আমরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী। বাবা মা পরিবার ছেড়ে দূর দূরান্ত হতে আমরা ময়মনসিংহে এসেছি ডাক্তার হব বলে। হ্যা, জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি মানব সেবাও আমাদের উদ্দেশ্য। সেভাবেই গড়ে উঠছি আমরা, আমাদের শিক্ষকরা সেভাবেই আমাদের গড়ে তুলছেন। আজ আমরা গর্ব করে বলতে পারি, সারা বাংলাদেশে যত গুলো মেডিকেল কলেজ আছে তার মধ্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রথম সারির একটি। এই মেডিকেল কলেজের আছে এক অসামান্য ঐতিহ্য- আমরা রুগীদের দেখি নিজেদের আপনজন হিসেবে। রুগীদের প্রতি আমাদের থাকে শ্রদ্ধা আর সহমর্মিতা! এ জন্যই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এ এলাকার মানুষ তো বটেই, সেই সুনামগঞ্জেরো মানুষ আসেন চিকিৎসা সেবা নিতে। ছাত্র, হিসেবে, ডাক্তার হিসেবে এতা আমাদের জন্য সম্মানের-সংরক্ষণের।
আমাদের যুব সমাজের নৈতিক অধঃপতন আজ সারাদেশব্যাপী। হয়তো ময়মনসিংহের চরপাড়ার উঠতি বয়সের ছেলেপেলেরাও এর বাইরে নয়। কিন্তু তাই বলে, যে স্থান/ক্ল্যান্টিনটি শুধুমাত্র ডাক্তার ও মেডিকেল ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত, যেখানে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ, সেখানে তারা ঢুকে, খাওয়া দাওয়া করে, আপত্তি কিন্তু আমরা করি নাই। কিন্তু আমদের প্রশ্ন হল, কার সাহসে বা কোন বিবেকের বলে বহিরাগত হয়ে মেডিকেলের এক সিনিয়র আপুকে টিস করতে পারল, শুধু তাইনা, ইচ্ছাকৃতভাবে গায়ে ধাক্কাধাক্কি করতে পারল? যখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল, তখন সেই বহিরাগতরা আরো তাদের সন্ত্রাসী বন্ধু বান্ধবদের তাদের খেলার সামগ্রী হিসেবে রামদা-চাপাতি নিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানালেন এবং মেডিকেল হাসপাতাল ভাংচুরের উন্মাতাল খেলায় মেতে উঠলেন? আর এমন সন্ত্রাসী এরা যে এদের আসার নাম শুনেই চরপাড়া এলাকার সকল দোকান বন্ধ হয়ে গেল, দোকানীরা সব পালালেন জীবনের ভয় নিয়ে। রেহাই পেলনা মানুষ্কে সেবা দিতে শেখা, সেবার জন্য উৎসর্গ করা, সেবার জন্য নিবেদন করা ১৫জন মেডিকেল ডাক্তার-ছাত্র-ছাত্রীর হাতপা। অন্যায়ের প্রতিবাদের পুরষ্কার পেল তারা।
বলবেন এতটুকু ঘটনায়, ধর্মঘট। না, এই ঘটনাগুলো শুধু একদিন, গত বৃহষ্পতিবারের নয়। এই ধরনের ঘটনা ঘটে আসছে প্রতিনিয়তই। ছাত্রী হোস্টেল থেকে এখন আমাদের বোনরা বের সন্ধ্যার পর পারত পক্ষে আর একা বের হন না। কারন সেখানে বসে লোকাল ছেলেপেলেদের আড্ডা আর মটরসাইকেল শো।
লোকালদের উৎপাতে মেডিকেলের যেকোন স্থান হোক তা লন্ড্রি, ক্লাব, ক্যান্টিন কোন স্থানেই চলাচল সম্ভব না, ভাব এমন যেন লোকালরা মেডিকেলে পড়ে আর আমরা এখানে উদবাস্তু।
ঘটনার পর যখন ক্যাম্পাসে চলাচল কড়াকড়ি করা হল তখন, গতকাল (রবিবার) রাতে ৭-৮জন লোকাল ছাত্রী হোস্টেল দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে এবং সেখানে পাহাড়ারত মামাকে শাসিয়ে, দু চারটা থাপ্পর দিয়ে বলে যায় "কি করবি তোরা, আমরা এখানে আসবই"
আমার প্রশ্ন, মেয়র আসলেন, এম্পি আসলেন, আশ্বাস দিলেন আমাদের নিরাপত্তার, তারপরেও এত বড় আস্পর্ধা এরা কোথা থেকে পাচ্ছে? তাহলে হস্টেল আর জঙ্গলের মধ্যে পার্থক্য থাকল কি করে?
যেখানে আমাদের নিরাপত্তা নেই, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই সেখানে কার জন্য কিসের জন্য প্রতিদিন রাত-বিরাত ১৮ ঘণ্টা আমরা হাসপাতেলে দৌড়াদৌড়ি করে রুগীর সেবা করব? কেন আমরা সেবা করার শিক্ষা নিব- যেখানে আমার জীবন নিরাপত্তাহীন, মান সম্মানহীন?
আপনারা কি করতেন আমাদের স্থানে থাকলে?
আসুন আমরা সবাই এসকল সন্ত্রাসী-টিসারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, আমাদের এক স্বর, এক কণ্ঠই রুখতে পারবে সমাজের এসকল আবর্জনাদের। ময়মন্সিংহ মেডিকেল থেকে এর বিরুদ্ধে এক আওয়াজ, এক আন্দোলনের ডাক শুরু হল, আশা করি সারা বাংলাদেশ একদিন এদের কবল মুক্ত হবেই হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ৩:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




