আজ সারাদিনে একটু একটু করে মনের আর্দ্রতা যখন শিশির বিন্দু হয়ে ঝরে পড়বে তখনজানলাম আমার এই এক বছরের প্রবাস জীবন পার করার জন্য উপভোগ করা উচিত। মনে আছে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯। একটি ছেলে তার জামা কাপড়ের ব্যাগের সাথে সাথে অনেক অনেক স্বপ্ন নিয়ে লন্ডনের বিমান ধরেছিলো। সময় এবং পরিবেশ হাতে ধরে শিখিয়েছে জীবনের অজানা লড়াই এ কিভাবে জিততে হয়। এভাবেই ১.২..৩ দিন করে পুরো ৩৬৫ টা দিন নতুন নতুন লড়াই করে কখোনো মানুষ কখোনো যণ্ত্র হয়ে বেঁচে আছি!!
যেদিন চলে আসি সেদিন থেকে প্রতিদিন ভাবি আজ এখানে শেষ দিন তার পরই ফিরে যাব...যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে আমি পথ হারা। আমার পাশে যদি আমার ভালবাসার মানুষটি না থাকতো তবে এ লড়াই আমার জন্য অনেক কঠিন হতো। আমার পরিবার আমাকে সহায়তা করেছে, সাহস দিয়েছে..তবু একটি প্রচন্ড ব্যস্ত দিনের শেষে ক্লান্ত আমি ঘরে ফিরে বন্ধুদের অনেক অনেক মিস করি, ফেসবুকে সবার সম্পর্কে জানার দূর্নিবার আকর্ষণ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকি..যদি সময়ের ব্যবধান অতিক্রম করে কারো সাথে একটু কথা হয়- এ আশায়।
জানি ৩৬৫ দিনে আটলান্টিকের শীতল জল বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে উষ্ঞ হয়েছে, হটাৎ হটাৎ অনেকের বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন দেখি..ফেসবুকে ছবি দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে বসে থাকি। কারো নতুন চাকরীর খবর শুনি..ভালো লাগে।
সম্পর্কহীনের দেশে আমি অভাগা সম্পর্কের সূতোয় জীবনের অর্থ খুঁজি, স্বপ্নের সৌধ বানাই।
অনেকে আমাকে মনে রাখার কষ্টটুকু এখনো স্বীকার করছে তাদের জন্য আর তারা যারা আমাকে ভুলে গিয়ে আমার এই প্রবাস জীবনকে অন্যরকম অর্থ দিয়েছেন তাদের সবার জন্য আমার ভালবাসা। সত্যিই পরিসংখ্যান একটি মূর্খ, কারন সে বলছে গত এক বছরে আমি হাতে গোনা এসএমএস তার ও কম সংখ্যক ফোন কল, সমানুপাতিক মেইল পেয়েছি!!আহা এ কথা আমি কাহারে শুধাই??ব্যস্ত সমস্ত জীবনের গতি পথে কার হাতে আছে দু'দন্ড সময়, এ লেখা পড়বার?
এভাবেই দিন আসবে আবার চলেও যাবে...আমরা আমাদের পথগুলোকে ভালবেসে চলতে থাকবো..কোনো এক সন্ধ্যায় নতুন করে পরিচিত হতে যেয়ে পুরনো বন্ধুকে দেখে আজকের এই আমি ই হয়তো বলে উঠবো-
আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে?
কিছুই কি নেই বাকি?
খানিক চুপ থেকে হয়তো বলবে- "রাতের সকল তারাই লুকিয়ে আছে দিনের আলোর গভীরে!!"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

