আমার প্রিয় পোস্ট

দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবে না ফিরে

রসুল সা. এর চারের অধিক বিয়ে প্রসংগঃ ইউসুফ আল কারদাওয়ী

৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:২৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রশ্নঃ
রাসুল সা. নয়টি বিয়ে করেছেন,অথচ অন্য মুসলমানের জন্য চারটির বেশি বিয়ে করা নাজায়েজ। এর কারণ কি? সন্তোষজনক জবাব দেবেন আশা করি।

উত্তরঃ
জাহেলী যুগে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে কোন বাধা নিষেধ বা কোন সীমারেখা ছিলো না। প্রাচীনকালে প্রায় সর্বত্রই স্বামীদের একাধিক স্ত্রী ছিলো। একজন পুরুষ যত ইচ্ছা বিয়ে করতে পারতো।

ইসলাম এই রীতি বন্ধ করে দিয়েছে এবং চারটির বেশি বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যেসব সাহাবার চারের অধিক স্ত্রী ছিলো, রাসুল সা. তাদের বলেছেন, তাদের মধ্যে চারজন বাছাই করে রাখো,অন্যদের তালাক দিয়ে দাও।

ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমোদন শর্ত সাপেক্ষে দিয়েছে। সকল স্ত্রীর সাথে একই রকমের ব্যবহার এবং একই সুবিচার করতে হবে। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

" যদি তোমাদের এই ভয় হয় যে, তোমরা ( একের অধিক হলে) ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে (তোমাদের জন্য) একজনই যথেষ্ট।" (আন নিসাঃ আয়াত ৩)।

তবুও আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা. কে সকল মানুষের তুলনায় একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। চারজন স্ত্রী রেখে অন্যদের তালাক দেয়ার আদেশ তাঁকে দেয়া হয়নি। তবে এরপর বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে, যদি কোন নারীকে পছন্দ হয় তবুও। আল্লাহর এই নিষেধের কথা নিম্নোক্ত আয়াতে বলা হয়েছেঃ

'' (হে নবী) এরপরে তোমার জন্যে এটা বৈধ নয় তুমি তোমার (বর্তমান) স্ত্রীদের বদলে (অন্য নারীদের গ্রহ ণ করে ) নেবে, যদিও সেসব নারীদের সৌন্দর্য তোমাকে আকৃষ্ট করে।" (আহযাবঃ ৫২)

চারজন স্ত্রী রখে অন্যদের তালাক দেওয়ার আদেশ আল্লাহ তায়ালা রাসুল সা. কে দেননি। তাঁকে এই আদেশ থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, রাসুল সা. এর স্ত্রী হওয়ার ফলে উল্লেখিত মহিলারা বিশেষ সামাজিক মর্যাদা লাভ করেছেন। রাসুল সা. এর স্ত্রী হওয়ার কারণে তারা সমগ্র মুসলমানের মা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

" আল্লাহর নবী মোমেনদের কাছে তাদের নিজেদের চাইতেও বেশি প্রিয়।, নবীর স্ত্রীরা হচ্ছে তাদের মা (সমান)।" (আহযাবঃ ৬)

মুসলমানদের মা হওয়ার বন্ধনের কারণে তাদের বিয়ে করা যেকোন মুসলমানের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তায়াল বলেন,

" তোমাদের কারো জন্যই এটা বৈধ নয় যে, তোমরা আল্লাহর রাসুলকে কষ্ট দেবে- (না এটা তোমাদের জন্য বৈধ যে,) তোমরা তারপর কখনও তাঁর স্ত্রীদের বিয়ে করবে, এটা আল্লাহ তায়লার কাছে একটি বড় (অপরাধের) ব্যাপার।'' (আহযাবঃ ৫৩)।

চিন্তা করে দেখুন রাসুল সা. যদি চারজন স্ত্রী রেখে অন্যদের তালাক দিতেন তবে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীদের বাকী জীবন অন্যকোন পুরুষের সাথে নিষিদ্ধ হতো। ফলে বাকী জীবন তাদেরকে স্বামীবিহীন অবস্থায় কাটাতে হতো। রাসুল সা. এর সাথে বিয়ের কারণে তারা যে সামাজিক মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন, তালাকের পর সে মর্যাদা থাকতো না। এর অর্থ হচ্ছে কোন অপরাধ না করেও তারা শাস্তি ভোগ করতেন এবং বঞ্চনার স্বীকার হতেন। তাছাড়া যদি তাঁকে এ আদেশ মেয়া হত যে, আপনি চারজন স্ত্রী রেখে বাকী স্ত্রীদের তালাক দিন তবে রাসুল সা. এর জন্যে কঠিন সমস্যার সৃষ্টি হতো। কারণ তিনি কাকে রেখে কাকে তালাক দিবেন ? তার দৃষ্টিতে সকল স্ত্রী ছিলেন সমান। শুধু তাই নয়, চারজন রেখে বাকীদের সামাজিক মর্যাদাহানি হতো। তারা মু সলমানদের মা হওয়ার যে গৌরবলাভ করেছিলেন সেই গৌরব থেকে বঞ্চিত হতেন।

