আমার প্রিয় পোস্ট
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- দেখাদেখি বদলে যাওয়া... তাইলে কী বদলাইল? - ব্রাত্য রাইসু
- ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট - রিফাত হাসান
- ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের জগতে আপনাকে স্বাগতম (অনেকগুলো সফটওয়্যারের বর্ননাসহ ডাউনলোড লিংক) - নাফিস ইফতেখার
- ডিভাইস ড্রাইভার (সমাপ্ত) - মাইক্রোকাতার
- খোদার কসম, এই রোদ্দুরে রেডিক্যাল হতে চাওয়া কাজের কথা নয়। বরং আমরা সুবিধামতো একটিভিস্টই থাকি। - রিফাত হাসান
- বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন - রিফাত হাসান
- উইন্ডোজ এর শম্বুক গতি -১
- আবুফয়সাল আহমেদ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি, তারেক রহমান ও তার মায়ের অপরাধ ও শাস্তি এবং আমাদের নারী ভাবনা - রিফাত হাসান
- একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি - রিফাত হাসান
- জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার - পি মুন্সী
- আমার নাস্তিকতা, মিথ্যা কথার বয়ান এবং একটি সাদা রঙের মেঘ - রিফাত হাসান
- কিছু আলটপকা ভাবনা, কিছু জরুরী আলাপ - রিফাত হাসান
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- ইসরাইল - অপ বাক
- 'আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি' ১ - ফারুক ওয়াসিফ
- নারীর সমানাধিকার নীতি, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও বাঙালি মুসলমানের গৃহবিবাদ - মাহবুব মোর্শেদ
- চড়ুই পাখির নকশা! - ফারজানা মাহবুবা
কথা নিয়ে খেলতে খেলতে আমরা কোথায় চলে গেছি! আমাদের ফিরে আসার বোধ জাগলো যখন, ফিরে আসা সহজ হলো না

পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ছিল বুঝি আমাদের কয়েকটি কবির হৃদয়
১২ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৪৭
(এই লেখাটা একবার পোস্ট করার পর ড্রাফ্ট করে নিয়েছিলাম, কিছু সংশোধনীর জন্য, এখন সংশোধনীসহ আবার পোস্ট দিলাম)
এটি আল মাহমুদের লেখা আমার ছোটকালের প্রিয় কবিতাগুলোর মধ্যে একটি কবিতার লাইন। কবিতাটির নাম সম্ভবত অধ্যয়ন, লোক লোকান্তর কাব্যগ্রন্থের। আল মাহমুদকে নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে গতকালকে থেকেই মনে ঘুর ঘুর করতেছে। সিরিয়াস টাইপ কিছু নয়, তাকে মুল্যয়ন টাইপ কিছুও নয়, শুধু তাকে একটু মনে করতে চাওয়া। নিতান্তই আবেগের জায়গা থেকে। তার কবিতা নিয়ে সিরিয়াস লেখা কেউ দিলে আমি সাগ্রহে তা পড়ব, এবং আমার কখনো সেরকম সময় হয়ে উঠলে আমি একটা লেখা তৈরী করার চেষ্টা করবো, আজকে আমার কাছে এমনকি তার লেখার সমগ্রটাও নেই। তাকে নিয়ে ফরহাদ মজহারের একটা জরুরী আলোচনা পড়েছিলাম মোকাবেলা বইটাতে, সেই বইটিও দেখি আমার সেলফ থেকে উধাও হয়ে গেছে। সত্যি কথা বলতে গেলে বাংলা সাহিত্যের এই মহিরুহকে সাহিত্য ও নন্দন, একি সাথে বুদ্ধিজীবিতার দায়- এই জায়গা থেকে এখনো কেউই যোগ্যতর আলোচনায় নিয়ে আসতে পারেন নি। তাকে নিয়ে অধিকাংশ আলোচনাগুলো কুট-দলীয় আলোচনায় পর্যবসিত হয়েছে। ব্লগেই এপ্রিল মাসের কোন এক সময়ে একজনের আল মাহমুদ বিষয়ক একটা লেখায় কমেন্ট করেছিলাম, সেখানে আল মাহমুদ এবং আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছিল- তার কিছু অংশ এরকম:
''একটা খুব মজার ব্যাপার আমি খেয়াল করেছি, আল মাহমুদ বিষয়ে হালের সাহিত্যপাতা এবং গণমাধ্যমগুলোতে দরদ দিয়ে কিছু বলেছে তার পুরোটা না পড়ে বা না শুনে অই আলোচনার গন্তব্য বুঝা যায় না। ভাবটা প্রতারণামূলক- এটা এমন যে, ইশশ এত্ত ভাল মানুষটি যারে একটু আগে এত ভাল বললাম তারে আসলে খাঁটি ঘেন্না ছাড়া কিছুই দেয়া যাচ্ছে না! এটা খাঁটি ভন্ডামি ছাড়া কিছুই নয়। একজন মানুষ যখন সমাজের পরিচিত একটা ভাষায় কথা বলছে তারে সেই ভাষায় এবং যুক্তি তর্কের মাধ্যমে মোকাবেলা করার পরিবর্তে গালাগালি করাটা প্রতিক্রিয়াশীলতার ভয়াবহ রূপ। এবং পলায়নপরতা।...
