একাত্তরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে শেরপুরের এক রাজাকার ও এক মুক্তিযোদ্ধার স্ববিরোধী বক্তব্যে শেরপুরে তোলপাড় চলছে। জেলার বহুল আলোচিত রাজাকার মোহন মুন্সীর দাবি মুক্তিযুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাড়ি দখল করে সেখানে রাজাকার-আলবদরের টর্চারিং সেন্টার খুলেছিলেন। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও তৎকালীন ঘাতক দালাল চিহ্নিত ও নির্মূল কমিটির কমান্ডার মো. সামেদুল ইসলামের দাবি আলবদর ও রাজাকারদের ওই টর্চারিং সেন্টারে কামারুজ্জামান নামে কেউ ছিল না। তবে কামরান নামে জনৈক রাজাকারের নাম ছিল তৎকালের ঘাতক দালাল চিহ্নিতকরণ তালিকায়। তাদের স্ববিরোধী ও পরস্পর বিরোধী এই বক্তব্যে শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা এবং জামায়াত নেতারা পড়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়।
গত বছর ৫ ডিসেম্বর মোহন মুন্সী প্রয়াত সুরেন্দ্র সাহার প্রবাসী কন্যা ও বিশিষ্ট লেখিকা ডা. মিনা ফারাহর কাছে তাদের বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকারদের ভূমিকার বিবরণ দেন। মিনা ফারাহ এই বিবরণটিা ভিডিও ফুটেজ করে দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার করেন। এরপর গত ১২ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সামেদুল ইসলামের একটি আÍসমালোচনামূলক বক্তব্য ছাপা হয়। এতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ঘাতক দালাল বা রাজাকার আলবদরদের চিহ্নিত করার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ওই তালিকায় কামারুজ্জামান নামে কোনো রাজাকারের নাম ছিল না। এছাড়া তিনি যুদ্ধ চলাকালে কামারুজ্জামানকে শেরপুরে দেখেননি বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তার এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। তারা বলেন, সামেদুলেল দৈন্যতার সুযোগে কামারুজ্জামান তাকে কিনে ফেলেছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খলিলুর রহমান বলেন, সামেদুলের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে, তাই সেঃ।
অপরদিকে শেরপুরের জামায়াত সমর্থকদের বক্তব্য ডা. মিনা ফারাহ আমেরিকা পাঠিয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে মোহন মুন্সীর কাছ থেকে ওই বক্তব্য ভিডিও করেছেন। তবে সামেদুল ও মোহন মুন্সী তাদের বক্তব্যে অটল রয়েছেন। কারো প্ররোচনায় তারা এসব বলেনি বলেও দাবি করেন। ডা. মিনা ফারাহ বলেন, মোহন মুন্সীকে আমি চিনিই না। আমেরিকা থেকে শেরপুরের বাসায় আসার পর তিনি নিজেই আমাকে কাছে ওই সাক্ষাতকারটি দেন। কিন্তু এরপর আমি তার কোনো খোঁজ নিইনি বা তিনি কোথায় কীভাবে আছেন তাও জানার চেষ্টা করিনি।
মুক্তিযোদ্ধা সামেদুল ১৯৭১ সালে ১১ নং সেক্টরের সেকশন কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে শেরপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এজিএস নির্বাচিত হন। আর মোহনমুন্সী একাত্তরে আলবদর কমিটির শীর্ষ নেতা ছিলেন। শহরের সর্বত্র তিনি রাজাকার হিসেবে স্বীকৃত। এ ব্যাপারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেন, মোহন মুন্সীকে আমি চিনিনা। আর একাত্তরের অনেক আগে থেকেই আমি শেরপুরে ছিলাম না। আসলে মিনা ফারাহ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার ওপর রাজাকারের বদনাম চাপিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, মিনা ফারাহর মতো আমার এতো টাকা নাই যে কাউকে সেল্টার দেব। বরং উনিই টাকার বিনিময়ে ডোনেট করে অনেক কিছুই করতে চাচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