এ কারণে তাঁর সকল স্ত্রী বহাল থাকা ছিল যুক্তির দাবী। তবে পরবর্তীতে অন্য কোন নারীকে বিয়ে করতে রাসুল সা. কে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন। এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে একটা তা স্পষ্ট করা দরকার যে, রাসুল সা. যাদের বিয়ে করেছিলেন, তাদের কারো রুপে আকৃষ্ট হয়ে বা যৌন কামনার বশবর্তী হয়ে করেননি। পাশ্চাত্যের লেখকরা যদিও রাসুল সা. এর শানে বেয়াদবের মত এরকম গোস্তাখিপূর্ণ কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, রাসুল সা. পঁচিশ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেছিলেন। হযরতখাদীজা রা. ছিলেন সেই সময় রাসুল সা. এর পনের বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ। তাছাড়া ইতিপূর্বে দু'বার তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং সন্তানও হয়েছিল। তবুও বিবি খাদিজার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং চমতকার প্রীতিপূর্ণ জীবন যাপন করেন।
হযরত খাদিজা রা. এর ইন্তেকালের পর রাসুল সা. তার প্রসংগে সবসময় ভাল কথা বলতেন এবং তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেন।

হযরত খাদিজা রা. এর মৃত্যূর পর রাসুল সা. অন্যান্য বিয়ে করেছিলেন। ৫৩ বছর বয়সে রাসুল সা. হযরত সাওদা বিনতে জামায় রা. কে নিজ সন্তানের দেখাশুনা এবং ঘর সংসারের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে বিয়ে করেন। হযরত আবু বকর রা. এবং হযরত ওমর রা. এর সাথে সম্পর্ক অধিকতর মজবুত করার উদ্দেশ্যে আয়েশা রা. এবং হাফসা. রা.কে বিয়ে করেন। একই উদ্দেশ্যে ওসমান রা. এবং আলী রা. কে নিজ কন্যাদের সাথে বিয়ে দেন। চিন্তা করে দেখুন তো, এটা কি কাকতালীয় ব্যাপার ছিলো যে, রাসুল সা. এর ওফাতের পর উল্লেখিত চারজনই পরে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।

হযরত হাফসা বিধবা ছিলেন। তার অতোটা রুপ সৌন্দর্যও ছিল না। হযরত আয়েশার সাথে বিয়ের সময় তার বয়স এত কম ছিল যে, সেই বয়সে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্াপন কষ্টকর চিন্তা ছাড়া কিছু ছিলো না।

উম্মে সালমা রা. বিধবা হন এবং ধৈর্যের সাথে বৈধব্যকাল অতিবাহিত করেন। তার ধৈর্যের কারণে আল্লাহ তায়ালা পুরস্কার স্বরুপ রাসুল সা. এর স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন। জুওয়াইয়া বিনতে হারিস রা. কে রাসুল সা. এ উদ্দেশ্যে বিয়ে করেছিলেন যে, বিয়ের পর জুওয়াইয়ার কওমের লোক ইসলাম গ্রহণ করবে। আবু সুফিয়ানের কন্য উম্মে হাবিবাকে এ জন্য বিয়ে করেছিলেন যে, উম্মে হাবিবা হাবশায় হিজরত করার পর তার স্বামী মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল এবং মৃত্যুবরণ করেছিলো। উম্মে হাবিবার কষ্ট লাঘবের জন্য রাসুল সা. তাকে বিয়ে করেন। তা চাছাড়া এ বিয়ের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিলো ইসলামের প্রতি আবু সুফিয়ানের শত্রুতা হয়তো কিছুটা কমে যাবে।

বিস্তরিত এ আলোচনায় বোঝা যায় যে, রাসুল সা. এর প্রতিটি বিয়ের পিছনেই ছিল মহত উদ্দেশ্য। রুপ সৌন্দর্য, অর্থ সম্পদ বা যৌন কামনা তাড়িত বিয়ে একটিও ছিলো না। একত্রে চারজন স্ত্রীর অধিক রাখা যাবে না- এই বিধান জারি হওয়ার আগে রাসুল সা. ওই বিয়েগুলো করছিলেন। এই বিধানের পরে রাসুল সা. একটি বিয়েও করেন নি। তবে তাঁর স্ত্রী হিসেবে যারা ছিলেন তাদের কাউকে তালাক দেননি। এর কারণ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুল সা. এর একাধিক বিয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলো, ইসলামের প্রচা প্রসারে সহায়তা করা। আরও একটি উদ্দেশ্য ছিলো, তাঁর স্ত্রীরা তাঁর জীবন চরিত সম্পর্কে বেশি সংখ্যক মানুষকে অবহিত করতে পারবে। এতে সন্দেহ নেই যে, স্ত্রীরা স্বামীদের যতটা কাছাকাছি থাকেন অন্য কেউ ততটা থাকতে পারেন না।

রাসুল সা. একাধিক বিয়ে করে স্ত্রীদের সামনে নিজের বাস্তব জীবনের নমুনা পেশ করেন। স্ত্রীরা যেন সেসব মানুষকে জানাতে পারেন। রাসুল সা. বলেন আমার সম্পর্কে লোকদেরকে জানাও।

