somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের সন্তানরা, শয়তান হয়ে যাওয়ার জন্য মা-বাবারাই অনেকাংশে দায়ী!!

১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস্তবতা-১

বুয়েটের আশেপাশের একটি গালর্স কলেজ। এখানে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিছুদিন আগে একজন ছাত্রী তার বয়ফ্রেন্ড কে অশ্লীল ম্যাসেজ পাঠানোর সময় শিক্ষকের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ে। তারপর........ ঐ স্কুলেরই ক্লাস সিক্সের এক ছাত্রী টিচারকে একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে বলে- স্যার আই লাভ ইউ। শুনে টিচারের গায়ে জ্বড়ের পরিমান ১০২০।

বাস্তবতা-২

এবার ইন্টার দিলো এরকম এক ম্যাডাম পড়ায় নার্সারীর এক বাবুকে। পড়ানোর ৪র্থ দিন সেই বাবু তার প্যান্টের জিপার খুলে বলে ম্যাডাম এটা কী জানেন? এর আগে ২য় দিন বলে ম্যাডাম আপনি আমার আপুর ম্যাডামের চেয়ে সুন্দর।

এগুলো বাস্তব খন্ডচিত্র। বর্তমানে দেখা যায় ক্লাস থ্রি বা ফোরের মেয়ে মার মত জিনিস না হলে খাওয়া দাওয়া বন্ধ। এরকম আরও কিছু অসঙ্গতি পরিবারগুলোতে চোখে পড়ে। ক্লাস সিক্স-সেভেনের ছেলেরা স্কুলের ছাদে ধুমছে গাজা টানছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো এদের ভদ্র-রুচিশীল, নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব কাদের??
আজকে যে এর-ওর নগ্ন ভিডিও চিত্র নিয়ে ব্লাকমেইল করা হচ্ছে, পরিণতিতে মা-বাবার কাছে মুখ দেখানোর ভয়ে করছে আত্মহত্যা এর দায়ভার কে নেবে?? এই ভয়, এই লজ্জাগুলো আগে থেকে কেন জাগ্রত হয় না??

আমি মনে করি এর সিংহভাগ দায়ভার তার বাবা-মার। পরিবেশ খারাপ করে, ভাল করে মানি। কোন পরিবেশ কেমন, এক এক পরিবেশের সুফল-কুফল সম্বন্ধে শিক্ষা তো বাচ্চারা পরিবার থেকে পাবে।

চরিত্রহীন বলতে যে শুধু লাম্পট্যকে বোঝা যায় না- মিথ্যা কথা বলা, ঘুষ খাওয়া, দূর্নীতি করা, মানুষ ঠকানো এদেরকেও চরিত্রহীন বলে এ শিক্ষা তো পরিবার তথা বাবা-মা দিবে।

...........................................................
এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে আলোকপাত করছি। বর্তমানে একটি পরিবারকে ব্লাকমেইল করার নতুন পন্থা হলো- পরিবারের মেয়েটির সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে। তারপর অশ্লীল সম্পর্ক স্থাপনের পর সেই ভিডিও চিত্র নিয়ে বাজারে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী। পরিণতি সেই মেয়েটির আত্মহত্যা। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা। স্বামীর যৌতুকের জ্বালা সইতে না পেরে আত্মহত্যা।

আত্মহত্যা কখনোই কোনো সমাধান নয়। আবেগের চাপ যত বেশিই হোক না কেন, তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে নিজের জন্যই। বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও শিক্ষার্থী উপদেষ্টা আকিব উল হক। তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যা রোধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে পরিবার। বন্ধন যত শক্ত হবে, আত্মহত্যার হারও তত কমবে। মনের চাপ থেকে সৃষ্ট আত্মহত্যার প্রবণতা এড়াতে আকিব উল হকের পরামর্শ হলো—
** অভিভাবকেরা সন্তানের জীবনের খাতিরে বন্ধুত্বপূর্ণ হোন। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, জানতে চান বন্ধুর মতো, হাসিমুখে।

** সন্তানের প্রতি মনোযোগ দিন, নিজ থেকে কথা বলুন, কুশল জিজ্ঞেস করুন, ভুলগুলো শুধরে দিন কোমলভাবে, যেন সে ভুল থেকে শিক্ষাটা গ্রহণ করে, হতাশা নয়।
** ছোট ছোট সাফল্যে নিজেই নিজেকে অভিনন্দিত করুন। নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে ভাবুন।
** নিজেকে সামলানো অসম্ভব হলে কথা বলুন মন খুলে। আলোচনা করুন। চাপটা হালকা হয়ে যাবে।
** পড়ুন, যত বেশি পড়তে পারেন। গল্প, উপন্যাস, কবিতা কিংবা পত্রপত্রিকা।
** নিজের জীবনের একটি লক্ষ্য ঠিক করে রাখুন। সেই লক্ষ্যটিকে ভালোবাসুন।আবেগের চাপেও লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে সরে আসবেন না—এ মনোভাব ধরে রাখুন।
**নিজেকে ভালোবাসুন, সবচেয়ে বেশি সম্মান দিন। অন্যের কথায় নয়, নিজের ভালো কাজগুলো দিয়ে নিজেই নিজেকে মূল্যায়ন করার অভ্যাস করুন।
** কোনো কিছুতেই সফল না হলে মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য নিন। তবু নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন, পরিবারের জন্য হলেও।

ইডেনের ছাত্রী টুম্পার শেষ লেখা দিয়েই শেষ করি। টুম্পা লিখেছিলেন, ‘কেউ অপরাধ করে শাস্তি পায়। আর কেউ না করে। আমি কি অপরাধ করে শাস্তি পেলাম? না অপরাধ করেই এত বড় শাস্তি পেলাম?’

ভালোবাসা অবশ্যই কোনো অপরাধ নয়। একজনের ভালোবাসা হারিয়ে মা, বাবা কিংবা বন্ধুবান্ধবের ভালোবাসা ভুলে আত্মহত্যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আপনি বাঁচলেই হাজার টুম্পাকে বাঁচাতে পারবেন। আপনাকে দিয়েই শুরু হোক টুম্পাদের নতুন জীবন।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×