টিভির পর্দায় মুখ দেখানো জন্য এভাবে আপনাদের স্বজনদের আপনারা বিকিয়ে দেবেন না, প্লিজ।
আমাদের প্রিয় কবি সমুদ্র গুপ্তের মরদেহ আজ সকালে প্রথমে আজিজ সুপার মার্কেটে আনা হয় সেখানে মার্কেট কেন্দ্রিক তাঁর জীবৎকালের সুহৃদরা শেষবারের মতন শ্রদ্ধা জানায়। তারপর সেখান থেকে শহীদ মিনার চত্তরে তাঁর মরদেহ আনা হলে কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবি, আবৃত্তিজন, রাজনীতিবিদ, নাট্যব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে, চোখের জলে এই সদা কর্মচঞ্চল, আড্ডাবাজ প্রিয় মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানায়।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে লক্ষ করা গেছে যে, আজিজ সুপার মার্কেট এবং শহীদ মিনার চত্তরে অসংখ্য টিভি ক্যামেরার মাঝে একটি বিশেষ টিভি ক্যামেরায় “আজিজ মার্কেট শাহবাগ ঢাকা ১০০০” নাটকের শ্যুটিং। আরো দুঃখজনক যে, সেসব দৃশ্য চিত্রায়নে তাঁর জীবৎকালের বন্ধুরা এক একজন চরিত্র হিসাবে আড্ডা দিয়েছে এবং সেসব ধারন করা হয়েছে।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে যে, যেখানে আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে একজন কবি পরলোকে যাত্রা করছেন সেখানে আমাদের এই কান্নাকে কি এভাবেই বিপণন করব আমরা?
কজন কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ আমাদের এই শোককে ধারন করে টিভিতে চালিয়ে দেবে আর আমরা তা মেনে নেব?
যখন সমুদ্রগুপ্ত স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি, আমরা তাঁর চিকিৎসার জন্য ব্লগে লিখছি, টাকা তুলছি, অনুষ্ঠান করছি তখন কোথায় ছিল সেই আজিজ সুপার মার্কেটে নাটকের পরিকল্পনাবিদ, পরিচালক? তারা কত টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন এই কবিকে? মানুষের এই বিশেষ মুহূর্তের অনুভুতি নিয়ে না খেলার জন্য অনুরোধ করছি সেই জ্ঞানপাপীদের। জানিনা তাদের কর্ণকুহরে এই বাণী পৌঁছবে কিনা।
আমাদের প্রাণপ্রিয় আজিজ সুপার মার্কেটটিকে আপনাদের অভিনয় প্রতিভা দিয়ে এমনিতেই আপনারা যেভাবে বিকৃত করেছেন তাতে এখন পরিবার পরিজনের সামনে বলতে সংকোচ হয় যে, আমি এখনো আজিজ মার্কেটে আড্ডা দেই। যেন, আজিজ সুপার মার্কেট মানেই, কিছু পাগল, গাঁজাখোর, কবি যশপ্রার্থী, উদ্ভট মানুষ এবং প্রেমকলা শেখার একটা আদর্শ স্থান। জানিনা মার্কেট কর্তৃপক্ষকে কত টাকায় বশ করা হয়েছে।
টিভির পর্দায় মুখ দেখানো জন্য এভাবে আপনাদের স্বজনদের আপনারা বিকিয়ে দেবেন না, প্লিজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