হযরত আয়েশা রা. রাসুল সা. এর জীবন সম্পর্কে লোকদেরকে বিস্তরিত অবগত করেছেন। স্বামী স্ত্রীর একান্ত ও বিশেষ সম্পর্কের কথাও তিনি গোপন করেননি।

-------------------------------------- লেখাটি 'ফতোয়া' নামক বই থেকে নেয়া। জনাব কারযাভীর বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের বাংলায় সংকলন করেছেন হাফেজ মুনির উদ্দিন আহমদ। বইটি প্রকাশ করেছে আল কোরআন একাডেমী লন্ডন। কাটাবনের বইয়ের দোকানগুলোতে পেতে পারেন।

আল্লামা কারযাভীকে জানতে এখানে ক্লিক করুন

 

প্রকাশ করা হয়েছে: ইউসুফ আল কারযাভী  বিভাগে ।

 

  • ৯৯ টি মন্তব্য
  • ১৪৮৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৮ জনের ভাল লেগেছে, ১২ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৪৬
comment by: অচেনা বাঙালী বলেছেন: পালক ছেলের বউকে বিয়া করার ব্যপারটা চেপে গেছেন। এই সম্মন্ধে হুজুরের বয়ান কি?
২. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:১৬
comment by: সোনার বাংলা বলেছেন: খুবই সুন্দর পোষ্ট।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
৩. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:২৩
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: সুন্দর পোস্ট, ধন্যবাদ। কোথা থেকে দিয়েছেন এটা জানতে পারি?


অচেনা বাঙালী,
আনাস (রা) এর তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার নির্দেশ কিন্তু কুরআনে সরাসরি এসেছে। এই ব্যাপারটাই কোন মুসলিমকে একে প্রশ্ন করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

নিরপেক্ষ ভাবে দেখতে চাইলে--ইসলামে রক্তের সম্পর্কের মূল্য অপরিসীম, পালক পিতা পুত্রের কোন কনসেপ্ট নেই। কাউকে ছোট থেকে বড় করা আর পুরাপুরি অনাত্মীয় কারো সাথে কোন মৌলিক পার্থক্য নেই। এই ব্যাপারটা আরবের লোকের জন্য গ্রহন করা কঠিন ছিল, কারণ তাদের কাছে মুখে ডাকা ভাই, ছেলে, বাবা, চাচা এগুলোর মূল্য ছিল অনেক বেশি। কুরআনের নির্দেশটা দেয়া হয় এই কুসংস্কারটাই ভেঙে দেয়ার জন্য। মুহাম্মদ (সা) নিজে যদি না করে যেতেন, তাহলে কুসংস্কারটা মূল থেকে উৎপাটন সম্ভব হতো না হয়তো কখনও।
৪. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৩২
comment by: অচেনা বাঙালী বলেছেন: মুহাম্মদ (সা) নিজে যদি না করে যেতেন, তাহলে >>কুসংস্কারটা মূল থেকে উৎপাটন সম্ভব হতো না হয়তো কখনও।

চমত্কার! আমি মুগ্ধ আপনার যুক্তিতে।
ছেলের বউকে বিয়ে না করার মত জঘন্য কুসংস্কারের মূল উত্পাটন না করলে জগত সংসারের কতই না ক্ষতি হতো।
৫. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৩৬
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: অমিত বাঙালী,
ইসলামে আনাস (রা) কে ছেলে বলে স্বীকৃতি দেয়া হয় না।

সুতরাং আপনার স্টেইটমেন্টের গোঁড়াতেই ভুল।

ওই সমাজের এই প্রথাটা দূর করার প্রয়োজনীয়তা আল্লাহ বোধ করেছেন বলে কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক কতটুকু ক্ষতি হতো জগৎ সংসারে আমি নিশ্চিত নই, কিন্তু কুরআনের নির্দেশে যেহেতু বিয়ে করা, তার মানে নিশ্চ্য়ই অনেক!
৬. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৫২
comment by: চোর বলেছেন: আমি এতদিন জানতাম ১৩ বিয়া। এখন দেখতেছি ৯ টা। যাক, ওয়ান ডিজিটে আছে।
৭. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৫৫
comment by: মোতাহের হোসেন সোহেল বলেছেন: রাসুলের(স:) ২জন ক্রীতদাসী স্ত্রী ছিলেন। তাদের সম্‌পর্কে জানতে চাই?
৮. ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৫৭
comment by: অচেনা বাঙালী বলেছেন: এইবার ৫৬ বছর বয়সে ৯ বছর বয়সের বাচ্চা মেয়ে বিয়ে করা মহান কর্মটি নিয়ে একটু বয়ান করেন দয়া করে @ সন্ধাবাতি
৯. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:১৪
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: হা হা হা @ অচেনা।

শুনতে চান? তাহলে শুনেন!

