আমার প্রিয় পোস্ট

একটা জায়গায় ভুল হচ্ছে, বারবার, বারবার......

০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:০০

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রিয় ব্লগার, মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে একটা ঘটনা বলি আপনাকে; এ পোস্টটা লেখার পেছনে যে কয়টা ব্যাপার জোরালো ভূমিকা রাখছে, তাদের মধ্যে এ ঘটনাটা আছে।

সে আজ থেকে আড়াই বছর আগের কথা, ফেব্রুয়ারির অমর একুশে বইমেলা চলছে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্বের আশীর্বাদে প্রায় প্রতিদিনই ঢুঁ মারি প্রাণের মেলায়। সুমন্ত আসলামের “বাউন্ডুলে” নিয়মিত পড়তাম তখন, অসাধারণ আবেগী লেখাগুলো ছুঁয়ে যেতো মন। সেদিন গিয়েছিলাম পার্ল পাবলিকেশন্সে, বাউন্ডুলে কিনতেই; গিয়ে দেখি স্বয়ং সুমন্ত হাজির। খুব যে উচ্ছ্বসিত হলাম তা নয়, অটোগ্রাফও নেই নি (সুমন্তদা কি মাইন্ড করলো একটু?!), ৪২ টাকা দিয়ে বইটা কিনে স্টল থেকে বেরিয়ে এলাম। ঘুরছি ঘুরছি, হঠাৎ মনে হলো, আরে তাইতো, বইটার দাম এতো কম হওয়ার কথা নয় তো! হিসেব করে দেখলাম ৫৬ টাকা আসে; ফিরে চললাম আবার পার্লের দিকে।

ব্যাপারটা সেলসম্যান কে বলতেই লজ্জিত হয়ে ভুল স্বীকার করলেন। আমি বাড়তি টাকা ক’টা দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, পেছন থেকে সুমন্তদা-র ডাক; পুরো ব্যাপারটাই তো দেখেছেন তিনি। ঘুরে দাঁড়ালাম, অতঃপর প্রশংসার ফুল ঝুরি ঝুরি হয়ে পড়লো আমার ওপরে, ফেললেন সুমন্তদা, “আপনার মতো সৎ মানুষই তো দেশটার দরকার + আমি অভিভূত + এ ব্যাপারটা নিয়ে একটা বাউন্ডুলে লিখে ফেলতে হবে- আমাদের দেশে এখনো এরকম মানুষ আছে, কাজেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই + আমরা এরকম দশটা সৎ ছেলে চাই” ইত্যাদি ইত্যাদি...

লজ্জা পাচ্ছিলাম, কারণ ওভাবে ভাবিই নি আমি, টাকাগুলো মেরে দেয়ার কোনোরকম চিন্তাই আসে নি মাথায়; কিঞ্চিৎ গর্বিত হচ্ছিলাম, কারণ সবকিছুর শেষে আমি তো একটা মানুষই। কিন্তু সব অনুভূতি ছাপিয়ে যে কথাগুলো মনে এলো, এক নিঃশ্বাসে বলেই চলে এলাম বিস্মিত সুমন্ত আসলামকে পেছনে রেখে, “দশ জন কেনো, এরকম বা এর চেয়েও ভালো দশ হাজার জন সৎ মানুষ পাবেন আপনি খুঁজলে; লাভ নেই, সৎ মানুষগুলো কোনো কাজে আসবে না দেশের সামগ্রিক উন্নতিতে, যতক্ষণ না রাজনীতির ভেতরে তারা ঢুকতে পারছে। হ্যাঁ, আমরা যতোই আশাবাদী হই না কেনো, এদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকে রাজনীতিবিদদের ওপর নির্ভর করতেই হবে; ওজায়গাটা সততাশূন্য থাকলে ভাঙ্গনের সুর খেলা করবে, সর্বদা এবং সর্বত্র।”

এই হচ্ছে ঘটনা। আড়াই বছর আগের প্রায় ভুলে যাওয়া এ ঘটনাটা হঠাৎ করে জাগরূক হয়ে উঠলো কেনো- প্রশ্ন আসতেই পারে আপনার কাছ থেকে। উত্তরের জন্যে যেতে হবে আমার ক্ষুধা সম্পর্কিত একটি গুরুতর সমস্যা গল্পের পোস্টটায়, এখানে প্রিয় রন্টি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “রিয়াজ শাহেদভাইকে আরেকটা পোষ্টে বলেছিলাম, আমাদের সবার ছোট্ট ছোট্ট অনুভবই আমাদের কাজকে এগিয়ে নেবে, তার এই লেখাটাও এগিয়ে যাবার পথে একধাপ। আমার জানা মতে রিয়াজশাহেদের বয়স খুব বেশী না। আমাদের তরুনরা এভাবে ভাবে...আমরা খুব বেশীদিন আর এমন থাকব না, অবস্থা পাল্টাবেই। আমি আশাবাদী।”