আল মাহমুদের সাম্প্রতিক কবিতাপ্রচেষ্টা বিষয়ে আমার অনেক কিছু বলার আছে। সেটা তার ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে ধর্মে উত্তরণের বিষয়ে শুধু নয়। কবিতা, একই সাথে তার শিল্প এবং রাজনীতির দায়, বাঙালী মুসলমানের মনোকাংখা, - এসবের দিক থেকে আল মাহমুদের সাহিত্য বিচার এখনো বড় আকারে করা হয়নি। সেটা খুবই দরকার।...
কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য নয়। আপনার গন্তব্য ছিল অন্য।
ধর্মনিরপেক্ষতা নামে এক অদ্ভুদ জিনিশ- যা সম্পর্কে খুবই আগ্রহী দেশের স্বল্প কিছু শহুরে লোক, যারা মন ও মননে শহর এবং শহুরে ন্যাকামীর বাইরে যেতে পারে না। এর ভয়াবহ রূপ হলো ধর্মবিদ্বেষ। এবং নির্লজ্জ রূপ হলো সাম্রাজ্যবাদ তোষণ। আর একটা মজার ব্যাপার হলো, যাদের ধর্ম নেই, তারাও নিজেদের জন্য একটা ধর্মের প্রয়োজন অনুভব করে। বর্তমানে বামপন্থার ধর্ম হল সেকুলারিজম- যার অনুশাসনগুলি ধর্মীয় মানুষের ঐশি কেতাবের চেয়ে কম পবিত্র নয়।
তাই ধর্মনিরপেক্ষতা একই সাথে বুদ্ধিবৃত্তির দৈনতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির পরিমণ্ডলে দেখলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার এখন।...
ধর্মনিরপেক্ষতা (এটা কী জিনিশ) শব্দটার যাবতীয় ঐতিহাসিক অর্থসহ এটা বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি ষড়যণ্ত্রতত্ত্বের যাবতীয় উপাদান হাজির করে আমাদের সামনে। দেশে যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট সম্প্রদায় মুসলিম এবং বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতার রাজনীতির সাথে ইসলাম নামটা ওঁতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই এখানে ধর্মনিরপেক্ষ নামের প্রতিতী এবং প্রত্যয়টা ওর যাবতীয় মুখ-মুখোশসহ ইসলাম এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিমের ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যয়িত হয়।
এটা খুবই ভয়ঙকর একটি ব্যাপার।
এইটা ভেবে দেখা এইজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, ধর্মনিরপেক্ষতা এমন এক চিজ গ্রামের সাধারণ কৃষকরা যা ছাড়াই চলতে পারে। কিন্তু ধর্ম এমনই গুরুত্বপূর্ণ তাদের জীবনে, যা ছাড়া তাদের জীবন কল্পনাই করা যায় না।...
...আপনি শহুরে বুদ্ধিজীবী, আপনার জীবনাচরণের পুরোটাই সাম্রাজ্যবাদ নিজের প্রয়োজনে ফ্যান্টাসি বানিয়ে দিয়েছে। এই মেকি জায়গায় দাঁড়িয়ে ধর্ম আসলেই গুরুত্বহীন, কোম্পানি স্বার্থও ধর্মের বিরুদ্ধে, যেহেতু ধর্ম কোম্পানি স্বার্থের কোন কাজে লাগে না। ধর্ম আপনার মেয়েকে ফেয়ার এণ্ড লাভলির বিজ্ঞাপনের পণ্য হতে দেবে না, এমনকি ভোক্তা হতেও নিষেধ করবে। আপনি শহরে বসে বুদ্ধিজীবিতার ভাষায় যে কথা বলেন সেই বুদ্ধিজীবিতায় আমাদের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর যথেষ্ট সন্দেহ তৈরী হওয়া স্বাভাবিক। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতি এত মূল্যহীন না যে তাদের ধর্মানুভুতিকে মুর্খামি বলে আপনি একা শহুরে মধ্যবিত্ত্বর বুর্জোয়ামি চালিয়ে যাবেন এবং তাদেরকে রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে দমিয়ে রাখবেন।...