৯ বছর ছিল আয়েশা (রা) এটা কিন্তু আন ডিস্পিউটেড ফ্যাক্ট না। কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনায় কয়েকটা বয়স এসেছে। আমি সর্বোচ্চ ষোল পর্যন্ত যেতে দেখেছি।

বিয়ের মূল উদ্দেশ্যে শুধু যৌনতা খুঁজেন নি মুহাম্মদ (সা), রাসুল (সা) এর স্ত্রীরা ছিল মুমিনদের মা। মুহাম্মদ (সা) এর অবর্তমানে, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কেমন ছিলেন তা বলার গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন, কারণ স্ত্রীর মত এক কাছ থেকে কেউ দেখতে পারে না একজন মানুষকে।

আয়েশা (রা) একটা লম্বা সময় কাটিয়েছেন শিক্ষিকা হিসেবে, রাসুল (সা) এর মৃত্যুর পরে, যখন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই তার কাছে দীক্ষা নিতে আসত, রাসুল (সা) এর জীবন সম্পর্কে জানতে চাইতো, কুরআনের বিশেষ অংশ সম্পর্কে রাসুল (সা) কি বলেছেন তা জানতে চাইতো। এই কাজটা কিন্তু কোন পুরুষ সাহাবীও করতে পারে নি। প্ল্যানটা আল্লাহর ছিল, খুব দূরদর্শী বলেই নিশ্চয়ই :))
১০. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:১৫
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: আয়েশা (রা) সেই যুগের মেয়েদের তুলনায় মারাত্মক ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন, প্রশ্ন করতেন অনেক, যা অনেক পুরুষ সাহাবীরাও করতে পারতেন না। অনেক ক্ল্যারিফিকেশন এসেছে আয়েশা (রা) কে ঘিরে, শুধু তাকে উপলক্ষ করেই অনেক কুরআনের আয়াত এসেছে। এসব বিচার করলে আয়েশা (রা) এর সাথে মুহাম্মদ (সা) এর বিয়েটা খুব বিচক্ষন এবং প্রয়োজনীয় ছিল!
১১. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:১৬
comment by: চোর বলেছেন: বাতি আপু, মুহাম্মাদ (সাঃ) আসলে কয় বিয়া করেছিলেন? মাহমুদ সাব সিঙ্গেল ডিজিটে নামায়া যে কি প্রমাণ করতে চাইলেন, বুঝলাম না।
১২. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২১
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: আমি যতটুকু জানি রাসুল (সা) এর এট আ টাইম ৯ জন স্ত্রী ছিলেন, কিন্তু মোট বিয়ে করেছেন তারও বেশি। যেমন, খাদীজা (রা) আগেই মারা গিয়েছিলেন। এছাড়া তাঁর দু'য়েক জন স্ত্রীর ব্যাপারে ঐক্যমত নেই। মাহমুদ রহমান কোথাও থেকে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, ওখানে প্রশ্নকর্তাই সেই প্রশ্ন করেছে... আমার ধারণা।
১৩. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২২
comment by: বন্ধনহীন বলেছেন: ধর্ম, আজকের দিনের নীতিবোধ সব বাদ দিয়ে চিন্তা করেন, এটা ১৪০০ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটা ব্যপার, তখন সব পরিস্কার হয়ে যাবে। মাথায় রাখতে হবে শুধু ১৪০০ বছর আগের আরবের সমাজব্যবস্থা।
১৪. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২৫
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ !
একটা জিনিস খোঁচাচ্ছে ।
১। ২৫ বছরের যুবকের বিয়ে করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া
২। শান্তি রক্ষা , ইসলামের প্রচার , গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে সম্পর্ক স্থাপন , বন্ধুর সাথে সম্পর্ক পাকা করার জন্য যখন যেমন দরকার , বিয়ে করা ।

৩। ইসলামী শাসনে পরিবার তন্ত্র শুরু ( দুই খলিফা বেয়াই , দুই খলিফা জামাই)

৪। শিশু বিবাহ

৪। পরিশেষে , "অন্য কেউ বিয়ে করবে না" - এর জন্য তালাক না দেওয়া ।

সম্মান প্রদর্শন পূর্বক , এই ভদ্রলোক যদি , বাই এনি চান্স, রাসূল না হইতেন , তাইলে এই বিশাল কর্ম সম্পাদনের নিমিত্তে তাহাকে সমাজ কি রূপে দেখিত ?

এইটারে "বিশাল মহত্ব " হিসেবে না দেখে চরম সুবিধাবাদ হিসেবেও দেখা যায় । চরম সুবিধাবাদ বলা যায় না মাত্র দুইটা কারনে ।

১। উপরের নির্দেশ (জলপাই কিন্তু পবিত্র ফল , ঃ) হা হা )
২। তৎকালিন আরব সমাজের বাস্তবতা । যেমন, যুদ্ধে মৃত সৈনিকের স্ত্রী "অসম্মান জনক" জীবন যাপনের চেয়ে বা না খেয়ে মরার চেয়ে অন্য কোন পুরুষের ২য়, ৩য় বা ৪র্থ স্ত্রী হয়ে জীবনযাপন বেটার ছিলো।

