আমার প্রিয় পোস্ট
- সিনেমা বিষয়ক ওয়েবসাইট তালিকা - ইশতিয়াক জিকো
- `ঈশ্বরের চোখ' থেকে : কবি রণজিৎ দাশের ১০টি কবিতা - সফেদ ফরাজী......
- ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড - দুঃখবিলাস
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- কপি করুন আপনার Scratched অথবা Damaged CD এবং DVD - তারকে
- টেসট - বৃত্তবন্দী
- ইমদাদুদ্দীন খলিলের একটি মহামূল্যবান প্রবন্ধ - মকসুদ আলম
- অপ্রধান লেখকদের ভূমিকা এবং নিয়তি / সৈয়দ আবুল মকসুদ - ফকির ইলিয়াস
- সফটওয়্যার রিভিউঃ Eset Smart Security - তাজুল ইসলাম মুন্না
- সফটওয়্যার রিভিউ: ডেক্সটপ থেকে মেইল চেক করতে ব্যবহার করুন Mozilla Thunderbird - ত্রিভুজ
- এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি ! ( ১ম পর্ব ) - স্পেকটেটর
- বিচিত্র মুখাবয়ব ! - অনুসন্ধানপ্রিয়
- Hand Art..... - রানা
- অসাধারণ কিছু ঘর বাড়ি... - মিয়াভাই সিলটী
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৮ ( নারী--সুনীল ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
সেলিম আল দীন কেন দীন হলেন না আরো অনেকের মতন!
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮
সেলিম আল দীন কেন দীন হলেন না আরো অনেকের মতন!
রবিউল করিম
সেলিম আল দীনকে নিয়ে, তাঁর নাটক নিয়ে নানান পণ্ডিতজন নানা ভাষণ দিয়েছেন এবং তা নমস্য। আমার এই লিখনের সাথে তার কোনো মিল-অমিল খুঁজতে চাওয়াটা বোকামী হবে পূর্বেই পাঠককে এটি জানিয়ে রাখতে চাই। আমি একজন সাধারণ দর্শক হিসাবে এ ক’দিন তাঁর জন্মোৎসবকে ঘিরে নাটক উপভোগ করলাম শিল্পকলা মিলনায়তনে। যার অন্যতম আয়োজক ছিলো ঢাকা থিয়েটার। যৈবতী কন্যার মন, প্রাচ্য, নিমজ্জন, হরগজ এই চারটি নাটক সেখানে মঞ্চস্থ হয়েছে। প্রতিটি নাটক দেখার পরই একরাশ মৃত্যু, মৃত্যুকেন্দ্রিক চিন্তা আমাকে অবশ, বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। আমার মাঝে প্রশ্ন জেগেছিল, কেন তিনি শুধু মৃত্যু নিয়ে, মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নাটক লিখেছেন। হাসি নিয়ে নয়, জয় নিয়ে নয়। শুধু কেন পরাজয়, হতাশা, মৃত্যু। প্রাচ্য রীতিতে যখন থেকে তিনি লিখতে শুরু করলেন তখন থেকেই তাঁর ভেতরে এই চৈতন্য আমাকে বিস্মিত করে। অথচ এই তিনিই তো লিখেছিলেন, মুন্তাসির ফ্যান্টাসি, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন এসব। তবে কি এই প্রাচ্যই মৃত্যুকে ঘেরা এক উপাখ্যান। নাকি সেই তুমুল আলোচিত সেই বাক্য, মৃত্যু কেন্দ্রিক সাহিত্য বা শিল্পই জগতে টিকে থাকে, অন্য সব মরে যায়। সেই দার্শনিক জায়গা থেকেই কি তিনি অমর হবার বাসনায় ক্রমাগত লিখে চলেছিলেন এসব? দ্বৈতাদ্বৈতবাদ। তখন তাঁকে ভয়াবহ চতুর বলে মনে হয়। তার চতুরতার আরো বিবরণ শুনি যখন তার ছাত্ররা বলে