কত ফাগুন আসবে-যাবে..... প্রেমের ক্ষেত্রেও হয়তো ফাগুনে বাতাসের দোলা লাগবে......তবে তাই বলে কি ভালোবাসাকে ভুলে যাওয়া সম্ভব। আনমনেই ভাবছিলো তন্ময়। ভাবনার দোলা চলে কখন যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে এসেছে খেয়ালই করেনি।
আরেকবার ভালো করে ভেবে দেখে পাশের বাড়ির রুমকিকে বলাটা আদৌ ঠিক হবে কিনা। ভাবার এক পর্যায়ে ঝারা দিয়ে ওঠে তন্ময়। এতো দেরী করাটা আসলেই বোকামী। কারণ আজ বাদে কালই রুমকীরা বাসা বদল করে চলে যাবে অন্য এলাকায়। সেই এলাকাটা আবার ভালো করে চেনেও না তন্ময়। সুতরাং ঠিক করলো যা করার আজ রাতেই করতে হবে। রুম থেকে চুপি চুপি বের হয়ে ড্রয়িং রুমে রাখা ডেইলি পত্রিকায় চোখ বোলানো ভান করে ওয়েট করতে থাকে কখন সবাই একটু ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
অথচ আজ যেন তন্ময়ের কপালে আসলেই মন্দা লেখা ছিলো। কারণ রোজ সন্ধ্যা ৭টা বাজলেই বাবা বাসা থেকে বের হয়ে হাঁটতে যান। ৪৫ বছরের শরীরের প্রতি বাবার এই যত্নের কারণ ডায়াবেটিকসের প্রভাব। বড় কেবল এক বোন, অনার্সের শেষে তারও বিয়ে হয়ে গেছে গত বছরের শীতে। তন্ময় ভাবে অনার্স শেষ করতে ওরও তো বাকী দু'বছর। এর পরই তো মা পেছনে উঠে পড়ে লাগবে বিয়ের জন্য।
ইস্, আচমকা বিয়েটা যে কি বেরিং! চেনা নেই, জানা নেই অচেনা এক মেয়ের সাথে কোন পূর্ব পরিচয় ছাড়াই এক সাথে থাকতে হবে। ইচ্ছের কোন মূল্য সেখানে নগন্য!
ঘড়ির কাঁটা যখন ৮টার ঘর ছুঁই ছুঁই করছে, তখনই দেবদূত হয়ে এলো রাসেল। কলিং বেলের আওয়াজ তন্ময়ের কাছে প্রায় সময়ই বিরক্ত লাগলেও দরজা খুলে রাসেলকে দেখে ওর কাছে এই আওয়াজই মনে হলো কোকিলের ডাক!
রাসেল কোন কথা বলার আগেই আগ বাড়িয়ে তন্ময় বলে ফেললো, 'ও তুই এসেছিস। চল তাড়াতাড়ি।'
সামনে তন্ময়ের বাবা ও রাসেল দুজনেই অবাক হলো তন্ময়ের কথা শুনে। বাবা বললেন, 'এতো রাতে কোথায় যাবি?'
রাসেল কিছু বলার আগেই তন্ময় বললো, 'আমার কিছু নোট ফটোকপি করে নেবে ও।'
বাবা বললেন, 'রাসেল তো একাই ফটোকপি করতে পারবে?'
'না, ও বুঝবে না কোনটা কোনটা লাগবে,' প্রতিউত্তর দেয় তন্ময়।
'ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আসিস,' এ কথা বলেই বাবা মন দিলেন ডেইলি পত্রিকায়।
বাবার সম্মতি পেয়ে রাসেলকে একটু অপেক্ষা করতে বলেই দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে মানিব্যাগটা ব্যাক পকেটে গুঁজেই রাসেল কে নিয়ে নেমে এলো দোতলা থেকে বাড়ির সামনের রাস্তায়। কিংকর্তব্যবিমুঢ রাসেলকে সংক্ষেপে নিজের মনের অবস্থা জানালো তন্ময়।
রাসেল পরামর্শ দিলো রুমকিদের বাসায় গিয়ে ওদের নেক্সট বাসার ঠিকানা আনতে। কিন্তু রাসেলের এই পরামর্শ আমলে নেবার আগ্রহ দেখালো না তন্ময়। কারণ, আগামীকাল যেহেতু রুমকীরা বাসা চেঞ্জ করবে, তাই বাসার পার্সনরা ছাড়াও অন্য আরো অনেকে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
শেষতক ভেবে একটিই পথ দেখলো তন্ময় যে, রুমকীদের বাসার বারান্দায় গিয়ে ওকে মনের কথা বলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। কিন্তু পাইপ বেয়ে দোতলায় ওঠার ঝুঁকি নিতে না করে রাসেল জোর আপত্তি জানিয়ে বললো, 'সামান্য একটা মেয়ের জন্য এত বড় রিস্ক নেয়াটা কি ঠিক?'
তন্ময় হেসে বললো, ' যার কাছে এ জীবনটাই জমা রেখে দিয়েছি, তার জন্য ঝুঁকি নেবো না তো, কার জন্য নেবো?'
তন্ময়ের এ কথার জবাব খুঁজে পায় না রাসেল, শুধু ম্লান হেসে বলে, 'এতো দিনে বুঝলাম ভালোবাসা কেন এতো দামী।'
[ পরিশিষ্ট : না, সেদিন তন্ময়কে ফিরিয়ে দেয় নি রুমকী। বাঁধা পড়েছিলো তন্ময়ের ভালোবাসার বাঁধনে। কারণ, অজান্তেই যে ওরা জেনেছিলো, যাকে ভালোবাসা হয়, তাকে যে ভালোবাসা ফেরত দিতে হয়। এবং পরিমাণে একটু বেশিই ভালোবাসা চলে যাও প্রিয়জনের কাছে। ]
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