আসলেই, আমাদের মতো আশাবাদী মানুষ পৃথিবীতে খুব বেশি নেই; আশায় আশায় কেটেছে ৩৭ বছর, দেশের সর্বনাশ যা হওয়ার হয়েছে; আশায় আশায় কাটবে আরো কত্তো বছর জানি না, সামনে নতুন কী সর্বনাশ অপেক্ষা করে আছে তাও জানি না। ৩৭টা বছর! “আমি আশাবাদী”, “আমরা আশাবাদী”, “সামনে আসছে নতুন দিন”, “মেঘ কেটে গিয়ে সূর্য উঠবেই”, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবোই”, “আর নয় হানাহানি, আসুন সকলে মিলে সোনার বাংলাদেশ গড়ি”, “হতাশ হওয়ার কিছুই নেই”......................................................................... প্রিয় ব্লগার, এই ৩৭টা বছরে কম করে হলেও ৩৭ কোটি বার উচ্চারিত হয়েছে এ কথাগুলো, বাংলাদেশের মাটিতে। আমি বলেছি, বলেছেন আপনিও। সত্যি করে বলুনতো, সত্যি করে বলুনতো, সত্যি করে বলুনতো, আপনি কি সত্যিকার অর্থেই দেশটার উন্নয়ন (বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েকটা জায়গায় নয়) চান? নাকি শুধু চান নিজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন? কোনোভাবে সেটা হয়ে গেলেই মনে করছেন, দেশের প্রতি আপনার দায়িত্ব পালন করা হয়ে গেলো, কারণ এখন আপনি দেশকে সার্ভিস দিচ্ছেন?

উন্নয়নের নামে আমরা যা করছি তা হলো, দেশটার ক্ষতের ওপর একটা রঙিন প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করছি যাতে ক্ষত ঢাকা পড়ে থাকে; ক্ষত সারানোর কোনো চেষ্টা আমাদের নেই, এমনকি ৩৭ বছরে ক্ষত কতোটা গভীর হয়েছে সেসম্পর্কে সঠিক ধারণাও নেই।

ব্লগার, আপনি কি রাস্তাঘাটে চলার সময় থুতু, চিপসের প্যাকেট, ড্রিঙ্কসের বোতল ফেলেন? বাসায় অকারণে লাইটফ্যান চালিয়ে রাখেন? ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে রাস্তা পার হন? সিগনাল না মেনেই গাড়ি চালিয়ে দেন? আইন থাকার পরও প্রকাশ্যে ধুমপান করেন?

আমি জানি, আমি ভালোভাবে জানি- ফেলেন, রাখেন, হন, দেন, করেন। কারণ আপনার দলে যে আমিও পড়ি! খুবই জরুরী অথচ সামান্য এই নিয়মগুলোই মানতে পারছি না, আমরাই আবার “আশা” করি, একদিন স্বপ্নের দিন আসবে...

আচ্ছা, ধরে নিচ্ছি সবাই আমাদের মতো নন, “দশটা সৎ ছেলে” অনেক আছে আমাদের। কী করতে পেরেছে তারা, এই এত্তোগুলো বছরে? তেমন কিছু যদি করতে পেরে না থাকে, কেনো পারলো না?

রাজনীতির ভেতরে যদি না ঢোকে যৌক্তিক, বৌদ্ধিক, শুদ্ধ আর সঠিক মানুষ, কোনোভাবেই দাঁড় করানো যাবে না দেশটাকে, উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেই ফেলে দেয়া হবে ল্যাং মেরে; ল্যাং মেরে ফেলে দেয়ার লোক এই দেশে প্রচুর। ঘরে বসে “আমি আশাবাদী আমি আশাবাদী” তসবিহ জপে গেলে কচু হাতি ঘন্টা হবে দেশের। চোখে রঙ্গিন চশমা লাগিয়ে বসে আছি, দেখতে পাবো কিভাবে চারদিকে নেমে এসেছে মধ্যযুগের চেয়েও গাঢ় অন্ধকার? ভাবছি কেবল “এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে”, করছি না কিছুই, আশা করে আছি অন্য কেউ শুরু করবে বলে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু উন্নতি দেখে নিজেদের ধন্য ধন্য করছি, ভাবছিও না যে একটা দেশের সামগ্রিক উন্নতি ৩৭ বছরেও না হলে আর কবে হবে।