যে, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে তিনি এমন সব মূর্খদের শিক্ষক বানিয়ে দিয়ে গেছেন যা কল্পনাতীত। কেননা তিনি ভালো করেই জানতেন, জ্ঞানীরা পূজা করেনা, মুর্খরা পুজা করে। তিনি পুজিত হতে ভালবাসতেন। তিনি গুরুবাদী তরিকায় বিশ্বাস করতেন। গুরু-শিষ্য পরম্পরা। অথচ দেখি তার শিষ্যের সংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও কেউই তাঁকে ধারন করতে পারেন নি সমূহভাবে। তবে কি তিনি প্রকৃতঅর্থেই কোনো শিষ্য তৈরি করতে চাননি? নাকি অক্ষমতা? এক্ষেত্রেও তাকে চতুর বলে মনে হয়। কেননা, তিনি জানতেন একালের শিষ্যরা বড়ই অকৃতজ্ঞ। তাঁর মুত্যৃর পর হয়ত সমূহ কীর্তিই শিষ্যের দ্বারা অবমূল্যায়িত হতে পারে এই ভেবে তিনি তেমন কাউকে রেখে যাননি আমাদের কাছে। তিনি বরং ভরসা রেখেছিলেন আপামর মানুষের উপর। যারা তাকে ঠকাবে না। তিনি ঠকতে চাননি। এখানে তাকে ভীষণ ভীতুমানুষ ছিলেন বলে আমার মনে হয়! তাঁর মনোজগত কেন এসব দ্বারা তাড়িত ছিল তা বিস্ময়কর ঠেকে। আমাকে ভীষণ দোদুল্যমান করে তোলে তার এইসব চেতনা। তাঁর দ্বৈতাদ্বৈতবাদ। এই জন্যই কি তিনি মৃত্যু নামক এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে শুরু করলেন যাকে প্রশ্ন করা যায় না। যাকে শুধু পুজা করা যায়। আমি আবারো ভাবি, আচ্ছা, সেলিম আল দীন যদি ঢাকা থিয়েটারের সাথে যুক্ত না হতেন তবে কি ঘটত? এগুলো কি নাটক পদবাচ্য হতো? নাসিরুদ্দিন ইউসুফ যদি তার বন্ধু না হতেন? তবে কি একটা নাট্যসংগঠন ক্রমাগত তাঁরই নাটক নিয়ে পড়ে থাকত? এসব প্রশ্ন আমাকে ভাবায়। আর আমি ভাবি, সংগঠন জিনিসটাই কি ভয়াবহ! যা নিজেই একসময় অস্বীকার করে বসে নিজেকে। আর বন্ধ্যাত্বের কথা নাই বা বললাম। তবে কি ভেবে সেলিম আল দীন সংগঠনের খপ্পরে পড়তে গেলেন? তখনও আমার মনে হয় তিনি ভীষণ চতুর। তিনি জানতেন যে সংগঠন ছাড়া কোনো আদর্শকে বা চিন্তাকে জনগণের মধ্যে প্রচার করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সংগঠনের ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, তার লেখনীর শক্তিই একসময় সংগঠনের কুপমন্ডুকতার বাইরে নিয়ে আসবে, তিনি সবার হয়ে উঠবেন। এমন প্রত্যাশা তাঁর ছিল। তিনি দেখেছিলেন, আরো আরো সব মহারথীদের মৃত্যু। যা কিনা সংবাদের শিরোনাম ভিন্ন কিছু নয়। তাই তিনি আয়োজন করে গিয়েছিলেন এসব অমর হবার উপকরণ। তাই তো দেখি তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষ। শামসুর রাহমান মারা গেলেন, মাহমুদুল হক মারা গেলেন, সমুদ্র গুপ্ত মারা গেলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন মারা গেলেন কিন্তু বিস্ময়করভাবে তাঁদের ঘিরে কোনো উৎসব পালিত হয় না, মনে রাখে না মানুষ, দুএকটা সভা-সেমিনার ভিন্ন। অথচ সেলিম আল দীনের দিকে তাকান, তিনি কি ভয়াবহরূপে উপস্থিত। আমার মনে হয় যে মৃত্যুসাধনা তিনি করে গিয়েছিলেন জীবদ্দশায় শবসাধকের ন্যায়। এ যেন তারই প্রতিদান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার পুনর্জন্ম ঘটেছে। এইবার তার প্রতিদ্বন্দ্বি শুধু তিনি। এখানে তাকে হারাবার কেউ নেই। সারা জীবন যে অমূল্য সম্পদ নিয়ে শংকিত ছিলেন হারানোর ভয়ে। তাকে তিনি জয় করলেন। এখানেও তিনি দ্বৈতাদ্বৈতবাদী।