আর একটা কথা, এই ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীতা একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের আউটপুট বলেও আমার মনে হয়েছে- যেটা আমাদের দেশে এসেছে সাম্রাজ্যবাদী নগরায়নের মাধ্যমে- কোম্পানি স্বার্থ যখন পৃথিবীতে যুদ্ধ বাধিয়ে দিল।''
...............
''আর একটা ব্যাপার, ব্যক্তি আল মাহমুদের পক্ষে বা বিপক্ষে বলার মতো ব্যক্তিত্ব তিনি নন, অন্তত আমার কাছে। আর যেটুকু বুঝেছি, সম্ভবত আপনি এবং আরো অনেকের কাছেও এটা সত্য। তাই এ বিষয়ক আলোচনা গুরুত্ত্বহীন। কিন্তু আমার পক্ষে এটা ভাণ করাও সম্ভব না যে, আল মাহমুদকে ছাড়াই বাংলা কবিতাকে পড়তে পারব। তাই এটা আমি করি না।
আমার কাছে ব্যক্তি আল মাহমুদ যেমন গুরুত্ত্বহীন, তেমনি অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি সাহিত্যিক আছেন শুধু ব্যক্তি নয়, সাহিত্যের জায়গায়ও গুরুত্ত্বহীন। এটাও সম্ভবত আপনি এবং আরো অনেকের কাছে একইরকম সত্য। ব্যক্তিজীবনে আল মাহমুদ ক্রমশই ধার্মিক হয়ে উঠছেন- এবং সেটার উচ্ছাস তিনি যত্রতত্র ঘটান। সেটার দলীয় রূপটা অসুন্দর। কখনো কখনো মতিভ্রমমূলকও। কিন্তু ধর্মীয় রূপটা কবিতায় প্রকাশ হয় এবং পাঠককে রূপকথার জগতে নিয়ে যায়। যেমন: মায়াবী পর্দা দুলে উঠো।
কিন্তু কথা হলো সেটাও আমার আলোচ্য বিষয় ছিল না। কবিতা বিষয়ে অন্য কোথাও হবে।
আমার আপত্তি ছিল অন্য জায়গায়। আল মাহমুদের সমালোচনা করতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার সাফাই গাওয়া। ধর্মনিরপেক্ষতা এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটা ডিসকোর্স- আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন। সেটার আলোচনা উপরে করেছি।''
.............
''উপরোক্ত কবি একটা কবিতা লিখেছিলেন- ঈগল থাকবে ইতিহাস থাকবে না। এমন একটা সময়ে লেখা যখন অধর্ম এবং কোম্পানি স্বার্থের যুদ্ধ আফগানিস্তান ইরাকে পাখির মতো মানুষ হত্যা করছিল আর আমাদের এখানে এসে 'মানবাধিকার', 'মৌলবাদ', 'টেররিজম' এবং 'ইনফিনিট জাস্টিস' শিখাচ্ছিল। এবং দেশীয় বুদ্ধিজীবীরা তার সমর্থনে ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই যুদ্ধ এবং ডিসকোর্সের কাল এখনো কি শেষ হয়েছে?''...
................................................................
উপরের আলোচনাগুলো আল মাহমুদ সম্পর্কে আমার আবেগকে ধারণ করে না; একজন ব্লগারের আলোচনার উত্তরে প্রতি-আলোচনা করেছি, এক কথায় বিতর্ক। বিতর্কগুলোতে আল মাহমুদ সম্পর্কে আমার ভাবনাশুরুর বিন্দুটি লুকিয়ে আছে বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমি অন্য কিছু কথা বলতে চাই।
খুব ছোটবেলায় যখন কবি বাসনা তৈরী হল তখন পড়েছিলাম যেভাবে বেড়ে ওঠি। এক দুর্মর আবেগ তৈরী হয়েছিল আল মাহমুদকে নিয়ে, কবি এবং তার যাবতীয় অর্থ তখন শুধুই আল মাহমুদ। তারপর হাতে এল সোনালী কাবিন আর তার দুর্ধর্ষ কবিতাগুলি। প্রায় মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। মুখে মুখে পড়তাম:
..ভোলো না কেন ভুলতে পার যদি/ চাঁদের সাথে হাঁটার রাতগুলি/ নিয়াজ মাঠে শিশির লাগা ঘাস/ পকেটে কার ঠাণ্ডা অঙ্গুলি/ ঢুকিয়ে হেসে বলতে, অভ্যাস; ...