এ জায়গাটাতেই ভুল হচ্ছে আমাদের, বারবার।

বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যে সবার আগে দরকার রাজনীতিবিদদের “হোমো সেপিয়েন্স” থেকে “মানুষ”-এ রূপান্তরিত হওয়া।

[ সাবধান! এটি একটি আপাদমস্তক বিলাসিতা ও ভন্ডামিপূর্ণ পোস্ট ]

 

 

  • ১৫৬ টি মন্তব্য
  • ১০৮৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪৩ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:০৩
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: পরে পড়ুম
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:০৫

লেখক বলেছেন: সম্ভবত পড়বেন না বিমা ভাই।

২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:০৬
comment by: মানুষ বলেছেন: সে আগুন ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:০৯

লেখক বলেছেন: কোন আগুন? আমি তো পানি দেখতাছি সবখানে।

৩. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:১৮
comment by: আরিফ থেকে আনা বলেছেন: একটানে পড়ে ফেললাম। আসল জায়গা ধরেই টান দিয়েছেন তা হচ্ছে রাজনীতিতে সৎ লোকের বড়ই অভাব।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫

লেখক বলেছেন: :(

৪. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:১৮
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: ভুলের কিছু নাই ।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬

লেখক বলেছেন: ?

৫. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:১৯
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: লেখক বলেছেন: সম্ভবত পড়বেন না বিমা ভাই।

এর মানে কি !! :)
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:২৪

লেখক বলেছেন: সঙ্গে সঙ্গে না পড়লে পরে আর পড়ার সময় পাওয়া যায়না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই...

৬. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:২০
comment by: সঞ্জিব বলেছেন: কি কমু.....
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন: কিছু কইতে হইবো না, তসবিহ জপেন।

৭. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:৩৭
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

অসাধারণ পোস্ট হয়েছে রিয়াজ শাহেদ ।
সত্যিই অসাধারণ ।

আমাদের শুধু ভাবা হয় , করা হয়না কিছুই । তবু, মনে হয়, বদলে যাবো একদিন আমরাও ।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৩৮

লেখক বলেছেন: আচ্ছা এইটা কি পজিটিভ না নেগেটিভ দিকে বদলানো শিপন ভাই?

৮. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ২:৩৯
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: পড়লাম।
০৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: এটি এই পোস্টের সেরা কমেন্ট।

যদিও কমেন্টটি দেখে মনে হচ্ছে অনেকগুলো পয়েন্টেই আপনি আমার সাথে একমত নন, শামীম ভাই।

৯. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ ভোর ৪:২৬
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: এক কথায় চমৎকার লিখেছেন।
আমার মনের কথাগুলো আপনি বলে দিলেন।
আমিও আপনার মতো একজন আশাবাদী মানুষ।
আপনাকে ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:০২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভালো থাকুন আপনিও।

১০. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৪৩
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: রিয়াজভাই, তোমার পোষ্টটা পড়লাম। তোমার মনজগৎে দেশ নিয়ে অনেক চিন্তা তা স্পষ্ট। তুমি প্রতিনিয়তই ভাবছ দেশ নিয়ে। এযে কত ইতিবাচক কিভাবে বোঝাই। তোমার লেখা ধরেই কটা কথা বলতে বড় ইচ্ছে হচ্ছে।
যেমন তোমার বইয়ের ব্যাপারটা, তুমি যেটা করলে তাকি অসাধারন একটা কাজ? তুমি নিজেই বলেছ তানা, কিন্তু আমাদের দেশে তো এই কাজটাও কেউ করে না ভাই, তুমি করেছ...সে জন্যেই তুমি সাধারনের পর্যায়ে পড় না। কেননা আমাদের সমাজে অভাবী( মনের দিক থেকেও) মানুষেরা ওই সততাটুকু দেখানোর শক্তি এখনও অর্জন করতে পারেননি।

