আমার প্রিয় পোস্ট
- বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া - রিফাত হাসান
- খালেদা জিয়া: দগ্ধ থেকে বিদগ্ধতা - রিফাত হাসান
- শার্লক হোমস রাজনীতিবিদগণ ও কয়েকটি বিলম্বিত নোট - রিফাত হাসান
- ল্যামপোস্টের আলোয়: আরো কিছু জরুরী কথা-বার্তা - রিফাত হাসান
- ‘জিহাদি বই’ সিন্ড্রোম, ‘শিবির’ সন্দেহে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আলাপ - রিফাত হাসান
- রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার - রিফাত হাসান
- বিস্তর পরের নোট: ব্লগে আমার দুই বছর পূর্তিতে আড়মোড়া ও কিছু পুরনো আলাপ - রিফাত হাসান
- এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব, প্রাণ প্রকৃতি ও ভূখণ্ডের উপর আমাদের নায্য হকের লড়াই এবং একটি পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়া - রিফাত হাসান
- সরকারের প্রেসনোট, জননিরাপত্তার প্রেতাত্মা ও হিজবুত তাহরীর - রিফাত হাসান
- রাষ্ট্রের ধর্মবাসনা, দলের ভণ্ডামি, জামাত নেতৃত্বের গ্রেফতার ও অন্যান্য প্রশ্ন - রিফাত হাসান
- বাংলাদেশের 'উত্তর-ঔপনিবেশিক' বিচারকবৃন্দ: ব্লাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস - রিফাত হাসান
- সংবিধান মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা - রিফাত হাসান
- কনষ্টিটিউশন পর্যালোচনাঃ সুরঞ্জিতের বক্তব্য অনুযায়ী বাকশাল চতুর্থ সংশোধনীও অবৈধ (পর্ব-৩) - পি মুন্সী
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট - রিফাত হাসান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট - রিফাত হাসান
- বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন - রিফাত হাসান
- আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি, তারেক রহমান ও তার মায়ের অপরাধ ও শাস্তি এবং আমাদের নারী ভাবনা - রিফাত হাসান
- একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি - রিফাত হাসান
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি
১৭ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:২৪
(গতকালকে এই লেখাটি পোস্ট করার পর, আরো কিছু সংশোধন এবং সংযোজন করা হয়েছে রাতে, মাহবুব মোর্শেদ এবং পি মুন্সির লেখাটির লিঙ্ক যোগ করলাম এবার, পাঠকদের সুবিধার্তে, তখন মধ্যরাত হওয়ায় পাঠকদের অগোচরে ছিল অনেকটা এই পোস্টটি, তাই নতুন করে পোস্ট করলাম)
এটি একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া। বেশ কিছুদিন ধরে নোট করছিলাম। বুঝার চেষ্টা করছিলাম; জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতি এবং যুদ্ধাপরাধ রাজনীতির বিষয় আশয় । এগুলি আমাদেরকে বেশ ধাধায় ফেলার চেষ্টা করছে ইদানীং। এই ধাধাটার চরিত্র রহস্যজনক, এমনকি বেশ সন্দেহজনক। এখন বিষয়টা আবার তেঁতে উঠেছে, সম্প্রতি ঢাকার কথিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে একজন মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায়। ব্যাপারখানা কী? একজন মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্চিত হলো, আর সেক্টর কমাণ্ডারস ক্লাব কোন জ্বালাময়ী কর্মসূচি, নিদেন পক্ষে কার্যকর প্রতিবাদ করলেন না? অনেক দেরীতে গণমাধ্যমগুলো কর্তব্য স্থির করেছে, মুক্তিযোদ্ধাটির বক্তব্য বিবৃতি প্রকাশ শুরু করেছে। একুশে টিভির রহস্য কী। ব্যাপারটারে সাজিয়ে নিতে তাদের বোধ হয় একটু সময় লেগেছে। বেশ রহস্যজনক ব্যাপারখানা আমাকে ভাবিয়ে তুললো।
সেদিনকার কথিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজক যারাই হোন, একজন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমাণ্ডারসহ বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেছেন, পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী। সেই অনুষ্ঠান থেকে ট্রানজিটের বিরুদ্ধে দাবী তোলা হয় সরকারের কাছে, এবং প্রতিরোধের কথা বলা হয়; বেশীরভাগ পত্রিকায় অবশ্যই এই খবরটা শিরোনামেই আসেনি, মুক্তিযোদ্ধা নিগ্রহের ব্যাপারটাই শিরোনামে এসেছে।
এর রহস্যটা কী? ট্রানজিট বিষয়ক বক্তব্যটারে ধামাচাপা দেয়ায় কারা লাভবান হতে পারে? এরা কারা? আমি খুব ভেবেছি ব্যাপারটা, তারপর মনে করতে পারলাম যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী, ভারতীয় জেনারেলের বাংলাদেশ সফর, বাংলাদেশী জেনারেলের ভারত গমন, এবং পিনাক চক্রবর্তীর ট্রানজিট অভিযান শুধু সমসাময়িকই নয়, গূঢ় তত্ত্ব দেয়। আমি এইটা ভেবে আঁতকে উঠি এই কারণে যে, বন্ধু রাস্ট্র বিষয়ক তত্ত্ব এবং অর্থনীতির নগদ কাচকলা খাইয়ে আমাদের কিছু অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিশারদ ও বিদের কথায়, আচরণে এবং আন্দোলনে এটার চরম দরকারী রাজনীতির জায়গাটা, যেখানে দেশের জরুরী জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত, সেটিরে অমূল্যবান প্রতিয়মান করার প্রচেষ্টা নিহিত, উপরন্তু এই বিষয়টারে ভুলিয়ে দিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে মানুষের মনোযোগ কনসেন্ট্রেশনের চেষ্টা।
একটি কথা বলে রাখা ভাল, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যদি কেউ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, সেটিকে তাঁর সততার অবস্থান ধরে নিয়েই, আামার এই আলোচনা।
সম্প্রতি জনপ্রিয় ব্লগার এবং আমি যার লেখাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি, মাহবুব মোর্শেদের একটি পোস্টে কমেন্ট করতে গিয়ে, দাবী এবং ইস্যু বিষয়ে স্পষ্ট হওয়ার কথা বলেছিলাম আমি। বলেছিলাম, সেক্টর কমাণ্ডারস ক্লাবের কথাগুলো দাবী, নাকি ইস্যু, তাতে আমার সন্দেহ নয়, গুরুতর অবিশ্বাস আছে। মাহবুব মোর্শেদ বলছিলেন ''সেইটা ব্যাপক গণভিত্তি পাইছিল। সেইটার সঙ্গে বহু মানুষ একাত্ম হইছিলেন''। আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম:
একাত্ম হয়ে থাকলে সেইটা এখন গেল কোথায়? গণভিত্তি ব্যাপারটারে আপনি কীভাবে বুঝেন?
স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী কারা?
এদের বিচার করতে হবে কেন?
করলে কী উপায়ে করতে চান?
আর এই ইস্যুটার সাথে বাংলাদেশ নামে যে রাষ্ট্রে আমাদের বসবাস তার ন্যাশনাল ইন্টারেস্টগুলির সংঘর্ষ বা সহবাস কোন জায়গায়?
বলাই বাহুল্য, এটি স্বাধীনতাবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক পোস্ট ছিলো। তো মাহবুব ভাই আমাকে দুইটা লেখার লিঙ্ক দিলেন, তিনি সেই লিঙ্কগুলোতে এই বিষয়গুলি আলোচনা করার চেষ্টা করেছেন। আমি লিঙ্কগুলা পড়লাম এবং মুগ্ধ হলাম তাঁর লেখনীতে, এটা তাঁর লেখার গুণ। ওখানে এই প্রশ্নগুলির সরল জবাব নেই, কিন্তু আরো কিছু প্রশ্ন, যা আমার ভিতরে ঘুর ঘুর করছিল, তার উত্থাপন আছে, যুগ্ম বৈপরিত্যসহ। যেমন:
..ভিএস নাইপলের আত্মজীবনীর নাম হাফ এ লাইফ। ১৯৭১কে আমার মনে হয় হাফ এ ওয়ার। অর্ধেক যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শেষ হয়নি। কেন শেষ হয়নি, কে শেষ করেনি। কে ক্ষমা করেছে কাকে এ প্রশ্ন মাঝে মাঝে অবান্তর মনে হয়। কিন্তু একটা বিষয় খুব প্রাসঙ্গিক। বাকী যুদ্ধটা পেন্ডিং পড়ে আছে। আমাদের প্রজন্মকে হয়তো সেটা শেষ করতে হবে। ২০০৭ জুড়ে একটা স্লোগানই শুধু শুনেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।..
..মাঝে মাঝে মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ বোধহয়, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সামাজিক মুক্তির জন্য হয়নি, হয়েছে স্রেফ যুদ্ধাপরাধী আর স্বাধীনতা বিরোধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য। তা না হলে, দেশের মানুষে প্রচণ্ড অর্থনৈতিক সংকটে, দ্রব্যমূল্যের সীমা ছড়ানো উর্ধ্বগতিতে, সারের সংকটে, কৃষি, শিল্প, বিনিয়োগের সংকটে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির সঙ্গে আর একটা দাবিও কেন যুক্ত হয় না। যখন গণতন্ত্র সুদূরে তখন নিদেনপক্ষে গণতন্ত্রের দাবিও ওঠে না কেন?..
