আমাদের দেশের মিডিয়া অঙ্গনে ‘আলোচিত’ ও ‘বিব্রতকর’ সাম্প্রতিক বিষয় হলো ‘মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল’। বিষয়টিকে ‘বিব্রতকর’ বলছি একারণেই যে, বাইরের দেশগুলোর মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল তাদের মিডিয়ার অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হলেও আমাদের দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বলয়ে এটি এখনও প্রাসঙ্গিক নয়। ফলে পাঠক, দর্শক ও মিডিয়া অঙ্গনে স্ক্যাণ্ডালের গ্রহণযোগ্যতার কোন মাপকাঠি এখনো গড়ে ওঠে নি।
অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল তৈরি হচ্ছে। এই তালিকায় অভিনেতা-অভিনেত্রী-উপস্থাপক-পরিচালকসহ অনেক ক্যাটেগরির মিডিয়া তারকারাই রয়েছেন। এতে করে মিডিয়ার যেমন ইমেজ সংকট হচ্ছে তেমনি সাধারণ মানুষজনও মিডিয়া সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করছেন। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রসারের ফলে মেধাবী ছেলে-মেয়ের মধ্যে মিডিয়াতে কাজ করবার মানুষিকতা তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকরাও তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেও উৎসাহিত করছেন। কিন্তু একের পর এক মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল প্রকাশ হওয়ার ফলে মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রটি নতুনদের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকরা সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যাচ্ছেন।
মিডিয়াতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্মরতরা ভাল করেই মিডিয়ার হালচাল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন। ফলে কোন ব্যক্তির নীতি নৈতিকতার কোন সমস্যা থাকলে তা সকলের জানতে বা সকলের মধ্যে প্রচার হতে সময় লাগে না। কিন্তু সমস্যা হয় নতুনদের ক্ষেত্রে। নতুন একটি ছেলে বা মেয়ে যখন সেই ব্যক্তিটির নৈতিক ভাবে দুর্বল ভিত্তিটি আবিষ্কার করতে পারে তখন স্বাভাবিক ভাবেই মিডিয়াতে কাজের প্রসঙ্গটি তার কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে শুরু করে। ফলে অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের মত সেটি আর বিবেচিত না হয়ে বরং ব্যক্তির নোংরামির স্থান হিসেবে আরোপিত হয়। যা নতুনদেরকে মিডিয়াতে আসতে পরোক্ষভাবে বাঁধা দেয়। এই পরোক্ষ হিসেবটিকে মিডিয়ার প্রকাশ্য স্ক্যাণ্ডাল বহির্ভূত ক্ষতি হিসেবে ধরা যেতে পারে।
অন্যদিকে প্রকাশ্য স্ক্যাণ্ডাল বলতে বোঝানো হচ্ছে নৈতিকভাবে অবক্ষয় হয়েছে এমন মিডিয়া তারকাদের আমাদের দেশে একসেপটেবল নয় এমন ফটো, ভিডিও, অডিও ক্লিপিংস্ প্রভৃতিকে।
বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে মানুষজনের কাছে তথ্যের অবাধ প্রবাহ খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল ফটো, ভিডিও বা অডিও ক্লিপিংস্ সাধারণের হাতে চলে যাচ্ছে খুবই সহজে।
মিডিয়া তারকাদের প্রতি মানুষজনের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। ফলে এসব স্ক্যাণ্ডালের বিষয়ও প্রচার হতে খুব বেশি সময় লাগে না। আর এতে করে প্রতিক্রিয়াটা হয় অত্যন্ত বেশি। যদিও অধিকাংশ তারকাই প্রকাশ পাওয়া স্ক্যাণ্ডাল অস্বীকার করেন। তবে মানুষ এখন অনেক বেশি সজাগ। অন্যভাবে বললে, ঠিক-বেঠিক ধরতে তারা এখন আর বিশেষজ্ঞদের মতামতের অপেক্ষা করেন না। ফলে যে তারকার স্ক্যাণ্ডাল রটে যায় সেই তারকার ইমেজের ক্ষতি ছাড়াও মানুষজনের কাছে পুরো মিডিয়ারই ইমেজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে অন্যসব যারা স্ক্যাণ্ডালের বাইরে রয়েছেন তাদের উপরও এক ধরণের দোষ চলে আসে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কিছু সুযোগ-সন্ধানী মানুষের জন্য মিডিয়ার বদনাম হয়। এরা মিডিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নিজেকে ‘উৎসর্গ’ করে। তবে এর বিনিময়ে অর্থ আর খ্যাতি ছাড়াও যে বদনাম সে অর্জন করছে, সেটির ভাগীদার কিন্তু সকলেই হচ্ছে! এ কারণেই অল্প কিছু মানুষের বদনামের খতিয়াত দিতে হচ্ছে অন্য সকল মিডিয়া তারকা ও কর্মীদেরকে।
তাহলে অল্প কিছু মানুষের জন্য অন্যরা কেন ভিকটিম হবে?
মিডিয়ায় সুস্থ কাজের অন্তরায় সৃষ্টিকারী এই দৈত্যের বিনাশ কবে হবে?
বিষয়টি অবশ্যই সকলকে ভেবে দেখতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