আমাদের আশায় আশায় ৩৭ টি বছর কেটে গেছে বলে কি তুমি হতাশ হয়ে যাচ্ছ? কেন যাচ্ছ? ৩৭ বছর একটা মানুষের জন্য অনেক, কিন্তু একটা দেশের জন্য কিছুই না। তারউপর আমাদের দেশটা তো অন্যরকম, আমাদের দেশটাকে কতবার পরিকল্পিতভাবে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হল, ৭১ এ কত জঘণ্যভাবেই না আমাদের সবটুকু বেইজ গুড়িয়ে দেবার চেষ্টা চালানো হল। ৪৭ থেকে ৭১ এ আমাদের দেশকে পিছিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিহয়েছে? স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশের কি অবস্থা ছিল? একটা যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ, পাক শয়তানগুলোর রাক্ষষ থাবায় আমাদের দেশের অবকাঠামো কি ছিল তখন? আমাদের জনসংখ্যা কত ছিল? মনেপড়ে? ৭ কোটি লোকের তখন কতই না দুর্দশা ছিল। আজ কিন্তু আমরা ১৪ কোটিরও বেশী, আজ আমরা কোথায় দাড়িয়ে? আমরা দিগুনবেড়ে গেছি, কিন্তু তারপরেও আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। আমি দ্বিধাহীন কন্ঠেই বলতে চাই আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়েই এগিয়েছি। আমাদের শোষন করে যাওয়া পাকিস্তানকে দেখ, তারা এখন কোথায়? আমাদের চেয়ে খুব বেশী কি ভাল অবস্থানে? নাতো। আমরা সমৃদ্ধ থেকে শুন্য হয়েছি, আবার শুন্য থেকে যাত্রা শুরু করে আবার কিন্তু এগিয়ে গেছি। একসময় পড়তাম সবখানে বাংলাদেশের লোকজন সব অশিক্ষিত, আজ আমরা কলসেন্টার নিয়ে আলোচনায় বলতে পারি, আমাদের দেশের তরুনরা ভালই ইংরেজী পারে, একটু ঘষামাজা করলে তারা অনেক ভাল করবে, আজকেই ব্লগে এক কমেন্টের জবাবে রাগিব হাসান জানালেন টেক্সাসের ভার্সিটি গুলো তে ঝাকে ঝাকে বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, কালকে ব্লগে দেখলাম রাতমজুর আক্ষেপ করে বললেন এমবিএ করার এখন কোন দাম নাই, ফার্মগুলা কেরানী পদেও এমবিএ চায়। এতই এমবিএ হোল্ডার বেড়ে গেছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিট দিতে পারছে না ছাত্রছাত্রীদের। আমরা কি উন্নতি করছি না? এক সাংবাদিকের লেখা থেকে উদ্ধৃত করি 'বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে বিদেশ থেকে আসা অনেক কাজের অর্ডার ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা ভিনদেশে গিয়ে বহু পুরুষের ব্যবসার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, এমনকি শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করছে। চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার শিল্পে একা একাই যেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের আব্দুল মুক্তাদির ৫ বছরের মধ্যে বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন। পিএইচপি গ্র“পের মোহাম্মদ মহসীন চট্টগ্রামকে সিঙ্গাপুর বানাতে পারবেন বলেই নিশ্চিত। ইমপ্রেস গ্র“পের রিয়াজ আহম্মেদ খান স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে শুরু করে এখন উত্তর আমেরিকায় তাদের রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন। বাংলাদেশের কম্পানি রহিমআফরোজ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় যুদ্ধ করে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ব্যাটারি বিক্রির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। এক্মির তানভীর সিনহাও সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে ভারতের মানুষকে বাংলাদেশের ফলের জুস খাওয়াবেনই। অটবি ভারতের বিভিন্ন শহরে নিজেদের শোরুম করে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করে। বাংলাদেশের ওষুধ দেশে দেশে রফতানি হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। আমাদের ক্রিকেট দল পাকিস্তানকে হারায়, ভারতকে হারায়, অস্ট্রেলিয়াকেও হারাতে পারে। আর কত সুখবর চাই আমাদের? অথচ এমন অনেক সুখবর তৈরি হচ্ছে অহরহ। আমাদের অব্যাহত অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রমাণও আছে প্রায় ৭ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে, বিদেশি মুদ্রার রেকর্ড পরিমাণ উচ্চ রিজার্ভের মধ্যে।
বাংলাদেশে এখন কত সংবাদপত্র। বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল, প্রাইভেট রেডিও, অর্ধশতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-ই আলোকিত মানুষ বানাতে নাগরিকের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছেন পাঠাগার। ২০০৭ সালের যে-কোনও সময় আনিসুর রহমান সিনহা হয়ে যাবেন একক মালিকাধীন বিশ্বের বৃহত্তম ডেনিম উৎপাদক। ক্লোজআপ ওয়ানে সঙ্গীতের প্রতিভার অন্বেষণ, পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা, আবাসন শিল্পেও বিকাশ চলছে অভাবনীয় গতিতে। কর্মসংস্থান আর রোজগারের তাগিদে তুষার, গহিন অরণ্য, সুউচ্চ পর্বতমালা কিংবা উত্তাল অথৈ সাগর সবকিছুর ভয়কে জয় করে দুঃসাহসী অভিযাত্রী বাঙালি যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকাসহ পৃথিবীর দিকে দিকে যেন একেকজন কলম্বাস বা ভাস্কো দা গামা।

