somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্বালানি ছাড়াই চলবে ইউসুফের আবিষ্কৃত অটো জেনারেটর

১৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন প্রকার জ্বালানি ছাড়াই চলবে মোহাম্মদ ইউসুফের আবিষ্কৃত অটো জেনারেটর। মাত্র ১০ লাখ টাকা খরচে তৈরি উক্ত জেনারেটরে উৎপাদিত হবে ১০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। মাত্র ৭ সপ্তাহে তৈরি উক্ত জেনারেটরে রয়েছে ৫০ বছরের গ্যারান্টি। হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে চালু করার পর ওই জেনারেটর নিজ থেকেই চলবে দিনের পর দিন। দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের সময় এই জেনারেটর সাব-স্টেশনে বসিয়ে সহজেই ১০ গুণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা যাবে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানাধীন লতিফপুর কালুরবাড়ির ৫৫ বছরের বৃদ্ধ ইউসুফ তার আবিষ্কৃত জেনারেটর বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে গত দশ বছর জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে ফিরছেন। তার প্রযুক্তিটি বর্তমানে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবসি'ত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি পরিচালকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। জানা যায়, মোহাম্মদ ইউসুফ একাধিক ছোট ছোট জেনারেটরের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী যন্ত্রটি ১৯৯৯ সালে আবিষ্কার করেন। নিজের আবিষ্কৃত স্বয়ংক্রিয় জেনারেটর দিয়ে তিনি ৮ নম্বর হোলার বিশিষ্ট একটি ধানভাঙার কল চালু করে একাধারে ১০০০ কেজি ধান ভাঙার কাজ করেন। পরবর্তীতে জেনারেটরটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য দীর্ঘ দশ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়ে ফিরছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে জেনারেটর তৈরির মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। তাছাড়া নিজের অর্থ দিয়ে জেনারেটর তৈরি করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে রেজিস্টার্ড ট্রেড মার্ক নিতে হয়। আমার প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকায় ট্রেডমার্ক নিতে গিয়ে আমি পদে পদে বাধাগ্রস্ত হই। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে যন্ত্রটি তৈরি করতে সর্বপ্রথম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করি। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে তাতে কোন সুফল না পাওয়াতে ২০০৭ সালের ২০ মার্চ নিজে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা তপন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে যাই। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পাশ পেতে ব্যর্থ হয়ে গেটের পুলিশকে অনেক অনুনয় করে ভিতরে গিয়ে উপদেষ্টার অফিস সহকারীর সাথে দেখা করলে তিনি কোন কথা শুনার আগেই অবৈধভাবে সচিবালয়ে প্রবেশ করার অপরাধে আমাকে পুলিশে সোপর্দ করার কথা বলেন। পুলিশে যাওয়ার ভয়ে উনাকে অনেক অনুরোধ করে সচিবালয় ছেড়ে বাড়িতে চলে আসি। পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল পাস নিয়ে সচিবালয়ে গিয়ে শুনলাম জ্বালানি উপদেষ্টা দেশের বাইরে। পরবর্তীতে আমার প্রযুক্তি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সবার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহবান করলে আমি একটি আবেদন করি। উক্ত আবেদনের ভিত্তিতে জয়দেবপুর মেশিনারী ট্যুলস ফ্যাক্টরিতে নিজের প্রযুক্তি উপস'াপনের সুযোগ পাই। কর্তৃপক্ষ আমার প্রযুক্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তিটি আরও আধুনিক করতে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির পরিচালক লে. কর্নেল আনোয়ার হোসেন কাজ করেন। বর্তমানে উক্ত জেনারেটর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য ট্রেড মার্ক নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, টাকার অভাবে আমি উক্ত জেনারেটর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে পারছি না। দেশের কোন শিল্পপতি বা ব্যাংক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করলে সহজেই জেনারেটর তৈরি করে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটানো সম্ভব। এই প্রসঙ্গে গতকাল লে. কর্নেল আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রযুক্তিটির যথাযথ ব্যবহার সম্ভব হলে জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে একটি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। তবে প্রাথমিক দিকে প্রযুক্তিটি পরীক্ষা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার বা ইউসুফ সাহেবের নেই। আমরা এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যথাযথ সহযোগিতা কামনা করছি। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেন, শক্তি ছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের জেনারেটর আবিষ্কার সম্ভব নয়। আমরা ইতোপূর্বে স্বয়ংক্রিয় জেনারেটর আবিষ্কারের বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় পড়েছি। মোহাম্মদ ইউসুফ তার আবিষ্কারের পদ্ধতিটি নিয়ে চুয়েট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে যথাযথ সাহায্য প্রদান করা হবে।



৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×