তাঁর নাটক দেখতে দেখতে আরো একটি বিষয় আমাকে ভাবিত করল, কোথায় তাঁর নিজস্বতা বা মৌলিকত্ব? তাঁকে তো ব্লেন্ডার মেশিন ভিন্ন কিছু মনে হয় না! আমাদের প্রাচীন যেসব সাহিত্য, ভাবনা তাকেই তিনি বর্তমানের সাথে মিশিয়ে দিচ্ছেন, এ আর নতুন কি? নাট্যকার হিসাবে তখন তার দেশজোড়া খ্যাতিকে অস্বীকার করতে ইচ্ছে করে। বরং মনে হয় তিনি বড় কবি। কথার যে ইন্দ্রিয়জাল বুনে তিনি একবার আমাদের নিয়ে যান প্রাচীনে আবার বর্তমানে, যে অভাবিত দৃশ্যকল্প তৈরি করেন তা তো এক কবিরই কাজ। অথচ শুনেছি জীবদ্দশাই তিনি নাকি কবি এই ডাকটির জন্য মুখিয়ে থাকতেন। কেউ যদি তাঁকে কবি বলে ডাকত তবে তিনি খুব খুশি হতেন। তিনিও জানতেন, তিনি কবি ভিন্ন কিছু নয়। একমাত্র কবিরই কল্পনায় থাকে জগতের সমূহ জ্ঞান।
তাই একেকবার মনে হয়, সারাটি জীবন তিনি শুধু দ্বৈতেরই চর্চা করে গেছেন।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আলোচনা ;
লেখক বলেছেন: পাঠের জন্য ধন্যবাদ।
মাঠশালা বলেছেন:
আপনার এই ব্যক্তিগত উপলব্ধিজাত লেখাটি ভালো লেগেছে, তবে আপনার সব বক্তব্য সমর্থন করতে পারছি না। "তার শিষ্যের সংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও কেউই তাঁকে ধারন করতে পারেন নি সমূহভাবে।"
যথার্থই বলেছেন। এই জমানায় শিষ্যত্ব নেয়ই এক স্বার্থ ও কার্যসিদ্ধির পদ্ধতি হিসাবে। তাই এখনো পর্যন্ত তাঁর লেখাগুলো নিয়ে কোন মূল্যায়ন চোখে পড়ল না।
"সেলিম আল দীন যদি ঢাকা থিয়েটারের সাথে যুক্ত না হতেন তবে কি ঘটত? এগুলো কি নাটক পদবাচ্য হতো? নাসিরুদ্দিন ইউসুফ যদি তার বন্ধু না হতেন?"
আমি নাটক নিয়ে তেমন কিছু বলার ক্ষমতা রাখি না। নাটকের অভিজ্ঞতা বলতে পড়া, দেখা আর প্রচ্যনাটের সাথে অল্পকিছুদিন জড়িত থাকা এই। এ অভিজ্ঞতায় নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না তবে আপনি যেভাবে "নাটক পদবাচ্য" হতো কি হতো না বললেন তার সাথে দ্বিমত পোষণ করি। তাঁর চাকা, হরগজ, নিমজ্জণ পড়ে আমার আরো যেটা মনে হয়েছে এগুলো নাটক কিনা সে প্রশ্ন উৎরে এমন এক সফল শিল্পমান অর্জন করেছে যা কারো ধার ধারে না।
আপনার এই লেখাটিতে ঢাকা থিয়েটারের প্রসঙ্গ এনে ভালো করেছেন। তারা যেভাবে সেলিম আল দীন চর্চা করছে তা কিছুদিন পর থাকবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তখন হয়ত সেলিম আল দিনও সৎ কোন শিল্পবোদ্ধার বিষয় হয়ে উঠতে পারবেন। সেই দিনের অপেক্ষা ছাড়া আর কি করার আছে প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের প্রতাপের মধ্যে বাস করে!!!
