‘এটা আপনার জন্য না,’ দোকানদারের গলার স্বর গম্ভীর । কী মনে করে রামদাটা নামিয়ে আনল সে, দুই হাতে আমার হাতে নাকের সামনে ধরে হঠাৎ বিকটভাবে ঘোরাতে শুরু করল যণ্ত্রটা।
নিশ্চয় মজা করতে ভালবাসে লোকটা। কিন্তু এরকম একটি অনুমানের উপর ভরসা করে নিশ্চল থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কায়দা করে একটা স্টিলের তাকের আড়ালে গুটিয়ে নিলাম নিজেকে, অন্ততঃ ভুলবশত আহত হবার সম্ভাবনাটুকু এখন আর থাকল না। এক মূহুর্ত মনে হলো, ব্যথিত হয়েছে দোকানদার লোকটা আমার আচরণে; কিন্তু নিমিষেই বদলে যেতে দেখলাম লোকটার অভিব্যক্তি--ক্রোধ ভর করেছে তার দৃষ্টিতে। এতক্ষণে ভালভাবে খেয়াল করলাম লোকটাকে। বিশাল দেহ; আস্ত একটা ষাড়ের মতো দেখাচ্ছিল তাকে--চোখের মণি দু'টো কোটরাগত, লাল--ঠিকরে বেরিয়ে আসবে যেন এখুনি। নির্ঘাত ক্ষেপেছে লোকটা আজ আমার উপর। কিন্তু প্রাণপণে সেলসম্যানসুলভ আচরণ ধরে রাখল লোকটা, নিজেকে সংযত করল। রামদাটা আস্তে করে কাউণ্টারের উপর রেখে হিস হিস করে বলল, ‘কইলামই তো, এইডা আপনার জন্য না!’
রামদার গায়ে মনে হলো কিছু লেখা আছে, ঝুঁকে তাকাতে যেতেই লোকটা খামচি দিয়ে সেটা তুলে নিল। কিন্তু ততোক্ষণে যা দেখার আমি দেখে ফেলেছি। হাতিয়ারটির চওড়া ব্লেডে গাঢ় কালিতে লেখা, ‘এটা আপনার জন্য নয়। এটা শুধু গরুদের জন্য।’
হা হা করে হাসতে শুরু করল লোকটা আমাকে বোকার মতো তাকাতে দেখে, উন্মত্তের মতো রামদা ঘোরাচ্ছে--সাঁই সাঁই শব্দ উঠল বাতাসে। ছিটকে বেরিয়ে এলাম আমি দোকান থেকে, দোকানদারের হাসি তাড়া করে ফিরল আমাকে অনেকক্ষণ। ভয়ে কলজে কাঁপছিল আমার, আর নিজেকে কেবলই স্বান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম এই বলে, বউ যে কথায় কথায় আমাকে গরু ডাকে, এই কথা আর কেউ জানে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


