ত ধন্দ আপনাকে আনন্দ দিয়েছে আন্দাজ করি। কিন্তু সেই ধন্দে ফেলার জন্য আপনাকে রিফাতকেও সাধুবাদ জানাতে হবে। একজনকে ধন্দে ফেলে দেয়া কম কৃতিত্বের বিষয় নয়।
আমার সুবিধাবাদিতাকে আরেকটু স্পষ্ট না করলে মন্তব্যটা ঢালাও বলেই আমি ধরে নিচ্ছি। রিফাতের আলোচনায় যেমন বলেছি "দুই পোস্টের মধ্যে কেমন একটা ফাঁক রয়ে গেল। কোনো একটা লিঙ্ক মিস করছি।" আপনার মন্তব্যও কেমন অস্পষ্ট থেকে গেল।
লেখক বলেছেন: সারাদিন বিস্তারিত আলোচনা করুক। কী বলেন ফাহমিদ ভাই। একজনকে ধন্দে ফেলার কৃতিত্বের জন্য আপনার সাধুবাদ দেয়ার ব্যাপারটা আমি আর একটু ব্যাখ্যা করতে চাই। আমার দায়টা স্বীকার করেই। ঠিক এখনই নয়, আর একটু অবসরে। হয়তো রাতেই।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
মৈথুনানন্দ এখানে পলিটিক্সতাড়িত নন রিফাত। উনার ভাষা খুব ভালো, তবে কলকাতার মানুষ হবার কারণে আমাদের কোনো কোনো বাংলা পরিভাষা বুঝতে উনার সমস্যা হয়। মৈথুনানন্দ, আমি জানি প্রপঞ্চ, ফেনোমেনার বাংলা পরিভাষা। অবশ্য রিফাত কোন কনেটেক্সটে ব্যবহার করেছেন, তা বলতে পারছি না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই, আমারো কিছুটা তাই মনে হয়েছে। মৈথুনানন্দকে নিয়ে তার মতই একটু মজা করার ইচ্ছে হলো। তাই ইংরেজীতে ঐ প্রশ্ন। ফ্রেন্ডলি ফায়ার।
রিফাত হাসান বলেছেন:
ফাহমিদুল হকের করা একটা মন্তব্য আমাকে চিন্তায় ফেলেছে। সেটি হল: রেটরিক এড়িয়ে যদি আপনি বিষয়ানুগ আলোচনা করেন, তবে ধরে নেয়া যায় একজন শক্তিশালী ব্লগারের আগমণ ঘটেছে।.. আমার ভাবার কারণ দু'টি। প্রথমত আমার এই পোষ্টে কি এমন কোন প্রবণতা প্রকাশ হয়েছে যে, নিজেকে শক্তিশালী ব্লগার হিশেবে প্রমাণের চেষ্টায় পর্যবসিত হবে আমার এই পোষ্টের গন্তব্যটুকু। কারণ, শক্তিশালী ব্লগারের আগমন সম্পর্কিত তত্ত্বটি আলোচনার সারবস্তু নিয়ে এগুনোর চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আগ্রহকে উতসাহিত করবে।
দ্বিতীয়ত রেটরিক এড়িয়ে বিষয়ানুগ আলোচনা করার আহবান সম্পর্কিত। আমি ভেবেছি খুব, এই রেটরিক ব্যাপারটা কী হতে পারে। বাগালঙ্কার, যেটা দিয়ে মূল বিষয়কে এড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় আলাপ পাড়া হয়? বিষয়কেন্দ্রিক বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? তাহলে আমার উচিত আমার বিষয়টা কী ছিল সে সম্পর্কে আবার ভাবা। এবং এ সম্পর্কিত আমার ব্যর্থতাটুকু নির্দিষ্টভাবে জানা। ফাহমিদ ভাই, আপনি কি আমাকে সহযোগিতা করবেন?
জানিয়ে রাখি, এবং আমার পোষ্টের ভিতরেও এই কথাটুকু একবার পেড়েছিলাম বোধ হয়, যে, ব্যক্তি ফাহমিদুল হক আমার আলোচনায় উপলক্ষ ছিল, এবং সেই সাথে সামহোয়ারের অন্যান্য ব্লগারদের লেখালেখি এবং তর্ক-মন্তব্যসমূহ, কিন্তু বিষয় ছিল আমি যা আলোচনা করেছিলাম তাই। আমি যদি এখানে সারাদিনের মতো কোট করে প্রত্যেকের চুলচেড়া বিশ্লেষণে যেতাম, তাহলে আমার আলোচনা ব্যাহত হতো বলে বিশ্বাস করি। বরং ব্যক্তি কেন্দ্রিক আলোচনার তোড়ে বিষয় হারিয়ে যেতো, পরিবর্তে প্রচুর হিট, মন্তব্য, প্রশংসা এবং নিন্দাও জুটত। আমি জনপ্রিয় বিষয়টির গভীরের সংকটটুকু আলোচনা করতে চেয়েছি, জনপ্রিয়তাটাকে নতুন করে চাগিয়ে দেওয়া আমার গন্তব্য ছিল না।
আর আপনার শ্রেণীধন্দের মুহূর্ত তৈরীর দায়। দায়টা তৈরী হয়েছে সন্দেহ নেই, আমি শুধু বলেছি আপনার একার নয়, আমাদের আরো অনেকেরই সেই মুহুর্তের ভিতর দিয়ে যেতে হবে। তাহলে এতে স্বস্থি পাওয়ার চেয়ে, আলোচনা করে অগ্রসর হওয়াটাই কি উচিত নয়?