তো সেই সময় একদিন একটি কবিতা লিখে ফেললাম, অর্থাৎ আমি অইটারে কবিতা বললাম। প্রচুর বর্ণনায় ভরা, পুরোপুরি আল মাহমুদীয় ঢঙে। এক সাহিত্য সভায় পাঠ করলাম খুব আবেগ ভরে, তারপর একজন আলোচক অই লেখাটার পোস্টমর্টেম করলেন নিষ্ঠুরভাবে। আমার অভিমান যায় না, এমন একটি অসাধারণ কবিতা লেখার পর এই আলোচনা!- পরের আর একটি সাহিত্য সভায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আমি আরো কয়েকটি কবিতা এবং একটি গদ্য লিখে আনলাম। গদ্যটির শিরোনাম হলো: "কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার".. অই আলোচক মহোদয় আমার প্রতি এমন করুণার দৃষ্টি হানলেন সেই আলোচনা পড়ে, হাঃ, এখন সেইসব কবিতা আর সেই আলোচনার কথা মনে পড়লে খুব একটু আলতো করে নিজের প্রতি হেসে নিই। আল মাহমুদের সেই ''কবিতা এমন'' কবিতাটি এখনো প্রায়ই গুণগুণ করি:
কবিতা চরের পাখি, কুড়ানো হসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস/ ম্লান মুখ বউটির দড়িছেড়া হারানো বাছুর/ গোপন চিঠির প্যাডে নীল খামে সাজানো অক্ষর/ কবিতাতো মক্তবের মেয়ে চুল খোলা আয়েশা আক্তার...
কোন এক আল মাহমুদ সংখ্যায় একটি স্মৃতিকথা পড়ছিলাম, দেবী রায়ের লেখা সম্ভবত, তিনি আল মাহমুদের বাড়িতে পা রাখছেন আর তাঁর মনে পড়ছে:
..এ তীর্থে আসবে যদি ধীরে অতি পা ফেলো সুন্দরী,/ মুকুন্দরামের রক্ত মিশে আছে এ-মাটির গা'য়,/ ছিন্ন তালপত্র ধরে এসো সেই গ্রন্থ পাঠ করি/ কত অশ্রু লেগে আছে এই জীর্ণ তালের পাতায়...
আসলে আল মাহমুদকে দিয়েই কবিতা ব্যাপারটা সম্পর্কে আমার যত কৌতুহল আর তার নিবৃত্তি হয়েছিল সেই ছোটবেলায়। তার সেই কবিতাটির কথা মনে আছে, তখন প্রায় মুখস্ত ছিল, সারাক্ষণ মুখে মুখে থাকত ...আমি যার ক্রীতদাস মাঝে মাঝে সম্রাটের মতো/ উড়ে আসে অবিবেকী সেই জাদুকর।/ সোনার মলাটে লেখা পুঁথিপত্র নিয়ে/ শেখায় সে মায়াময় যে-সব অক্ষর/ সকালেই ভুলে গিয়ে সেই সব শ্লোকময় কথা/ হৃদয়ের দলগুলি ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলি।/ হয়তো বা ক্ষণকাল ইনিয়ে বিনিয়ে/ কেঁদে কেটে ক্লান্ত হয়ে পুরাতন গাথার ভিতরে/ নিজেকে ডুবিয়ে দিই।/ ছিন্নভিন্ন হৃদয়ের চামেলি ও বেলী/ এক হয়ে অন্য এক লোকোত্তর মানুষকে গড়ে।/ পানখ সাপের মতো অন্তরের বিষাক্ত কামনা/ মরে গেলে, আবার হারানো কথা আমার অধরে/ ফিরে এসে উচ্চারিত হতে থাকে ধীরে/ যেন মনে হয়,/ পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ছিল বুঝি/ আমাদের কয়েকটি কবির হৃদয়।...