(২০০৭ : নাগরিক হিসেবে আমার অপরাধসমূহ: মাহবুব মোর্শেদ) Click This Link
আমার কাছে খটকা লেগেছে, অর্ধেক যুদ্ধ বিষয়ক তত্ত্ব এবং উপসংহারের ভাবনার যুগ্ম বৈপরীত্য। অর্ধেক যুদ্ধ ব্যাপারটা আগে ভাবতাম রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তি বিষয়ক ভাবনা, যেটা আমিও আবেগের ভিতর অনেকদিন নানাভাবে লালন করতাম, কিন্তু সেটির গন্তব্য যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ক রূপকল্পে পর্যবসিত, তা আগে বুঝতে পারিনি।
তারপর আবার আমারও প্রায়ই মাহবুব ভাইয়ের মত একই ভাবনা আসে যে, স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, নাকি স্বাধীনতা এবং মুক্তি। যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়, তাহলে অর্ধেক যুদ্ধ এখনো বাকী রয়ে গেছে, এবং যদি স্বাধীনতা এবং মুক্তি হয়, তাহলে সেটাও এখনো বাকী রয়ে গেছে, কিন্তু দুয়ের তফাত বিস্তর। এই বিস্তর তফাতটাই অতিক্রম করতে সময় লাগছে আমাদের রাজনীতিবিদ এবং রাজনীতি বিশ্লেষকদের।
তারও কিছুদিন আগে সামহোয়ার ইনেই পি মুন্সীর ব্লগে ''জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার'' শিরোনামে একটা লেখা পড়েছিলাম। এই লেখাটিও আমি খুব আগ্রহের সাথে পড়েছি। যার শুরুতে তিনি লিখেছেন:
...স্বাধীনতাযুদ্ধ, জামাত, যুদ্ধপরাধ ইত্যাদি বিষয়ে যেকোন আলোচনা প্রায় সবসময়েই আমরা প্রপাগান্ডার লড়াই হিসাবে থেকে যেতে দেখেছি, সিরিয়াস কোন আলোচনায় এর উত্তরণ ঘটেনি। রাজনৈতিক দিক অথবা সাংবিধানিক আইনী দিক - কোন দিক থেকেই পরিপক্কতা দেখিয়ে কোন আলোচনা তুলে আমরা প্রমাণ পারিনি যে ৩৮ বছর ধরে যে আবেগ প্রকাশ বা প্রপাগান্ডা করেছি এবার একে ছাড়িয়ে আমরা সাবালক জাতি হয়েছি; আমরা এখন রাষ্ট্র গঠন, এর রাজনৈতিক দল, সাংবিধানিক আইন নিয়ে কথা বলার মত বয়স্ক হয়েছি। আমাদের মধ্যে এখনও এই ধারণাই প্রবল - ও জা-আ-মাত? ওর কথা নিয়ে আর কী আলোচনা করবো!...
(জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার: পি মুন্সি) Click This Link
তাঁর এই প্রস্তাবনাটা পড়ে ভাবনা হয়েছিল, তাঁর সাবালকত্ব শিক্ষা পেয়ে হয়তো আমি শিক্ষিতভাবে আলোচনা করতে পারবো। কিন্তু পড়তে পড়তে খটকা লাগলো: কোন বিষয়ে আলোচনা করবো? পি মুন্সির কাছে আমার প্রশ্ন নয়, ধাধা। টুকে রাখি কিছু নোট, কারণ খসড়া বেশী বড় হলে অধৈর্য হয়ে পড়বেন পাঠকরা।
জামাত কোন বিষয়কে সামনে রেখে রাজনীতি করছে, অর্থাৎ জামায়াতের রাজনৈতিক এজেণ্ডাগুলো কী। ওখানে কি মুক্তিযুদ্ধ কোন পক্ষ বা বিপক্ষের বিষয় হিসেবে হাজির আছে?
যদি না থাকে, জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার মুক্তিযুদ্ধে ঐ দলটির অবস্থান দ্বারা চিহ্ণিত হবে, নাকি তার ঘোষিত রাজনৈতিক এজেণ্ডাগুলির বিচারে?
মজার ব্যাপার হলো, জামাতের রাজনৈতিক এজেণ্ডা কী সেটি জামাত বিরোধীতায় আলোচনা হয় না বললেই চলে, আলোচনা হয় মুক্তিযুদ্ধে দলটির অবস্থান, এক কথায় অতীত পাপ। এই ব্যাপারটা কেন? জামাতের অপরাজনীতি প্রতিরোধ, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ড, অতীত পাপ- এই সবই জামাতবিরোধী আলোচনার মূল কেন্দ্র। পি মুন্সিও জামাতের অতীত ইতিহাসেরই রাজনৈতিক বিচার করার চেষ্টা করেছেন, বেশ সাবালক হয়ে, তাঁর ভাষায়। যদিও তাঁর লেখার শিরোনাম ছিল জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার। আর একটা শব্দ খুবই আগ্রহের দাবীদার, অপরাজনীতি, বেশ বহুল অর্থদায়ক এবং বিপরীত ব্যাখ্যাযোগ্য শব্দ। যারা জামাতের অপরাজনীতি প্রতিরোধের কথা বলেন, তারা কোনটারে অপরাজনীতি বলে অভিহিত করেন? এইটার ডেফিনিশন কী? জামাতের অতীত পাপ, নাকি বর্তমান রাজনীতিরে তারা এই ডেফিনিশনে ফেলেন? আবার কেউ কেউ জামাতকে নিষিদ্ধের দাবীও করেন।
তো অনেকদিন আগে ফরহাদ মজহার যখন আজকের কাগজে লিখতেন (আজকের কাগজেইতো?), জামাত রাজনীতি বিষয়ে তাঁর একটা লেখা পড়েছিলাম। কোন একটা বিষয়, যেটারে আপনার পছন্দ হয় না, রাজনৈতিক কারণে, সেটিরে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে, ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিষিদ্ধের দাবী ব্যাপারটা কেমন। তার উত্তর ছিলো, সন্দেহজনক। তো জামাতকে মোকাবেলার প্রশ্ন যখন আসবে, তখন কী করতে হবে? ফরহাদ মজহারের এই সংক্রান্ত উত্তরটা বলার আগে, আমি একটা কথা যোগ করি, মোকাবেলা শুধু জামাতকে নয়, আমার নিজেকেও মোকাবেলা করতে হয়, যখন তাকে রাজনীতি দিয়ে ছাঁকতে চাই। তো ফরহাদ জামাতকে মোকাবেলা করার জন্য একটি প্রশ্ন দাঁড় করাইছিলেন। সেটি হলো, গণতন্ত্র তার অধীনে এমন কোন সিস্টেমকে গ্রো করার সুযোগ দেবে কিনা, যা গণতন্ত্রের মাধ্যমে এসটাবলিশ হয়ে গণতন্ত্রকেই খুন করার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতি করবে।
ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। জামাতের রাজনৈতিক শ্লোগান, যেটা দিয়ে সে মানুষরে তার রাজনীতির দাওয়াত দেয়, সেটি আল্লাহর আইন। কুরান তাদের সংবিধান। আর গণতন্ত্র কথা বলে মানব রচিত আইনের কথা, constitutional republic। গণতন্ত্রে মানুষই আইন তৈরী করার ক্ষমতা রাখে, আল্লাহ বা অন্য কেউ নন। দুইটি দৃষ্টিভঙ্গী সুনির্দিষ্টভাবে দুইটি বিশ্ববীক্ষার পটভূমি নির্দেশ করে এবং পরস্পরকে রাজনৈতিক এবং সিস্টেম হিশেবে গাঠনিকভাবেই মেনে নিতে অপারগ এবং অস্বীকার করে, এবং নস্যাৎ করার ঘোষণা দেয়। তাই গণতন্ত্রে আল্লাহর আইন অচল আর আল্লাহর আইনে গণতন্ত্র অচল। অথচ জামাত একটি গণতান্ত্রিক রাস্ট্রের অধীনে রাজনীতি করার অধিকার চাচ্ছে, সেটি কী করে সম্ভব?
ফরহাদের এই আলোচনায় আমি প্রথমে চমকে উঠেছিলাম সেদিন।
তাহলে কী হবে? সেইসব মানুষের, যারা সিস্টেমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়, ঘুমের ভিতর বিপ্লব নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতে জেগে উঠে, পরিবর্তনের কথা বলতে চায়, গণতন্ত্রইতো শুধু নয়, কোন তন্ত্রই তাদেরকে আইনিভাবে জায়গা দিতে প্রস্তুত নয়। কোন তন্ত্রই নিজের নস্যাৎসম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলতে, লালন করতে রাজি হবে না। তখন কী হবে? ফরহাদের এই মোকাবেলা তত্ত্বের আরো একটা ফাঁক রয়ে যায়। সেটির কথা বলছি।
এই মোকাবেলার প্রশ্নটির সাথে রাজনীতি ব্যাপারটা কী, মানুষ রাজনীতিতে কোন ধরণের আচরণ দ্বারা বৈশিষ্টায়িত হয়, অর্ডার বলতে কী বুঝি, কনফ্লিক্ট কী, এনার্কী কী জিনিশ, সেই প্রশ্নগুলিও জড়িত। মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে, অন্তত বাংলাদেশের পরিচিত অভিজ্ঞান হল, রাজনীতি মানে শত্রু-মিত্র ভেদজ্ঞান। সাধারণভাবে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক শাস্ত্রে পরিচিত আরো একটা পরিপ্রেক্ষিত আছে, সেটি হল রাজনীতি মানে মানুষের ব্যবহারিক জীবনে আন্তঃসহযোগিতা, কো-অপারেশন। এই কো-অপারেশনেরও দুইরকম পরিপ্রেক্ষিত সম্ভব। একটা হলো পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিত কো-অপারেশনের ধারণা এবং অন্যটা ইসলামিক পরিপ্রেক্ষিতে কো-অপারেশনের ধারণা। পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিতে এটি হল লস এবং প্রফিটের ভিত্তিতে আন্ত সহযোগিতা, আর ধর্মীয় পরিপ্রেক্ষিতে এটি হল নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচার।
ধর্মীয় পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষত ইসলামে, মানুষের অন্তরের সম্পর্ক হল ঈমানে, আর রাজনীতির ক্ষেত্রে উপকরণ হল ডিপ্লোমেসি, কিন্তু ওয়েস্টার্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়, তাদের মানসিক সম্পৃক্ততা হল ডিপ্লোমেসির সাথে, এবং এই ডিপ্লোমেসির গতি প্রকৃতি অভিমুখ নির্ধারিত হয় সেলফ ইন্টারেস্ট দিয়ে, আর টুলস হিশেবে ব্যবহার করে ধর্মকে। এইগুলির সর্বসাম্প্রতিক উদাহরণ হল আমেরিকান পররাষ্ট্র দফতরের মুসলিম ওয়ার্লড আউটরিচ প্রজেক্ট, রেন্ড কর্পোরেশনের (ডিক চেনি, ডোনাল্ড রামসফেল্ড, কণ্ডোলিৎজা রাইজ এর মেম্বার) সিভিল এন্ড ডেমোক্রেটিক ইসলাম: পার্টনারস, রিসোর্সেস, স্ট্রাটেজিস শীর্ষক দলিল।