সারাদিন বলেছেন:
জনাব ফাহমিদুল হককে বলছি, আপনার শ্রেণী অবস্থান নিয়ে ধন্দ আমাকে আনন্দ দান করে নি। আমি সেটাই আমার মন্তব্যে বলার চেষ্টা করেচি। তার কিছু নির্দিষ্ট কারণও দেখিয়েছি। আপনি কি আরো কোন উদাহরণ দিতে বলেন? @ রিফাত হাসান। এই আলোচনায় একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি। আপনি আর অন্য সবাই অতিরিক্ত রকমের দেখানো ভদ্র, বিষয় নিয়ে কেউ আলোচনা করছেন না। আমি শুরুতে বলেছিলাম এই আলোচনাটাকে আমার গুরুতর মনে হয়েছে।
পলিটিকস সম্পৃক্ত মন্তব্যটা আপনার খুব প্রিয় মনে হচ্ছে। ''আপনার পলিটিকসটা কী''...
লেখক বলেছেন: বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। পলিটিকস সম্পৃক্ত মন্তব্যটা আমার বন্ধু জহিরের প্রিয়। মজা করার জন্য অনেক সময় বলি। এখন দেখি অনেকেই এই মন্তব্যটা ব্যবহার করে রিফাত হাসানরে কোট করে। আনন্দ পাই।
কেএসআমীন বলেছেন:
পড়ে ভাল লাগছে...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
ফাহমিদুল ভাইকে ত্যাঙ্কু রিফাত সায়েবের গোলাগুলির হাত থেকে আমাকে রক্ষা করবার জন্যে। লেখক বলেছেন: ![]()
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
রিফাত হয়তো আশা করছেন আমি আরও কিছু আলোচনা করি এই পোস্টে। কিন্তু যেকারণেই হোক উৎসাহ পাচ্ছিনা।
লেখক বলেছেন: ঠিকাছে। আমি উপরে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম আপনাকে। বাদ দিন উত্তর দিতে ইচ্ছে না হলে। আমার আগ্রহটা ছিল অনেকের অংশগ্রহণ, একা ফাহমিদু্ল হক নয়। কারণ, এই ব্লগে লেখালেখিরত সকলেই তাদের শ্রেণীপ্রবণতাসহ আমার আলোচনার অংশ। কিছু ব্যাপারের ফায়সালা হচ্ছেনা কোনভাবেই। ব্লগে নারী লেখকদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনাটুকু। ভিক্টোরিয় নারী এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনেচ্ছু নারী। অনেকেই লেখালেখি বন্ধ রেখেছেন এই ব্লগে, নারীত্বের প্রতি আক্রমণের শিকার হয়ে। সে প্রসঙ্গে কথা বলার প্রতি একটা সাধারণ ভীতি আছে। এবং অন্য একটি বিষয় হল দলবাজিকে (পার্টিলগ্নতা এর চেয়ে আরো নরম জিনিশ) ব্লগে অবস্থানের বৈধতা চিহ্ণিত করা। এইসব বিষয়ে আপনারও দ্বিধার কণ্ঠ- অন্য সব সুশীল ব্লগারের মত। আমি এই বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত্বশ্রেণী-উদ্ভূত পলিটিক্যাল এলিট এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট; উভয়ের সুবিধাবাদী দ্বিধার অবস্থানটারে চিহ্ণিত করতে চেয়েছি। খোদাহাফেজ।
আপনার লেখার সারকথাটা কী? খুব কষ্ট করে অর্দ্ধেকটা মনে হয় ধরতে পারছি। লিখেছেন, "আমি এই বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত্বশ্রেণী-উদ্ভূত পলিটিক্যাল এলিট এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট; উভয়ের সুবিধাবাদী দ্বিধার অবস্থানটারে চিহ্ণিত করতে চেয়েছি"। কিন্তু কেন? লক্ষ্যটা কী? বুঝিনি।
আবার আপনার 'শ্রেণী' ধারণা খুব কাজের বা নতুন এমন মনে হয় না। এটা অবশ্য কেবল আপনি না। কমিউনিষ্ট আন্দোলনের ভিতর দিয়ে গড়ে উঠা ধারণা এটাই। এটা মুলত অর্থনৈতিক দিক বিচারে শ্রেণী বা শ্রেণীকরণ। বলা যায় বিষয়আসয় বা বৈষয়িক অর্থে শ্রেণী। সামাজিক বৈষয়িক অবস্হানের কারণে মানুষ যে শ্রেণী হয়ে থাকে। এই অর্থে শ্রমিকও বুর্জোয়া শ্রেণীর অর্ন্তগত। কারণ কারখানা মালিকের উৎপাদিত পণ্যের মত সেও নিজের একমাত্র পণ্য,অর্থাৎ শ্রম নিয়ে পণ্য বিনিময়ের ঐ একই বাজারে, সমাজে হাজির। কিন্তু নিজের বৈষয়িক অবস্হান আর এর সম্ভাব্য ঐতিহাসিক অভিমুখ যদি সে বুঝতে পারে তবে সে একটা রাজনৈতিক শ্রেণী হয়ে উঠতে পারে - এটাই