দিনে দিনে বাংলা কবিতার বয়স কত হলো? এখন দারুণ বর্ষা, কথা না বলতেই বৃষ্টি শুরু হয়। আর আল মাহমুদের শেষ দিনগুলো গুটি গুটি পায়ে চলে আসছে কাছে। আর কতদূর? শাদা শ্মশ্রুমণ্ডিত বাংলা কবিতার এই রাজপুত্তুরকে আমরা আর কতদিন পাব? কতদিন? আর কে আছে এমন, যার কবিতা আরো শত বছর মণ্ত্রের মত পড়তে থাকব আমরা! কমলা রোদ্দুরে বসে বিকেলহীন বিকেলের অপেক্ষায় কবির দিন কেটে যায়:
কাল আমি আমার মার সাথে অনেক্ষণ কথা বলেছি।
অদ্ভুত বৃদ্ধা। একদা আমাকে জন্ম দিয়েছিলেন। সম্ভবত
এখন বিশ্বাস হতে চায় না। যখন মিটমিট করে
আমাকে দেখলেন। আমার গরম লাগছিল।
আমি বললাম, চলো মা আমরা একটু চা খাই।
বুড়ি হেসে তসবীহ টিপতে লাগলেন,
তোর যেখানে জন্ম হয়েছিল মনে আছে?
নিম গাছের নিচে ছনের চালায়। সে রাতে
আমাদের এক ফোটা চা-ও ছিল না।
আমি কাপটা নামিয়ে রাখতে রাখতে বললাম,
না মা, কিছু মনে নেই।
পেঁচার ডাকে আমার ভয়, এদিকে তোর কান্না
ঘরে নেই পুরুষ। তোর বাপ গেছে চরের ধান
পাহারা দিতে। কে-যেনো আজান হাঁকলো
হাজী শরীয়তের মতো গলা। ধাই মেয়ে
তোকে দোলাতে দোলাতে বললো,-
বল লেংটা তুই কোন মসজিদে যাবি?-
মনে আছে?
না মা, আমাদের কাপ জুড়িয়ে
পানি হয়ে গেল যে!
ব্যবহৃত ছবিটি arts.bdnews24.com থেকে নেওয়া, কৃতজ্ঞতা
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ডায়েরী ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ডায়েরী বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কেএসআমীন বলেছেন:
বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি, ঠিক আছে...রাজকবি বা কবিরাজও কইতে পারেন...
কিন্তু খারাপ লাগে যখন বলা হয় জামায়াতী কবি...
তাই তীব্র পরতিবাদ জানাই তাদের...
লেখক বলেছেন: কী কইলেন বুঝতে পারলাম না। কোনটার প্রতিবাদ?
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন:
"বর্তমানে বামপন্থার ধর্ম হল সেকুলারিজম- যার অনুশাসনগুলি ধর্মীয় মানুষের ঐশি কেতাবের চেয়ে কম পবিত্র নয়।"আল মাহমুদ প্রধান কবি, কিন্তু ঐ এক জায়গায় সমস্যা যাবে না। যেসব লোকের সাথে তার চলাচল তারা ঠিক সুবিধার নয় এবং কবির ইএমেজের জন্য হানিকারক
লেখক বলেছেন: আপনার কথাটি হয়তো সত্য।
কিন্তু কোট করলেন কী উদ্দেশ্যে বুঝলাম না।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
আল মাহমুদ অনেক বড়ো মাপের কবি। শিরোধার্য তাঁর কবিতা। তাঁকে নিয়ে দরদযুক্ত পোস্ট দেয়ায় ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার পোস্টেও তো আল মাহমুদকে নিয়ে আলোচনার সুযোগ কম। কারণ ধর্মনিরপেক্ষতাকে এক হাত নেয়াই এ পোস্টের বড়ো উদ্দেশ্যের একটা মনে হচ্ছে। এ নিয়েই বরং আলোচনা আগাক এখানে।আপনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে ফরহাদ মজহারের মতো করেই দেখলেন। সাম্রাজ্যবাদের সাথে না মিলিয়ে বিষয়টাকে দেখবার মতি আপনাদের কবে হবে আমি জানি না। কেবল এই তথ্যটা নিন যে, সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাচেতনের বাইরেও ধর্মনিরপেক্ষতা তথা ইহজাগতিকতার ব্যাখ্যা সম্ভব। আরজ আলী মাতুব্বরের চিন্তায় আপনি কোথাও সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আবিষ্কার করতে পারবেন না আশা করি।
ইহজাগতিকতা থাক, উলটো দিক থেকে আসি। একটু কি বলবেন দয়া করে যে, ধর্মে আমাদের কী দরকার?