রাজনীতি বিজ্ঞানী, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক, পর্যবেক্ষক, একটিভিস্ট সবাই এ বিষয়ে একমত যে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা প্রকৃতই নৈরাজ্য ধারণ করছে, আলটিমেটলি এমন কোন গাইডিং প্রিন্সিপল নেই, যেটি একটি প্রকৃত অর্ডার ক্রিয়েট করতে পারে। এই গাইডিং প্রিন্সিপলটি দ্বারা আমরা কোনক্রমেই মানুষের অন্তর্গত ফিতরতের সাথে সাংঘর্ষিক সমন্বয়ধর্মী ইজমগুলোকে বুঝাচ্ছি না, যা থেকে নরমেটিভ থিওরিগুলোর উদ্ভব। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, নরমেটিভ থিওরিগুলো মানুষের রাজনৈতিক আচরণ এবং অভীপ্সা বিশ্লেষণ করতে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ। আমাদের ধারণায় কনফ্লিক্ট মাইক্রো, কিন্তু প্রচলিত বিশ্লেষণে কনফ্লিক্ট মেক্রো হিশেবে পূর্বনির্ধারিত। তাই মানুষের ফিতরতের মধ্যে যে মাইক্রো কনফ্লিকট বিদ্যমান, সেইটার সমাধান হতে হবে প্রথমে, তারপরে অন্যান্য প্রপঞ্চের বিচার।
অতএব, এই সিস্টেমেটিক আলোচনা দলা মুচড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম, এটি শুধু তাদের জন্যই, যারা গণতণ্ত্রকে গড হিশেবে দেখে, পরিবর্তনের অন্য সব সম্ভাবনাকে ভুলে গিয়ে।
তাহলে জামাতকে মোকাবেলা, মানে বিচার এবং পর্যালোচনার আর কোন কোন পথ বাকী আছে? আরো চারটি পদ্ধতি আছে বলে আমার মনে হয়।
এক. জামাতের ঘোষিত রাজনৈতিক এজেণ্ডার বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান, সেই জায়গা থেকে।
দুই. জামাতের ঘোষিত রাজনৈতিক এজেণ্ডাকে যারা সমর্থন করেন, কিন্তু মনে করেন যে, জামাত ঘোষণা অনুযায়ী কাজ করছে না, সেই জায়গা থেকে।
তিন. জামাতের ঘোষিত রাজনৈতিক এজেণ্ডাকে যারা সমর্থন করেন না, কারণ ইসলামে রাস্ট্রের ধারণার জামাতীয় এজেণ্ডাকে তারা ইসলাম অনুযায়ী সঠিক মনে করেন না, সেই অবস্থান থেকে।
চার. জামাতের ঘোষিত রাজনৈতিক এজেণ্ডাকে যারা সমর্থন করেন এবং করেন বলেই জামাত করেন, সেই জায়গা থেকে।
(লেখাটারে আরো সম্পাদনা করা সম্ভব, আপাতত দিয়ে দিলাম)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জামাত রাজনীতি ;
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রিফাত হাসান বলেছেন:
উম্মু আব্দুল্লাহর কথার উত্তরে: দ্বিমতের জায়গাগুলি আলোচনা জরুরী।
সুপ্ত সবুজ বলেছেন:
অত্যন্ত সুন্দর লেখা। জ্ঞানগর্ভ আলোচনা। কন্টিনিউ হবে আশা করি। সকালে আবার পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ।
রিফাত হাসান বলেছেন:
ধন্যবাদ।
প্রেমাস্পদ বেস্ট বলেছেন:
সত্যি চিন্তা উদ্রেককর লেখা। ভাল লেখা । একদম আবেগ বর্জিত যুক্তিনির্ভর লেখা। ভাল লেগেছে। নিবদ্ধের ভাষা , প্রবাহ বক্তব্য সবকিছু মিলিয়ে ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
রাজনীতি জিনিষটাই কঠিন, তারমধ্যে যখন আমাদের দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা...... কঠিন থেকে সরাসরি জটটটিল! ......... উম্মু আব্দুল্লাহ আপুর দ্বিমতের ব্যাপারগুলো জানতে ইচ্ছা করছে।
লেখক বলেছেন: কঠিন ব্যাপারটা বুঝতে পারা খুব জরুরী মনে করি। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনেকদিনন পর। উম্মু আব্দুল্লাহর দ্বিমতগুলো জানা দরকার বলে আমিও মনে করি খুব।
অপ বাক বলেছেন:
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রয়োজনীয়তার সাথে জামায়াতের রাজনীতি সংযুক্ত করবার প্রবনতা রাজনৈতিক ভাবে আপাতত সফল একটা প্রক্রিয়া।মানুষের ভেতরে এই ঘৃনা প্রবল, তবে আমার নিজের ধারণা অন্তত রাজনৈতিক ভাবে জামায়াতকে প্রতিহত করা প্রয়োজন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটা অরাজনৈতিক মানবিক একটা আবেদনের জায়গা, তবে ক্ষমতা চর্চার কারণে কে মানুষের কোন আবেগ এবং কোন মূল্যবোধ নিয়ে নাড়াচাড়া করবে গণতন্ত্র এ বিষয়ে কোনো শোভন অবস্থান জানায় নি।
যদি মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো মানবিক দাবি নিয়ে ক্ষমতার রাজনীতির চর্চা করে তবে জামায়াত আল্লাহর নাম আর রসুলের জোব্বা বেচে রাজনীতি করতেই পারে।
সর্বসম্মতিক্রমে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন , একটা নীতিমালা তৈরি করে দেওয়া প্রয়োজন গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মসনদ দখলের প্রক্রিয়াতে কোন কোনো মানবীয় আবেগ নিয়ে খেলাটা অবৈধ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। অনেকটাই একমত আপনার সাথে।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
দেখলাম। পরে পড়বো এবং আলোচনাও হবে।
লেখক বলেছেন: মাহবুব ভাই, খুবই খুশি হলাম পড়বেন জেনে। আগ্রহ বোধ করছি আপনার আলোচনা পড়ার, সেটি বেশ গুরুত্ত্বপূর্ণই হবে বলে মনে করছি এই আলোচনাটারে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে। অনেক ধন্যবাদ।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
খাইছেরে... ভাইজান আপনে তো দেখি এক্কেরে দরিয়া সেচার কাম লইছেন!অনেকগুলা বিষয় একসাথে তুলছেন, আলোচনা আগাইলে সহ/দ্বি/ভিন্নমত পোষন করার তৌফিক নিশ্চয় এনায়েত হবে।
আমি নিজে যে বিষয়টা নিয়া বেশি আগ্রহী সেইটা হইলো, আপনার আতকে ওঠা এবং তৎসংশ্লিষ্ট জটিলতায় প্রবেশে। কারণ এই বিষয়টা নিয়া আমারও একটা সময় দ্বিধা ছিল।
জামাত বা যেকোনো রাজনৈতিক দলই এক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে। যেমন জর্মানিতে প্রায় একই রকম একটা প্রেক্ষিতে বিতর্কটা উঠছিলো।
প্রসঙ্গ ছিল নাজি পার্টিকে প্রচলিত ব্যস্থায় ভোটে শরিক হয়ে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যায় কিনা যারা আবার ঠিই ওই রাজনৈতিক ব্যবস্থারই বিলোপ সাধন করতে চায়।
বাহাসের সারমর্ম হলো যে কোন ''আইনী প্রক্রিয়ায়'' অংশগ্রহনের ''বৈধতা'' কিভাবে ঠিক করা হবে?
এই সওয়াল ধরে সামনে আগানো যাইতে পারে...
লেখক বলেছেন: আপনার দ্বিধা কাটলো কেমনে কইলেন না। একসময় ছিলো মানে এখন নাই। কথাটা শুনবার চাই। আর হাঁ, যে কোন আইনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বৈধতা কিভাবে ঠিক করা হবে- ভাল বলেছেন। তো আপনার মতামত কী?
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
একটু আগে ব্লগ ঘুরতে গিয়ে দেখি আপনার লেখার পালটি লেখা! ...... রাসেল না কে যেনো কী লিখেছে। দেখেছেন?
লেখক বলেছেন: পাল্টা লেখা কিনা জানি না, দেখেছি, ওখানে আমার কমেন্ট আছে।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
দ্বিধাটা ছিলো উগ্রজাতীয়তাদ, ফ্যসিবাদ যেভাবে রাজনৈতিক-দার্শনিক মোকাবেলায় না গিয়া সমাজের কোন চিন্তা বা তৎপরতাকে কন্ঠরোধ কইরা দিতে চায় তার কাছ থেকে নিজের দূরত্ব বজায় রাখা নিয়া। ধরাযাক আলোচ্য বিষয়ে, যথা জামাত রাজনীতি এবং জামাত গৃহীত কৌশল নিয়া নিজের ভিন্ন অবস্থানকে তফাতে রাখা যায় কিভাবে, সেটাই মূল দ্বিধার কারণ। খেয়াল করেন, তাঁদের রাজনীতি ও কৌশল বলে দু্টা জিনিসকে আমি আলাদা করতেছি, তাইনা। এবিষয়ে পরে আসবো। কারণ, এটাই তর্কের মূল জায়গা।
তো আমার দ্বিধা কাটলো নিজের কাছে এই জায়গাটা পরিচ্ছন্ন করতে পারার তৌফিক হাসেল করার মাধ্যমে। কারণ আমি পরিষ্কার তাদের সুবিধাবাদীতার বিরুদ্ধে আবস্থান নিতে পারি।ঠিকাছে?
মূল আলোচনায় আগানোর আগে এই নোক্তাটা কাজে লাগবে বরে মনে হয়। আপনার কি মত?