( কারো খেপে যাওয়ার দরকার নাই। কারো অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য বলা না । জাস্ট এ থট)
১৫. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৩১
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: খলীফা বেয়াই আর জামাই হোক, তখন বিয়ে মুহাম্মদ (সা) নিজের মেয়েদের এমন মেয়েদেরই দিয়েছিলেন যারা সত্যিকারের যোগ্যতা সম্পন্ন। সেই সময়ে কিন্তু কারো সন্দেহ ছিল না ওমর (রা) এর যোগ্যতা সম্পর্কে, কেউ সন্দেহ করেনি হাফসা (রা) এর বাবা হিসেবে মুহাম্মদ (সা) ওনাকে খলিফা বানিয়েছেন।


মুসলিমদের ছোট্ট কমিউনিটিতে অনেকেই অনেক ভাবে লিংকড ছিলেন। যে কোন যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষই হয়তো রাসুল (সা) এর নিজের পরিবারের কেউ ছিলেন কোন না কোন ভাবে।


যদি এ থেকে বাঁচার জন্য একেবারেই নির্বোধ, অশিক্ষিত কাউকে খলীফা বানাতেন সেটা নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ হতো না, তাই না?
১৬. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৪
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: বাল্য বিবাহের ব্যাপারে বলি--
টিনেজ আইডিয়াটা যে পশ্চিমা সমাজের সৃষ্টি, তাও গত কয়েক শতকে, সেটা জানো তো? আগে কিন্তু পিউবার্টি রিচ করলেই সে 'বড়' হয়ে যেত, 'শিশু' থাকত না। সব সমাজেই। তুমি এখনকার চোখ দিয়ে দেখলে তো চলবে না। তাহলে রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে আরও অনেকেই শিশু বিবাহের দায়ে দায়গ্রস্ত হবেন।

আয়েশা (রা) পিউবার্টি রিচ করার পরেই রাসুল (সা) এর সাথে সংসার শুরু করেন। ৯ বছরের ব্যাপারে যদিও ঐক্যমত নেই, তবু ধরে নেই বয়সটা ৯ই ছিল। তো? সবার শারিরীক আর মানসিক গড়ন কিন্তু এক রকম হয় না। তুমি ডাক্তার তুমি জানো গরমের দেশে মেয়েদের শারিরীক পূর্ণতা বেশ আগে আসে।
১৭. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৫
comment by: চোর বলেছেন: এট আ টাইম ৯ জন স্ত্রী থাকা মানে নয়টি বিয়ে করা না। বিয়ের সংখ্যা আরো বেশি। উনার জীবদ্দশায় শুধুমাত্র খাদিজা (রাঃ) মারা গিয়েছিলেন (?)। তাহলে, বাকিদেরকে কি তালাক দিয়েছিলেন?

প্রাসঙ্গিক আরেকটা জিনিস, বিয়ের সংখ্যা একটা গ্রোস লেভেলের ইনফর্মেশন। এটা নিয়েই আমরা নিশ্চিত না। আর হাদিস নামধারী রূপকথার প্রতিটা শব্দকে ধ্রুবসত্য মেনে নিয়ে ফতোয়া দেই, ধর্ম হিসেবে প্রচার করি। জিনিসটা একজন মুসলমানের জন্য পীড়াদায়ক।
১৮. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৪
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: চরম সুবিধাবাদীর কথাটা তাঁর চরিত্রের অন্যান্য দিক পড়লে বুঝা যাবে, ধোপে টিকার মত না।

অনেকগুলো দিন না খেয়ে কাটিয়েছেন, যখন শাসনকর্তা ছিলেন তখনও।

চরম সুবিধাবাদী হলে, এতগুলো বিধবা আর বুড়িদের বিয়ে করার আসলেই দরকার ছিল না। উপরের নির্দেশ বলে ১১ কেন ১০০ জন সুন্দরী যুবতীকে বিয়ে করতেন! উল্টা তো নিজের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে নিলেন অনাথ অসহায় মেয়েদের বিয়ে করে!

২ নম্বর ঠিক আছে, সেটাই ছিল মূল কারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্বে প্রস্টিটিউশন ব্যাপক ভাবে বেড়ে গিয়েছে কারন তখন ওয়ার উইডোদের যাওয়ার যায়গা ছিল না, এবল বডিড পুরুষ ছিল না কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে করার জন্য।

সেই ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মান দিয়ে রাখা মানে কিন্তু দায়িত্ব নেয়া, ইনডালজেন্স না, দায়িত্বহীন ভোগ না। স্ত্রীর সম্মান দিয়ে রাখা মানে প্রতিটা স্ত্রীকে একই ব্যাপার সংস্থান করে দেয়া, একই মর্যাদায় রাখা।
১৯. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৬
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: চোর, আপনার কিছু পছন্দ না হলেই সেটা হাদীসের উপর দোষ চাপিয়ে ইনভ্যালিড করে দেন। এইটা আমাকে ভাবায়। আসলেই কি আপনি ইসলাকে চিনতে চাইছেন নাকি নিজের মত করে ইসলামকে সাজাচ্ছেন।

