বিডিনিউজে প্রকাশিত, বিস্তারিত পড়ার জন্য ক্লিক করুন। লেখাটির সংক্ষিপ্ত ভার্ষন সামহোয়ারে পূর্বপ্রকাশিত।
বিশ্বপরিমণ্ডলে ইণ্ডিয়া নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও মহত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিশেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করে, যদিও সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচে বড়ো এবং নৃশংস সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসমূহ এই রাষ্ট্রেই বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হয়েছে- রাষ্ট্রটির নেতৃত্বের প্ররোচনায় ও পৃষ্ঠপোষকতায়, আবার দেশটি এমনই গণতান্ত্রিক যে, এর সাতকন্যা রাজ্য ও কাশ্মির জুড়ে চলছে সামরিক ফরমান- উনিশশ আটান্ন সালের দুই সেপ্টেম্বর ইণ্ডিয়ার কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট এর পাশকৃত আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার (অসম, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড) অ্যাক্ট এর মাধ্যমে, রীতিমত আইনীভাবেই।
তাই, এহেন ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রের রাজনীতিতে অযোধ্যা মামলার রায় গুরুত্বপূর্ণ হবে সন্দেহ নেই, বিশেষত যখন রায়ের আগে এবং পরে সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যের ভয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক সারা দেশজুড়ে পূর্বসতর্কতামূলকভাবে রীতিমত এক জরুরী অবস্থা জারির ঘটনা ঘটে- বুঝা যায় ইণ্ডিয়ার নেতৃত্বও এটিকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। সারা দেশ জুড়ে এই এলার্ট জারি একই সাথে একটি ভয়ার্ত, ভঙ্গুর ও পর্যুদস্ত ইণ্ডিয়াকেও হাজির করে। নির্দেশ করে ভাঙনের সেই গভীর খাদ, যে খাদে এই রাষ্ট্র ও তার জনগণ পতিত হয়েছে বেশ আগে, দেশটির নেতৃত্বের প্ররোচনায়- সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে বিষাক্ত হয়ে যাওয়ার পর।
অবশেষে মামলার রায়ের মাধ্যমে বোঝা যায় দেশটির নেতৃত্ব এর জনগণকে এমন একটি না ফেরার জায়গায় নিয়ে গেছে- যেখানে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের পেশিশক্তিই আইন-আদালত এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী জায়গায় ভূমিকা রাখে, ফলত জনগণের বিবেচনার মাপকাঠি এইসবই হতে হবে- অন্যকোন ন্যায়-আচার নয়। এটি এমন, যে, এর গভীর ক্ষত আরোগ্যের ক্ষমতা শুধু একটি বাবরি মসজিদ বা রাম মন্দির নয়, এমনকি আরও একশটি মন্দির কিম্বা মসজিদ এর নাই। সাম্প্রদায়িকভাবে সংখ্যাগুরুর পেশীশক্তি এবং রাষ্ট্রিয়ভাবে তার পরাগায়ন, আর স্বাধীনতাকামী রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাস এর চাষাবাদ- এইসবই এর কারণ। ফলত, পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে, স্রেফ একটি মন্দির কিম্বা মসজিদ হয়তো আর বাঁচাতে পারবে না ইণ্ডিয়াকে- যদিনা ইণ্ডিয়া নিজের এই গভীর অসুখের সুশ্রুষা না করে।
এরই প্রেক্ষিতে অযোধ্যা মামলা সম্পর্কে ভারতের প্রভাবশালী দি হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত রোমিলা থাপারের লেখাটা পড়তে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। প্রাচীন ভারত-বিশেষজ্ঞ রোমিলা থাপার তো, কী জ্ঞানী কথা বলেন তাই নিয়ে উৎসাহ। রোমিলা থাপার সাধারণ কেউ নন, দি হিন্দু তাঁর লেখার উপশিরোনামে দিয়েছে: অযোধ্যা মামলার রায়: একজন ইতিহাসবিদের দৃষ্টিতে (The verdict on Ayodhya: a historian’s perspective ) । ইরফান হাবিব বা অরুন্ধতী রায়ের মতই তিনি রায়টিকে “রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত” ইত্যকার মন্তব্য করেছেন- কিন্তু তার বাইরেও কয়টি আগ্রহউদ্দীপক কথা বলেছেন। প্রথমত, প্রশ্নের ভাবটা এমন যে, ধর্মীয় ও অন্যান্য মিথ কীভাবে আইনের বিষয় হতে পারে? আদৌ পারে কি?...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

