somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝিলিমিলি ভোর - (৭ই নভেম্বরকে নিয়ে একটা শিশুতোষ উপন্যাস)

২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(সাতই নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের এক স্বর্ণোজ্জ্বল দিবস। একদলীয় বিভীষিকাময় দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে সিপাই জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে রুখে দেয়ার এই দিন। আজকের বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে শত ফুল হাজার ধারায় ফুটছে , বহু সংবাদ মাধ্যমের বিকাশ ঘটছে, লক্ষ মানুষের মত প্রকাশের যে ধারা যাত্রা সূচিত হয়েছে তার শিকড় প্রোথিত রয়েছে এই দিবসে। সে কথা অনেকেই ভুলে গেছেন, কেউ কেউ তা ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে দ্যুতিময় প্রভাতের বিকাশই কেবল ঘটেছে। আধার পালিয়ে গেছে বারেবারে। তবুও অন্ধকারের কাপালিক প্রভু এবং তাদের চেলারা নিবৃত্ত হননি। আজও তারা ওত পেতে থাকেন। আজও তারা কৃষ্ণ নি:শ্বাসে ডুবিয়ে দিতে চান মানুষের বিজয় গাথাকে। অন্ধকারের প্রভুদের অতীত এবং চলমান অপচেষ্টার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হল শিশুতোষ উপন্যাস ঝিলিমিলি ভোর। আজ তার ১৮তম পর্ব পরিবেশিত হল।)



১৮তম পর্ব



-‘আর ছেলে অফিসে গেছে। কখন যে ফিরবে তার কি ঠিক আছে।’ ঝিনু আব্বুর কথা বলে বাকী সবগুলো হলো এ্যাই মেয়েটার ছেলে-মেয়ে।’ ভাইমনি মাথা নেড়ে হাসতে হাসতে বলেন
- ‘ইশ কি মারাত্বক ভুল হয়ে গেলো। কতদিন পরে এলাম কিনা। তাছাড়া বুড়িয়ে যাচ্ছি সব কি আর মনে থাকে।’ আম্মুর থুথনি ধরে একটু নাড়িয়ে দিয়ে বলেন,
-‘ তা মা বেচে থাক। সেই কবে ছেটটি দেখেছি। এখন কত বড় হয়ে গেছ।’ আম্মু মিটিমিটি হাসেন।
কি মজা! ভারী মজা! এমন ধারা খেলাটাই খালি খালি হাসি-খুশিতে ভরপুর। খেলার শেষে প্রতিবার ঝিনু ভাবে আম্মুর মধ্যে ঠিক ঠিক এক ঝিনু আছে আর ঝিনুর মধ্যে এক আম্মু না থাকলে কি আর এমন মজার খেলা খেলা যায়। এমন গোমড়া দিনে আম্মু খেলতে রাজি হলে আনন্দের রঙ্গিন প্রজাপতিতে মন ভরে উঠত। আম্মু যদি আঙ্গুরে চাচীর মত বলে বসেন দেশের অবস্থা ভাল না মন খারাপ, খেলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। না তেমন কিছুই হলোনা। আম্মু দিব্যি খেলতে রাজি হয়ে গেলেন । ঝিনু যেমন ভেবেছিলো ও মন জুড়ে রঙ্গিন প্রজাপতির ডানার ছোয়া লাগবে। তেমন ছোয়া লাগল না। দেখা গেল খেলা শুরু হওয়া সত্বেও আম্মু গোমড়া গোমড়া হয়ে আছেন। আম্মু আম্মু খেলার আম্মু রুপী ঝিনু বলে,
- ‘এই ঝিনু এত গোমড়া হয়ে রয়েছিস কেনরে?’
-‘ আমার যে কিছু ভাল লাগছে না ।’ আম্মু ঝিনুর মত কাঁদ কাঁদ হয়ে যান। ঝিনুর আঙ্গুর চাচীর কথা মনে পড়ে। ও বলে,
- দেশ হল আকাশ। আর মন হল নদী। আকাশের মেঘ থাকলে কি আর নদীর পানিতে চাঁদ- তারার ঝিকিমিকি দেখা যায়?’ ঝিনুরুপী আম্মু একেবারে অবাক হযে যান। তার এই পাকা পাকা কথ বলা বাচ্চা মেয়েটা যেন এই কদিনে বেশ বড় সড় হয়ে গেছে। আম্মু তার মনের এ কদিনের দুচিন্তাকে যেন আর চেপে রাখতে পারেন না। খেলার ছলে ঝিনুকে জিজ্ঞাস করেন
- ‘তা আম্মু দেশের অবস্থা কবে ভাল হবে।’ ঝিনুও জানে না কবে ভাল হবে। এ কদিন শোনা টুকরো টুকরো কথার জোড়া দেয় তারপর ও বলে
-‘হবে হবে ভাল হবে। ওদের মুখোস সুরোপরিই খুলে গেছে। দেশের লোক চুপচাপ দেখছে কে কোন পর্যন্ত নামে। যিনি যতদুর নামবেন ততটুকুই তাকে ভিজতে হবে। শুধু এইবার সৈন্য জনতার একত্রে এগিয়ে আসার পালা তাহলেই বাদর নাচ শেষ । সকাল হওয়ার সময় এসে গেছে।’ ওর কথা শুনে আম্মুরুপী
ঝিনু একটু হাসেন । মনে মনে বলেন, বাচ্ছাদের মুখ দিয়ে নাকি মিথ্যা বের হয় না। উঃ ঝিনুর কথাও যেন সত্যি হয়। আর ঝিনুও অবাক হয়ে যায়। অনেকের মুখের শোনা টুকরো কথা গুলো জোড়া দিলে যে এমন এক আনন্দে খবর হয়ে যায় ওর জানা ছিলনা । আম্মুর মুখে হাসি ফুটে উঠেছিলো আবার যেন তা হারিয়ে যায়। আম্মু অন্য কিছু চিন্তুা করছেন হয়ত । না আজকের খেলা আর জমে ওঠে না। ঝিনুরুপী আম্মু শেষ বলেই বসলেন
-‘ আম্মু আমার ভাল লাগছে না। আর খেলব না।’