তো রাসুলের কয় বউ ছিল আপনার মুখেই শুনি।
২০. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৮
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: সাহস করেন নি না, কারণ খাদীজা (রা) যে মুহাম্মদ সা কে ভীষণ শ্রদ্ধা করতেন, সেটা তার জীবন সম্পর্কে জানলেই বুঝা যায়। তখন 'প্রয়োজন' পড়ে নি। তখনও তিনি নবী ছিলেন না, এত দায়িত্ব আসে নি ঘাড়ে।
২১. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫২
comment by: অচেনা বাঙালী বলেছেন: >>তখনও তিনি নবী ছিলেন না

?????
২২. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৩
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: দ্রোহী , আপনি কোন মুসলিম নারীর ২য় অথবা ৩য় স্বামী হইতে চান ? ;)

সন্ধ্যা , আরবের তৎকালিন বাস্তবতা আমি মনে হয় খুব একটা কম পড়ালেখা করি নাই । রাসূলের অনেক "বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় এবং বর্জনীয় " সিদ্ধান্ত তখনকার কন্টেক্সটে হয়ত জাস্টিফায়েড ছিলো । হয়ত বেস্ট ডিসিশন ছিলো না । কিন্তু বেস্ট পসিবল ডিসিশন ছিলো ।

ইসলামেই বলা আছে , পরিবর্তন প্রয়োজন এবং সময় ও কন্টেক্সটের পরিবর্তনে নিয়ম কানুন পালটে যাবে ।

এই সহজ সত্যটাকে না মেনে , উলটো যখন "১৪০০ বছর আগের " উদাহরন ২০০৭ সালের বাস্তবতায় "কাস্টমাইজ না করেই" এপ্লাই করে ইসলাম তথা মুসলিমদের "উম্মাহ" না করে "দুম্বাহ " হইতে চাপ দেওয়া হয় , তখন না খেপে উপায় থাকে না।

এখনকার এটিচুড দেখিস নাই ?
কোন প্রশ্নই করা যাবে না !
অথচ , কাপড় হাটুর নিচে নামলো কেন , এই প্রশ্নের জাস্টিফায়েড উত্তর দিতে না পারলে মুহম্মদের গর্দান নিয়ে নিতেন বলে হুমকি ঊমর দিয়েছিলেন ভরা মজলিসে , রাসূলের সামনেই ।

কোথায় সেই মুক্তমনা , সাহসী , প্রশ্ন করতে ভয় পায় না ইসলাম?

চোখ বন্ধ করে হুজুরের পা চাটা ইস্লামিস্টদেরই বেশি দেখি চারপাশে ।

ইসলাম নিয়ে এই ব্যবসাটা সহ্য হয় না ।

কেউ বানায় দেবতা , কেউ বানায় রাঁঢ় !
২৩. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:১১
comment by: তীরন্দাজ বলেছেন: আমার জানা মতে, বিয়ে হচ্ছে দু'জন মানুষের ভালবাসার ফসল। রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্য, ধর্মীয় উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে বিয়ে, এমন কিছু কোরানের আয়াতেও আছে কি না, তাতে সন্দেহ রয়েছে বিস্তর। আর যিনি বিয়ে করছেন, তার যৌন কামনা না থাকা, তার স্ত্রীদের জন্যে সুখের বিষয়? তাদের যৌন কামনা থাকতে পারে না? নাকি পুরুষের যৌন কামনার উপরই নির্ভর করে সবকিছু?

যারা ইসলামী রাষ্ট্রের কথা ভাবছেন, তারা এখন রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্য, ধর্মীয় উদ্দেশ্য, সামাজিক মহান উদ্দেশ্য সাধনের বিয়ে ও মেয়েদরকে হাতিয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন।

আসল কথা হচ্ছে, তখনকার সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এসব মেনে নিলেও, এখন এভাবে ভাবা নিতান্তই অন্যায়। শুধুমাত্র অন্যায় নয়, মহা অন্যায়। সেজন্যেই অনেক প্রশ্নই ধর্মকে সময়োপযোগী ভাবে ব্যখ্যার করার কথা বলা হয়। যারা তা চান না, তাদেরকে মৌলবাদী বলা হয়। মৌলবাদী চিন্তা এখনকার সমাজের জন্যে ক্ষতিকর ও অমানবিক।
২৪. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২২
comment by: অচেনা বাঙালী বলেছেন: /**এমন কিছু কোরানের আয়াতেও আছে কি না, তাতে সন্দেহ রয়েছে বিস্তর