তাস্বত্তেও আমরা হতাশ কেন হচ্ছি রিয়াজ?

তোমার লেখাতে তুমি লিখেছ, '
ব্লগাররা, আপনি কি রাস্তাঘাটে চলার সময় থুতু, চিপসের প্যাকেট, ড্রিঙ্কসের বোতল ফেলেন? বাসায় অকারণে লাইটফ্যান চালিয়ে রাখেন? ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে রাস্তা পার হন? সিগনাল না মেনেই গাড়ি চালিয়ে দেন? আইন থাকার পরও প্রকাশ্যে ধুমপান করেন?''

এইযে তোমার এ বোধটা, এর অবকাঠামো হয়ে যাবে এত তাড়াতাড়ি ১৫ বছর আগেও আমরা কিন্তু ভাবিনি, এই যে রাস্তা, ওভারব্রিজ, সিগন্যাল এসব আমাদের কাছে বিলাস স্বপ্নই ছিল। আজ তা আমাদের করায়ত্বে, আমরা এখন আরও নিখুত হতে চাই। কিন্তু তারমানে এই না যে আমরা এগোয় নি।

হ্যা , আমাদের ভাল করতে পারেন রাজনীতিবীদরাই। তাদের দোষে আমাদের দেশের অবস্থা এখন অন্যরকম হয়ে গেছে, আরেকটি হযবরল সরকারে এসে দেশের অর্থনীতিকে মোটেই সামলাতে পারছে না। কিন্তু তা বলে আমরা কিন্তু থেমে নেই।

তোমার লেখাটায় নিরাশা দেখে আমার ভাল লাগেনি রিয়াজ। আমরা স্বপ্ন দেখব, কিন্তু নিরাশ হব কেন? আমরা তো অনেক এগিয়েছি, হয়ত আরও ভীষন গতিতে এগুতে পারতাম, কিন্তু যাই এগিয়েছি তাই কম কিসে? আমরা তো পিছিয়ে যাই নি। তাই আমাদের হতাশ হবার কি কারন?

আরএকটা কথা ব্যক্তিগত উন্নতি হলে দেশের কোন লাভ হয় না কথাটা কিন্তু ঠিক না। তুমি যদি উন্নতি কর তাহলেও কিন্তু দেশ এগুবে। তুমি যদি কোটিপতি হও, তবে দেশেও কোটি টাকা যোগ হবে, বিশটা লোকের কর্মসংস্থান হবে।

সবাই নীতিনির্ধারক হয় না। যে যার জায়গা থেকে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের রাজনীতিবীদরা সৎ নন। কিন্তু তারা সময় পেলেন কই? একের পর এক ঝড়ঝন্ঞা তো যায় তাদের উপর দিয়ে? তুমি কি বুঝতে পারছ কেন ৯০ এর গনঅভ্যুথ্থান এর পরে ক্ষমতায় এসে রাজনীতিবীদরা এমন খাই খাই স্বভাব শূরু করলেন? কেননা, তারা তাদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে সন্দেহাতীত ছিলেন না। তাই তারা সম্পদ করে নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন। আজজে তাদের উপরে এত ঝড়ঝন্ঞা, এটা তারা আশংকা করতেন। কিন্তু গনতন্ত্র যদি আরও সময় পেত একটা সময় রাজনীতিবীদদের মন থেকে এই ভাবটা আস্তে আস্তে কমে আসত।

