সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিধি নিষেধের জন্য রাজনৈতিক টক শোগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও অন্য টক শোগুলো কিন্তু ঠিকই চালু রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে অনেক সময় যেটি দৃষ্টিকটু হিসেবে ফুটে ওঠে তা হলো টক শোগুলোতে সঞ্চালকের ভূমিকা কতোখানি থাকবে তা যখন সঞ্চালক নিজেই বুঝতে অপারগ হন। এটা সত্যি যে একটি টক শোর সফল পরিসমাপ্তি অনেকখানিই নির্ভর করে সঞ্চালকের ওপর। সঞ্চালকের সাবলিন ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা এ ক্ষেত্রে মুখ্য।
কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটে যখন সঞ্চালক নিজেই দর্শকদের বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে রয়েছে পুরো অনুষ্ঠানে নিজের প্রাধান্য বজায় রাখার জন্য সঞ্চালক নিজেই যখন মাত্রাতিরিক্ত ভূমিকা রাখা শুরু করেন বা বিতর্কিত বিষয়কে নিজেই আলোচনায় তুলে এনে টক শোকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন।
অনেক সময় বিপরীত রাজনৈতিক ঘরানার ব্যক্তিদের মধ্যে বিতর্কিত বিষয়কে তুলে আনলে অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর দৃশ্যের অবতারণা ঘটতে পারে। ব্যক্তি কেন্দ্রিক মৌলিক বা শারীরিক আক্রমণ ও অস্বাভাবিক নয়। সঞ্চালকের ক্ষেত্রে উচিত বিতর্কিত বিষয় আলোচনায় চলে এলে তা যাতে কোনো অপ্রীতিকর অবস্থার দিকে যেতে না পারে তার দিকে খেয়াল রাখা।
আবার সঞ্চালক যখন নিজেই মূল বক্তা হয়ে যান তখনো কিন্তু দর্শকরা হন বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। বিষয়ভিত্তিক টক শোগুলোতে যাদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় তারা নিঃসন্দেহে সেই বিষয়ের ওপর অভিজ্ঞ। এ জন্য দর্শকরা তাদের কথাকেই গুরুত্ব দেয় বেশি। সঞ্চালক যদি সেই বিষয়ে এক্সপার্টও হন তবু তার উচিত নয় মুখ্য বক্তার ভূমিকায় নামা। কারণ তার কাজ এটা নয়।
আবার অনেক অতিথি ও দর্শক নিয়ে টক শো পরিচালনা করা হলে সঞ্চালকের জন্য পুরো ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবিকই বেশ কঠিন। তবে এ কঠিন বিষয়কে টেকেল করতে গিয়ে সঞ্চালকই যদি টক শোতে মূল ফোকাস হয়ে পড়েন তখন তা হয় বিরক্তিকর।
উদাহরণ স্বরূপ, বাংলাভিশনে প্রচারিত আগামীর কণ্ঠ শিরোনামের টক শোতে সঞ্চালকের ভূমিকায় পুরো অনুষ্ঠানে মূল হয়ে ওঠে, অতিথি দর্শকরা হয়ে পড়েন গৌণ। এতে করে দর্শকরা পরেবর্তী সময় সেই অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলাটা স্বাভাবিক।
সুতরাং টক শোর সঞ্চালকদের উচিত পুরো অনুষ্ঠানে নিজের ভূমিকা যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখা। এতে করে দর্শকরা টক শোর প্রতি আরো বেশি আগ্রহী হবে বলে আশা করা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


