প্রিয় টেলিমেকাস
ট্রোজান যুদ্ধ
শেষ হলো; ভাবি না জয় হলো কার.
গ্রীসবাসীরা, সন্দেহ নেই, কেবল অগণন শবদেহ
নিজের জন্মভূমি থেকে বহু দূরে ফেলে গেছে।
কিন্তু এরপরও, আমার জন্মভূমির পথ বহু দীর্ঘ বলেই প্রমাণিত।
যখন আমরা সময় নষ্ট করতাম সেখানে, বুড়ো পসিডন,
মনে হতো, সে যেনো প্রায় প্রসারিত ও বিস্তৃত এক দুনিয়া।
বুঝতে পারছি না, কোথায় আছি আমি, কোন এলাকাই বা
হতে পারে এটা। হতে পারে ঝোপঝাড়, ভবন, আর
সারাক্ষণ চেঁচানো শুকরে ভরা আবিল এক দ্বীপ।
আগাছায় উপচানো বাগান; কোন রাণী, বা আর কেউ
ঘাস আর বিশাল পাথর... টেলিমেকাস, প্রিয় সন্তান আমার
ভেসে চলা লোকের কাছে সব দ্বীপের চেহারাই মনে হয়
আরেক দ্বীপের মতো। এবং ভেসে বেড়ায় মন
ঢেউ গুণে গুণে; দৃষ্টি, সমুদ্র-দিগন্তের আঘাতে কাতর,
ছুটে মরে; আর জলের নরোম কামড়ে উপচায় শ্রুতি।
কিভাবে যুদ্ধের শুরু হলো মনেও করতে পারি না;
এমন কি মনে নেই_ তোমারই বা বয়স কতো হলো।
বড় হও, টেলিমেকাস আমার, শক্ত ও সুঠাম হবে তখন।
দেবতারাই জানে ভালো, আমাদের দেখা হবে কিনা
ফের। তুমি তো বহু আগেই আর সেই শিশুটি নেই
যার সামনে আমি হালের বলদগুলোর লাগাম বাঁধতাম।
একি পেলামেদিসের কূটকৌশলের কারণেই নয় যে,
আমরা হয়তো আজও একই সংসারে থাকতে পারতাম।
কিন্তু সে হয়তো ঠিকই ছিলো; আমার থেকে সুদূরে থাকায়
যাবতীয় ইদিপাসীয় ভালবাসার হাত থেকে অনেক নিরাপদ
তুমি, আর তোমার স্বপ্নগুলো, টেলিমেকাস আমার, নিস্কলঙ্ক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