লেখক বলেছেন: দ্বিধাটা পরিস্কার, আমারও কথা সেখানেই। আর জামাতের সুবিধাবাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান। হাঁ, মূল আলোচনায় যাবার আগে এই নোক্তাটা কাজে লাগবে, আপনি আগান।
এর কারন ৭১ এর ব্যপারে জামাতীদের আচার আচরন এখনও স্বচ্ছ নয়। তাদের কথাবার্তা খুব সন্দেহ উদ্রেককারী এবং আপত্তিজনক। ব্লগীয় অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত দলীল ভিত্তিক ছবিকে ফেক ছবি পর্যন্ত বলে দাবী করা হয়েছে। এরকম মানসিকতা থাকলে তার প্রতিবাদ সবার আগে উঠবে সেটাই স্বাভাবিক।
এখনকার রাজনীতিতে জামাতের রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বেশী আলোচনা না হওয়ার কারন জামাত এখনো সাধারন মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হতে পারে নি। বাংলাদেশের রাজনীতি মানুষকে ঘিরে, আদর্শকে ঘিরে নয়। জামাতীরা যদি সাধারন মানুষের সুখ দুঃখের প্রতি উদাসীন হয়, তবে সাধারন মানুষও তাদের দিকে প্রসন্ন হবে না। সাধারন মানুষের বিশ্বাস হীনতাই জামাতের রাজনৈতিক এজেন্ডার ব্যাপারে মানুষের অনাগ্রহী হবার বড় কারন।
লেখক বলেছেন: আপনি বলেছিলেন, ''অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি একমত হলাম না''।
কিন্তু এখানে কোন বড় রকমের অমতের আভাস পেলাম না। আপনি যেমনটি বলেছেন সেটি জামাতের রাজনৈতিক অপরিপক্কতার দিক এবং এই অসচ্ছতার ব্যাপারটা আমিও মনে করি সত্য; কিন্তু আপনার মত আমি মনে করতে অক্ষম যে, এটিই জামাতের রাজনৈতিক এজেণ্ডার বিরুদ্ধে কথা না বলে অতীত পাপের বিরুদ্ধে কথা বলে ৩৮ বছর ধরে সেটিরে কোন পরিণতি না দিয়ে বরং চিরদিন কথা বলতে পারার মতো জিইয়ে রেখে তার ফায়দা লুটা এবং ফ্যাসিবাদী কায়দায় জামাত নিষিদ্ধ করার দাবীর পেছনের কারণ।
যুদ্ধাপরাধী রাজনীতির যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের দাবী আবেগ বা অনাবেগদের এত সরল দৃষ্টিতে বুঝা যদি সম্ভব হতো, তাহলে হয়তো আপনার মতো খুশি হতে পারতাম। কিন্তু তারা যে এই ইস্যুটির পরিণতি চান নি ৩৮ বছর ধরে, বরং সেটিরে জিইয়ে রেখে তার ফায়দা লুটেছেন বিভিন্ন সময়ে, কখনো ভোটব্যাংক ভরা, কখনো অন্য কোন গণদাবীকে ধামাচাপা দেওয়া, সেটি বাস্তবের চেয়েও সত্য; কারণ এমনকি এই সেক্টর কমাণ্ডারগুলাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসনামলে বিভিন্নভাবে ক্ষমতায় ছিলেন- কেউ স্বৈরাচারের পা চেটেছেন, কেউ আওয়ামীলীগের এমপি হয়েছেন- তখন কারো এ বিষয়ে রা-তো ছিলই না, জামাতের সাথে কখনো কখনো বরং আঁতাত করেছেন, আমার যদ্দুর স্মৃতি কাজ দেয়।
আর ৩৮ বছর পর হঠাৎ করেই এই ইস্যুটির পূনর্জাগরণ, যখন গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং বেঁচে থাকার অধিকারসহ আরো অনেকগুলো অধিকারের ব্যাপারে কথা বলার সময়, তাতো আমাদের খটকা লাগবেই।
এই অনাগ্রহের আরো গূঢ় কারণ রয়েছে বলে আমি মনে করি, ক্রমশই এখানে সে বিষয়গুলো আলাপে উঠে আসবে বলে আমার ধারণা। আপনিও কথা বলতে পারেন।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
ফারজানা মাহবুবার মন্তব্য প্রসঙ্গে আপনার পালটা মন্তব্য ভালো লাগলো। রিফাত হাসানের পোষ্ট পড়ে, তার ভাষার ব্যবহার আর বাক্যরীতি আলোচনা করতে উৎসাহী করে না, একটা দুরত্ব তৈরি করে, এমন একটা অংশ লিখেছি আমি।সবগুলো লেখা পড়ি নি আমি, তবে যেটুকু পড়েছি তাতে আমার ধারণা আপনি বামপন্থী ভাবধারার মানুষ। এই দ্বান্দ্বিক বিশ্লেষণ রীতি এবং প্রশ্নকে পালটা প্রশ্ন দিয়ে মোকাবেলা করবার তরিকা পাঠক হিসেবে আমাকে সংশয়ী করে সময় সময়।
এবং এর সাথে অপরিচিত ভাষার ব্যবহার- ভাষাটা বাংলা তবে এর উপস্থাপন রীতিটা আমাকে বাড়তি কিছু বলতে আগ্রহী করে না মোটেও। এটা আমার অবস্থানের জায়গা, মুক্তিযুদ্ধ একটা ঐতিহাসিক ঘটনা, এটার সাথে একাত্মতা বোধ করা, এটাকে আবেগের জায়গা থেকে দেখা এক ধরণের অবস্থান।
মুক্তিযুদ্ধ আদৌ প্রাসঙ্গিক কোনো গণআন্দোলন হয়ে উঠতে পারতো কি না, আমাদের আসলেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনায় গিয়ে এটার উপযুক্ততা বিচার করা প্রয়োজন কি না এইসব তত্ত্বীয় আলোচনার জায়গা কিংবা অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের আবেগ ধারণ করার অবস্থান থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন। ভাববাদী অবস্থান আর বস্তুবাদী অবস্থানের ভেতরে একটা দুরত্ব থাকেই সব সময়।
লেখার বিষয়ে দ্বিমত নেই তবে এটাকে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে ফেলবার মানসিকতাটিকে পছন্দ হয় না। একজন মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছিত হলো, আপনার ভাষ্যমতে সম্ভবত একজন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা উপস্থাপন রীতিতে একটা সংশয়ের ছাপ আছে যে উল্লেখিত ব্যক্তিটি হয়তো একটা সাজানো নাটকের চরিত্র- সেখানে জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলো এবং যারা গর্বিত বোধ করেছে তাদের অনুষ্ঠানের মূল সুর ট্রানজিট দেওয়ার বিরোধিতা-
আপনার বক্তব্য এখানে এসে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে প্রবেশ করে, ভারতীয় দালাল এবং র এর এজেন্ট কথাগুলো প্রকাশ্য না হলেও অনুযোগটা আপনি করেই ফেলেন-
" এর রহস্যটা কী? ট্রানজিট বিষয়ক বক্তব্যটারে ধামাচাপা দেয়ায় কারা লাভবান হতে পারে? এরা কারা? আমি খুব ভেবেছি ব্যাপারটা, তারপর মনে করতে পারলাম যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী, ভারতীয় জেনারেলের বাংলাদেশ সফর, বাংলাদেশী জেনারেলের ভারত গমন, এবং পিনাক চক্রবর্তীর ট্রানজিট অভিযান শুধু সমসাময়িকই নয়, গূঢ় তত্ত্ব দেয়। আমি এইটা ভেবে আঁতকে উঠি এই কারণে যে, বন্ধু রাস্ট্র বিষয়ক তত্ত্ব এবং অর্থনীতির নগদ কাচকলা খাইয়ে আমাদের কিছু অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিশারদ ও বিদের কথায়, আচরণে এবং আন্দোলনে এটার চরম দরকারী রাজনীতির জায়গাটা, যেখানে দেশের জরুরী জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত, সেটিরে অমূল্যবান প্রতিয়মান করার প্রচেষ্টা নিহিত, উপরন্তু এই বিষয়টারে ভুলিয়ে দিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে মানুষের মনোযোগ কনসেন্ট্রেশনের চেষ্টা।"
অর্থ্যাৎ ট্রানজিট প্রশ্নে কতিপয় দৈনিক দেশের মানুষকে অন্ধকারে রাখবার জন্য এই কল্পিত মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছনার ঘটনাটি সাজিয়েছে। আপনার উপস্থাপন ভঙ্গি এমনটাই ভাবতে অনুপ্রাণিত করে আমাকে।
এই আলোচনা অনুষ্ঠানে ভারতের ট্রানজিট না দেওয়া বিষয়ক দাবি উত্থাপিত হবে এই গুঢ় তথ্যটি পূর্বেই কেউ একুশে টেলিভিশনকে জানিয়েছিলো, তাই তারা একজন নিরীহ মধ্যবয়সী মানুষকে নাটকের মূল চরিত্র বানিয়ে এখানে উপস্থিত করে এবং প্রথম আলো আর সমকাল এটাকে প্রধান ইস্যু করে খবর প্রচার করে।
এরপরে জামায়াতের রাজনীতির বিচারের প্রশ্ন চলে আসে- জামায়াতের রাজনীতি বিচার করতে গিয়ে ১৯৭১ এ এর ভুমিকাকে প্রশ্ন করা যায় কি যায় না, এই দ্বৈরথের এই ঘটনায় কোনো উপস্থিতি ছিলো না, তবে পোষ্টের শিরোণামটাই এখানে এটার উপস্থিতি জরুরী করেছে।
জামায়াতকে রাজনৈতিক ভাবে বিরোধিতার কতগুলো অস্ত্র আছে বর্তমানের বাংলাদেশে? জামায়াতের সর্বাত্মক প্রচারণা যা জামায়াতের কামরুজ্জাম বলেছেন- জামায়াতকে অপমান করা মানে ইসলামকে অপমান করা- এবং মোল্লা সংস্কৃতির প্রতি বাংলাদেশের সরকারের জুজুর ভয়- ইসলাম এবং রাজনীতি এবং এই সংক্রান্ত যত ডিলেমা আর ষড়যন্ত্রতত্ব আর আবেগ- রাজনৈতিক ভাবে জামায়াতকে মোকাবেলা করবার জন্য সামান্য কিছু সুযোগ রেখেছে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে।
এরপরও অনেক আবেগীয় এবং নাটকীয় ঘটনার সম্মিলন ঘটিয়ে এই পন্থায় তাদের বিরোধিতা করা যায়, কিছু আলেম এই প্রথায় জামায়াতের বিরোধিতা করছেন, দুপক্ষে জমে গেছে- এই দল অন্য দলকে ইসলাম বিরোধী বলছে এবং উভয় পক্ষই ইসলামের স্বামী হয়ে বিদ্যমান।
যাই হোক এই কথাগুলো আলোচনা করবার আগ্রহ তৈরি হয় না। একাডেমিক আলোচনার জায়গাটাতে প্রতিটা বিষয় আলাদা করে বিচার করতে হয়, যখন অনেকগুলো বিষয় একসাথে খিচুড়ি করে উপস্থাপিত হয় তখন সেটার একাডেমিক স্টাডিজের পেছনে একটা আলাদা মডেলের উপস্থিতি অনুভুত হয়, সেই অনুভবটা আমাকে নিরস্ত করে এখানে আলোচনায় উপস্থিত হতে।
একজন পাঠক হিসেবে এই অনুভুতি তৈরি হওয়ার কথাটা নিজের লেখায় জানানো কোনো ভাবেই এই লেখার বিরোধিতা নয়।
লেখক বলেছেন: রাসেল নামটার পর কয়েকটি ব্রেকেটবন্দী পেরিয়ড আছে, আপনার পরিচয় এই পেরিয়ডের মধ্যে বন্দী আপাতত, রাইসু বিষয়ক কোন একটা লেখার লিঙ্ক ধরে কোন একটা সময়ে আপনার ব্লগে গিয়েছিলাম, অসম্ভব হিউমার সমৃদ্ধ ছিল সেই লেখাটি, যদিও পুরা লেখাটা সেই সময় পড়া হয়নি। পরে আবার আক্ষেপ এর কারণে যাওয়া। এটি ভণিতাপর্ব মানে পরিচয় পর্ব।
স্মৃতি এবং স্মৃতিকথা যাদের আছে, তারা স্মৃতিকাতর এবং আবেগান্বিত হবেনই- আমি আবেগের জায়গা থেকে এই আলোচনা করতে চাইনি। এর দুইটা কারণ, এক. আমার কোন স্মৃতি বা স্মৃতিকথা নেই, দুই. স্মৃতি এবং স্মৃতিকথাশাস্ত্র প্রচুর হয়েছে, তার বাইরে নির্মোহ আলোচনাটা করা খুবই জরুরী মনে করেছি।
