somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস (৮ম পর্ব - যুদ্ধের বিভীষিকা)

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



৭ম পর্ব পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস (৭ম পর্ব - পশ্চিম ফ্রন্টে ট্রেঞ্চ যুদ্ধ)

সেপ্টেম্বর, ১৯১৫। এই সময়ের মধ্যে পুরো বিশ্ব রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। জার্মানী, অস্ট্রিয়া, তুর্কিরা ইউরোপের পূর্বে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। দক্ষিনে ইটালী, চেকরা যুদ্ধে লিপ্ত জার্মানী, অস্ট্রিয়ার সাথে। পশ্চিমে বৃটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম যুদ্ধরত জার্মানীর সাথে। কলোনীগুলিতেও বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানী যুদ্ধরত। এশিয়াতে জাপান চীনে আগ্রাসী ভূমিকায়। এরকম অবস্থায় প্রতিদিন অগুণিত সৈন্য-বেসামরিক মানুষ নিহত, আহত হচ্ছে।

পশ্চিম ফ্রন্টে ট্রেঞ্চ যুদ্ধে তিন লাইনের ট্রেঞ্চ রয়েছে। প্রথম লাইন হচ্ছে ফ্রন্ট লাইন, এখানে আর্টিলারি ওয়েপনস আর রাইফেল,মেশিনগান হাতে সৈন্যরা শত্রুদের ফ্রন্ট লাইন ধ্বংসে অবিরত ফায়ারিংয়ে লিপ্ত। এরপরের লাইন হচ্ছে সাপ্লাই লাইন, যেখানে ফ্রন্ট লাইনের সৈন্যরা তাদের অস্ত্র-রসদ শেষ হলে নিহত-আহত সাথীদের সহ ফিরে আসে আর নতুন সৈন্য-রসদ ফ্রন্ট লাইনে মোতায়েন করা হয়। আর শেষ লাইন হচ্ছে রির্জাভ লাইন, এখানে নতুন আগত সৈন্য ও রসদ জমা করা হয় সাপ্লাই লাইনে সরবরাহ বজায় রাখার জন্য। ফ্রন্ট লাইন হচ্ছে বিভীষিকার নামান্তর, মৃত্যু এবং নরক যন্ত্রণা বিরাজমান এই লাইনে। মাইলের পর মাইল কাঁটাতারের বেড়া আর প্রতি মুহূর্তে বুলেট,শার্পনেলে লুকানো মৃত্যু বার্তা। শার্পনেলের হাত থেকে বাঁচতে সব সৈন্যদের ভারী হেলমেটে মাথা ঢেকে রাখতে হয়। কিন্তু যখন ট্রেঞ্চ থেকে বের হয়ে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয় তখন রাইফেল,মেশিনগানের হাত থেকে বাঁচতে আর কোন আচ্ছাদন থাকে না। এর সাথে যুক্ত হয় ক্লোরিন, মাস্টার গ্যাস প্রভৃতি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার। ইঁদুর, মশা, মাছির আক্রমণে ম্যালেরিয়া, স্ক্যাবিস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এই মানবেতর জীবনে অনেক সৈন্যই পিঁছু হঠতে বাধ্য হয়, কিন্তু পিঁছু হঠলে কোর্ট মার্শালের সাজা। সুতরাং সামনে মৃত্যু, পিছনেও সাজার ভয়।এর মধ্যে অনেক যুদ্ধক্ষেত্রেই সৈন্যরা বিদ্রোহ করে।

কিন্তু জেনারেল আর শাসকগণের এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তাদের লক্ষ্য যে করেই হোক যুদ্ধ জয়। তাদেন বিলাসী জীবনে কোন পরিবর্তন আসে না। কিন্তু সাধারণের জীবন ততদিনে বিপর্যয়ের শেষ সীমায়। এরকম পরিস্থিতিতে চলতে থাকে জীবন ও সম্পদের বিনাশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আড্ডার সেই বেঞ্চটা আজও অপেক্ষায়।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:০৯

আড্ডার সেই বেঞ্চটা আজও অপেক্ষায়

২০০৫ সাল।
বিকেলের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে গাছের পাতায় এসে পড়তো। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, নির্ধারিত সেই জায়গাটায় প্রতিদিন জড়ো হতো ১০ জন বন্ধু। কারো হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সবটা খেতে চাইলে সবটা হারাবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯




আপা ড. ইউনুসের চুক্তি মেনে নিলে, আমেরিকা ও ভারত এক হলে এবং সেনা আপার পক্ষে গেলে আপার আগমনে বিএনপিকে পালিয়ে যেতে হবে।তখন আপা কি করবেন সেটা আপার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ঈদ উৎসব এবং মা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



ভোর বিহানে আজান হলেই মা করতেন ডাকাডাকি।
এই ঈদে আর ডাকেনিগো মা, এ দুঃখ কোথায় রাখি!

হারিয়ে গেছে মা জননী আমার, শূন্যতা অপার
এই জীবনে মায়ের সাথে দেখা কি হবে আর?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গঁবন্ধুর আত্মত্যাগ আর শেখ হাসিনার দৃঢ়তা । (নিজেকে শেখ হাসিনার স্থানে দাঁড় করিয়ে ভাবুন)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



বাকশাল করার জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজ দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করেছেন। এরপরও যারা বাকশাল ( বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ) কে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা আখ্যা দিয়ে বিচারপতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহিষের নাম যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প: ভাইরাল সংস্কৃতির মারপ্যাঁচে কোরবানির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


কোরবানি ঈদ এলেই আমাদের চারপাশে কেমন যেন একটা উৎসব-উৎসব আমেজের পাশাপাশি অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার ধুম পড়ে যায়। বাঙালি যে সব কিছুতেই একটু রসকষ আর মজা খুঁজতে পছন্দ করে, সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×