আরও খবর জানতে ক্লিক করুন বাংলাদেশের শেয়ারবাজার
১৩ কোম্পানির লেনদেন স্থগিত:
অস্বাভাবিক হারে দর বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৩ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। মঙ্গলবার কমিশনের বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টায় এসব কোম্পানির লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- সোনালী আঁশ, মিথুন নিটিং, তাল্লু স্পিনিং, সিএমসি কামাল, সাফকো স্পিনিং, মিরাকল ইন্ড্রাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, আজিজ পাইপ, বাংলাদেশ অটোকারস, ইউনাইটেড এয়ার, দেশ গার্মেন্টস, ঢাকা ডাইং ও এম্বি ফার্মা।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, অস্বাভাবিক হারে দর বাড়ায় ১৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন এসব কোম্পানির শেয়ারের দর গত কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলছে। অবশ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তরফ থেকে প্রথমে একদিনের জন্য লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার সংশোধন করে বলা হয়েছে- পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব কোম্পানির লেনদেন বন্ধ থাকবে।
দেখা গেছে, পাট খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোনালী আঁশের শেয়ার গত ৭ কার্যদিবসে দ্বিগুণ বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ১২৫ টাকায় সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে। অবশ্য এটি ’এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি।
তবে কিছু দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি লোকসানে থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডাদের কোনো ধরণের লভ্যাংশ দিতে পারছে না। এদের মধ্যে ’জেড’ ক্যাটাগরির আজিজ পাইপ ২০০২ সাল থেকে কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিচ্ছে না। এরপরেও গত ৪ কার্যদিবসে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই কোম্পানির শেয়ারের দর ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮৮ টাকায় উন্নীত হয়। অন্যদিকে তাল্লু স্পিনিং কোম্পানিটি ২০০৭ সাল থেকে কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না। এরপরও গত ৬ কার্যদিবসে এই কোম্পানির শেয়ারের দর দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১ হাজার ২২২ টাকায় উন্নীত হয়।
অন্যদিকে জেট ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত সাফকো স্পিনিং লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ার গত ৫ কার্যদিবস আগে ৫০০ টাকায় লেনদেন হলেও মঙ্গলবার লেনদেন বন্ধ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ৮৯৮ টাকায় লেনদেন হয়।
১২ কোম্পানিকে ডিএসইর জরিমানা:
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১২টি কোম্পানিকে জরিমানা করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- বিকন ফার্মা, ডেল্টা স্পিনিং, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, দেশ গার্মেন্টস, ইস্টার্ন ক্যাবল, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, পদ্মা অয়েল, কোহিনুর কেমিক্যাল, সোনালি আঁশ ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। নির্ধারিত সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ১৫ নভেম্বর থেকে প্রতিদিনের জন্য প্রতিটি কোম্পানিকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
জানা গেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৬৩টি কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় তাদের জন্য জুন মাস পর্যন্ত সময় বাড়ায় ডিএসই। পরে ৫১টি কোম্পানি পুনর্নিদ্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া বাকি ১২টি কোম্পানির জন্য ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত আবার সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কোম্পানিগুলো আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। তাই আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া পর্যন্ত এসব প্রতিটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