আপনি বলেছেন, ''মুক্তিযুদ্ধ একটা ঐতিহাসিক ঘটনা, এটার সাথে একাত্মতা বোধ করা, এটাকে আবেগের জায়গা থেকে দেখা এক ধরণের অবস্থান।'' কিন্তু আমার মনে হয়েছে, যখন বিচার করতে বসবেন, তখন এই পদ্ধতিটাই বিচারের বিচ্যুতি ঘটায়, বিচার ব্যাপারটাই প্রথমে আবেগকে নস্যাৎ করে, আবেগ দ্বারা স্মৃতি এবং স্মৃতিকথা হয়। আপনি ভাববাদী অবস্থান আর বস্তুবাদী অবস্থান বলে যেটিরে চিহ্ণত করতে চাইছেন, সেটি এখানে খাটছে না।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বটা আপনার পছন্দ হয়নি, কিন্তু তার কারণটা খুলে বললেন না। মুক্তিযোদ্ধা, যিনি নিগৃহিত হয়েছেন, তার আচরণের দ্বিধা, দ্বন্দ এইসব আমার সন্দেহের নির্ধারণী কারণ একটুও নয়, কারণ মুক্তিযোদ্ধাটি এই ভিতরের রাজনীতিটি না জেনে নিজের অজান্তেই ব্যবহৃত হয়েছেন এবং পরে ফলাফল দেখে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন বলে আমার ধারণা। মূল কারণ ছিল পরে যেইসব কথা বলেছি তা এবং একটু আগে উম্মু আব্দুল্লাহর কমেন্টের উত্তরে যা বলেছি।
আর, ১৯৭১ সালে জামাতের অবস্থানকে প্রশ্ন করা যায় কিনা, আমি সম্ভবত, যায় না- এ কথাটি বলিনি। বলেছি, জামাতের রাজনীতি বিচার করতে গিয়ে, ১৯৭১ সালে দলটির অবস্থানকে প্রশ্ন করা যায় কিনা- যেখানে তার রাজনৈতিক এজেণ্ডা সম্পূর্ণ ভীন্ন। জামাতের রাজনৈতিক এজেণ্ডাটিরে পাশ কাটিয়ে শুধু একাত্তরে দলটির অবস্থান চিহ্ণিত করে জামাতের বিচার করার যে প্রবণতা তার মধ্যে অপরিপক্কতা এবং একই সাথে আরো গূঢ় তত্ত্ব জড়িত থাকা সম্ভব।
প্রথমত এর মাধ্যমে হয়তো জামাতের রাজনৈতিক এজেণ্ডাকে প্রশ্ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্নকারীদের সংশয় অথবা এর ফলাফল সম্পর্কে ভীতি কাজ করছে। জামাত আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে চায়- এই শ্লোগান দেয়, প্রশ্নকারীরা এই এজেণ্ডাটিরে প্রশ্ন করতে দার্শনিকভাবে অথবা নৈতিকভাবে অপারগ, তাই দলটির অতীত অবস্থানরেই তার রাজনীতি বিচারের মাপকাঠি হিশেবে পপুলারলি প্রপাগাণ্ডা চালায়। তো এই জায়গায় আরো যে সমস্যাগুলি রয়েছে তা হল, অতীত পাপ বিবেচনায় বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলরে আপনি সিদ্ধ করতে পারবেন না, না আওয়ামী লীগ, না বি এনপি, আর জাতীয় পার্টি তো নয়ই। ৭১ পরবতী হোক বা তার আগের হোক, অতীত ইতিহাস কারুরই সুখকর নয়, বরং ৭১ এ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বললে কমরেড আব্দুল হকের কমিউন্স্টি পার্টিরেও আপনি এই দেশে জায়গা দিতে পারবেন না। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা মানে বিরোধীতা, সেটি ইসলাম পন্থিরা করুক আর বাম হস্তের লোকেরা করুক।
আরো একটা সমস্যার কথা বলে রাখি, দেশের মানুষের বিরাট অংশের মধ্যে রাজাকার বলে একটা ক্যাটাগরি অনন্ত কাল জারি রাখার যে ঘটনাটা তা বেশ ভাবায় এই কারণে যে, অনন্তকাল এই সমস্যা মিটবার কোন সম্ভাবনা থাকে না, বরং দেশের একটা বিশাল জনসংখ্যা রাজাকার উপাধি পেয়ে অন্য হয়ে যায়, এবং মৌলিক জরুরী ইস্যু বাদ দিয়ে কেবল প্রপাগাণ্ডা আর বিভেদ-এর রাজনীতির কারণে পৃথক বিষয়ে আন্দোলন বা সময় ক্ষেপন করে। সেটি আপাত দৃষ্টিতে নিস্পাপ আবেগের বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও বা মাইক্রো পর্যায়ে প্রকৃতই যদি তা হয়ও, তার মেক্রো পর্যায়ের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য এবং এর ফলাফলটা এমন নিস্পাপ হবে তা মনে করি না কোনভাবেই। এই মনে না করাটারে আপনি অপছন্দ করতে পারেন, কিন্তু আমি তাই মনে করি।
আর এর পরের ব্যাপারটা নিয়ে আরো পরে, বা আগামীকাল কথা বলবো।
লেখক বলেছেন: গতকালকে রাত গভীর হওয়ায় ঘুমুতে যেতে হয়েছিল, তবে আপনার প্রশ্নটা মনে আছে খুব: ''জামায়াতকে রাজনৈতিক ভাবে বিরোধিতার কতগুলো অস্ত্র আছে বর্তমানের বাংলাদেশে?''..
আমি এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একটু ভাবার ফুরসত চাই, শব্দটা যদি ''বিরোধীতার অস্ত্র'' হয়ে থাকে; কিন্তু যদি মোকাবেলা হয়ে থাকে, সেইটা নির্দ্বিধায় পদ্ধতিগত প্রশ্ন, এই প্রশ্নে কোন বিরোধীতার অস্ত্র বিষয়ক ঝামেলার সমাধান নেই, বরং প্রশ্নটিরেই আবার গুরুতরভাবে প্রশ্ন করতে বলে। তাই ''জামাত বিরোধীতার কতগুলো অস্ত্র'' বিষয়ক সমস্যার সমাধান মনে হয় এই পোস্টে পাওয়া অসম্ভব।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
প্রশ্নটা কখনই আমার পছন্দ কিংবা অপছন্দের মাপকাঠিতে যাচিত হওয়ার না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে রাজনীতি একটা ইস্যু- এটা জামায়াত বিরোধিতার একটা অস্ত্র-তবে সংশয়ের জায়গাটা এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রাজনীতিতে কারা কোন স্বার্থে জড়িত এটার বিশ্লেষণের যায় নি।
জামায়াতের রাজনীতি করবার বৈধতা- অবৈধতা এবং এই নিয়ে রাজনৈতিক একটা অবস্থান তৈরির জায়গাটা আলাদা একটা ইস্যু।
ভনিতা বা সূচনায় এমন একটা অনুভব তৈরি হয় যে মুক্তিযোদ্ধা ব্যবহৃত হচ্ছেন তার আবেগের জায়গা থেকে, সেই আবেগের জায়গাটা বস্তুবাদী নয়। তবে এই ভাববাদী জায়গাটার একটা বস্তুবাদী উপকারিতা থাকে। যেটাকে পণ্য করা যায়।
সেখানে এই মুক্তিযোদ্ধার লাঞ্ছনার সাথে সেই সম্মেলনে জামায়াতী ভাবধারার মানুষের ট্রানজিট ইস্যুতে বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থান উগ্রজাতীয়তাবাদীতার জায়গা।
সেটাও এক ধরনের জুজুবুড়ী, ইসলাম বিপন্নতার জুজুবুড়ী, ভারতীয় আগ্রাসনের জুজুবুড়ী, দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের স্ব্গরাজ্য জুজুবুড়ী, আমাদের ফেনোমেনোন এর জগত থেকে ফ্যান্টম আর ফোবিয়ার জগত আপন।
আপনার উল্লেখিত ভারতীয় জুজুর ভয়, জামায়াতের রাজনীতি করবার অধিকার এবং অধিকারহীনতার চর্চা, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং হাবিজাবি আক্রান্ত হয়ে যাওয়া, এবং একই সাথে যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক নিরাবেগ- এইসব সম্মিলন সংশয়ী করে।
এইসব প্রতিটা ইস্যু যেই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হতে পারে সেটা ফরহাদ মাজহারীয় ইসলামী গণজাগরণ শ্রেণী বিপ্লবের ধারনার জায়গা হতে পারে। ইসলামী জঙ্গীরাই বর্তমানের প্রলেতারিয়েত বলে হাগু আর বার্লি মিশিয়ে ফেলা তাত্ত্বিক অবস্থান আমার পছন্দ না।
প্রতিটা মেশানোর একটা সময় আছে, একটা পরিসর আছে, ২০০০ শব্দের পরিসরে একত্রে মিশিয়ে ঘুঁটা দিলে এইসব ইস্যুর প্রতি যথার্থ মনোযোগ দেওয়া যায় না।
লেখক বলেছেন: রাসেল, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আলোচনাটারে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার কারণে, কেন না আপনি আলোচনা না চালিয়ে আর একটা পোস্ট দিয়ে ভাববাদী চর্চা করতে পারতেন, তা না করে আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটিরে আমার পছন্দ হইছে। এইটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার বলেই আমার মনে হয় যে, এইরকম আলোচনা কনটিনিউ হচ্ছে এইটা।
তো এই ব্যাপারটার সাথে আপনার দুইটা কথাও আমার বেশ পছন্দ হইছে। এক হলো, ''ভাববাদী জায়গাটার একটা বস্তুবাদী উপকারিতা থাকে। যেটাকে পণ্য করা যায়।'' আমারো প্রশ্নটা ছিল এই পণ্য করাটা নিয়ে, ভাববাদ বিষয়ক কোন জটিলতা আমার আলোচনায় আপনি পাবেন না। আর দ্বিতীয় হলো ''আমাদের ফেনোমেনোন এর জগত থেকে ফ্যান্টম আর ফোবিয়ার জগত আপন।'' কথাটা সত্য, ফ্যান্টম আর ফোবিয়ার জগত থেকে বেরুনো দরকার বলেই আমি মনে করি, বিশেষত যখন রাজনৈতিক বিচারের প্রশ্ন আসে। তাই আপনার কথিত ভাববাদরে আমি আপাতত একপাশে রাখতে চাই, আমাদের আলোচনায় অইটার দরকার নেই, অনুপ্রবেশ করলে বরং অইটারে চিহ্ণিত করা খুব বেশী জরুরী, নির্মোহ আলোচনার জন্য।
তো সমস্যা হল আপনার জুজুবুড়ি বিষয়ক ধারণায়। কোনটা ফেক্ট আর কোনটা ফোবিয়া সেইটা নির্ধারণ করার মাপকাঠি নিশ্চয়ই আছে, অন এভারেজ সবকিছুরেই জুজুবুড়ি বলাটা ক্ষতিকর শুধু নয়, আতঙ্ককর। তো আপনার আলোচনায় আগ্রহী মনটারে আমার পছন্দ, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিটারে আমি অপছন্দ নয়, অসমর্থন করি।
সর্বশেষে আপনি যা বলেছেন ফরহাদ মজহার, তার প্রলেতারিয়েট ধারণা এবং শ্রেণী বিপ্লব ইত্যকার বিষয়ে, সেটির উত্তর ফরহাদ দিতে পারবেন হয়ত, আমি সম্ভবত এই ব্যাপারটিরে এখানে আলোচনায় আনি নাই। স্রেফ পদ্ধতিগত আলোচনা, বিপ্লব ইত্যকার বিষয়ে যদি কখনো অন্য পোস্ট দিই, অথবা আপনি দেন, আমি আলোচনায় যাব। অপ্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে বলে এইটারে এখানে আমি আলোচনায় আনতে ইচ্ছুক নই।
আপনি আরো একটা কথা বলেছেন ''জামায়াতের রাজনীতি করবার বৈধতা- অবৈধতা এবং এই নিয়ে রাজনৈতিক একটা অবস্থান তৈরির জায়গাটা আলাদা একটা ইস্যু।'' আমিও তা মনে করি বলেই, ব্যপারটারে আলাদাভাবেই আলোচনা করার প্রস্তাব দেই, আপনার দ্বিমতটা তাহলে কোন জায়গায়?