শ্রমিক শ্রেণী বা বিপ্লবী শ্রেণী। লেনিন what is to be done বইয়ে এই প্রসঙ্গে একটা বাক্য আছে এরকম, class for itself and class in itself । এখানে in আর for এর ফারাক লক্ষণীয়। আবার বেলছেন, এই in, for এ রূপান্তরের ব্যাপারটা শ্রমিকের নিজের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। এটা বাইরে থেকে ঘটবে, অর্থাৎ বাইরের উপাদানে ঘটবে। বলছেন, theory comes from without. বাইরে যদি বিপ্লবী তত্ত্বচর্চার ধারা থাকে, তারা যদি বিপ্লবী চিন্তা নিজের পরিস্হিতি সাপেক্ষে দাঁড় করাতে পারে, বিপ্লবী চিন্তার ধারক হয় তবেই শ্রমিক শ্রমিক শ্রেণী হয়ে উঠে আর উভয়েই বিপ্লবী শ্রেণী বা শ্রমিক শ্রেণী হয় বা এক কথায়, শ্রেণী হয়ে উঠে। শ্রেণী যা হয়ে থাকে তা বৈযয়িক বা অর্থনৈতিক অর্থে শ্রেণী, যা হয়ে উঠে তা রাজনৈতিক শ্রেণী বা বিপ্লবী শ্রেণী; এটাই সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য নির্ধারক বিষয়। অনেক সময় এটাকে এজন্য ভ্যানগার্ড ফোর্স বা অগ্রগামী বাহিনী বলা হয়েছে। প্রচলিত কমিউনিষ্ট চিন্তায় 'শ্রেণী' বলতে বৈযয়িক বা অর্থনৈতিক অর্থেই শ্রেণী বুঝা বা বুঝানো হয়েছে। ওখানে রাজনৈতিক শ্রেণীর ধারণা নাই বললেই চলে। শব্দ প্রয়োগ লক্ষ্য করুন, মধ্যবিত্ত শ্রেণী, উচ্চবিত্ত শ্রেণী, গরীব শ্রেণী যখন বলি তখন- সবই বিত্ত কেন্দ্রীক শ্রেণী। তবে শ্রেণীর এতসব গভীর ব্যাখ্যায় না যেয়ে অনেক সময় মার্কস বা লেনিনের তাদের জনপ্রিয় প্রচার জাতীয় রচনায় গরীব শ্রেণী বলে থাকতে পারেন। ওখানে প্রসঙ্গ থেকে বুঝে নিতে শ্রেণী শব্দের ব্যবহার অর্থনৈতিক অর্থে না রাজনৈতিক অর্থে - কী অর্থে করছেন।
এটা একটা জনপ্রিয় ধারণা যে গরীব মানুযের দু:খ কষ্ট দেখে সইতে না মার্কস বা লেনিন গরীব শ্রমিক কৃষকদের নিয়ে বিপ্লবের কথা পেড়েছেন। এটা একেবারেই সত্যি না, তবে কাক ও তাল জাতীয় সম্পর্কের মত কাকতলীয়। বিপ্লবী রাজনৈতিক তত্ত্ব বহন করে আগিয়ে নিয়ে (carry through) বাস্তবায়ন করার মত সমাজে সবচেয়ে সম্ভাব্য অংশ শ্রমিকেরা (বা গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে কৃষকেরাও)। তাই বিপ্লবীদের আগ্রহটা তাদের নিয়েই, এমনকি শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন তৎপরতাতেও নয়। খেয়াল করুন তত্ত্বটা শ্রমিকের কাছে বাইরে কোথাও থেকে তৈরী হয়ে আসছে। যদি দেখা যেতো তত্ত্বটা (carry through) করার জন্য সমাজের এলিটরা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তবে মার্কস বা লেনিন তাদের কাছেই যেতে প্রস্তাব করতেন। গরীব দু:খীর প্রতি মানবিক সহানুভুতি অবশ্যই থাকতে হবে। সমাজে বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটলে এরাই সবচেয়ে লাভবান হবেন। কিন্তু বিপ্লবের সাথে এর সরাসরি কোন সম্পর্ক নাই।
এখন আপনি যে ফাহমিদুলের শ্রেণীচরিত্র (পুরানো এই কমিউনিষ্ট রেঠরিক) মেপে দেখতে চাইছেন- এটার মানে কী? ফাহমিদুল কতটাকা আয় করে, পরিবারের পটভুমি আয় কেমন, বৈষয়িক অবস্হা কেমন? ইত্যাদি? এদিয়ে কোন সিদ্ধান্তে আপনি আসতে চাইছেন, আমি জানি না।
