সপ্তাহ ধরে আছেন। থাকবেন। তার জীবনের পাচটি দুঃসহ বছরের অভিজ্গতা নিয়ে লেখা বই ফাইভ ইয়ারস অভ মাই লাইফ নিয়ে কথা বলতেই জীবনের প্রথমবারের মত তুরস্কের নাগরিক এই জার্মান অধিবাসীর ডাবলিন আসা।
মুরাতের নামটা যদি সবার কাছে একটু অপরিচীত ঠেকে তাহলে বলি। মুরাত কুরনাজ জার্মানে জন্মগ্রহন করা ও স্থায়ীভাবে বসবাস করা একজন তার্কিশ মুসলমান। তাবলিগ জামাতের সাথে ২০০১ সালের শেষদিকে পাকিস্থান গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আল কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে মার্কিন সৈন্যদের কাছে আটক হন তিনি। এরপর প্রথম ছয়মাস আফগানিস্থানের কান্দাহারে কারাগারে ও পরে একটানা সাড়ে চারবছর কুখ্যাত মার্কিন কারাগার গুয়ানতানামোতে কাটাতে হয় তাকে। কোনো অভিযোগের প্রমান না পাওয়া গেলেও এতটা বছর জেলে কাটাতে হয় তাকে। পরে ২০০৬ সালে জার্মান সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতায় মুক্ত হন তিনি। ততদিনে ১৯ বছর বয়সী মুরাতের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে পাচটি বছর, তিনি ২৪ বছর বয়স্ক হয়ে গেছেন।
কি ভীষন মর্মান্তিক ছিল সে সব দিনের অভিজ্গতা, তা তিনি তার বই ফাইভ ইয়ারস অভ মাই লাইফ এ তুলে ধরেছেন। এ বইটি নিয়ে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে কথা বলতে প্রথমবারের মত আয়ারল্যান্ড এ আসেন তিনি এ সপ্তাহে।
তার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তাকে দেখে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল তিনিই সেই লোক যিনি পাচবছর ওই কুখ্যাত কারাগারে ছিলেন। কেননা তার চেহারা সম্পর্কে অন্যরকম একটি ধারনা হয়েছিল নেটে তার লম্বাচুল দাড়িওয়ালা অগোছালো ছবি দেখে।
তিনি তার উপর করা মার্কিন সৈন্যদের অত্যাচারের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন মোটা লাঠি আর লোহার পাইপ দিয়ে অবিরত মারা, ইলেকট্রিক শক আর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট ছিল তার নিত্যদিনের সাথী। ২০০২ সালের প্রথম দিকেই তাকে নির্দোষ হিসেবে চিহ্নিত করার পরও তাকে চারটি বছর মুক্তি দেয়া হয় নি।
তিনি বলেন, আমি তারপরও আমেরিকা যেতে চাই, কিন্তু আমাকে যেতে দেয়া হবে না। কেননা অফিসিয়ালী আমি এখনও সন্ত্রাসী তালিকায়।
তিনি আমেরিকান জনগোষ্ঠি নিয়ে বলেন, আমি জানি আমেরিকান জনগন তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছে তাদের সরকারের বাজে কাজগুলোকে থামাতে, যা বুশ প্রশাশন তাদের নামে করে যাচ্ছে। কিন্তু এটি খুব কঠিন, তাই আমি আশাপ্রদ নই।
উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড ভীষন ভুল করছে তাদের শ্যানন এয়ারপোর্ট মার্কিন সেনাদের ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়ে, প্রকান্তরে এটি মার্কিন অনাচারের সহযোগী হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে।
তিনি বলেন আইরিস সরকার কোনসময় কারো উপর অত্যাচার ও নিপীরন সমর্থন না করলেও, এ ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে হলেও তা করছে।
একই অনুষ্ঠানে আ্যমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল আইরিশ হেড ও’গরম্যান আইরিশ সরকারের কাছে আহ্বান জানান, যাতে সরকার আইরিশ নাগরিকদের পক্ষ থেকে ইউএসএর এমন মানবাধিকার লংঘন ও মানুষের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানানো হয়।
আ্যমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আমন্ত্রনেই মুরাত আয়ারল্যান্ড এসেছেন। তিনি পরবর্তী কদিনে দেশের আরও কটি শহরে যাবেন। তিনি বিতর্কিত শ্যানন এয়ারপোর্টটিও দেখতে যাবেন। যে এয়ারপোর্টটি শুধুমাত্র মার্কিন সৈন্যদের জন্যই প্রধানত তৈরি।
আমি নিজে একসময় লিমেরিক থেকেছি। শ্যানন এয়াপোর্টের সবচেয়ে কাছের শহর লিমেরিক। সারা শহরেই মার্কিন সৈন্যের দেখা মিলত। আয়ারল্যান্ড এর এমন মার্কিনপ্রীতি খুবই বিরক্ত লাগে। খোদ আয়ারল্যান্ড এ যত আইরিশ থাকে তার চেয়ে বেশী থাকে আমেরিকায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

