বাংলাদেশের 'সেকুলার' এবং 'ডিজিটাল' সরকার কর্তৃক ফেসবুক বন্ধের একটা 'এসলামী' কারণ জেনে কিছু মানুষ উত্তেজিত। মৌলবাদীদের প্রতি তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই- এমনকি এই ঘোর পাকিস্তান-বিদ্বেষী-বিরোধী সরকার মৌলবাদীদের চক্রান্তে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক দরবারে পাকিস্তানের সমান মৌলবাদী রাষ্ট্ররূপে প্রতিষ্ঠা করল- তাদের এই দুঃখ শেষ হবার নয়। বিশ্বব্যাপি গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনামে এসেছে রাসুলের ব্যাঙ্গচিত্রের কারণে ফেসবুক ব্যান করা হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু এই বিষয়টা আরো গভীরভাবে ভাবলে এই শ্রেণীর মানুষ কিছুটা স্বস্থি এবং বেশীমাত্রায় খুশিই হবে যে, এইখানে আওয়ামীলীগ রাসুলের কার্টুন নিয়ে কিছুমাত্র চিন্তিত না- বরং এই মুক্ত গণমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোন কণ্ঠের টুটি টিপে ধরতে সুচতুরভাবে মৌলবাদরে ব্যবহার ঘটেছে এবং অন্যান্য দেশীয় প্লাটফরম ও এর ব্যবহারকারীদের প্রতিও এটি সতর্ক-সংকেত বিশেষ। এই বাস্তবতা বুঝে উঠার পর এই শ্রেণীর খুশি হবার কারণ হল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র- এইসবের চেয়ে মৌলবাদ তাদের কাছে জগদ্দল আতঙ্ক। কথিত মৌলবাদ যখন ফেসবুক বন্ধের দাবী জানায় তারা এমনকি ফেসবুক কী জিনিশ তাই জানে না- কিন্তু আওয়ামীলীগ যখন ফেসবুক ব্যান করে তখন বুঝে শুনেই এই ফ্যাসিবাদী উদ্যোগ নেয়। এখানে এই তথ্যটা দরকারী যে, আওয়ামী সরকারের সবসময়কার চরিত্রে যে কোন গণমাধ্যমের প্রতি প্রকৃতিগত অসহিষ্ণুতা আছে। শেখ মুজিবুর রহমানের কালে একদলীয় বাকশাল গঠনের সময় সব গণমাধ্যমের উপর এই চরম 'ব্যান' আরোপ করা হয়েছিল। বর্তমান আওয়ামীলীগের শাসনামলের প্রথম দিকে য়ুটিউবের উপর ব্যান জারি করা হয়েছিল- বিডিআর বিদ্রোহের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণমূলক ভিডিও আপলোড করার দায়ে। নীরবে, চরম দ্রুততায় চ্যানেল ওয়ানকে বন্ধ করে দেওয়া হল। সব গণমাধ্যমের উপর অলিখিত সেন্সর চলছে এখনো- জরুরী সরকারের চেয়েও কঠিন ভাবে। এমনকি মিডিয়ায় সেইসব খবর আসতেই পারছে না। তার উপর ফেসবুক হলো মুক্ত গণমাধ্যম- যেখানে আওয়ামীলীগের তথ্যমন্ত্রণালয়ের সেন্সরশীপ সম্পাদকী নীতিমালা অচল। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, রাসুল নয়- ফেসবুকে হাসিনা-জয়ের কার্টুন আঁকার অপরাধে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবং তার কিছুক্ষণ পরপরই ফেসবুক বন্ধের সরকারী আদেশ পাওয়া যায়। কিন্তু এর সাথে আরো একটি তথ্য যোগ করতে চাই। গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের রেফারেন্স দিয়ে আমার দেশ পত্রিকায় সরকারী তদন্ত কমিশন কর্তৃক তৈরী করা বিডিআর বিদ্রোহের অপ্রকাশিত তদন্ত রিপোর্ট ছাপাচ্ছিল- যা ফেসবুকে কেউ প্রকাশ করে দিয়েছে। বর্তমান মাসের ২৫ তারিখ এই রিপোর্টের প্রথম কিস্তি ছাপানো হয়- যেখানে বিদ্রোহীদের সাথে ক্ষমতাসীন অনেকের প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক এবং বিদ্রোহ চলাকালীন তাদের তৎপরতা উন্মোচিত হওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। পরপর ২৬, ২৭ এবং ২৮ তারিখ এই রিপোর্টের কিস্তি প্রকাশিত হয় আমার দেশে। যার সম্পর্কে কোন প্রতিবাদ বা কিছুই সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় নাই কোথাও। আমার দেশ অনলাইন সংস্করণে আজ খুঁজে দেখলাম- এই রিপোর্টের কিস্তিটি আজও ভিতরের সম্পাদকীয় পাতায় ছাপানো হয়েছে। তাহলে হাসিনা-জয়ের কার্টুনএর সাথে ফেসবুকএর অপরাধতালিকায় আর একটা বিষয় যোগ হল- বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত প্রতিবেদন। যা সরকারকে নিরন্তর ভয়ের মধ্যে রেখেছে।
ফেসবুক বন্ধ সংক্রান্ত আমার আগের দুটি পোষ্ট:
ফেসবুক বন্ধের প্রতিবাদ জানাই: ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার
ফেসবুক বন্ধের একটা 'এসলামী' কারণ এবং হাসিনা-জয়ের কার্টুন: ফাজলামোর সীমা থাকা দরকার
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



