মূল পোষ্ট
বাংলাদেশে জিপিএ পদ্ধতি প্রথম প্রয়োগ করা হয় ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষায়। তখন অনেকেরই এ পদ্ধতির ব্যাপারে জানা ছিল না। হঠাৎ করেই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়। জিপিএ পদ্ধতির ইতিহাস বিশ্লেষনের আগে ডিভিশন পদ্ধতির একটু আলোচনা করা উচিত। আগে ৬০০ নাম্বারে ১ম ডিভিশন, ৪৫০ নাম্বারে ২য় ডিভিশন এবং ৩৩০ নাম্বারে ছিল ৩য় ডিভিশন। স্টার মার্ক নাম্বার ছিল ৭৫০। লেটার মার্ক নাম্বার ছিল ৮০ প্রতি বিষয়ের ক্ষেত্রে। শিক্ষকেরা এসএসসি আর এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখার সময় একটু দয়ালু হয়েই খাতা দেখতেন যাতে যতটুকু সম্ভব বেশি পাস করানো যায়। শিক্ষাবোর্ডের আরোপিত অলিখিত নিয়ম ছিল এটি। কেউ ভালো লিখলে ১০ এ ৬ (১ম ডিভিশন মার্ক), বেশি ভালো লিখলে ১০ এ ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৭.৫ দিতেন শিক্ষকেরা। গণিত বিষয় এবং বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোতে ঠিক লিখলে পুরো নম্বরই পাওয়া যেত। কিন্তু অপরদিকে কলা এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অধিকাংশ বিষয়গুলো রচনামূলক হওয়ায় সেগুলোতে লেটার মার্ক নাম্বার অথবা ৮০ পাওয়া একটু কষ্টকরই ছিল। বাংলা আর ইংরেজী এই দুই বিষয়ে খুব ভালো লিখলেও ৬৫-৭০ এর বেশি তোলা সম্ভব হতো না। লেটার মার্ক (বর্তমানে এ+ বলা হয় যাকে) এ দুটো বিষয়ে তোলা খুব কঠিন ছিল। এর জন্য শিক্ষার্থীদের উদাসীনতা এ দুটো বিষয়ের প্রতি একটি কারন। এসএসসি পরীক্ষায় MCQ প্রশ্ন থাকায় কিছু ভাল ছাত্র-ছাত্রীরা লেটার মার্ক নাম্বার তুলতে পারতো। কিন্তু ২০০৩ সালের আগে এইচএসসিতে বাংলা এবং ইংরেজীতে লেটার মার্ক (৮০+) নাম্বার তোলা দূর্লভ একটি ঘটনার মধ্যে পড়ে। কারন এইচএসসিতে MCQ প্রশ্ন নেই। পুরোটাই রচনামূলক।
আগে শিক্ষকেরা মনে করতেন যে একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ হচ্ছে ১ম ডিভিশন মার্ক পাওয়া। খাতাও দেখা হতো সেভাবে। প্রতি বিষয়ে ৬০-৭০ নাম্বার নিয়ে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা খুশি থাকতো। কিন্তু বর্তমানে এটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। সেই ভালো লিখলেই আগে যেখানে ১০ এ ৬-৭ দেয়া হতো এখন সেখানে দেয়া হয় ৮ (এ+ মার্ক) আর খুব ভালো লিখলে এখন ১০ এ দেয়া হয় ৯-৯.৫। আর এই নাম্বার প্রদানের নতুন ধারার কারনে বাংলা এবং ইংরেজী এই দুই বিষয়েও অনেক ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ ৫ পাচ্ছে।সমস্যাটা এখানেই। যে ছাত্র-ছাত্রীরা ১০ এ ৯-৯.৫ পায় তাদের অতিরিক্ত নাম্বার এই গ্রেডিং সিস্টেমে বোঝা যায় না। সাধারন মেধার ছাত্র-ছাত্রী যারা ১০ এ ৮ পায় তাদের সাথে একই কাতারে দাড়াতে হয় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের। সবাই জিপিএ ৫। কিছুদের অতিরিক্ত বিষয় ছাড়া জিপিএ গণনা করে গোল্ডেন জিপিএ নামে কাতারে দাড়া করানো হলেও সেটার মূল্য খুবই সামান্য। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য গ্রেস মার্কও দেওয়া হয়েছে অনেককে।
২০০১ সালে যেখানে এসএসসিতে মাত্র ৭৬ জন এবং ২০০৩ সালে এইচএসসি তে পুরো বাংলাদেশে মাত্র ৫ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিলো। তার সাথে বর্তমানের জিপিএ ৫ পাওয়া (৮২,৯৬১ জন) ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যার তুলনা আকাশ আর পাতালের তুলনার বরাবর। কিন্তু আসলেই কি শিক্ষার মান এতই বেড়ে গেছে বলে মনে হয়। শিক্ষার মান বাড়েনি, বেড়েছে পরীক্ষার খাতায় নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে উদারতার পরিমান। বেশি নাম্বার দিয়ে হয়ত শিক্ষাবোর্ড তাদের পরিসংখ্যান ভারী করে চলেছে; দেখাতে চাচ্ছে যে তারা আসলেই অনেক উন্নতি করেছে। কিন্তু এর পরিণাম কিছুদিন পরই বোঝা যাবে যখন জিপিএ ৫ পাওয়ার পরেও ছাত্র-ছাত্রীরা কোন ভাল কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