অনেক কথা বললাম। হয়ত অগোছাল হয়ে গেল কথা গুলো। কিন্তু আমি বলতে চাই। দেশটা থেমে নেই। এগিয়ে যাচ্ছে অনেক গতিতে। এখন আমাদের ছোট্ট ছোট্ট কন্ট্রিবিউশন সে গতিকে চুড়ান্ত রুপ দিতে পারে।

তাই হতাশ হওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৩১

লেখক বলেছেন: তোমার সাথে একমত রন্টিদা। আমাকে হতাশাবাদী ভেবোনা কিন্তু; যেখানে আশা করার মতো কিছু দেখতে পাই সেখানে আমি আশাবাদী, আর যেখানে পাই না সেখানে আমি বাস্তববাদী।

তোমার দেয়া উদাহরণগুলো চমৎকার, তবে এসব উদাহরণ সৃষ্টি করার আগে কি রাষ্ট্রের উচিত ছিলো না, তার সব নাগরিকের অন্তত মৌলিক অধিকারটুকুও নিশ্চিত করা, যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকই রাষ্ট্রের এসব উন্নয়নের সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারে? ডাস্টবিনে যখন মানবছানা আর কুকুরছানা কে কাড়াকাড়ি করে খাবার খেতে দেখি, লজ্জায় মুখ লুকিয়ে পালায় না কি তখন, এই তথাকথিত উন্নয়নগুলো? এই একটা দৃশ্যের কাছেই তো হেরে যায় আমাদের সব অর্জন।

এই যুক্তিটা অনেকেরই পছন্দ যে, আমি কোটিপতি হয়ে অন্যের কর্মসংস্থানে সাহায্য করতে পারবো, তাতে তো দেশের লাভই হবে; চরম পুঁজিবাদী চিন্তা, বুঝতেই পারছো। প্রথম কথা হলো বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থায় সৎ পথে থেকে কোটিপতি হওয়াটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার, আর আমি কোটিপতি হলেই যে দেশেরও কোটি কোটি টাকা যোগ হবে, কে বলেছে তোমাকে? বহু কোটিপতি আছে এই দেশে, এতোদিনে তো দেশটার স্বনির্ভর হয়ে যাওয়ারই কথা ছিলো!

উন্নয়নের নামে আমরা যা করছি তা হলো, দেশটার ক্ষতের ওপর একটা রঙিন প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করছি যাতে ক্ষত ঢাকা পড়ে থাকে; ক্ষত সারানোর কোনো চেষ্টা আমাদের নেই, এমনকি ৩৭ বছরে ক্ষত কতোটা গভীর হয়েছে সেসম্পর্কে সঠিক ধারণাও নেই।

ঢাকা শহরের প্রতিটা, হ্যাঁ আমি আবার বলছি, প্রতিটা সিগন্যালে দরিদ্র মানুষের পরিমাণ দেখে ক্ষতের গভীরতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

রন্টিদা, তোমার বলা চমৎকার উন্নয়নগুলো এই মানুষগুলোকে কেবলই বৈষম্য উপহার দিয়ে যাচ্ছে; এজায়গাটাতেই আমাদের ভুল হচ্ছে বারবার। সত্যিকার উন্নয়ন করতে গেলে আগে সবার মৌলিক অধিকারগুলো অন্তত নিশ্চিত করতে হবে।

অনেক ধন্যবাদ তোমাকে, লেখাটা পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্যে।

১১. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৪৪
comment by: পলাশ রহমান বলেছেন:

এই মন্তব্যটি মুছে ফেলা হয়েছে, মন্তব্য করার সময় ব্লগ ব্যবহারের শর্তাবলীর দিকে খেয়াল রাখুন । শর্তাবলী

০৪ ঠা জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: এইখানে কী হইছে?

১২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৪৪
comment by: আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: লেখাটা পড়ে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেলাম। এত অসাধারণ লেখা অনেকদিন পড়িনি তো তাই।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:০১

লেখক বলেছেন: আরে ভাই এইসব "কিছুক্ষণের জন্য থমকে যাওয়া" লেখা জীবনে বহুত পড়তারবেন, আমগো দৌড় ঐটুক পর্যন্তই।

১৩. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ ভোর ৫:১২
comment by: নিলা বলেছেন: আমরা ভুল করি, তবে সেই ভুল থেকে শুধরাতে চাই না। আমরা দেশের উন্নয়ন চাই,তবে দেশের জন্য কিছুই করি না। আমরা আশায় বুক বেঁধে স্বপ্ন দেখি, কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কিছুই করি না।