আপনি যেই জায়গা থেকে সেলিম আল দিনকে কবি বলেছেন সেই জায়গা থেকে তিনি অবশ্যই কবি এবং কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ এ পর্যন্তই।
শুভকামনা রইল।
লেখক বলেছেন: আপনার মতমতকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি যে, তঁার নাটকগুলো নাটক পদবাচ্য হতো কি না, এ প্রশ্নটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত। আপনি স্বীকার করেছেন যে সেগুলো
"নাটক কিনা সে প্রশ্ন উৎরে এমন এক সফল শিল্পমান অর্জন করেছে যা কারো ধার ধারে না।" আমার বক্তব্য এটিই। নাটকের না,- অন্যকিছু।
আব্দুন নূর তুষার বলেছেন:
আপনি লিখেছেনসেলিম আল দীন যদি ঢাকা থিয়েটারের সাথে যুক্ত না হতেন তবে কি ঘটত? এগুলো কি নাটক পদবাচ্য হতো? নাসিরুদ্দিন ইউসুফ যদি তার বন্ধু না হতেন? তবে কি একটা নাট্যসংগঠন ক্রমাগত তাঁরই নাটক নিয়ে পড়ে থাকত? এসব প্রশ্ন আমাকে ভাবায়।
বঙ্গবন্ধু বা তাজুদ্দিন যদি আওয়ামী লীগের সদস্য না হতেন, গান্ধী যদি কংগ্রেস না করতেন, ঠিক যেমনটি হতো, তেমনটি হতো সেলিম আল দীনের।
সংগঠন মানুষের শক্তিকে বাড়ায়।
আরো লিখেছেন
আর আমি ভাবি, সংগঠন জিনিসটাই কি ভয়াবহ! যা নিজেই একসময় অস্বীকার করে বসে নিজেকে। আর বন্ধ্যাত্বের কথা নাই বা বললাম।
সংগঠন নিজেকে অস্বীকার করার উদাহরন দিলে ভালো হয়। তবে যে কোন সংগঠন তার অধিকাংশ সদস্যের মতামতে চলে, ফলে গণতান্ত্রিকভাবেই সেটি চরিত্র বদলায়। যেমন স্টালিনকে এখন অস্বীকার করে রাশিয়ান সমাজতান্ত্রিক দল।
সেলিম আল দীন কবি হিসেবে বড় নাকি নাট্যকার হিসেবে সেটি সময় বলে দেবে। তবে তিনি তার নাটকের কারনেই বেশী আলোচিত হবেন এটাই স্বাভাবিক।
সকল সৃষ্টিশীল মানুষের মধ্যেই অমরত্বের সুপ্ত বাসনা থাকে। তারা প্রায় প্রত্যেকেই মৃত্যর মধ্য দিয়ে অমরতা অর্জন করেন। সেলিম আল দীন সেটি চাইলে তাতে কোন ব্যতিক্রম হয় না।
আপনি আরো লিখেছেন
শামসুর রাহমান মারা গেলেন, মাহমুদুল হক মারা গেলেন, সমুদ্র গুপ্ত মারা গেলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন মারা গেলেন কিন্তু বিস্ময়করভাবে তাঁদের ঘিরে কোনো উৎসব পালিত হয় না,
শামসুর রাহমানকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করা হয়। মাহমুদুল হক , সমুদ্র গুপ্ত, আবদুল্লাহ আল মামুন মারা গিয়েছেন সেলিম আল দীনের পর। সমুদ্র গুপ্তের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা কি আপনার চোখে পড়েনি। মাহমুদুল হক ছিলেন স্বেচ্ছা নির্বাসনে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন চলে গেছেন ১ সপ্তাহ হয় নি। ফলে তাকে নিয়ে মন্তব্য করা বেশ তাড়াতাড়ি হয়ে গেল। আমার মনে হয় তাকে নিয়েও যথেষ্ট কাজ হবে এবং সেটি হবে নাটকের জন্যই।
ঢাকা থিয়েটার যৈবতি কন্যার মন থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিল রাবির ছাত্র শ্বাশ্বতকে। সেলিম আল দীনের কারনেই এটা সম্ভব। আর কার নাটকে এই পরিমান টিকেট বিক্রী হতে পারে?
আপনার ভাষা ব্যবহার ও লেখার ক্ষমতা অসাধারন আর আপনার লেখা পড়ে চিন্তার উদ্রেক হয়। আমি আপনার প্রশংসা করি এবং আপনার চিন্তার সাথে নিজের চিন্তা মিলিয়ে নিতে পেরে আনন্দিত।
আমরা সবাই একমত হবো না কিন্তু শ্রদ্ধার সাথে আলোচনা ও তর্ক করে জানার চেষ্টা করবো, এটাই সভ্যরীতি।
আপনাকে অভিনন্দন।
মাঠশালা বলেছেন:
@ আব্দুন নূর তুষার ,আপনি বললেন-
"সকল সৃষ্টিশীল মানুষের মধ্যেই অমরত্বের সুপ্ত বাসনা থাকে। তারা প্রায় প্রত্যেকেই মৃত্যর মধ্য দিয়ে অমরতা অর্জন করেন। সেলিম আল দীন সেটি চাইলে তাতে কোন ব্যতিক্রম হয় না।"
