somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"মুঠোফোনে বাংলা না থাকলে আমদানি বন্ধ" ও আমার মতামত

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"মুঠোফোনে বাংলা না থাকলে আমদানি বন্ধ" শিরোনামে 'প্রথম আলো'- তে একটা নিউজ দেখলাম। সেখানে বলে হয়েছে, *চলতি জানুয়ারি মাস শেষে আমদানিকারকেরা বাংলা কি-প্যাড ছাড়া কোনো মুঠোফোন সেট আমদানি করতে পারবেন না। এই ঘোষণা কি-প্যাড-বিশিষ্ট হ্যান্ডসেটগুলোর জন্য। পরবর্তী সময়ে টাচস্ক্রিন ও স্মার্ট হ্যান্ডসেটগুলোকে এই নিয়মের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিয়মিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো, নৌবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে উপযুক্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ প্রথম আলোকে জানান।
জিয়া আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ মুঠোফোন হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়। বিভিন্ন আমদানিকারক বা মুঠোফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠান এসব সেট আমদানি করে। বর্তমান নির্দেশনার পরে হ্যান্ডসেট আমদানি করবেন শুধু দেশীয় আমদানিকারকেরা।
গত নভেম্বর মাসে বিটিআরসি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি মুঠোফোন সেট আমদানি করতে পারবে না। আর আমদানি করা সব সেটে অবশ্যই বাংলা কি-প্যাড থাকতে হবে। বিটিআরসি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে চেয়ারম্যান বলেন, ‘এতে করে সাধারণ মানুষ আরও সহজে হ্যান্ডসেট ব্যবহার করতে পারবে এবং দেশে বাংলার প্রচলন হবে।’
বাংলাদেশ মুঠোফোন ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, তাদের সংগঠনের ২১০ জন নিবন্ধিত সদস্য মুঠোফোন সেট আমদানি করে।*
এটার কি খুব দরকার ছিল? নাকি বাংলাদেশে থেকে বাংলাভাষা উঠে যাচ্ছে? তাই তার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ ধরণের অযৌক্তিক আইন। হাস্যকরও বটে। পৃথিবীর কোন দেশে এমন আইন আছে বলে আমার জানা নেই। আমার জানা মতে একমাত্র বাংলা ভাষার জন্যই কোন জাতি প্রাণ উসর্গ করেছে। তা হলে তো বাংলা ভাষা স্বমহিমায় উজ্জ্বল। এখানে এমন আইনের তো দরকার ছিলনা। মোবাইলের কিপ্যাডে বাংলা লিখলেই যে বাংলার প্রচলন হয়ে যাবে এমনটা ভেবে বিটিআরসি মূর্খতারই পরিচয় দিয়েছে। প্রথম আলোর নিউজের মন্তব্যে এক পাঠক বলেছেন- "মুঠো ফোনে বাংলা থাকতে হবে ভালো কথা তবে শুধু দেশীয় আমদানিকারকেরা কেন? মুঠোফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠান কি দোষ করল? বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক চোখা নীতির কারন কি? না দেশীয় আমদানিকারকেরা বিটিআরসি কে খুশি করল বাংলাদেশী কায়দায়?" প্রথম আলোর আরেক পাঠক বলেছেন, "Not a good idea. We are too many people and govt cannot provide job accommodation. Therefore we have to think to go other countries also. Besides English is the most popular media to communicate worldwide". অন্য আরেক পাঠকের মন্তব্য- " May be trying to create a monopoly or syndicate in the name of Bangla font. Why not we are shutting down English Medium schools where Bangla is prohibited to speak.....!!! Those who are taking this decision, their kids are in English Medium."। যথার্তই বলছেন, কারণ যেখানে বাংলা মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের কাছেই মোবাইল ফোনের বাংলা ইন্টারফেসযুক্ত মোবাইলের ব্যবহার বেশ অসুবিধার সেখানে তো আপনাদের কথা না বলাই বাঞ্ছনীয়। আর কয় দিন পর তো উইন্ডোজের বংলা সংস্করণ ব্যবহার করাটাও বাধ্যতামূলক হবে বলে সন্দেহ নেই। কারণ উইন্ডোজের বংলা সংস্করণ-এর সাথে 'ভারত' শব্দটি আছে। অথচ বাংলাদেশের ইন্টারনেটের গতির কোনখোঁজ খবর নেই। বরং বাংলাদেশের মানুষের টাকায় কেনা ইন্টারনেট নিজ দেশে অব্যবহৃত রেখে তা ভারতে রফতানী করা হচ্ছে (সূত্র-ডেইলি স্টার) । অনেকেই হয়তো এখানে 'মুক্তিযুদ্ধের' মতো নিষ্প্র্যোজন ইস্যুকে টেনা আনবেন। অবস্থা যদি এই-ই হয় তাহলে 'মুক্তিযুদ্ধের কি খুব দরকার ছিল? আমাদের মতো তরুণরা যখনই কোন বিশেষ বিষয়ে নিজের ইচ্ছেটা প্রকাশ করতে যায় তখন 'দেশ', 'মুক্তিযুদ্ধ' ও 'স্বাধীনতা'-র মতো বড় বড় শব্দগুলো আমাদের শুনতে হয়। এমনিতেই তো আমরা স্বাধীন না। বাংলাদেশে মুঠেফোন তৈরি করবে, তাও নাকি 'লাভা' নামের একটি ভারতীয় কোম্পানী। আরে যদি তাই-ই হয় তাহলে পুরো বাংলাদেশটাকেই ভারতে অঙ্গরাজ্য করতে এতো সময় নিচ্ছেন কেন? আমাদের দেশের প্রযুক্তিবোদ্ধারা মনে করেন, "আমরা যদি ইংরেজী শিখি, তাহলে আমাদের মাতৃভাষার কদর কমে যাবে।" তাহলে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ইংরেজিতে দিত কেন? কেনইবা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার সময় সব বইগুলো ইংরেজিতেই পড়তে হয়ে? এসব প্রযুক্তিবোদ্ধাদের বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসটা সত্যিই জনা আছে কি না আমি সন্দিহান। তাদের প্রতি আমাদের উপদেশ আপনাদের দেশপ্রেম কিংবা ভাষাপ্রিতি পেটে না থাকলে রক্তে থাকলে ভালো হবে। বাজারে এমনিতেই বাংলা ইন্টারফেসের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এখানে যে যার পছন্দমতো ভাষা নির্বাচন করতে পারে। তাহলে আইন কেন? কারণ একটাই বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে 'ভারত'-এর আগমনকে মসৃণ করা আর 'চায়না'-কে বিদায় জানানো। কারণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রযুক্তিবোদ্ধাদের যুক্তি- "চায়না বাংলা প্রচলন না করলে তাদের বাংলাদেশের বাজারে থাকার অধিকার নেই।" কথায় আছে- "যে জাতি তার বীর সন্তানদের অবদান স্বীকার করেনা সে জাতি অগ্রসর হতে পারেনা।" কিন্তু অগ্রসরের পথটা তো তাদেরই কারো কারো দ্বারা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, এ কথা কি অনস্বীকার্য? আমাদের দেশের বর্তমান প্রযুক্তিবোদ্ধারা কয়েক বছর পর আর থাকবেন না। আর বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে দিয়ে যাবেন প্রযুক্তিবিশ্ব থেকে কয়েকশ বছর পিছিয়ে পরার গ্লানি।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×