সামনে রমযান, কিন্তু কমছে না নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য। বাজারের আগুন এখনো নিভানো যাচ্ছে না। একটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি বন্ধ হলে আরেকটি পণ্যের দাম বাড়ছে। রমযানের আগে অস্বাভাবিক হারে মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রেতা বিক্রেতা সকলেই উদ্বিগ্ন। রমযানে অন্যান্য পণ্যের সাথে শরবতের জন্য চিনির প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশী। আর ব্যবসায়ীগণ এ সময় চিনির মূল্য বাড়িয়ে দেন অধিকহারে। অন্যান্য সময় রমযানের শুরুতে চিনির দাম বাড়লেও এবার বেশ আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা একাজটি করে রাখছেন। প্রতি সপ্তাহে দু‘চার টাকা করে বৃদ্ধি পাচ্ছে চিনির দাম। সরকারের পক্ষ থেকে ৪৫টাকা কেজি চিনি বিক্রি করার কথা বলা হলেও ব্যবসায়ীগণ তা মানছে না। বাজারে ৫২ থেকে ৫৮ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে চিনি। রমযানে তা বেড়ে ৮০ টাকায় উত্তীর্ণ হতে পারে বলে বিক্রেতাগণ আশংকা প্রকাশ করছেন। এছাড়াও রমযানে যে সকল পণ্যের বেশী ব্যবহার হয় সেসব পণ্যের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ করার জন্য সরকারের প্রতি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আহবান।
সরকারী সংস্থা টিসিবি সূত্রে জানা যায়, গত একমাসে চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ আর গত এক বছরে চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। রমযানে এ হার আরো বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশংকা করছেন।
রাজধানীর বাজার ও টিসিবির দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে সরু চাল ৩৭ থেকে ৫০ টাকা, মাঝারী চাল ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা, মোটা চাল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ২১ থেকে ২২ টাকা, প্যাকেট আটা ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি, ময়দা ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। লুজ সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৭৬ থেকে ৮০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮৮ টাকা থেকে ৮৯ টাকা, মশুর ডাল ৯০ টাকা থেকে ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১০৮ থেকে ১২০ টাকা, আলু ১৬ টাকা, পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৮ টাকা, রসুন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, শুকনা মরিচ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মরিচের গুঁড়া ২৪০ টাকা, গুড়া হলুদ ২৮০ থেকে ৩১০ টাকা, আদা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবণ ১২ থেকে ২০ টাকা, ডিম ২৫ টাকা হালি।
এদিকে মাছের দামও চড়া। মাছের মধ্যে রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, ইলিশ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা, গরুর গোশত ২৪৫ থেকে ২৫০, খাসী ৩৬০ থেকে ৪০০, ব্রয়লার মুরগী ১৪৫ থেকে ১৫০, দেশী মুরগী ২২০ থেকে ২৫০ টাকা।
কাঁচা বাজারের পণ্যের দাম সম্পর্কে মগবাজারের ব্যবসায়ী জানান, সবজির বাজার অস্থিতিশীল। । কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩৬ টাকা, করলা ২০ থেকে ২২ টাকা, শশা ২০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লাউ পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কাঁচাকলা ১২ থেকে ১৫ টাকা হালি, পেঁপে ১৮ থেকে ২২ টাকা, ঢেঁড়শ-২০ থেকে ২৪ টাকা, পটল- ১৬ থেকে ১৮ টাকা, ঝিংগা ১৮ থেকে ২২ টাকা, চিচিংগা ১৬ থেকে ১৮ টাকা, কাকরল ১৬ থেকে ২০ টাকা এবং শাকসবজি ৫ থেকে ১০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