আপনার আগের মন্তব্যের কিছু অংশের আলোচনা গতকাল শেষ হয় নাই, আজকে ওখানে আরো কিছু এ্যাড করার ইচ্ছে আছে। ভাল থাকবেন।
তারা ফায়দা লুটছে - এটা সত্য। কিন্তু মানুষের সমর্থন না থাকলে এই ফায়দা লুটতে পারতো না। ফায়দা যারা লুটে তাদের উপর আমি বিরক্ত কিন্তু তার মানে এই নয় যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন অজনপ্রিয় দাবী। সেই গন আদালত কিংবা ঘাতক দালাল বইয়ের জনপ্রিয়তা - সবই বলে দেয় আজকের দিনেও এই ইস্যু মানুষের কাছে কত গুরুত্বপূর্ন।
ফ্যসিবাদী কায়দায় জামাত নিষিদ্ধের এজেন্ডা তাদের থাকতে পারে, তবে তার সাথে আমি একমত নই। দল মত নির্বিশেষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার গ্রহন যোগ্য।
আসলে আমি অনেক পয়েন্টের সাথে ভিন্ন মত পোষন করলেও আলোচনার গভীরে যাই নি। একটাই কারন। ব্লগে এক নাগাড়ে বেশীক্ষন থাকা হয় না।
লেখক বলেছেন: উম্মু আবদুল্লাহ, আপনার ধৈর্য্য ভালো, কিন্তু আপনার চিন্তার পদ্ধতি কিছুটা অপরিস্কার আমার কাছে, প্রথমটারে পছন্দ করতে পারলেও দ্বিতীয়টার কারণ অনুসন্ধান জরুরী। যেখানে ফায়দা লুটার সম্পর্ক সেখানে জনপ্রিয়তাটা (পপুলারিটি) তার গুরুত্বপূর্ণতা নির্দেশ করে না। আমি এইরকম ভাবি। ধন্যবাদ, ব্লগে এক নাগাড়ে বেশীক্ষণ থাকেন না, তারপরেও কষ্ট করে মন্তব্য করে যাচ্ছেন এই জন্য।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অন্য যেকোনো অনুসিদ্ধান্তের মতো একটা বিষয়। কিছু একটা ধরে নিয়ে শুরু করতে হবে তাই শুরু করা।আলোচনাটা যদি যুদ্ধাপরাধী বিচারের রাজনীতি নিয়া না বরং এইটা জামায়াতের গঠিত মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের আলোচনার সংবাদমাধ্যমীয় উপস্থাপনের একটা প্রতিক্রিয়া তাই শুরুতেই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এই আলোচনায় একটা অচেনা সংশয় তৈরি করছে।
প্রশ্নটার সূচনা আমি করতে পারি, তবে এখানে সবার অংশগ্রহনের যে প্রয়োজনীয়তা- সেটা ভাষাব্যবহারের কারণে এবং এখানের লেখকদের বাস্তব অনীহার কারণে খুব বেশী আগাবে না।
যেখান থেকে এই লেখার শেকড়ের জল আসছে সেই জায়গাটা নিয়ে প্রথম প্রশ্ন-
জামায়াত কেনো একটা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলো? একটা উত্তর আছে, সহজ উত্তর, এই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আবেগগুলোকে ব্যবহারের জায়গা তৈরি করা।
তবে এর সাথে সহায়ক যে প্রশ্ন- তারা কেনো একটু ঘুরপথে এই পরিষদ তৈরি করলো? তারা সরাসরি নিজের দলের একটা অঙ্গ হিসেবে এটাকে রাখলো না কেনো?
বাংলাদেশের মানুষের কাছে জামায়াতের যে ভাবমুর্তি সেখানে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে জামায়াতের সংশ্লিষ্ঠতা বিশাল একটা আলোড়ন তৈরি করবে। সুতরাং একটু পেঁচিয়ে খাওয়া এই যা।
তবে এটা যেকোনো উপায়েই হোক জামায়াতের একটা রাজনৈতিক উদ্যোগ। এই রাজনীতিটার প্রয়োজনীয়তা কেনো জামায়াত বোধ করছে?
এটা পরিস্কার হওয়ার পরে আলোচনা করা যাবে কেনো জামায়াতের সমর্থকদের নিয়ে গঠিত এই পরিষদের সম্মেলনে উল্লেখিত ভারতীয় জুজুর ভয়টিকে আমার উল্লুকপনা মনে হয়।
লেখক বলেছেন: ভারতীয় জুজুর ভয়টিরে আপনার উল্লুকপনা মনে হয়, এবং তার দাম দিতে গিয়ে আমার চারটি ভাই শহীদ হলো, গত চব্বিশ ঘন্টায়। এটা কীভাবে পরিস্কার করি আপনার কাছে, রাসেল, যদি আপনি চোখ কান দিয়ে দেখতে শুনতে অপারগ হন?
মুসতাইন জহির বলেছেন:
জল অনেকদূর গড়ায়া পানিতে মিশা গ্যাছে দেখতাছি, তবু এলাহি ভরসা। আমি তলানি থেকাই শুরু করি।সংবিধান(constitution) আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেরই পরিগাঠনিক দলিল, বা নাগরিকদের চুক্তিনামা। রাষ্ট্রের সাংগঠনিক একক, আইনী সত্তা হিসাবে নাগরিকরা স্বীকৃত। ফলে আইন প্রণয়ন, আইনী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আইনের উৎস বিষয়ে নানান গুরুত্বপূর্ণ অনুমান ও দার্শনিকতা একে ঘিরে বহাল। এ বিষয়ে এখানে আলোচনার সুযোগ নাই। শুধু বলতে চাচ্ছি খোদ 'সংবিধান' চিজটার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক উদ্ভব ও দার্শনিক পাটাতন আছে। এটা নিছক এজেন্সির তর্ক না, মানে রচনা কারির পার্থক্য আদৈও এর গুণগত দিক বুঝতে সহায়ক নয়। সর্টকাটে কোরান শরিফকে সংবিধান বইলা ঘোষণা দিলে তেমন কিছুই আলাদা হয় না।
যাহোক, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংবিধানকে কেন্দ্র করেই নিজের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি সুনির্দিষ্ট করে। তো সংবিধান নিজের মধ্যে নিজের আপদ কালীন সময়ের বন্দোবস্ত আকারে যে ব্যবস্থাটা রাখে তাকে বলে, জুরুরি অবস্থা। এটাকে সংবিধানের নিজেকে নিজের স্থগিত করণ বলেই আইনশাস্ত্র চিহ্নিত করে। কোনভাবেই রহিত বা রদ করা নয়। যে কারণে পরবর্তীতে সংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পুরাটাকে রেটিফাই করা লাগে। সারমর্মে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার সংবিধানে কোনভাবেই নিজের রদ বা বিলয় ঘোষণার সুযোগ দেয় না। দিতে পারে না। অর্থাৎ সাংবিধানিক বা আইনী প্রক্রিয়ায় সেটা সম্ভব নয়।
অর্থাৎ রাষ্ট্রের স্বীকৃত কাঠামোর মধ্যে আইনী প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান রাষ্ট্রকে পাল্টানোর সুযোগ নাই, অসম্ভব। এখন কেউ যদি সেটা করতে চান কিন্তু আবার বিদ্যমান আইনী প্রক্রিয়ায় তাকে বৈধতা দেওয়ারও দাবী তোলে তাহলে রাষ্ট্রের পক্ষে তা মানা সম্ভব নয়। যদি মানতে হয় তবে নিজেকে রক্ষার কোন আইনী নিশ্চয়তাই সে দিতে পারবে না। দিলে বরং এই পরিস্থিতিকে আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হবে reductio ad absurdum of the State। জীবন্ত অবস্থায় কফিনে ঢুইকা পড়া।
তো বিদ্যমান রাষ্ট্ররে যারা বদলাইতে চাবে এমন কি যদি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্ররে গণতান্ত্রিকও কইরা তুলতে চায়, সে রাহে আইন সিদ্ধ কোন পথ নাই। আর ভিন্ন কিছু বা অন্যকোন মতাদর্শিক ব্যবস্থা ( ইচ্ছা কইরা রাষ্ট্র বললাম না, কারণ.... সেই বাহাসে মেলাদূর যাইতে হবে) নির্মাণ করতে চাইলেও না।
তাহলে মূল প্রশ্নটা রাজনীতি করার অধিকারের নয়, বরং যে ব্যবস্থাটার বিলয় সাধন করতে চাইছি তার কাছে আবদার কারার যে তুমি নিজের বিলুপ্তির জন্য আমার কার্যপদ্ধতির অনুমোদন দাও। এটাও একটা বৈধ আইনী কাজ বলে স্বীকার কর। a legal means of nullifying its own legality.