আছে জনাব।
আস্তমেয়ে যাই বলুক, বৃদ্ধের কাছে শিশু বিয়া দিতে আবু বকর রাজী না হওয়া কোরানের আয়াত নাযিল হয়েছিল @ তীরন্দাজ
২৫. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৬
comment by: অচেনা বাঙালী বলেছেন: লানত লাগল নি?
২৬. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩০
comment by: অমনিবাস বলেছেন: কথাটা কইছিলাম আস্তমেয়ের পিউবার্টির কথাটার প্রসঙ্গে। গরমের দেশে মেয়েদের তাড়াতাড়ি যৌবন আসে বইলা উল্লেখ করছে সে, তাই সব কিছুর তো একটা টাইম ফ্রেম থাকে। ম্যানুস্ট্রেশন যেমন কুইক, তেমনি মেনুপজো আসবে তাড়াতাড়ি , শীত প্রধান দেশের নারীদের আগে (এইডা চিকিতসা বিজ্ঞানের হিসাব)। তাই বলতেছিলাম ম্যানুপজের শিকার হওয়ার আগেই আইবুড়িদের বিয়া বসা ফরজ, নাইলে কি একটা মিস হইয়া যাইব গা
২৭. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩৬
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: রাগ আপু,
কনটেক্সট অনুযায়ী মৌলিক ব্যাপারগুলো ছাড়া অনেক কিছুই যে বদলে যায় এটা ইসলামেরই শিক্ষা। আর কোরআন হাদীসের কোন প্রমান না পাওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন করতেও বলা হয়েছে। কুরআনের নির্দেশ অনেক সময় প্রশ্নাতীত মানতে বলার কারণ অন্য রকম। নির্দিষ্ট পরিমান জ্ঞানার্জনের আগে অনেক কিছুর উইজডম বুঝা যায় না। আমার দশ বছর বয়সে যত কিছু মেইক সেন্স করতো, যে সব প্রশ্ন জাগতো, এখন কিন্তু উইজডমের জন্যই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। আরও দশ বছর পরে আরও অনেক হাম্বলনেস আসবে, এই ইনক্রিসড নলেজের জন্যই। তারপরেও, ইসলামের অনেক কিছুই কনটেক্স ডিপেন্ডেন্ট।
২৮. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩৮
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: অচেনা বাঙালী,
তাই বুঝি? আয়েশা (রা) কে মুহাম্মদ (সা) এর কাছে বিয়ে দেয়ার ব্যাপারে কোন আয়াত নাজিল হয়েছে একটু দিবেন প্লীজ? আমার জানা মতে সেটা কুরআনের আয়াতে হয় নি, বিয়ে আবু বকর (রা) এর আগ্রহেই হয়েছে।
২৯. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩৯
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: তীরন্দাজ,
ইসলামে বিয়ে 'শুধুমাত্র' যৌনসম্পর্কের জন্য নয়। বিয়েটা একটা 'পার্টনারশিপ'। ফর এভরি থিং।

বিভিন্ন কারণে বিয়ে হয়ে থাকলেও তিনি কিন্তু কখনও ভালবাসার ব্যাপারে একটুও কার্পণ্য করেন নি। তাঁর স্ত্রীদের বর্ণনা থেকেই বুঝা যায় স্বামী হিসেবে খুব ভাল ছিলেন।
৩০. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৪০
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: "যেসব সাহাবার চারের অধিক স্ত্রী ছিলো, রাসুল সা. তাদের বলেছেন, তাদের মধ্যে চারজন বাছাই করে রাখো,অন্যদের তালাক দিয়ে দাও।"
.................
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে।
দেবতা করলে লীলাখেলা,
যতো দোষ আমার বেলা?


তালাকপ্রাপ্ত অসহায় নারীরা কোথায় যাবে তা নিয়ে মোহাম্মদ (সা:) ,আমাদের দরদী নবীর কি কোন চিন্তা ভাবনা ছিল না।
নিজের বেলা কাকে ছেড়ে কাকে রাখবেন,এটা নিয়ে চিন্তিত হলেন,অথচ তার থেকে বিচার বিবেচনায় নিকৃষ্ঠ মানুষ তথা সাহাবাদের বেলায় সেই টেনশনটা ফেলে দিলেন।

আল্লাহ সর্বজ্ঞই এর সঠিক কারন জানেন।
৩১. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৪৬
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: দ্রোহী,
দাঊদ (আ) ধর্ষণ করেছিলেন এইটা কিন্তু কুরআন হাদীসে কোথাও নাই। বাইবেলে ডেভিডের ব্যাপারে কিছু অপপ্রচার আছে। ওইটা কিন্তু বাইবেলেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, ইসলামের ক্ষেত্রে আনলে হবে না, যেহেতু মুসলিমরা প্রথমেই বলে নেয় বাইবেলে অদল বদল হয়েছে।
৩২. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৪৭
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: জেবতিক আরিফের যুক্তির খন্ডন কিন্তু পোস্টেই দেয়া আছে, কেন এবং কেন নয়।
৩৩. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫৮
comment by: তীরন্দাজ বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি, আমি প্রথমেই বলে নিয়েছি, বিয়ে হচ্ছে দু'জন মানুষের ভালোবাসার ফসল। এই ভালোবাসার ভেতরে শুধুমাত্রই যৌনকামনা, এমন কথা কখন বললাম? কিন্তু এটাও বলতে চাচ্ছি যে, যৌনকামনা এই ভালোবাসার ভেতরে একটা উল্লেখযেগ্য বিষয়। এটা যারা অস্বীকার করে, তারা জেগে জেগে ঘুমোয়।
এই ভালবাসার ভেতরে আরো অন্যান্য আরো কিছু শর্ত রয়েছে। পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, দ্বায়িত্ববোধ, জীবনের চড়াই, উতরাইকে একসাথে পাড়ি দেবার মানসিকতা। রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্য, ধর্মীয় উদ্দেশ্য, সামাজিক উদ্দেশ্য সাধনের কারণে বিয়ে করা ভালবাসার পর্যায়ে পড়ে না। এটা বসসময়ের জন্যেই নিন্দনীয়।