আপনি আবার, "আমি এই বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত্বশ্রেণী-উদ্ভূত পলিটিক্যাল এলিট এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট" - এই এলিট ত্ত্ত্ব (শ্রেণী নয়) দিয়ে "পার্টিলগ্নতার চরিত্র" বা "আমাদের খুব পরিচিত বাঙালী বনাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিতর্ক" বুঝতে চাইছেন। এই দুই এলিটের মধ্যে "বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী" কারা? যদি আপনাকে ঠিক পড়ে থাকি তো এদের আপনি "পলিটিক্যাল এলিট" এর খাপে ফেলে ভেবেছেন। (ধরে নিয়েছি এরা ইন্টেলেক্ট না)। এখন প্রশ্ন করি, বাংলাদেশী বা বাংলাদেশ না হয় নাই বা বললাম, কাদের আপনি জাতীয়তাবাদী ভাবছেন? শাহ আজিজুর রহমান, সাকাচৌধুরী, এরা বা এদের দল মুসলিম লীগ বা ইসলাম নামে যুক্ত কোন দল '৭১ এর আগে পরে বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের পক্ষে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, কোন ধরণের জাতীয়তাবাদের পক্ষে তো নয়ই। মান্নান ভুইয়া বা ভাসানী ন্যাপ এর কথা ধরুন(যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে অনেকে নিজ উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, মান্নান ভুইয়া ও তার গ্রুপের নিজস্ব অবদান আছে; তা সত্ত্বেও) এরা কেউই '৬৯ এর গণআন্দোলনের পর থেকে বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের প্রশ্নে দলগত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কোন ধরণের জাতীয়তাবাদের পক্ষেও নয়। LFO বা '৭০ নির্বাচনে অংশগ্রহণও করে নাই। এককথায় এরা কেউই বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশের জাতীয়তাবাদের পক্ষে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয় নাই। আমার কথার পয়েন্টটা হলো, জাতীয়তাবাদ এদের রাজনীতি ছিল না। পরিস্কার থাকার জন্য আবার বলছি, আওয়ামী সমালোচনার মত, এরা মুক্তিযুদ্ধ করেছে না বিরোধিতা করেছে এটা আমার কথার মূল পয়েন্ট নয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে "পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট" - না এটা বলার নূন্যতম সুযোগ নাই। অন্তত: '৭৫ এর আগে "পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট" বাংলাদেশে দৃশ্যমান ছিল না। ইদানিং এর কথা আলাদা। আলকায়েদার ভয়ে আমেরিকার 'সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনন্ত' যুদ্ধে অনেকেই নিজেকে ও আওয়ামী লীগকে সাফসুতারা করে আধুনিক বানিয়ে আমেরিকার কাছে "পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট" হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে। কিছু 'বুদ্ধিজীবী' নাগরিক সমাজের মালিক থাকতে পারে যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক, তবে এরা মানেই আওয়ামী লীগ নয়। এদের অনেকের পছন্দের মধ্যে "রেনেসাঁস ও এনলাইটেনম্যান্ট আনিত আধুনিকতার মূল মটো হল ফ্রি উইল" থাকতে পারে। "রেনেসাঁ", "এনলাইটেনম্যান্ট", "আধুনিকতা" বা "ফ্রি উইল" - এসবগুলো আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ত্বকারী মূলনেতাদের কারোরই ধারণা বা শব্দ নয়। আধুনিক শব্দটা পরিচিত তবে দলিলে পাবেন না। ইসলাম থেকে "এনলাইটেনম্যান্ট" এ যেতে এককালে মওলানা আকরাম খাঁ, আবুল হাশিমরা যতটা এগিয়েছিলেন সে অর্থেও আওয়ামী লীগের কোন নেতা ভেবেছেন বলে জানা যায় নাই। "ফ্রি উইল" আরো অনেক দূরের।
তবে এটা বুঝেছি "ফ্রি উইল" আপনার পছন্দের বিষয়। আবার দেখেছি "রেডিক্যাল বিপ্লবী"ও আপনার পছন্দ। আসল রেডিক্যাল বিপ্লবী বুঝে "ফ্রি উইল" বলে কিছু থাকতে পারে না। তাহলে জেনারেল উইল, রাষ্ট্রের প্রয়োজন, কমিউনিটি এসবের কী হবে? তাই এগুলোর সাথে "ফ্রি উইল" সম্পর্ক কী জানতে হবে।
কেবল "ফ্রি উইল" এর সন্ধান লাভ কিছুই নয়। যদিও আবার অন্যদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের মত জায়গায় যেখানে আলোচনা মানে দলবাজি আর রাজাকার নিয়ে গালাগালি সেখানে "ফ্রি উইল" এর সন্ধান লাভ ফেলনা বলি কী করে? তবে নি:সন্দেহে আরও বহুদূর যেতে হবে। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা এতখানি সময় নিয়ে মন্তব্য করার জন্য।