আর সমস্ত সংসদীয় রাজনৈতিক দলের মতো আমারেও সমান চোখে দেখ। যাতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণতন্ত্র বিলয়ের সংসদীয় তরিকাটা সম্ভব বইলা প্রচার করতে পারি। ''সংসদীয় বিপ্লবে''র ভুয়া ও প্রতারণাপূর্ণ কাজটা বেমালুম বহাল রাখতে পারি। এইখানে আইসা আমি জামাতের গৃহীত কৌশল ও নির্ভেজাল সুবিদাবাদিতার বিরুদ্ধে। এটা জামাতের মতাদর্শের বিরোধিতা নয়--- অর্থাৎ তারা গণতন্ত্র চায় না বইলা আমার আপত্তি নয়। কিছু কি কামিয়াব হইলাম ?
এটা যে কোন বিপ্লবি রাজনীতির জন্য অপরিহার্য। বিপ্লব আর ভোটাভুটিরে কেউ যেন অপরিচ্ছন্ন কইরা তুলতে না পারে। ফলে আইনী বিতর্ক ও আইনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সীমানা এবং শর্ত নিয়া এত কথা বলতে হইল বিপ্লবী রাজনীতির অবস্থানও নীতির উপর দাঁড়ানোর জন্য। রাজনীতিটা বাদ দিলে এটা নিছক গণতন্ত্রের পক্ষে একটা বুর্জোয়া লজিকে পরিণত হবে। আমার ভয় ফরহাদ মজহার কে বুঝার ক্ষেত্রেও এ ভুলটা হতে পারে। আমি জানি না তিনি আমার সাথে সায় দিবেন কিনা। তবে আমি এভাবেই বুঝি। জমাত বা অন্যকেউ গণতন্ত্রের ভেক না ধইরা সিরাতুল মোস্তাকিমের পথে ইসলাম কায়েম করুক। তখন তাঁর ইসলামের আদর্শ ও বোঝাপড়া নিয়া বসার ফুরসত হবে। মানি কি মানি না ঠিক করা যাবে। কি বলেন?
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় যাওয়া-- রাষ্ট্রক্ষমতায় অধীষ্ঠিত হওয়া আর নতুন রাষ্ট্রশক্তি বা বিপ্লবী ক্ষমতা পরিগঠনের ভিন্ন রাজনীতি নিয়া আরো কিছু কথা বলার ইচ্ছা আছে। আপনার আগ্রহ থাকলে আগাবো।
লেখক বলেছেন: আপনের কথার কী বিন্দুখানা যদ্দুর বুঝতে পারলাম, বিদ্যমান রাষ্ট্ররে যারা বদলাইতে চাবে এমন কি যদি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্ররে গণতান্ত্রিকও কইরা তুলতে চায়, সে রাহে আইন সিদ্ধ কোন পথ নাই। তাই, মূল প্রশ্নটা রাজনীতি করার অধিকারের নয়, বরং যে ব্যবস্থাটার বিলয় সাধন করতে চাইছি তার কাছে আবদার কারার যে তুমি নিজের বিলুপ্তির জন্য আমার কার্যপদ্ধতির অনুমোদন দাও। এবং এ ব্যাপারে সিরাতুল মোস্তাকীম কোনটি।
সত্য। আপনি আগান জহির ভাই। পুরা শেষ করেন।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
আপনি আলোচনার বাইরে,জামায়াত কেনো এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আবেগ কাজে লাগাতে চায় এবং এটা করবার অধিকার তাদের দেয় কি না ১৯৭১এ তাদের ভুমিকা?
এটা নিয়ে আলোচনা করে আমরা আমাদের শহীদ , নিহত মরে যাওয়া ৪ ভাইয়ের আলোচনা করবো। আপনার এই ভাই শহীদ আলোচনায় ভাববাদিতা আনছে।
লেখক বলেছেন: রাসেল, এইসব ভাববাদ ফাববাদ এখানে আলোচ্য নয়, এই শব্দটার প্রেমে আপনিই পড়েছেন, আমি নই। এইটা এই আলোচনায় পরিতাহ্য।
আপনার প্রশ্ন হলো জামায়াত কেনো এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আবেগ কাজে লাগাতে চায় এবং এটা করবার অধিকার তাদের দেয় কি না ১৯৭১এ তাদের ভুমিকা?
জামাতরে আপনি এই প্রশ্ন করার আগে, নিশ্চিত হন, যারা অই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠন করেছে, অর্থাৎ নেতৃত্বরা মুক্তিযোদ্ধা কিনা। মুক্তিযোদ্ধাদের নিশ্চয় অই ধরণের একটা ফ্রণ্ট গঠনের অধিকার রয়েছে। যদিও আমি এইসব মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ফংসদরে স্ট্যাণ্ডবাজী মনে করি, সেইটা জামাত করুক আর আওয়ামীলীগ করুক। যেমন মনে করি, সেক্টর কমাণ্ডার্স ক্লাব একটি স্ট্যাণ্ডবাজীর মঞ্চ, আর কিছু না।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
সবটা পড়লাম। কী বলিবো, সোনার চান রে কী বলিবো আর?
আমি যা বলতে চাই। তা অল্পে বলা যাবে না। বেশি বললে লোকে পড়বে না।
আপনার লেখা অত্যন্ত ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: হাহ। কিন্তু মাহবুব ভাই, আপনার মন্তব্য পাওয়া জরুরী; ঐটা থেকে বঞ্চিত করলেন নাকি?
লেখক বলেছেন: কী বলিবো, সোনার চান রে কী বলিবো আর?
এই বাক্যটির অর্থ বুঝিনি।
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
"জামায়াত কেনো এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আবেগ কাজে লাগাতে চায় এবং এটা করবার অধিকার তাদের দেয় কি না ১৯৭১এ তাদের ভুমিকা?"আপনার এই প্রশ্নে উত্তরে অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু শুরুতেই আর একটা প্রশ্ন এসে যায় - এই মুক্তিযোদ্ধা পরিষদটা যে জামাতের মুল সংগঠনের সিদ্ধান্তক্রমে গঠিত হয়েছে এটা নিশ্চিত হচ্ছেন কিভাবে? সেই সম্মেলনে তো একজন মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, ছিলেন একজন সাবেক বিচারপরি এবং সাবেক জ্বালানী উপদেস্টা মাহমুদুর রহমান - আপনি কি মনে করেন এরা সবাই জামাতের একনিস্ঠ কর্মী? এটাকে জামাতের প্রতিস্ঠান হিসেবে প্রচার করছে যে মিডিয়া সেই মিডিয়াই তো এক এগারো সংগঠনের মাধ্যমে দেশকে পরাশক্তির আজ্ঞাবহ করার অভিযোগে অভিযুক্ত। এটাও যে তাদের সেরকম একটি প্রচারনা নয় - এ'ব্যপারে আপনি আপনি নিশ্চিত হচ্ছেন কিভাবে? একটা প্রবাদ আছে - "কুকুরটাকে মারতে চাও? আগে পাগলা কুকুরের লেভেল লাগিয়ে দাও - তারপর মেরে ফেল - কেউ প্রতিবাদ করবে না।" আমারতো মনে হয় জাতীয় মু্ক্তিযোদ্ধা পরিষদের ভারতীয় আগ্রাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহারকারীদের বিপরীতে দারিয়েছে বলেই এটার গায়ে "জামাতসমর্থিত" উপাধী দেয়া হয়েছে যাতে এদের বক্তব্য মানুষ না শোনে এবং একে নিষিদ্ধ করলেও কেউ প্রতিবাদ না করে।
এবার আসি যদি প্রতিস্ঠানটা জামাতের উদ্যোগেই গঠিত হয়েথাকে তাহলে তারা কেন এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল সে প্রসঙ্গে- অনেক কারণ থাকতে পারে আমি কিছু কিছু অনুমান করার চেস্টা করছি -
১. দীর্ঘদিন পরে হলেও জামাত অনুভব করতে পারছে যে মুক্তিযুদ্ধের যে আবেগ তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করা কঠিন - তাই সেও এই আবেগের ভাগিদার হতে চায়।
২. জামাত মুলত ভারতবিরোধী দল। ভারত বিরোধীতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে সে সবচেয়ে উপযোগী অস্র মনে করে। মুক্তিযোদ্ধারা যেহেতু দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সেহেতু বর্তমানে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের উপর নতুন করে আঘাত আসছে কথাটা মুক্তিযোদ্ধাদের মুখথেকে শুনলেই দেশের মানুষ অনেক বেশী বিশ্বাস করবে বলে তারা মনে করে।
৩. জামাতের পুরাতন নেতৃত্ব - যারা ৭১ এ দলটির ভুমিকার ব্যাপারে সিদ্ধান্তগ্রহন করেছিলেন তাদের অধিকাংশই পরলোকগমন করেছেন - আমাদের সময়ের নাইমুল ভাইএর হিসাবমতে বর্তমান জামাতের নেতৃত্বের মধ্যে তাদের সংখ্যা ৫০-৬০ এর বেশী হবে না। সুতরাং নতুন নেতৃত্ব হয়ত ৭১এর অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে - এ'জন্যই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সংগঠন করা জরুরী মনে করছে।
৪. অস্বীকার করা যাবে না যে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মুল্যায়ন করতে পরিনি - এখনও পত্রিকায় অনাহারী-ভিক্ষারত মুক্তিযোদ্ধার খবর প্রকাশিত হয় - জামাত এই দুর্বলতাটাকে কাজে লাগিয়ে দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার মাধ্যমে ভোটের রাজনীতিতে জনপ্রীয়তা অর্জন করতে চায়।
শেষ কথা - সাবেক জ্বালানী উপদেস্টা মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য হচ্ছে - বাংলাদেশী জাতীয়তার দুটি দিক -এক. বাঙ্গালী - যা আমাদের পাকিস্তান থেকে আলাদা করেছে এবং দুই. মুসলমান - যা আমাদের ভারত থেকে আলাদা করেছে। এ'দুয়ের সমন্ময়েই আমরা বাংলাদেশী। প্রথমটির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিময় পরিশোধ করেছি ৭১ এ - কিন্তু দ্বিতীয়টির মুল্য এখনও অপরিশোধিত রয়েগেছে - যার জন্য আমরা কখনই সম্পুর্ন স্বাধীন হতে পারিনি - আমাদর মুক্তিযুদ্ধও আংশিক যুদ্ধ হিসেবে রয়েগেছে। এখন সময় এসেছে সেই মুক্তিযুদ্ধের দ্বীতিয় অংশের মুল্য পরিশোধের পালা।এই অংশের যুদ্ধ হয়ত এথম অংশেরমত রক্তস্নাত হবে না - বরং এই যুদ্ধ হবে অর্থণৈতিক-কুটনৈতিক-সাংস্কৃতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ। এই অংশের নেতৃত্ব দেয়ার জন্যই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ গঠন করা হয়েছে - এখানে শত্রুর শত্রু আমাদের মিত্র এই হিসেবে বরাবরের ভারত বিরোধী জামাত সমর্থকদের সংশ্রব এসে গেছে - তার বেশী কিছু নয়। "জামাতের সংগঠন" এই লেভেল লাগিয়ে একে নিষিদ্ধ করার চেস্টা সেই মুখচেনা মিডিয়াই করছে যারা বরাবরই ভারতীয় স্বার্থ রক্ষার দ্বায়িত্বে নিয়োজিত। সুতরাং তৈরী হোন - মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় অংশে লড়াই করার জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্টের এই ''আপনি''টা কি অত্র পোস্টের লেখক?
