সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করার মাধ্যমে সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম বাদ দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রদত্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে দেশকে ধর্মহীন করার গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এ দেশের ৯৫ ভাগ মুসলমানকে ধর্মহীন করার চক্রান্ত বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ও ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধের ষড়যন্ত্র জাতি মেনে নিবে না বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে দেশকে ধর্মহীন করার গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এ দেশের ৯৫ ভাগ মুসলমানদেরকে ধর্মহীন করার চক্রান্ত বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অনুচ্ছেদ-৮ : ধারা থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিয়ে অনুচ্ছেদ ১০: ধারায় মানুষের ওপর মানুষের শোধন হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে। অনুচ্ছেদ ১২ : রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, কোন বিশেষ ধর্মপালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার ওপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে। ও অনুচ্ছেদ ৩৮ : ধারায় জনশৃক্মখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে। তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোন সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সংঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোন সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোন প্রকারে তাহার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোন ব্যক্তির থাকিবে না। উল্লেখিত ধারাসমূহ যোগ করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ দেশের মুসলমানগণকে ধর্মহীন করে একটি নাস্তিক দেশে পরিণত করার জন্যই এই সংশোদনী আনা হয়েছে। এই সংশোধনী বাস্তবায়ন করে দেশকে একটি ধর্মহীন অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা এই দেশকে ধর্মহীন করার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে দেবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ, আপনি এই সংশোধনী বাস্তবায়ন করে দেশকে ধর্মহীন করা থেকে বিরত থাকবেন। কেননা আপনিও একজন মুসলমান এবং আপনার পূর্বপুরুষেরাও মুসলমান ছিলেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- প্রফেসর ড. মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী, প্রফেসর ড. ইয়াহইয়ার রহমান, অধ্যাপক মাওলানা আ ন ম রফীকুর রহমান মাদানী, মুফতি ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি সিকান্দার আলী মাদানী, মুফতি তরিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতি মাওলানা লুৎফর রহমান আলমাদানী, মুফতি মাওলানা নুরুল্লাহ আলমাদানী, মুফতি মাওলানা মোহাম্মাদ ইউসুফ আল-মাদানী, ড. মুফতি নিজামুদ্দীন, মুফতি আবুল কালাম পাটোয়ারী, ড. মুফতি মাওলানা আবু ইউসুফ খান, মুফতি ড. মানজুর-এ-ইলাহী আল মাদানী, প্রফেসর ড. মাওলানা সাইফুল্লাহ মাদানী, প্রফেসর মাওলানা জুনায়েদ মাদানী, প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, যারা সংবিধান ও দেশ থেকে আল্লাহর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত এ দেশের সংবিধানে আল্লাহর নাম থাকবে না তা অকল্পনীয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলাম বিরোধী কোন আইন পাস করবে না অথচ তারা ইসলামী রাজনীতিই বন্ধ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বিজয় নগরস্থ মজলিস মিলনায়তনে গতকাল বিকেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে অুনষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ইউসুফ, মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দিন, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, অধ্যাপক এম কে জামান, মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আলম, মাওলানা নূরুজ্জামান খান, অধ্যাপক কে এম আলম, মাওলানা নোমান মাযহারী, শেখ গোলাম আসগর, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল জলিল, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, আলহাজ্ব মিয়া মুহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা ফরিদ আহমদ সিদ্দিকী প্রমুখ।
রাষ্ট্রধর্মের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কার্যক্রমে গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা-মাশায়েখ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবিধান সংশোধন করে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগকে জাতি কখনো মেনে নিবে না। বর্তমান সরকার সু-কৌশলে ধর্মীয় রাজনীতি নির্মূল ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রচেষ্টা, ‘৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধের ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে স্বাক্ষরিত দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের ধারাবাহিক কার্যক্রমে যারপরনাই ক্ষুব্ধ, উদ্বিগ্ন ও শংকিত। এরূপ চলতে থাকলে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের এ ধরনের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে মাঠে নামতে বাধ্য হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মাসিক মদীনা মিলনায়তনে বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শাহতলীর পীর সাহেব মাওলানা আবুল বাশার, বাংলাদেশ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন রববানী, ভাসানী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মমতাজ চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, শর্ষিণার ছোট পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোবিন, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মোর্তজা, আহকামে শরীয়াহ হেফাজত কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, এনডিপির মহাসচিব ও আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর মজুমদার, উলামা-মাশায়েখ লিয়জোঁ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ড. মাওলানা খলীলুর রহমান মাদানী, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, মো. আব্দুর রশীদ প্রধান, মো. রেজাউল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল মোতালিব আখন্দ, মো. মোস্তাফিজ, মাওলানা আব্দুস ছবুর মাতাববর, মাওলানা ফাহীম ছিদ্দীকীসহ প্রমুখ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



