দুই ম্যাচে চার উইকেট। ইকনমি রেট ৬.৫। ক্ষিপ্র ফিল্ডিং। প্রতিবেশী দেশের বাঙালি অধিনায়ক। কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েই ‘হিট’ সাকিব-আল-হাসান। বাইপাসের ধারে টিম হোটেলে বসে বাঁ হাতি অলরাউণ্ডার সোমবার একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন আনন্দবাজার-কে।
প্রশ্ন: কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে ইডেনে নামার অনুভূতি কেমন?
সাকিব: মনে হচ্ছে যেন নিজের দেশে ঘরের মাঠে খেলছি। কলকাতা আর আমাদের ভাষা এক রকম। অনেক মিল। মানিয়ে নিতে খুব সুবিধে হচ্ছে।
প্র: এত কাছের মাঠ ইডেন। অথচ কালই আপনি এখানে প্রথম নামলেন!
সাকিব: খুব উত্তেজিত ছিলাম। এত দর্শকের সামনে কখনও খেলিনি। আমার ধারণা পঞ্চাশ-ষাট হাজার মতো দর্শক ছিল। খুবই উপভোগ করেছি। বাংলাদেশের মাঠগুলোর সঙ্গে তুলনা করতে বললে আমি বলব, মীরপুরের কথা। মীরপুর আমার কাছে খুব স্পেশ্যাল মাঠ। হয়তো ইডেনের মতো এত দর্শক সেখানে হয় না। কিন্তু যত দর্শকই হোক, ওঁরা পুরো মাঠকে চাঙ্গা করে রাখতে পারেন।
প্র: একটু কি টেনশনও হচ্ছিল এত লোকের সামনে খেলতে নামছি?
সাকিব: না, এক বার মাঠে ঢুকে পড়লে কখনও আমার টেনশন হয় না। তবে খুব উত্তেজিত ছিলাম। আমি নিজেকে বলছিলাম, নিজে যা যা করবে ভেবেছ সেগুলো করার চেষ্টা করো। নিজের প্ল্যানিংটা ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারলে বাকি জিনিসগুলো ঠিক হয়ে যায়।
প্র: প্রথম দর্শনে ইডেনকে কেমন লাগল?
সাকিব: যে ভাবে সারাক্ষণ দর্শকেরা সমর্থন করে গিয়েছেন, অভাবনীয়! ইডেনের প্রত্যেক দর্শককে এর জন্য আমি ধন্যবাদ জানাব। আর আবেদন রাখব, আমাদের সব ম্যাচে মাঠ ভরিয়ে তুলুন। আমাদের ভাল খেলার পিছনে আপনাদের এই সমর্থন বিরাট প্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে।
প্র: দাদা নেই। বাংলা থেকে নিয়মিত খেলছেন শুধু মনোজ তিওয়ারি। আর বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আপনি। বাংলার ক্রিকেটভক্তদের কী বলবেন?
সাকিব: বাংলার ক্রিকেটভক্তদের বলব, যে সমর্থনটা রবিবার ইডেনে দেখিয়েছেন সেটা দেখিয়ে যান। কথা দিচ্ছি, আমরাও ভাল কিছু ফেরত দেব।
প্র: শাহরুখ খান-কে টিমের মালিক হিসেবে পাওয়া? সেটা কেমন অভিজ্ঞতা?
সাকিব: বাংলাদেশে বেশির ভাগ মানুষ যে শাহরুখ খানের ফ্যান তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাই খুব উৎফুল্ল যে, ওঁর টিমে আমি খেলছি।
প্র: কাল জেতার পর শাহরুখ কী বললেন?
সাকিব: উনি তো সারাক্ষণই উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। কাল আমাকে আলাদা করে বলেছেন, পরের ম্যাচে হ্যাটট্রিকটা হয়ে যাবে, চিন্তা নেই।
প্র: কলকাতা তো এত কাছে। দেশ থেকে কেউ আসছে না ইডেনে আপনার খেলা দেখতে?
সাকিব: কালকের ম্যাচটাতে আসেনি। কিন্তু যা শুনেছি, অনেকেই আসছে পরের ম্যাচগুলো দেখতে।
প্র: জেতার পর দেশ থেকে অভিনন্দন বার্তা কেমন পেলেন?
সাকিব: অনেকে আমাকে যোগাযোগই তো করতে পারছে না। স্থানীয় মোবাইল নম্বরটা কিছুক্ষণ আগে পেলাম। সেটা মনে হচ্ছে ঠিকঠাক কাজ করছে না। দেখি, আর একটা নম্বর নিতে হবে। আর আমিও ই-মেল বা ফেসবুক চেক করিনি।
প্র: সেকী? কোনও কথাই হয়নি?
সাকিব: পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলি না। তবে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে সবাই খুশি হবেন।
প্র: পরিবারে শাহরুখ খানের সবথেকে বড় ফ্যান কে?
সাকিব: আমার ছোট বোন। সবথেকে বেশি শাহরুখের ছবি দেখে।
প্র: আপনি দেখেন শাহরুখের ছবি। সবথেকে ফেভারিট কোনটা?
সাকিব: কুছ কুছ হোতা হ্যায়।
প্র: শাহরুখ বলেছেন, আইপিএল জিতলে জামা খুলে ফেলবেন। শুনেছেন কি? ট্রফি জিতলে আপনারাও সবাই কি তাই করবেন?
সাকিব: সেই সময়ের উত্তেজনায় কী হবে না হবে বলা কঠিন। তবে একটা জিনিস দেখেছি যে, শাহরুখ খানের খুব আবেগ আছে ক্রিকেট নিয়ে। গভীর ভালবাসা আছে। এই দু’টো জিনিস থাকলে একটা মানুষ অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। ওঁর এই আবেগ দেখার পর আমরাও চাইব ওঁর জন্য ভাল কিছু করতে।
প্র: বিশ্বকাপে দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ এখনও খোঁচা দিচ্ছে?
সাকিব: অতৃপ্তি তো একটা আছেই। আমরা যেটা বিশ্বাস করতাম অত দূর আমরা যেতে পারিনি। তবু মনকে বুঝিয়েছি যে, জীবন ওখানেই থেমে থাকতে পারে না। সামনে অনেক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আছে। বিশ্বকাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের পথে এগিয়ে চলো।
প্র: কেকেআর ড্রেসিংরুমের কোন ব্যাপারটা সবথেকে ভাল লাগছে?
সাকিব: সবাই সবার সাফল্য প্রার্থনা করছে। একে অন্যের সাফল্যে আনন্দ করছে। আমার মনে হয় কেকেআর যে পর-পর জিতে চলেছে, তার পিছনে এটাই প্রধান কারণ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