আপনি কাকে বিয়ে করবেন। 'যে আপনাকে ভাল বাসে ও যাকে আপনি ভালবাসেন', নাকি যদি দরকার পড়ে, 'ধর্মীয় ও সামাজিক মঙ্গল সাধনের জন্যে কোন ধর্মীয় নেতাকে'?
৩৪. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০৫
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: তীরন্দাজ,
"এই ভালবাসার ভেতরে আরো অন্যান্য আরো কিছু শর্ত রয়েছে। পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, দ্বায়িত্ববোধ, জীবনের চড়াই, উতরাইকে একসাথে পাড়ি দেবার মানসিকতা।"---এগুলো কিন্তু রাসুল (সা) এর বিয়ের বৈশিষ্ট্য ছিল!

পার্থক্য ছিল, সম্পর্কটা বিয়ের আগে থেকে ছিল না, বিয়ের পরে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যেই সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা ভালবাসার সবগুলো ক্যাটাগরিকেই ফুলফিল করে এন্ড মোর।

আমাকে করা প্রশ্ন শুনে হাসি পেয়েছে :))
৩৫. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০৯
comment by: মানবী বলেছেন: ধন্যবাদ মাহমুদ রহমান। মাঝে মাঝে ভিনদেশী ভিন্নধর্মের কেউ এই প্রসংগে কৌতুহল প্রকাশ করলে জ্ঞানের অভাবে অসহায় বোধ করেছি! রেফারেন্স সহ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
৩৬. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১০
comment by: তীরন্দাজ বলেছেন: উত্তর না পেয়ে, হাসি পেলাম! @সন্ধ্যাবাতি
নাকের বদলে নরুন!

অনেক বহু সতীনের ঘর করার মতোই! তবে হাসি ভালো। আমরা হাসি খুবই কম। আরো অনেক বেশী হাসা দরকার!
৩৭. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১১
comment by: দ্রোহী বলেছেন: সেই যুগে নারীরা কি চরমভাবে অবহেলিত হন নি?


একেকজন পুরুষ ১২/১৪ টা করে বিয়ে করে বসে থাকতো। সাম্যবাদ কোথায়?
৩৮. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১৭
comment by: দ্রোহী বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন

[তীরন্দাজ,
"এই ভালবাসার ভেতরে আরো অন্যান্য আরো কিছু শর্ত রয়েছে। পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, দ্বায়িত্ববোধ, জীবনের চড়াই, উতরাইকে একসাথে পাড়ি দেবার মানসিকতা।"---এগুলো কিন্তু রাসুল (সা) এর বিয়ের বৈশিষ্ট্য ছিল!
পার্থক্য ছিল, সম্পর্কটা বিয়ের আগে থেকে ছিল না, বিয়ের পরে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যেই সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা ভালবাসার সবগুলো ক্যাটাগরিকেই ফুলফিল করে এন্ড মোর।]

এতগুলো বউয়ের সাথে বিশ্বাস মেইনটেইন করতেন কিভাবে ?
৩৯. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১৭
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: হা হা হা @ তীরন্দাজ।
আচ্ছা জবাব দেই। আমি ভালবাসার ব্যাপারে কমপ্রমাইজ করব না। যদিও ঠিক নিশ্চিত না ভালবাসা কি এখনও বুঝি কি না। ভালবাসার বিবর্তন হয়। মোহ আর ভালবাসার পার্থক্যটা এখনও ঠিক মত বুঝে উঠতে পারি নি। মোহ, ভালবাসা, মায়া... এই স্টেইজগুলোতে সুইফট ট্রানজিশনেও পারদর্শী হয়ে উঠতে পারি নি। তবু, যখন হাইপোথ্যাটিকেল প্রশ্নটা ছুঁড়া হয়, তখন জবাব অবশ্যই--ভালবাসবে যে।


আর, সতীনও সহ্য করতে পারব না। প্রি-নাপশান এগ্রিমেন্ট দিব ভাবছি সতীন-সংক্রান্ত :)
৪০. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১৮
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: প্রি-নাপশাল* হবে।
৪১. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩১
comment by: তীরন্দাজ বলেছেন: উত্তর ভালো লেগেছে সন্ধ্যাবাতি। তবে একটু অবিচার করলেন।

প্রশ্নটি একেবারেই হাইপথেটিক্যাল নয়। বরং আপনার নিজের বর্নিত অভিজ্ঞতাঘাটতির আলোকে উত্তর হাইপথেটিক্যাল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশ্নটি পুরোপুরিভাবেই জীবনের কেন্দ্রবিন্দুকে স্পর্শ করেই।


দ্রোহীর কোট করা প্রশ্ন একেবারেই অবান্তর নয়।
৪২. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩৬
comment by: আরিফ জ