সন্যাসী নিকের আড়ালের মানুষটিকে জানার আগ্রহ দেখেছি অনেক ব্লগারদের মধ্যেই। বিশেষ করে বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডঃ ধর্মের নামে একটি জাতিকে মেধাশূন্য করা এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার অপমৃত্যু লেখাটির জন্য অনেক আস্তিক এবং ছাগুদের দলগত যৌথ আক্রমন প্রত্যক্ষ করেছি। নাস্তিকতা নিয়ে লেখালেখির জন্য অনেকের মধ্যে দেখেছি সন্যাসীর প্রতি আক্রোশ। ভালবাসাও পেয়েছি অনেকের। ব্লগিং করতে এসে পরিচিত হয়েছি অনেক ভাল মানুষের। ভার্চুয়াল থেকে সে সম্পর্কগুলো আজ ব্যক্তিগত সম্পর্কে মোড় নিয়েছে। কাছের বেশ কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, ব্লগে না আসলে কাছে থেকেও তাদেরকে চেনাই হতো না। তাই এবার নিজেকে তুলে ধরার প্রয়াশ নিলাম।
ব্লগে এখন নাস্তিকতাবাদ বেশ জনপ্রিয়ই হয়ে উঠেছে বলা যায়। বিশেষ করে ছাগুদের তাড়াতে নাস্তিকতাবাদ অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে। নাস্তিকরা বাই ডিফল্ট ছাগুবিরোধী। নাস্তিকদের সাথে নাস্তানাবুদ হয়ে পোস্ট দিয়ে ছাগুদের গণহারে ব্লগ থেকে চলে যাওয়ায় স্লোগানটা বেশ উপভোগ্যই ছিল। এখনও ছাগুরা কিছু ম্যাৎকার দেয় মাঝে মাঝে তবে তাদের আগের মত সরব উপস্থিতি তেমন দেখা যায় না। নাস্তিকদের নামের তালিকা, কখনো ছবিসহ ব্যক্তি আক্রমনাত্মক পোস্টও দেখেছি। যারই রিভার্স হিসেবে ব্লগার শয়তান যখন নিজের ছবিসহ নিজেই পোস্ট দিয়েছিল তখন দেখেছি ছাগুদের আরেকবার নাস্তানাবুদ হতে।
নিজেকে প্রকাশ করার তাগিদ অনুভব করছিলাম অনেকদিন থেকেই। কিন্তু মেইল এবং মোবাইল নম্বরের জন্য খোলা হচ্ছিল না। এবার নতুন একটা মেইল খুললাম। তারপর রেজিষ্ট্রেশন। আমাদের নিজেদের প্রকাশ করার সময় এসেছে এখন। স্বাধীনতার এই মাসে আমরা অঙ্গুলি নির্দেশে চিহ্নিত করিয়ে দিতে চাই কারা ছাগু? কেন তারা ছাগু হয়? কিভাবে ইতিহাসের অজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রমাগত ছাগুর উৎপাত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে? যা হোক সে বিষয়ে পরে পোস্ট আসছে। এখন নির্মলেন্দু গুণের একটা কবিতা পড়ুন।
===============================
স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো-নির্মলেন্দু গুণ
একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’
এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,
এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না,
এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না৷
তা হলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?
তা হলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে
ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হদৃয় মাঠখানি?
জানি, সেদিনের সব স্মৃতি ,মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত
কালো হাত৷ তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ
কবির বিরুদ্ধে কবি,
মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,
বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,
উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,
মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ … ৷
হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,
শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি
একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে
লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প৷
সেই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর৷
না পার্ক না ফুলের বাগান, — এসবের কিছুই ছিল না,
শুধু একখন্ড অখন্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত
ধু ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়৷
আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল
এই ধু ধু মাঠের সবুজে৷
কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,
পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক৷
হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,
নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুণ কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে
আর তোমাদের মত শিশু পাতা-কুড়ানীরা দল বেঁধে৷
একটি কবিতা পড়া হবে, তার জন্যে কী ব্যাকুল
প্রতীক্ষা মানুষের: “কখন আসবে কবি?’ “কখন আসবে কবি?’
শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷
========================

সবাই ভাল থাকুন। শুভ ব্লগিং।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


