আমি ঈশ্বরকে হারিয়ে ফেলেছি কবে।
আমার মনোবেদনার ভাষা তাই আর
প্রার্থনা হয়ে ওঠে না। মানুষের অন্তরঙ্গমুহূর্তে
ঝলসে ওঠে লুকানো দাঁতের বিস্ময়। তবে
কোথায় রাখি বিষাদে ডোবা মেঘাচ্ছন্ন
মাথাটি আমার। মৃত্যুর সমান প্রিয়
মানুষেরও আছে লুকানো থাবা ও নখ। যত
ভালোবেসেছি তত সে আমার গভীর
মৃত্যু হয়ে ওঠেছে। তাকে এড়ানোর সাধ্যহারা
এক একা মানুষ আমি। আমাকে সে কবে
হারিয়ে ফেলেছে আর তার
নখের দাগ আমার কপালের ভাঁজে
গলার মাঝে কেমন নির্বাণবিহীন
লেপ্টে গেছে। প্রিয়মানুষের মতো রক্তভুক
প্রাণী আমি আর দেখিনি। আমি তার হাতে
মৃত্যুই চেয়েছি আর সে না মেরে আমাকে
মৃত্যুর অধিক খুন করে রেখে গেছে।
মসজিদ নেই, মন্দির নেই, রাষ্ট্র নেই আমার, আমি
তাহলে কোথায় যাবো। মাটি হারানো, ক্ষুধার্ত
মানুষের কোন্ কাজে লাগে এই ভাষা।
আমার ভাষাও নেই, আমাকে ভালোবাসে না
মৃত্যুও। আমি তাহলে
কোথায় যাবো। বিষাদের দেশ
পার হয়ে আমি জানি যেখানে
পৌঁছাবো সেখানে কেউ নেই, কিছু নেই। আর
অলৌকিক গানে ভরা মহাশূন্যতাকে
নিজের মনে করি না আমি। মাঝে মাঝে
মনে হয়, যা অসম্ভব, যা নেই, তারই
কাঙাল আমি। অথচ সেসবই আজন্ম
অস্বীকারের লড়াই করে চলেছি আমি।
অবিশুদ্ধ মানুষের গভীরে বয়ে চলা
অসম্ভব স্বচ্ছ জলের ঝরনাটুক কেন যে চেয়েছিলাম
আমি। দেখো এই পরিণতি। মেঘাচ্ছন্ন মাথা
রাখার কোল পাইনি আমি কোনোদিন। আর চকচকে
একটা ছুরি আমার হৃদপিণ্ড এফোঁড় ওফোঁড়
করে দিনরাত। আর তা দেখে
রূপ বাড়ে তার, যে মৃত্যুর সমান প্রিয় আর
এই রক্তের ছিট তার চোখে গিয়ে লাগলে সে
দৌড়ে চলে যায় আয়নার কাছে, গর্ব আর রূপ
কতটা বাড়লো দেখতে
আর নিজের মাথাভর্তি কালো আগুনের
লকলকে শিখাগুলোকে আঁচড়ে চলে
পুরোপৃথিবীকে ভুলে। যেন তখনই সে
নিজের আসল ও সেরা রূপ দেখতে পায়
নিজের গভীরে তাকিয়ে। আমি দেখছি আকাশে
মেঘ উড়ছে আর কাশবনে বইছে
বাতাস ও সত্য-ঢেউ। আমি মৌনতাকে
ঘৃণা করি তবু নিজের মৌনতাকে
ভাঙতে পারি না আর। মাথার ভেতর মেঘ
ভাসতে থাকে এ দিগন্ত থেকে ও দিগন্ত অবধি
আর দেখি নিচে কোনো ভূমি নেই।
প্রিয় মানুষকেও হারিয়ে ফেলেছি আমি। কবে নিজেকেও।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