আমাদের দ্বারা কি কিছুই করা সম্ভব তাহলে?!
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, এইসব নিয়ে পোস্ট লিখে ব্লগ ভরিয়ে ফেলা সম্ভব।

১৪. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ ভোর ৫:৫৯
comment by: হরিসূধন বলেছেন:
আমার কিছুই বলার নাই! আমাদের কথার সাথে কর্মের কোন মিল
নেই। ধন্যবাদ এমন সুন্দর লেখার জন্য।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৫. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ ভোর ৬:৪৬
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: আমার মনে হয় রিয়াজ শাহেদের হতাশার ভিতরও অনেক আশার আলো আছে। উনার মতো আমিও হতাশ হই, আর হতাশা থেকে আবার ভাবতে শিখি।

কষ্ট টা হয় যখন বুঝি কোন অজানা কারনে সহজ অনেক কাজ আমরা দেশের জন্য করিনা, যেমন অন্যের সম্পদ নষ্ট না করা, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা, অন্যের পিছনে না লাগা ইত্যাদি।

আমরা একটুও ভাবিনা, আমার একটা সুযোগ গ্রহন পুরো সিস্টেমটাকেই ব্যাহত করছে। কাল পালাবদলে আমিও তার শিকার হবো।

আর রন্টি ভাইয়ের কথা আর কি বলবো, সবই আমার মনের কথা। ব্যক্তিগত উন্নয়ন করতে তো হবেই, তবে নিয়মের বাইরে না যেয়ে। নেতাদেরকে তো আমাদেরকেই সাহায্য করতে হবে। এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। অস্বীকার করবো না শুভ চিন্তা বাস্তবায়নে আমাদের বাধাগুলো অনেক বেশি আর বহুমুখি।

(একটু ব্যস্ত আছি, ক্লাস আছে। আমার কথাগুলো দয়া করে কেউ উপদেশ হিসাবে নিবেন না। আরো আলোচনা আশা করছি)


০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৫

লেখক বলেছেন: আশা করেন।

১৬. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৪১
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: রিয়াজভাই, একটা পোষ্ট টাইপ করছি, মাঝখানে তোমার কমেন্টটা দেখে কিছু বলতে ইচ্ছে হল, সংক্ষেপে বলি, তুমি লিখেছ''রন্টিদা, তোমার বলা চমৎকার উন্নয়নগুলো এই মানুষগুলোকে কেবলই বৈষম্য উপহার দিয়ে যাচ্ছে; এজায়গাটাতেই আমাদের ভুল হচ্ছে বারবার।'''

দেখ, আমার উদাহরনের একটা জিনিস দেখাই। যেমন সিনহা গ্রুপ। তারা ডেনিম উৎপাদনে এতই এগিয়ে গেছে, যে আমরা এই ইউরোপে বসে দামী যে সব শপে ঢুকতেই ভয় পাই, সেখানে ভুলে ঢুকে পড়লে প্রায়ই দেখতে পাই জিন্সের ভেতরের দিকে লেখা মেড ইন বাংলাদেশ।

তাতে কার কি লাভ, তোমার ভাষায় সিনহারই লাভ কোটিপতি হয়েছে।
কিন্তু তুমি কি ভেবেছ ওই কটা ফ্যাক্টরি তে কতজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে? আজকে গার্মেন্টস নিয়ে আন্দোলন হয় ৪০০০ টাকা নুন্যতম মজুরী চাই। মালিকপক্ষ দেন ১১৪০। ছয়মাসের অভিগ্গতা হলে ২১০০। কাদের দেন? এই যে দশলক্ষ শ্রমিক তারা দশবছর আগে কি করত?
উত্তরটা জানো? তাদের প্রায় সবাই মহিলা কিন্তু। এই প্রশ্নটা ছুড়ে দিলাম তোমার কাছে, ভাব।

আমি কঠিন পুজি বাদী। দেশে গিয়ে একটা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি খুলব। আমার তিনশজন লোক লাগবে। তাতে কি পরিবর্তন হতে পারে বলে ভাব? আরেকটা প্রশ্ন।

আমাদের দেশে কোন বড় পুজিপতি তৈরি হয় নি। একজন মুকেশ আম্বানি বা রতন টাটা আমাদের থাকলে বিদেশের মনোপলি মার্কেটে আমাদের পড়তে হত না। এই যে দেশের উপর একটা ধাক্কা যাচ্ছে তাতে কি হবে জান? দেশে যে টুকু পুজি দেশের মানুষের হাতে ছিল তা চলে যাবে। দেশের পুজির যেটুকু বাজার আমাদের দেশীয় মানুষের হাতে ছিল তা হাতছাড়া হবে।