লেখক বলেছেন: যাই হোক, দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্ন আসাটা একটু অবাক করা বিষয়। ভারতীয় জুজুর ভয়টা বাংলাদেশের হীনমন্যতার প্রকাশ।গত দিন বাংলাদেশের চোরাচালানীরা গুলি করে ২ জন বিএসএফ হত্যা করেছে।
এটার প্রতিক্রিয়ায় আরও এক বাংলাদেশী মারা গেছে।
সীমান্তে সন্ত্রাসের আলাদা রীতিনীতি আছে। সীমান্ত শহরের বাসিন্দারা যতটা না অবগত, সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা এর চেয়ে বেশী অবগত। কুদ্দুসের ভাই, শ্যামলের ভাইস্তা কখন যাচ্ছে ভারতে, কখনও সস্তায় পুঁতির মালা কিনছে, দেশে আনছে, কখন ফেন্সিডিল নিয়া আসতেছে।
এইসব অপরাধের খেসারত কিছুটা দিতে হয় সংশ্লিষ্টকে। এটা নিয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা সংক্রান্ত উটকো আবেগের জায়গা কোথায়?
আলোচনায় ফেরত আসি বরং-
আমন্ত্রিত অতিথির লিস্টে যাদের নাম দেখা গেলো তারা ইসলামীভাবউদ্বুদ্ধ নয় এমনটা ভাববার কোন কারণ আছে।
মাহবুবুর রহমান, প্রাক্তন জ্বালানী উপদেষ্টা জামায়াত আয়োজিত যেকোনো অনুষ্ঠানের একনিষ্ট অংশগ্রহক। বিচারপতি বেচারাও একই রকম একনিষ্ঠতা দেখায়। তাদের রাজনৈতিক আনতি এমন হলে সেটা বলবার কিছু নেই। হাইকোর্টে অনেক জামায়াতভাবাপন্ন উকিল আছে, তারা বিভিন্ন উপায় খুঁজে বের করছে। জামায়াত সংগঠিত একটা শক্তি।
এদের বিরোধিতা করবার পদ্ধতি তালাশ করবার লক্ষ্যে এই লেখা? মানে সূচনার ভনিতা দেখে এমনটা ভাবা কঠিন।
আলোচনাটা যেখানে শেষ হয়েছিলো, একটা প্রশ্ন ছিলো, জামায়াতের এই মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ গঠনের উদ্যোগটা কেনো? সেটার উত্তরে আপনার প্রশ্ন এবং এটার ধরন দেখে মনে হয় না আপনি আলোচনাতে উৎসুক। বরং অহেতুক একটা ভড়ং নিয়ে শুরু করেছেন এই আলোচনা পোষ্ট।
লেখক বলেছেন: একটা কথা বলি রাসেল, জাতিরাষ্ট্রের ধারণায় একটি রাস্ট্রের জন্য অন্য সব রাষ্ট্র সম্ভাব্য শত্রু, তো এই শত্রুতার পরিমাণ নির্ভর করে, কোথায় কার স্বার্থ কতটুকু জড়িত, সেই দিক থেকে। বন্ধুরাষ্ট্র বিষয়ক ধারণাটাই একটা ফালতু ধারণা, এই জায়গায়। এইটা আগেই বলেছি সম্ভবত।
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত, অবস্থানগত দিক দিয়েই। ফলত বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কটা বর্তমানে অধিকতর শত্রুরাষ্ট্রের সম্পর্ক। আপনি বলেছেন, হীনমন্যতা, তাই যদি হয়, ভারত কেন বাংলাদেশকে ট্রানজিট দিতে ভয় পায়?
আর সীমান্তের সন্ত্রাসের আলাদা রীতি-নীতি আছে, আপনি বলেছেন, আমার মতে সেটি হল, ভারত পাকিস্তান সীমান্তে একটি গরু মারতেও ভয় পায়, কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তে গরুর মত মানুষ মারে।
সবিনয়ে বলিতে চাই, জামায়াতের বিরোধীতা করিবার পদ্ধতি তালাশ করন এই লেখা নয়। আপনি এইরকম ভাইবা থাকলে আবার এই পোষ্টখানা পইড়া নিতে পারেন। আপনার আর একটি কমেণ্টের উত্তরে এই বিষয়টি আমি বলছিলামও। আবার পড়ুন:
...আমি এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একটু ভাবার ফুরসত চাই, শব্দটা যদি ''বিরোধীতার অস্ত্র'' হয়ে থাকে; কিন্তু যদি মোকাবেলা হয়ে থাকে, সেইটা নির্দ্বিধায় পদ্ধতিগত প্রশ্ন, এই প্রশ্নে কোন বিরোধীতার অস্ত্র বিষয়ক ঝামেলার সমাধান নেই, বরং প্রশ্নটিরেই আবার গুরুতরভাবে প্রশ্ন করতে বলে। তাই ''জামাত বিরোধীতার কতগুলো অস্ত্র'' বিষয়ক সমস্যার সমাধান মনে হয় এই পোস্টে পাওয়া অসম্ভব।
আমার ভড়ং ধরতে পারার জন্য ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: সবটা পড়লাম।কী বলিবো, সোনার চান রে কী বলিবো আর?
আমি যা বলতে চাই। তা অল্পে বলা যাবে না। বেশি বললে লোকে পড়বে না।
আপনার লেখা অত্যন্ত ভালো লাগলো
-----------------------
বেশি বললে ও পড়বে লোকজন মাহবুব ভাই। আমি তো লোকেদেরই একজন। বলেন। পড়ার অপেক্ষায় আছি।
লেখক বলেছেন: আমরাও ছিলাম।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
আচ্ছা।আপনি বলছেন- 'জামাতের ঘোষিত রাজনৈতিক এজেন্ডা'।
ব্যাখ্যা করুন দয়া করে। জামাতের রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলান কি কি?
ওমর নাসিফ বলেছেন:
রচনার অনেক,অনেকদিন পরে দেখছি।এ মন্তব্য লেখক পর্যন্ত পৌছুবে কিনা সে ব্যাপারেও সন্দিহান। তবে কিছু অংশ পড়ে মনে হল খুব সহনশীল আর যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার প্রয়াস চালানো হয়েছে, জামাতি ভাবধারা নিয়ে আলোচনা করার সময় যেটা প্রায় সবসময়ই অনুপস্থিত থাকে। তাই। সাথে করে নিয়ে যাছ্ছি লেখাটা।লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















Click This Link
১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭
লেখক বলেছেন: দেখলাম।
২. ১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০ েমাসেেলহ বলেছেন: ধন্যবাদ।অনেক দিন পর একটি ভালো লেখা পেলাম।আপনার প্রশ্ন গুলো আমাকে ও ভাবায়।
যে সমাবেশে কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার,বি ডি আর প্রধান ,সাবেক বিচারপতি ছিলেন সেটা কিভাবে রাজাকারদের সমাবেশ হয়।তবে কি তারাও রাজাকার???
প্রথম আলোর ছবি নিয়েও সংশয় আছে।পিছন থেকে তোলা ,কে কাকে লাথি মারল বোঝার উপায় নেই।
আমার মনে হয় এটা একটা ইস্যু।
১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৬
লেখক বলেছেন: আমি আরো কিছু বিষয় আলোচনা করেছি।
৩. ১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৮ কথা কম কাজ বেশি বলেছেন: আসলে এখন রাজাকার না ভারতের দালাল ধরা উচিৎ।
১৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:১৮
লেখক বলেছেন: রাজাকার বা ভারতের দালাল মুখ্য নয়।
৪. ১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১১ জহিরুল ইসলাম মুসা বলেছেন: অসাধারণ েলেগেছ।
১৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৩৮
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
৫. ১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১২ তীর্যক বলেছেন:
েমাসেেলহ বলেছেন: যে সমাবেশে কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার,বি ডি আর প্রধান ,সাবেক বিচারপতি ছিলেন সেটা কিভাবে রাজাকারদের সমাবেশ হয়।তবে কি তারাও রাজাকার???
- আওয়ামিলীগ বা বামপন্থী চররা ছাড়া সবাই রাজাকার, যেমন রাজাকার মেজর জলিল, আবার শাহ আজিজ, শামশুল হুদা, এ কে ফয়েজ (রাজাকার হয়েও) মুক্তিযোদ্বা !!
বুঝলেননা এখনো ?
১৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:০৪
লেখক বলেছেন: বুঝিনি।
৬. ১৭ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৪৪ উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপনার লেখাটি মন দিয়ে পড়লাম। অবশ্যই সুচিন্তিত মতামত।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি একমত হলাম না।
থাক, এ নিয়ে আলোচনায় যেতে চাই না।
তবে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, তাদের চাওয়ার এই দাবী আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়।