খেয়াল করবেন, মার্কসবাদীদের সমস্যা নির্ধারণ, শ্রেণীধারণা ও তার পর্যালোচনা আমার উদ্দেশ্য নয়। সে প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে ক্লাসিক্যাল মার্কিসিয় শ্রেণীবিভাজন, মার্কস শ্রেণীকে যে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভাজন করেছেন তার সমস্যা, ইয়ুরোপীয় অভিজ্ঞতা এবং এশিয়ার বাস্তবতা বিবেচনা, সৃজনশীল মার্কসীয় ডেভেলপমেন্ট এগুলো আলোচনা করতে হবে। তখনই আসবে ক্লাস ইন ইটসেলফ এবং ক্লাস ফর ইটসেলফ এর ব্যাপারগুলো। এর কিছু ব্যাপারে আপনার সাথে আমার দূরত্ব খুব কম। কিন্তু আমার আলোচনা খুবই খোলামেলা এবং কিছু ইচ্ছাকৃত সাধারণীকরণে সীমাবদ্ধ রেখেছি। কারণ বিষয়টা অন্য, এই আলাচনার পরিসরে ধরবে না, ব্লগারদের ধৈর্যও কুলাবে না।
আপনার মতই আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের মত জায়গায় যেখানে আলোচনা মানে দলবাজি আর রাজাকার নিয়ে গালাগালি সেখানে "ফ্রি উইল" এর সন্ধান লাভ ফেলনা বলি কী করে? উত্তর আপনারই।
আপনি বলেছেন লক্ষ্যটা কী? আমি একটু ভেবেছি, আপনি যদি জামাত প্রসঙ্গ আলোচনায় সাবালকত্ব শিক্ষা দিতে চাইতে পারেন, আমি আমাদের এই অপরিপক্কতার অবস্থানটারে পড়তে চাইলে একটু কম সাহসের হয়। আপাত লক্ষ্য হলো আমাদের অবস্থানটারে যেন পাঠ করতে পারি দলবাজি এবং গালাগালি ব্যাপারটা সহ।
আপনি বলেছেন, অন্তত: '৭৫ এর আগে "পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাকারী ইন্টালেকচুয়াল এলিট" বাংলাদেশে দৃশ্যমান ছিল না। আপনার অভিজ্ঞতা কি এমনটাই বলে? একটু আপনার কথারই বরাত টানি: ইসলাম থেকে "এনলাইটেনম্যান্ট" এ যেতে এককালে মওলানা আকরাম খাঁ, আবুল হাশিমরা যতটা এগিয়েছিলেন সে অর্থেও আওয়ামী লীগের কোন নেতা ভেবেছেন বলে জানা যায় নাই। - আচ্ছা ইসলাম থেকে এই এনলাইটেনম্যান্টে যাওয়ার ব্যাপারটা তাহলে কী।
এবং সেটা কোন সময়। আমার ধারণায়, শ্রেনীটা আগের চেয়ে গুরুতর স্বার্থসচেতন হয়ে এখন আমেরিকার ইনফিনিট জাস্টিস বিষয়ে গলা মেলাচ্ছে।
আর জাতীয়তাবাদ। আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন তার উত্তর দেওয়ার মালিক আমি সম্ভবত না। আমার আলোচনায় জাতীয়তাবাদ বিষয়ের একটি মাত্র বাক্য আছে, আমি পুরো প্যারাটি আবার উদ্ধৃত করছি: "এই পার্টিলগ্নতার চরিত্র আমাদের খুব পরিচিত বাঙালী বনাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিতর্কে স্থুলভাবে দৃষ্ট। প্রবণতাটা আমাদের বুদ্ধিজীবী শ্রেণী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুটি আলাদা ফ্র্যাকশনে বিভক্ত করে ফেলেছে; যেটা তৃতীয় বিশ্বের ছোট দেশগুলির নিরাপত্তা বলে কথিত বিষয়টিকে ভিতর থেকে হুমকির মুখোমুখি করে। ফলত আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারাগুলো পার্টি ইন্টারেস্ট কাম ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কাম আন্তর্জাতিক কুটনীতির আওতায় তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।"
সম্ভবত আপনি আমার বিষয়টাকেই এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। মান্নান ভুঁইয়া বা সাকা চৌধুরী কোন জাতীয়তাবাদ লালন করেন, আর শেখ হাসিনা কোন জাতীয়তাবাদের কথা বলেন, আপনার যে জাতীয়তাবাদ- আর বুদ্ধিজীবী এবং দলগত স্তরে ছাড়া সাধারণ কৃষক শ্রমিক লেবেলে এই আলোচনার কোন জরুরী গুরুত্ব আছে কিনা- এইসব আলোচনা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি ছোট পরিসরে বলেছি আলোচনাটা স্থূলভাবে দৃষ্ট। আপনি কি তা মনে করেন না?
