
মদ জুয়ার আসর টার্গেট নয়। কিংবা টার্গেট নয় কোনো উদ্যাম নৃত্যের কনসার্ট। সারাদেশে মনে হয় পুলিশ এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে তাফসীর মাহফিল। বর্তমান সরকার মতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অজুহাতে অসংখ্য তাফসীর মাহফিল বন্ধ করে দেয়ার খবর মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই অবগত। কোথাও তাফসীর মাহফিলে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় পাল্টা সমাবেশ ডেকে পুলিশ কতৃক ১৪৪ ধারা জারি করে, আবার কোথাও সরাসরি পুলিশি বাধা দিয়ে এসব তাফসীর মাহফিল পন্ড করে দেয়া হয়েছ্।ে এমনকি ঐ বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা গত বছরে সাভারে চরমোনাই পীর ভক্তদের একটি তাফসির মাহফিলের প্যান্ডেল পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দেশের যে সকল জায়গায় তাফসীর মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সে সকল স্থানে যে কোন ধরনের মেলার আয়োজনে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অন্তত আমরা সংবাদ পাইনা, কোন মদ-জুয়ার আসরের প্যান্ডেল ঐ বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মীরা গুড়িয়ে দিয়েছে কিংবা সেখানে তারা পাল্টা সমাবেশ ডেকেছে এ ধরনের সংবাদ অন্তত আমরা মিডিয়াতে পাইনা।
কিন্তু তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে তাফসীর মাহফিল তাদের টার্গেট কেন? বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে, পীর-আওলিয়ার বাংলাদেশের শত বছরের ঐতিহ্য এইসব ওয়াজ কিংবা তাফসীর মাহফিল। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের ধর্মীয় আবেগ অনুভুতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এই মাহফিল গুলো। দেশে যেখানে ধর্মীয় অনুভুতির ঠুনকো অভিযোগে মামলা হয়, গ্রেপ্তার করা হয়, সেখানে এদেশের তৈহিদী জনতার হৃদয়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আঘাত দেয়ার বিরামহীন ঘটনা এ দেশের তৌহিদী জনতা বরদাশত করবেনা। ইসলাম সম্পর্কে খুটিনাটি বিষয়ে অবগত হয়ে জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার সুযোগ একজন মুসলিম যেভাবে এ সকল তাফসীর মাহফিল থেকে পেয়ে থাকেন তেমনি ইসলাম সম্পর্কে জেনে বুঝে অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে দীতি হওয়ার সুযোগও এই সকল তাফসীর মাহফিলগুলো থেকে অমুসলিমরা পেয়ে থাকে।

এসকল তাফসীর মাহফীল শেষে অসংখ্য অমুসলিম নর-নারীর ইসলাম গ্রহন করার বহু নজীর এদেশে রয়েছে। তাহলে টার্গেট করে এ সকল তাফসীর মাহফিল বন্ধ করে দিয়ে সরকার বা বিশেষ ঐ রাজনৈতিক মহল ইসলামের প্রচার এবং প্রসারে প্রত্য কিংবা পরো ভাবে বাধা দিচ্ছেন এ কথা ধরে নেয়া কি অমুলক হবে। এদেশে অন্যান্ন ধর্ম নির্ভিগ্নে প্রচার করা হচ্ছে তাতে কোন বাধা আমরা দেখিনা। বাধা শুধু ইসলাম প্রচারের এই মাহফিলগুলোতে। গত ১২ এপ্রিল দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ২য় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয় রংপুরের পীরগাছায় তাফসীর মাহফিলে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে বিশেষ ঐ রাজনৈতিক দলটি। আর এতে সহোযোগিতা করেছে পুলিশ। ঠিক ঐদিনের পত্রিকার ১৫তম পৃষ্ঠায় আরেকটি নিউজ ছাপা হয়েছে যাতে লেখা হয়েছে পিরোজপুরের জিয়ানগরে তাফসীর মাহফিলে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন আলেমের জন্য দোয়া করায় এক মুফাস্সিরকে আটক করেছে পুলিশ। একই দিনের পত্রিকার ১৩তম পৃষ্ঠায় নাটোরের লালপুরে তাফসীর মাহফিল হতে দেয়নি পুলিশ শিরোনামে আরেকটি নিউজ ছাপা হয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর চারঘাটে তাফসীর মাহফিল থেকে মুসল্লিদের পিটিয়ে বের করে দেয়ার পাশাপাশি টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিপে করে পন্ড করে দেয়ার ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। একই দিনে ৩ টি স্থানে তাফসীর মাহফিলে বাধা প্রদান সারাদেশের কুরআন বিরোধী প্রপাগান্ডার প্রতিচ্ছবির একটি অংশ। কুরআনের তাফসীরের আয়োজন করলে পরিস্থিতির মারাতœক অবনতি হবে পুলিশের প থেকে এ সব কল্পিত অভিযোগ কোন সভ্য সমাজ বিশ্বাস করতে পারেনা। তাফসীর মাহফিলের বিরোধীতা কারীরা আসলে কি চায় তা জাতীর সামনে আজ পরিস্কার। যে গ্রন্থের আলোক স্পর্শে আরবে অন্ধকার দুরভিত হয়ে একটি আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সে গ্রন্থের ছোঁয়ায় আমাদের সমাজও আলোকিত হোক আসলে তারা তা চায়না বলেই তাফসীর মাহফীল তাদের টার্গেট। তাদের টার্গেট যখন তাফসীর মাহফীল তখন এদেশের তৌহিদী জনতার ঘুমিয়ে থাকার সামান্য সুযোগও আছে বলে মনে হয়না।
Link- View this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