রাতে বিছানায় যাওয়া অবধি কেবল এই একই কথা ওর ঘুরে ফিরে মনে হতে থাকে। ‘এবার সৈন্যজনতার একত্রে এগিয়ে আসার পালা। তাহলেই বাদর নাচ শেষ।’ তারপর ও ঘুমের অতলে তলিয়ে যেতে থাকে।

কোথায় যেন একের পর এক পটকা ফাটছে। ঘুম ঘুম চোখে প্রথমে ঝিনুর তাই মনে হলো। ঘুম ভাংগতেই ও চমকে উঠল। আরে এতো গুলি হচ্ছে। ধুপ। ধুপ। ঠিশ্যু। ঠিশ্যু। টা। টা। নানা ধরণের গোলাগুলির আওয়াজে ওর বুক ধুকপুক করতে থাকে। বার বার ও শিউরে উঠতে থাকে। জিরো পাওয়ারের ভুত ভুত নীল আলোয় দেখে আব্বু, আম্মু, ভাইয়া, ভাইমনি সবাই জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। আম্মু ওকে পাশে ডেকে বসায়। জিজ্ঞাস করে,
-‘কিরে ভয় লাগছে?’ ঝিনু ঘাড় নাড়ে।
-‘জ্বি।’ আম্মু এবার ওকে বুকে জড়িয়ে বসে থাকেন। আম্মুর নরম কোলের কোনো
তুলনাই হয় না। সুযোগ পেলেই ও আম্মুর কোল জুড়ে বসে গালে গাল ঘষবে। আম্মু ঝিকমিক হেসে পিঠ চাপড়ে বলেন
-বেড়াল । জবাবে ঝিনু বলে,
-‘ তাহলে তুমি মা বেড়াল। ঝিনুর কথা শুনে আম্মুর হাসি আরো ছড়িযে পড়ে। এখন সবাই বিড়বিড় করে দোয়া দরুদ পড়ছেন। আম্মুর কোলেও ঝিনুর হাফ, ধরে যায়। একটা অদেখা অক্টোপাশের মত চারদিক ঘিরে রেখেছে। গুলির আওয়াজে কান ফেটে যায়। ঝিনু আব্বুর পাশে স্বস্তি খুজে । অথচ এখানেও ভয় । ভয় বাতাসে বিলাই সং-সুং বা বান্দর ওলার মতো তেড়ে বেড়াচ্ছে । যেখানেই যাও
নিস্তার নেই। চিট মিটিয়ে তাড়া করবে।(আগামি সংখ্যায় সমাপ্য)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×