লেখক বলেছেন: মুজিব ভাই, অনেকদিন পর আপনি এলেন আমার পেইজে। খুবই খুশি হয়েছি। ধর্মনিরপেক্ষতাকে এক হাত নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পোস্ট নয়। এইটা আমার চোরামি, অন্যের লেখায় করা মন্তব্য দিয়ে লেখা ভরে ফেলার কৌশল। চটপট লিখে নেওয়া পোস্ট।
নিরেট আল মাহমুদ বিষয়ে বলতে চেয়েছি। দলবাজিটারে বাদ দিয়ে, স্রেফ আমার ব্যক্তিগত কবিতা পাঠের জায়গায়।
আপনাকে আমি একদিন বলেছিলাম যে, কেউ প্রশ্ন করবে আর আমি উত্তর দেবার জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই উপযুক্ততা আমার আছে বলে মনে করি না। আসুন আপনিসহ আলোচনা করি। হয়তো বা আগামী কাল।
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন:
আমি যা বলতে চেয়েছিলাম তা বলে দিলেন মুজিব মেহেদী ভাই, ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: তাই। ধন্যবাদ।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
অন্য পোস্ট থেকে আপনার করা মন্তব্য এনে এখানে জড়ো করলেও ওগুলো আপনারই মত আসলে। একত্রে জড়ো হয়ে ওই কথাগুলো এই পোস্টের গায়ে শক্তি যুগিয়েছে অথবা কমিয়েছে। এখন এগুলো মিলেই লেখাটা।নানা ব্যস্ততায় আমি ব্লগে আগের মতো সময় দিতে পারছি না এখন। ব্লগিংয়ের জন্য যেটুকু সময় পাচ্ছি সেটুকু আবার তিনটি বাংলা ব্লগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। তার উপরে গত চারদিন বাসার ব্রডব্যান্ড কানেকশনটা সমস্যাগ্রস্ত ছিল। এই হলো আমাকে আপনার পেজে কম দেখার হেতু।
হ্যাঁ, চলুন কাল আমরা এই সূত্রে কিছু কথা বলি, অবশ্য যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। হাঁ, কথাতো চলাটা জরুরীই।
সুশীল সমাজ বলেছেন:
মাইনাস।
লেখক বলেছেন: ইহা দিয়ে কী হয় জনাব।
রিফাত হাসান বলেছেন:
রিপোস্ট করার সময় আগে যারা মন্তব্য করেছেন তাদের মন্তব্যগুলো বাদ পড়েছে। তাদের কাছে দু:খ প্রকাশ করছি। তারা হলেন- যদ্দুর মনে পড়ে- আ্যামাটার, উম্মু আব্দুল্লাহ, প্রবাসকণ্ঠ এবং.. দুঃখিত মনে পড়ছে না।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
"তাদের কাছে দু:খ প্রকাশ করছি।"ভালো একটি লেখা দিয়েছেন। তাই এপোলোজি একসেপ্টেড।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
হরিসূধন বলেছেন:
খুব ভালো লিখেছেন।
সুশীল সমাজদের জন্যই ধর্ম নিরেপেক্ষতা খুব প্রয়োজন
তবে তারা নিজেরাই "নিরেপেক্ষতা" মুল্যায়নে ব্যর্থ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কিন্তু কথাটা পরিস্কার হলো না।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
ভীষণ ভাল লাগলো লেখাটা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
আলমাহমুদ কে ?