পরিশেষে আবারো আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য ধরে আমার ক্ষুদ্র পোস্টটি পড়ে, ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণসহ মন্তব্য করার জন্য।
স্ট্যানলি কুবরিক বলেছেন:
আপনি জনপ্রিয় ব্লগার ত্রিভুজের উপর একটা করতে পারেন
লেখক বলেছেন: পরিস্কার করেন।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
ইকনমিক ক্লাস আর পলিটিক্যাল ক্লাসের তফাতটা আমাদের দেশে মোটামুটি সর্বমহলে অপরিচ্ছন্ন। সেই হেতু আরেকটা সমস্যা বা বদ্ধমূল অনুমান এই রকম যে অর্থনীতিক শ্রেণীর মাপেই বা রাজনৈতিক শ্রেণী বুঝি একটা একক অর্থনীতিক শ্রেণীর পরিগঠন। সমাজে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মধ্যদিয়ে যে শ্রেণী সমাবেশ বা রানৈতিক মেরুকরণ সম্পন্ন হয় তাকে বোঝার ক্ষেত্রে একটা বড় ধরণের অস্পষ্টতা আছে। এক্ষেত্রে মার্কসের ' লুই বোনাপাতের আঠারোই ব্রুমিয়ার স্মরণ যোগ্য। সেখানে তিনি মূলত এই দিকটাই বিশ্লেষণ করেছেন।
লেখক বলেছেন: হুমম।
অপ বাক বলেছেন:
পড়লাম, তবে দাঁত বসানো গেলো না মনে হয়। যতটুকু বুঝলাম সেটুকুর ভিত্তিতেই আলোচনা করি। মানুষের বিচার বিশ্লেষণ এবং মানুষের সিদ্ধান্ত অনুসিদ্ধান্ত- সে কোন শ্রেণির চেতনাকে ধারণ করে তার উপরে নির্ভর করে। পলিটিক্যালি একটিভিস্ট না হলে প্রচলিত সংস্কারকে কোনো প্রশ্ন না করেই চিরায়ত সামাজিক প্রথা কিংবা শোভন সংস্কারকে রক্ষার জন্য তার নিরাপদ লড়াই চলবে।
মধ্যবিত্ত কাঠামোর সমস্যাটা এখানেই- এরা তেমন ভাবে ক্ষমতার স্বাদ পায় নি, ক্ষমতার লালসা থাকলেও সামান্য প্রতিরোধে এরা পিছিয়ে আসে।
আমরা যারা এইখানে এতসব জীবনমুখী- জীবনবিমুখী আলোচনায় অংশগ্রহন করি তারা সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণীর অংশ। এবং এই সুবিধাভোগী শ্রেণীর একটা চরমপন্থী মনোভাবও বিদ্যমান, সামাজিক সংস্কারগুলোকে ধারণ করা এবং এগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটা এরাই নিরবিচ্ছিন্ন নিষ্ঠায় করে যায়।
তদের ট্যাবু এবং তাদের গণনার বাইরের অংশের পরিমাণও অনেক বেশী। তারা নিজেদের সুশীলতার রক্ষক এবং প্রতিপালক ভাবে, একটা বিধি চাপিয়ে দিতে চায়।
আলোচনায় যদিও ফাহমিদুল হকের শ্রেনী চরিত্র বিশ্লেষণ তেমন প্রয়োজনীয় ছিলো না। প্রয়োজনীয় আলোচনা বোধ হয় সেই পোষ্টের নানামুখী ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করা।
এখানে যারা রাজনৈতিক একটিভিস্ট তাদের কতজন বাস্তবে একটিভিস্ট, তাদের কতজন লড়াইয়ে প্রস্তুত? এই প্রশ্নের জায়গাটাতে আমাদের রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আমাদের রাজনৈতিক বৈরিতায় ক্ষমতার চর্চা করবার জন্য আমাদের যুথবদ্ধতাকে আমরা নিরাপদ প্রক্রিয়া ভেবে অভ্যস্ত। তবে এখানে যে তারুণ্যের বিল্পবীকে নায়ক বানানোর প্রবনতা এটা সব সময়ই ছিলো। তারুন্যের উচ্ছাস যতটুকু ধারণ করতে পারে, তার সবটুকু নিয়েই বাংলাদেশে তারুণ্য এসেছে, ডিজুস বাংলালিংকের প্রেমালাপের পয়সাহাতানোর বাহানা থাকলেও এর ভেতরেও প্রথাবিরোধী তরুন আছে। তারাই সবসময় প্রতিরোধে অংশ গ্রহন করছে।
এই প্রতিরোধ রোমান্টিক হঠকারিতা কি না এটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনও হয় নি। তারুণ্যের উচ্ছাস এবং এর ক্ষোভ এবং বিক্ষোভের পরিমাণ মাঝে মাঝে মাত্রাছাড়া হয়ে যায়। মাঝে মাঝেই এটা সঠিক কোনো রাজনৈতিক দিশা পায় না। কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ঝোঁকটা তরুণের থাকে না।
কতজন রাজনৈতিক ভাবে সচেতন তরুণ পাওয়া যাবে? যারা রাজনীতিকে বুঝে, রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহন করতে বিজ্ঞতার পরিচয় দেয়। সীমিত, খুবই সীমিত এই সংখ্যা।
