"মেহেরজান" দেখার আগ্রহ বোধ করতেছি। বিশেষত ছবিটা নিয়া সংবেদনশীলদের প্রতিক্রিয়া দেখে/শুনে মনে হলো আমাদের পপুলার মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসার জন্য এই ছবিটা ভাল না। এরকম একটা ছবি দেখা কর্তব্য তো বটেই। পাশাপাশি "মনের মানুষ" না দেখার আগ্রহ পাইতেছি।
"মেহেরজান" নিয়া আমার আগ্রহের কারণ এই ছবিতে আমাদের পপুলার মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসার বিপরীতে বাঙালীদের যুদ্ধ ও প্রেমের সবক দেয়ার আস্পর্ধা আছে। এতদিন মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ে প্রেম আমদানী করে নাই, ঘৃণা এবং আবেগরে ব্যবহার করেছে। কিন্তু নতুন এই ব্যবসা-প্রকরণে প্রেম এসেছে- যেমন তেমন প্রেম নহে- সরাসরি পাক আর্মি অফিসারের সাথে বাঙালী মেয়ের প্রেম। দেখা যাচ্ছে, এই ছবি নিয়া দুটি পক্ষই ব্যবসায়ে নেমে পড়েছে। এক পক্ষ হলো আগের সেই ক্লাসিক্যাল মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা- যাদের পপুলার ভাব হলো- পাকি অফিসারের সাথে প্রেম করে বাঙালীর জাত, অভিমান, স্বাধীনতা সব গেল। এই "গেল" রবে ছবিটির বিকিকিনি বাড়ছে- সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া দর্শক আর হায় হোসেন হায় হোসেন রব। খারাপ না। তারা ছবিটা নিষিদ্ধেরও দাবী জানাচ্ছে। স্মর্তব্য, মূলত তারা এই ব্যবসার অন্যান্য সব প্রতিদ্ধন্ধীদের উপর পুরোপুরি একটা নিষিদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া নিজেদের ব্যবসা চালাতে সাবলীল হন না।
আর এক পক্ষ হলো সেই তারা- যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে হীনমন্য- বাংলাদেশের রাজনীতিতে নব্য দেশপ্রেমিক হিশেবে জাতে উঠতে চায়। তারা এই ছবির পরিচালকের পারিবারিক পরিচয় দিয়ে আওয়ামীলীগের গোপন পাকিস্তান-প্রেম উদঘাটন এবং তার প্রচারে তৎপর।
দেখা যাচ্ছে, উভয় ব্যবসায়ীদেরই বিজ্ঞাপনের একটা বিশেষ ধরণ হলো 'বর্জনে'র আহ্বান। এমন কি, মজার ব্যাপার হেলা এই ছবিটা নিষিদ্ধের দাবী উভয় ব্যবসায়ীরাই জানাচ্ছে।
এরকম একটা ছবি দেখা অবশ্যকর্তব্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

