somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগ কতৃপক্ষ এবং ব্লগারের সাথে দ্বিমত ও চলে যাওয়া।

১০ ই জুন, ২০০৭ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং দেখা যাচ্ছে আনেকেই দল বেধে চলে যাচ্ছেন। আবার অনেকে চলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।
কেন চলে যাচ্ছেন সেটা মনে হয় আমাকে নতুন করে বলতে হবে না, এই ব্যাপারে সবাই যথেষ্ঠ পরিমানে আবগত আছেন।

একথা ঠিক যে যারা চলে যাচ্ছেন তারা মনে আনেক কষ্ট নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এটা আমার মত অনেকের জন্য বেদনা দায়ক। আবার আনেকের জন্য আনন্দের ব্যাপার।

যারা আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করছেন তাদের উল্লাসের কারন আমি বুঝতে পারিনা। একজন ব্লগার চলে যাওয়া মানে তো তার লেখা থেকে আমরা বন্চিত হলাম। যে জিনিসটা আমাকে বন্চিত করল সেটা কি করে আমার জন্য আনন্দের হতে পারে এই ব্যাক্ষাটা আমি খুজে পাই না।

একজন মানুষের সাথে আমার মতের মিল নাও থাকতে পারে। তার মানে কি উক্ত ব্যাক্তিকে এই জায়গা থেকে বের করে দিতে হবে। তাহলে উক্ত ব্যক্তি যদি বলে 'আপনার সাথে আমার মতের মিল হচ্ছে না সুতরাং আপনার এখন চলে যাওয়া উচিৎ।' (যে কথাটা এখন আপনারা ভাবছেন বা করছেন) এই কথাটা তখন আপনার কাছে কি যথাযথ বলে মনে হবে? তা কখনোই হবে না। সুতরাং যে কথাটা আপনার উপর আসলে মেনে নেন না, সেই কথাটা কি ভাবে আপনি আন্যের উপর প্রয়োগ করেন?
মতের মিল না হলে তার মতামতকে খন্ডন করুন বা পাশ কাটিয়ে চলুন। আশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে আর চেচামেচি করে তো কোন লাভ নাই। এতে করে নিজেকে আশ্লীল বলে পরিচয় দেয়া যায় এর বেশী কিছু নয়।

যারা চলে যাচ্ছেন তাদের ব্যাপারে আমি বলব, আপনাদের চলে যাওয়াটা কোন দিক থেকে যুক্তি সংঙ্গত?
আনেকেই চলে যাওয়ার জন্য সর্বপরি ব্লগ কতৃপক্ষের উদাসীনতাকে বা এক মুখী নীতি কে দায়ী করে চলে যাচ্ছেন।

এখানে আমি কতৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিধি নিয়ে আলোচনা করব যাতে করে কতৃপক্ষের প্রতি আমাদের আশা কতটুকু হওয়া উচিত তা যেন আমরা বুঝতে পারি। আর্থাৎ কতৃপক্ষের প্রতি আমাদের প্রত্যাশার মাত্রাটা কি পরিমানে থাকা উচিৎ।

প্রথম বিষয়টা হল রেজিঃ এর সময় কতৃপক্ষ কিছু শর্তের কথা বলে থাকেন। এখানে আবশ্যই একটা বিষয় বুঝতে হবে শর্তগুলো বিচার কারা হবে যিনি শর্ত দিয়েছেন (ব্লগ কতৃপক্ষ) তাদের ব্যাক্ষা আনুসারে। সুতরাং তাদেরই (ব্লগ কতৃপক্ষ) ব্যাক্ষা আনুসারে শর্তগুলো প্রয়োগ করা হবে। এটা পৃথিবীর সবখানেই চলে আসছে।
সহজ ভাবে বলতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের ব্যাক্ষা যুক্তরাষ্ট্র সরকার দিবে, সেটা বাংলাদেশ সরকার দিলে তো গ্রহন যোগ্য হবে কি?

কতৃপক্ষ কোন ব্যাপারেই হস্থক্ষেপ করবে না তা কোথাও উল্লেখ নাই, সুতরাং তাদের উচ্ছামত যা কিছুই করতেই পারে।
আগামীকাল যদি আমাকে বিনা কারনে ব্যান করে আমার বলার কিছুই নাই। কারন তারা আমাকে তো এই ধরনের কোন নিষ্চয়তা দান করে নাই। (সেটা কারন বা বিনাকারনেই হোক)।
ধরা যাক একজন লোক আনেক টাকা দান করছেন, তাই বলে উক্ত ব্যাক্তির কাছে যে কেহ গিয়ে তাকেও টাকা দিতে হবে(আন্যদেরকে দেয়া হচ্ছে তাই আমাকেও দিতে হবে) এই রকম দাবি করতে পারে না। সুতরাং আপনাকে লিখার সুযোগ দিয়েছে বলে আমাকেও দিতে হবে এটা দাবি করতে পারি না। কারন জায়গাটা যার তার ইচ্ছার উপর আমার কোন আধিকার নাই।


সর্বপরি এটা জনগনের পয়সায় তৈরি কোন জিনিস না, যে জনগনের কাছ তাদের জবাবদিহিতা করতে বাধ্য। যে কারনে আনেক সময় ব্লগ কতৃপক্ষের কোন সারা পাওয়া যায় না।

সামহয়্যার কতৃপক্ষ নিজস্ব আর্থয়ায়নে এই জায়গার ব্যাবস্থা করেছেন। এর জন্য আপনি তো কোন আর্থ প্রদান করেন না। সুতরাং সামহয়্যার কতৃপক্ষ আপনাকে কতটুকু স্বাধীনতা দিবে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এই ব্যাপারে তো তাদের কাছে আপনার কোন আইন গত আধিকার নাই। আপনার দাবী করার আইন গত আধিকারটা কি? সুতরাং আধিকার যদি নাই থাকে তাহলে দাবী করব কিভাবে?

যেখানে কোন জিনিসের ব্যাপারে নিষ্চয়তা প্রদান করা হয়না, সে খানে উক্ত জিনিসের জন্য দাবী করা য়ায় না। কারন আইন গত ভাবে উক্ত বিষয়টা আমার অধিকারের মধ্যে পরে না।
সুতরাং যে বিষয়টা আপনার/আমার অধিকারের মধ্য পরে না সেটা আপনি/আমি কি করে দাবী করতে পারি?

যারা চলে যাচ্ছেন তাদের কে বলব, আপনারা আপনার আধিকার কতটুকু তা আগে বিবেচনা করেন। তার পর আপনার প্রত্যাশাটাকে পরিমাপ করেন। তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার আইনগত আধিকার এবং প্রত্যাশা সমপরিমান হল কি না? কারন আপনার আইনগত আধিকার এবং প্রত্যাশা সব সময় সমপরিমানে হতে হবে। সুতরাং আমি আবারও আশা করব আপনার আইনগত আধিকারের কথা বিবেচনা করে আপনারা চলে যাবেন না।

এই কারনে আমি বলব আপনাদের চলে যাওয়াটা আইনগত কোন যুক্তির মধ্য পরে না। আপনার চলে যাওয়ার পেছনে আনেক যুক্তি থাকতে পারে, আবার না যাবার জন্য আনেক যুক্তি আছে। না যাবার যুক্তি গুলো বিবেচনা করেন। এবং চলে যাবার সিদ্বান্ত থেকে ফিরে আসুন।


(পরবর্তীতে লেখকের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সীমাব্ধতা নিয়ে লিখার ইচ্ছা রইল।)
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×