তবে কামরুজ্জামানের ছেলের মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বলবার কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি এটা না। অনেকটা ইতিহাস বিকৃতি এবং ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করবার প্রক্রিয়ার প্রতি ক্ষোভ। কামরুজ্জামানের ছেলে ওয়ামী তার বাবার উপরে হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হতেই পারে। তবে সেই ক্ষোভের প্রকাশে এত বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার কারণ মূলত অতীত ইতিহাস। সেই ইতিহাসে কখনও সম্মুখ সমরের বিষয় নেই, কোনো যুক্তিনিষ্টতার বিষয় নেই।
পাকিস্তান বিরোধিতা, ইসলাম প্রেম, ভারত বিরোধিতা, ভারত প্রেম, এইসব বাহ্যিক রাজনৈতিক প্রভাবক এখানের লেখায় থাকবে, ব্লগ মানববিচ্ছিন্ন কোনো প্রক্রিয়া না। বিশ্লেষণটা আরও সহজ হলে ভালো হতো। অন্তত ইতিহাস খোঁজা এবং ইতিহাস বিশ্লেষণ করবার প্রক্রিয়াটা আরও সাবলীল হলে ভালো হতো।
অন্তত আমার মতো অনভিজ্ঞ পাঠকের কথা বিবেচনা করে এইসব উদ্যোগ নিলে আরও সুখপাঠ্য হতো, আরও সহজ হতো আলোচনা।
ব্লগের লেখা এবং এর প্রবনতা নিয়ে আরও লেখা আশা করছি।
লেখক বলেছেন: অপবাক আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনার লেখাজোকা পড়েছি, মনে হয় না আপনাকে দাঁত বসাতে হবে, পড়লেই চলবে। মানববিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়াগুলো নয়, সাধারণ প্রপঞ্চগুলোই আলোচনা করতে চেয়েছি আমি।
আর, আপনাকে অনভিজ্ঞ কেউ ভাবি না, তাই সরলীকরণ ভাল লাগল না। ব্লগের লেখা এবং প্রবণতা নিয়ে আরো লেখা খুব কি প্রয়োজন? আলোচনা সবসময় প্রয়োজন, জানি। কিন্তু সেটার গন্তব্য চিহ্ণিত করা জরুরী ভাবি।
পরিশেষে কৃতজ্ঞতা।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
রিফাত ভাই, সময় নিয়ে পড়বো। তারাবীহ পড়তে যেতে হবে। আপাতত লগাআউট। পোস্ট বুকমার্ক। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আসার জন্য। পড়ে, কথা বলবেন আশা করছি।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
অন্যদিকে ধ্রুপদি গ্রেকো-রোমান এবং সেই সাথে রেনেসাঁস ও এনলাইটেনম্যান্ট আনিত আধুনিকতার মূল মটো হল ফ্রি উইল। যার ভৌত প্রকাশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন। ওয়েস্টার্ন এনলাইটেনমেন্টর অন্যতম প্রপাগেটর ভলতেয়ারের ভাষ্যে এটি হচ্ছে এরকম: তোমার মতামতের সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি প্রাণ দেব।আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বলে, ব্লগের লিখিয়েরা সকলে শেষোক্ত অভিমুখকেই ইমিটেশন অর্থে ধারণ করেন। ফাহমিদুল হক, যার লেখাকে কেন্দ্র করে আজকের এই আলোচনার অবতারণা, এবং যারা পোস্টটিতে তার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারাও এর ব্যতিক্রম নয় ঠেকে।
ফলত ব্লগে জামাত নেতা কামরুজ্জামানের ছেলে ওয়ামী তার পিতার নাজেহালকারীদেরকে উদ্দেশ্য করে 'কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে' বলায় 'তাকে ব্যান করার পক্ষ বিপক্ষ' এই অর্থে মুক্তিযুদ্ধের 'স্বপক্ষ' এবং 'বিপক্ষ' উভয় গোষ্ঠিই পরস্পরের মতামত রুদ্ধ করে দেয়ার জন্য যে ধরণের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ( ক্ষেত্র-বিশেষে একঘরে করা, বর্জন, ব্যান এবং গালি-গালাজ দিয়ে হেনস্থা) অবলম্বন করেছেন তাতে আমাদের দেশের হালনাগাদ ইন্টেলেকচুয়াল এলিটদের মধ্যে পাকিস্তানি আমলের উল্লেখিত দুই শ্রেণীর ভিতরকার বিরাজমান সার্বিক অপরিপক্কতার বিষয়টিই নতুনভাবে দৃষ্ট হয়।
ঠিক এ জিনিসটাতে আমার চোখ আটকে গেলো। আমার যদি বুঝতে ভুল না হয়, তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন- মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়টা থেকে আজ পর্যন্ত আমরা দু'ভাগে বিভক্ত?