লেখক বলেছেন: আপনে নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার চোদ্দগোষ্ঠির কেউ নন।
রিফাত হাসান বলেছেন:
মারুফ হায়দার নিপুর নাম মনে পড়েছে, আগের পোস্টে কমেন্ট করেছিলেন, মুছে গেছে।
রিফাত হাসান বলেছেন:
মুজিব মেহেদীর প্রস্তাব ছিলো, ধর্ম, ধর্মনিরপেক্ষতা, ইহজাগতিকতা এবং সাম্রাজ্যবাদিতার প্রশ্নে এখানে আলোচনা চলুক। বলেছিলাম আগামীকাল হোক, সেদিন ভাল লাগছিলো না। আজকে যখন আবার এ বিষয়টি নিয়ে ভাবলাম, ভেবে দেখলাম এই পোস্টে নয়। আলাদা একটি পোস্টে আলোচনা করা ভাল। কী বলেন মুজিব ভাই? এখানে শুধুই আল মাহমুদ। অতিসত্বর বিষয়টা নিয়ে কথা হবে নিশ্চয়।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
এত আয়োজন করে আলোচনার প্রস্তাবে আমার গা কাঁপুনি শুরু হয়ে গেল যে। কী করি এখন! সিরিয়াস বিষয়ে অনেকক্ষণ ধরে কথা চালিয়ে যেতে স্থির হওয়া লাগে। আমার তা কই?তবে পোস্ট আসুক, অনেকেই নিশ্চয় আগ্রহী হবেন এ বিষয়ে আলোচনায়।
লেখক বলেছেন: আপনি আগ্রহী হবেন না? আপনার প্রস্তাবেই তো। তবে ব্যস্ততা ব্যাপারটা সত্যিই ঝামেলা তৈরী করে।
নির্বাসিত বলেছেন:
সত্তুরের শেষ দিকে আল মাহমুদের "কালোনৌকা" ছোটগল্পটি পড়ে ঝিম মেরে ছিলাম বহুক্ষণ। তারপর পড়েছি তাঁর কবিতা। ঝিম এখনো কাটেনি।
লেখক বলেছেন: ছোটগল্পের আল মাহমুদও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সুশীল সুমন বলেছেন:
আল মাহমুদ আমার দৃষ্টিতে একজন শ্রেষ্ঠ মানের কবি, এবং স্বদেশ নিয়ে উদার স্বপ্ন চারী । তাকে নিয়ে যারা বিতর্ক করে সম্ভবত তার উভয় পক্ষ আলমাহমুদকে বুঝতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে। আল মাহমুদের একটি ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। যে কোন মানুষ ধর্মবিশ্বাসী বা ধর্মনিরপেক্ষ হতেই পারে। কিন্তু সে কোন দৃষ্টি কোন থেকে অবস্থান গ্রহণ করে সেটাই বিবেচ্য বিষয়। একজন মানুষ ধর্ম বিশ্বাসী বা ধর্ম নিরপেক্ষ যাই হোক, যদি সে হয় উদার সহনশীল মানবতা প্রেমী এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তবেই সে বরনীয়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সুশীল সুমন বলেছেন:
ধন্যবাদের এর জন্যে ধন্যবাদ। আমি মনে করি আমরা সকলেই যুক্তিশীল উদার মানবতাপ্রেমী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ
লেখক বলেছেন: হাহাঃ, ধন্যবাদের জন্য ধন্যবাদ আজকাল কেউ দেয় না। আপনার কথা সত্য এবং সাপোর্টেবল। ধন্যবাদ আবার।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো..........আল মাহমুদ আমার প্রিয় কবিদের একজন............।
উনার কবিতা সমগ্র আমার নিত্যদিনের সাথী।
শুভেচ্ছা আপনাকে দারুণ লেখাটার জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সুশীল সুমন বলেছেন:
ধন্যবাদ যদিও অনেকের কাছে মুখে বলা একটি শব্দ মাত্র । তথাপি এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে পরশ্রীকামনা। অনেকে বলে থাকে- ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে ছোট করতে চাই না । আসলে তারা ধন্যবাদের অর্থই বুঝেনা। কাউকে ধন্যমনে করলে ( স্বীকৃতি দিলে) বা সে ধন্য হোক এমনটি চাইলে তাতে তাকে ছোট করা হয় না। আমি বলতে চাই আমাদেরকে প্রচলিত ভুল ধারণার উধের্ব উঠে প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক মূল্য দেওয়া উচিৎ। যে আমার ভাল চায় না, তার ও ভাল চাওয়া মহত্ত্ব।কিন্তু যে ভাল চায় অন্তত তার ভাল যদি না চাইতে পারি তবে তো ন্যায়পরায়ণই থাকা যায় না।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে।
তারিক-আল-হাসান বলেছেন:
সুশীল সুমনের ধন্যবাদ সম্পর্কে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গী ভালো লাগলো। থ্যাংক মি. সু সু।
তারিক-আল-হাসান বলেছেন:
সুশীল সুমনের ধন্যবাদ সম্পর্কে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গী ভালো লাগলো। থ্যাংক মি. সু সু।

