অমরত্বের বাসনা একটি মানবিক আখাঙ্খা। সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের মধ্যেই তা আছে। সেখানে আলাদা করে সৃষ্টিশীল মানুষদের চাহিদা না। আর এপ্রসঙ্গে অনেকের মত আপনিও বললেন 'সুপ্ত বাসনা', তাও ঐ সৃষ্টিশীল মানুষদের মধ্যেই। আমি যদি ধরে নেই এখানে সৃষ্টিশীল মানুষ বলতে লেখক, কবি বোঝানো হয়েছে তবে বলতে হয় তাদের এই বাসনা কোন অর্থেই সুপ্ত না বরং প্রকাশ্য।
ধন্যবাদ, শুভকামনা।
রবিউলকরিম বলেছেন:
তুষার ভাই, আপনার মতামতের ওপর পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি যে, সংগঠন মানুষের শক্তি বাড়ায় নিঃসন্দেহে। যেমন বাড়িয়েছে সেলিম আল দীনকে। আবার যেমনটা করেনি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক... এদেরকে। আপনি দেখুন সমুদ্র দা বা রাহমান ভাই -এর শোকে যত লোকের সমাগম হয়েছিল উপরোক্তদের বেলায় তা ঘটেনি। এটা সাংগঠন সম্পৃক্ততার জন্য ঘটেছে। আমি কারো অবমূল্যায়ন করছি না, যা বাস্তব তাই বলছি।সংগঠন নিজেকে অস্বীকার করে তো নানানভাবে। যেমন আওয়ামী লীগ শুরুতে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল তা কি বর্তমান ? আবার অনেকসময় সংগঠন যে শামসুল হক বা তাজউদ্দিন এর অবদানকে মিনিমাইজ করে ফেলে তা তো সত্য। আবার গোলাম আজমকে ইসলামের ধ্বজ্বাধারী। গণতন্ত্রই তো একসময় স্বৈরতন্ত্র তৈরি করে ভুল পথে, চর্চায়। আপনি স্ট্যালিন উদাহরণ দিয়েছেন।
অমরতা চাইবার বাসনাকে আমি হীনকার্য মনে করছি না। এটা তো সৃষ্টিশীল মানুষমাত্রই আকাক্সক্ষা করে। এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করে যায়। কিন্তু যখন বিশেষ কৌশল কেউ গ্রহণ করে তখন আলোচনা হয়। আমি শুধু এটুকু বলতে চেয়েছিলাম। সেলিম আল দীনের পাঠব্যাপ্তি এত বেশি ছিল যে, তিনি সহজেই বুঝেছিলেন যে, কোন পথে তাঁকে অগ্রসর হতে হবে। এটা অনেকেই করে কিন্তু করে পৃথক পথ তৈরির বাসনায়। তিনি এক্ষেত্রে করলেন কি সনাতন পথটাকেই বেছে নিলেন তবে নিজের মতন করে। এটাই তার চালাকী।
সমুদ্র দাকে নিয়ে যা কিছু ঘটেছে তাতে আমিও সম্পৃক্ত ছিলাম। ব্লগে আমারই প্রচারণায় তাকে ঘিরে একটি পোস্ট স্টিকি করা হয়। শ্বাশতের ব্যাপারেও তেমন আছি। আমি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, সংগাঠনিক ক্ষমতার ব্যাপারটা। ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা যৈবতি কন্যার মন নাটক প্রর্দশনী করে উপার্জনে সেলিম আল দীনের চাইতে নাসিরুদ্দিন ইউসুফ ভাইকে এগিয়ে রাখতে চাই। ওটা যৈবতি কন্যার মন না হয়ে অন্য যে কোনো নাটক হতে পারত তাতে এতপরিমাণই টাকা সংগ্রহ হতো।
নাসিরুদ্দিন ইউসুফ-এর সংগঠন সরাসরি সম্পৃক্ত না হওয়ায় অনান্যদের বলোয় কি ঘটছে, তাতো আমরা প্রত্যক্ষ করছি। প্রবাদতুল্য সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী ইউসুফ ভাই। সে কারণেই বলছি অন্যদের ক্ষেত্রে যা ঘটবে তা হলো নিতান্তই দায়ে পড়ে কিছু একটা করা। তবে আবদুল্লাহ আল মামুনের ব্যাপারটা যেন তেমন না হয় এটা প্রার্থনা করি। কেননা তিনি ছিলেন সেলিম ভাইদের একঅর্থে পথপ্রদর্শক। অবশ্য ইউসুফ ভাইয়ের কথাতে তেমনটাই আশ্বস্ত হই।
ব্লগে আলোচনা করাটা কষ্টকর। আর লিখতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। তাই অনেক বিস্তারিত করার ইচ্ছে থাকার পরও সংক্ষিপ্ত করেত হলো, ক্ষমা করবেন।


















খুব বিশ্লেষনধর্মী পোষ্ট।