এবং সেই বিভক্তির উপর ভিত্তি করেই আমাদের যতো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। যদি সেটাই ইঙ্গিত করে থাকনে, তাহলে আপনার সাথে আমি সম্পূর্ন একমত। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত বাঙালী জাতি কোন বিষয়েই একমত হতে পেরেছে বলে আমার মনে হয়না। ব্লগেও এ জিনিসটা খুবই দৃশ্যমান। একদল ভারতীয়দের হয়ে দালালি করে, অন্যদল পাকিদের। কিন্তু নিরেট বাংলাদেশের দালালি করতে কাউকে দেখলামনা।
আমি খুব মন দিয়ে পড়েছি পোস্টটা। সত্যি কথা বলতে কি, প্রাণপন চেষ্টা করেছি সবটুকু গলাধ:করন: D করার।
অনেকগুলো বিষয়ের অবতারনা করেছেন আপনি। মার্কসবাদ, বুর্জোয়া শ্রেনী, ইন্টেলেকচূয়াল শ্রেনী, তরুন প্রজন্ম কোনকিছুই বাদ যায়নি এ লেখায়। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, ফাহমিদ ভাইয়ের ওই বাক্যটির সাথে একমত আমি। ''খুব শক্তিমান এক ব্লগারের আগমন ঘটেছে ব্লগে''।
এ ধরনের পোস্টগুলো আমি বারবার পড়তে চাই, শিখতে চাই, বুঝতে চাই। তাই শো-কেসে নিয়ে গেলাম। ভালো থাকবেন রিফাত ভাই।
লেখক বলেছেন: এরশাদ বাদশা, আপনি এই লেখাটাকে গলাধকরনের চেষ্টা করেছেন প্রাণপনে, তাতে যে কষ্ট শিকার করলেন তার জন্য সহমর্মী।
তবে একটি কথা, এই লেখার শক্তি সম্পর্কিত ফাহমিদ ভাইয়ের মন্তব্য এই লেখার বিষয়বস্তুকে যথেস্ট আড়াল করে, যার কারণে এই পোস্টে প্রাণবন্ত আলাপ যেটি আশা করেছিলাম, তার অনুপস্থিতি লক্ষনীয়। বিষয়ের অবতারণা এবং তৎসম্পর্কিত মুগ্ধতার কোন জবাব নেই, কিন্তু এই বিষয়ে জরুরী আলাপগুলো আর হল না- সেটি আমার একটু মনঃক্ষুণ্ণতার কারণ।
আপনি একটা বিষয় ধরেছেন, যেটির পপুলার এপ্রোচ হলো মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের আমাদের দেশের হালনাগাদ ইন্টেলেকচুয়াল এলিটদের উল্লেখিত দুইভাগে বিভক্তি। কিন্তু এইটাকে মোটা অর্থে ভারতের দালাল আর পাকিস্তানের দালাল অর্থে অনুবাদ করা অনুচিত হবে। এই পোস্টে আরো কিছু পর্যবেক্ষণ আছে যেটি আপনার এবং অনেকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে বলে মনে হয়।
আপনিও ভাল থাকবেন।
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
হেভি ওয়েট লিখা । আমার গুরু জাবির অধ্যাপক ড. মানস চৌধুরীর ছায়া পাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: হেভি ওয়েট মন্তব্য। আর কিছুই বুঝলাম না।
অ রণ্য বলেছেন:
এক বছরের ব্লগ সময়ে এমন চমৎকার পোষ্ট দুবার পড়েছি বলে স্মরণ করতে পারছিনা। এটাকে কপি করে রাখা দরকার আর এমন পোষ্ট আরও আশা করছি।
লেখক বলেছেন: এতদিন পর এই পোষ্ট কোথায় খুজে পাইলেন অরণ্য? যাই হোক, ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















