স্রষ্টার ভাব-ভক্তি-ভালোবাসা-সাধনা আর নির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে গড়ে ওঠে সৃষ্টি। বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম অলঙ্কার বাউল সাধক লালন। লালনের সৃষ্টিকর্ম আজ বিশ্ব নন্দিত। লালন-নজরুল গীতি আর রবীন্দ্রসংগীত বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে বিকশিত করেছে। বাউল-সাধকদের কাছে লালনের সৃষ্টিকর্ম ভক্তি-সাধনার স্থান দখল করে আছে। লালনসাধনা বাউল-সাধকদের পরম ধর্ম। সাধকলালনের সাধনালব্ধ সেই সম্পদকে 'লালন ব্যান্ড' বিকৃত করে চলেছে, লাঞ্চিত-অপমানিত করে চলেছে। লালন-নজরুল-রবীন্দ্রনাথ সকলেরই গানে রয়েছে আলাদা বিষেশত্ত, আলাদা ঢং, তাল-লয়-গাইকী। তাকে বিকৃত করা চলে না। তাদের সৃষ্টি কর্ম নিয়ে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলে সেখানে এদেশে সে সৃষ্টিকর্মকে ধর্ষণ করা হয়।
ধিক লালন ব্যান্ড, ধিক্কার দেই তোমার। তোমার যদি ব্যান্ডই ভালো লাগে তবে ব্যান্ড গুরু আজম খানের নামে 'আজম খান ব্যান্ড' কর না কেন? অথবা পারলে দেহতত্ত্ব ভিত্তিক নতুন গান সৃষ্টি করে তুমি তোমার সৃষ্টিকর্ম তোমার ঢংয়ে গাও। অর্থ কামাবার প্রলোভনে বাঙালি সংস্কৃতিতে এভাবে ধর্ষণ করো কেন? এ অধিকার তোমায় কে দিয়েছে?
দুর্নীতি-কুরাজনীতিতে আজ প্রগতির নেশায় মত্ত বাঙালি জাতি তথা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবসায়িক হয়ে উঠেছে। ব্যসায়িক হয়ে উঠেছে শিল্প-সংস্কৃতি। সেই নবাবী আমলে ব্রিটিশরা এদেশে এসেছিল ব্যবসা করতে, এদেশের প্রাচুর্য ও বাঙালি জাতির সরলতাকে পুজি করে তারা ভেঙ্গে দিয়ে গেছে আমাদের মেরেদণ্ড। ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানী থেকে শুরু করে আজকের অজস্র বিদেশি প্রতিষ্ঠান এদেশে এসে এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত ঝরা ঘামের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ পকেটস্ত করতে ব্যস্ত। তারা আমাদের দিতে নয়, নিতে এসেছে। তারা আমাদের দেশ প্রেম ও সংস্কৃতি প্রেমকে কাজে লাগিয়ে অর্থ লুটে নিচ্ছে। সম্প্রতি মোবাইল ফোন কোম্পানী বাংলালিংক বাউলসাধক লালনের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে তথা লালনগীতি নিয়ে হাবিবসহ কয়েকজন ব্যান্ড শিল্পিদের দ্বারা একটি এ্যালবাম বের করে জোরেসরে বাংলা সংস্কৃতি লালনের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। ধিক বাংলালিংক ধিক। ধিক্কার দেই তোমার।
প্রিয় পাঠক আপনারা আমার সাথে একমত হবেন কিনা জানি না, তবে এদের থেকে সাবধান হতে হবে আমাদের। কোনভাবেই লালন-নজরুল-রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্মকে ব্যান্ড-সেমিব্যান্ড-রিমিক্স কিংবা অন্য কোন পদ্ধতির ফ্রেমে ফেলা চলে না। লালন ব্যান্ডসহ ব্যান্ড শিল্পীদের বলবো আমরা ব্যান্ডকে অসম্মান করিনা পারলে আপনারা নতুন কিছু সৃষ্টি করুন বাউল-বাটিয়ালি-ভাওয়াইয়া-মুরশিদীসহ বাংলা সংস্কৃতির অলঙ্কারকে লাঞ্চিত করবেন না। জেমস-এর মতো আপনারাও ব্যান্ড সংগীত দিয়ে দেশের মান উজ্জল করুন এটাই আমার প্রত্যাশা। আপনাদের আলাদা একটা জগত রয়েছে আজম খান, জেমস, আয়ুব বাচ্চু'র মতো আপনারাও ব্যান্ড সংগীত দ্বারা বিখ্যাত হন। পারলে পপগুরু আজম খানের নামে 'আজম খান ব্যান্ড' করুন। তার সৃষ্টি কর্মতে প্রাণ সঞ্চার করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