যাই হোক সে আরেক রকম আলোচনা। হয়ত এখানে খাটে না।
পরে একসময় বলব নে। তুমি ভাল থাকো।
১৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:১৬

লেখক বলেছেন: তোমার দেয়া উদাহরণগুলো সত্যিই প্রমাণ করছে যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, রন্টিদা। আমি কিন্তু এর বিরোধিতা করি না, শুধু একটা প্রশ্ন করে যাই নিজের বিবেকের কাছে- এই উন্নয়নগুলোর সুফল কি সমগ্র দেশবাসীর কাছে পৌঁছাতে পারছি আমরা? কয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারছি? শত শত জনের কাছে? যদি পেরে থাকি, তাহলে আরো হাজার হাজার জনের কাছে কেনো পৌঁছাতে পারছি না?

সেদিন একটা ধনীর সাথে আলাপ হচ্ছিলো; ও আমাকে বলছিলো যে তার বাসায় ২০ জন লোক কাজ করে, এবং এটা দেশের জন্যে ভালো কারণ এতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমি ওকে বললাম, যে লোকটা গ্রামে থেকে চাষবাস করে স্বনির্ভর স্বাবলম্বী হতে পারতো, সে যখন তা করতে না পেরে বাধ্য হয়ে জীবিকার সন্ধানে শহরে এসে আপনার বাসায় কামলা খাটছে, তখন বুঝতে হবে কোথাও কোনো গন্ডগোল আছে।

গারমেন্টস শ্রমিকদের পরিশ্রমের কিছুমাত্র মূল্যও কি দিতে পারছি আমরা? দেশের জন্যে বেশি অবদান রাখছে কে- একজন গারমেন্টস শ্রমিক নাকি বিদেশি মোবাইল কোম্পানিতে কর্মরত এক্সিকিউটিভ? শ্রমিকটিকে যদি দেয়া হয় মাসে ৪০০০ টাকারও কম, কী করে এক্সিকিউটিভটি পেয়ে যাচ্ছে ৪০০০০ টাকারও বেশি? এই বৈষম্য হাজারবার "আশা" করলেও দূর হবে না, আর রাজনীতির বাইরে থেকেও এর সমাধান করা যাবে না; রাজনীতিবিদদের "হোমো সেপিয়েন্স" থেকে "মানুষ"-এ রূপান্তর সেজন্যেই এতো জরুরী দরকার।

দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক যারা, তাদের একটা সিদ্ধান্তে দেশ একলাফে বহুদূর এগিয়ে যেতে পারে, আবার এক ধাক্কা খেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে যেতে পারে। আমরা বাইরে থেকে যতোই চ্যাঁচামেচি করি না কেনো, শেষ পর্যন্ত দেশটাকে (সামগ্রিক অর্থে) এগিয়ে নেয়ার ভার রাজনীতিবিদদের ওপরেই- মোটামুটি এটাই ছিলো আমার পোস্টের মূল বক্তব্য।

রন্টিদা তোমাকে ধন্যবাদ; একটু ব্যস্ত আছি, মন্তব্যের জবাব দিতে দেরি হচ্ছে তাই।

১৭. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪০
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: এক্সিকিউটিভ আর শ্রমিক দুই জিনিসে অনেক পার্থক্য। আবেগে না ভেসে একটু বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যাহোক তোমার পোষ্টের মুল বক্তব্য এটা ছিল না। তাই আলোচনা কন্টিনিউ করে লাভ নেই।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৩৭

লেখক বলেছেন: না না তোমারে কন্টিনিউ করতেই হইবো, কমেন্টের বন্যা বওয়ায়া দিমু! :)

১৮. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ৯:২৪
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: সত্যিকার উন্নয়ন করতে গেলে আগে সবার মৌলিক অধিকারগুলো অন্তত নিশ্চিত করতে হবে।

----------------------------------------

রিয়াজ ভাই, আমি মনে হয় আপনার চাওয়াটা কিছুটা বুঝতে পারছি।

যদি আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, বেতন বৈষম্য কম এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্হান, সকলের সীমার ভিতর বাজার দর এগুলো নিশ্চিত করি, তবে হানাহানি কমবে। উন্নতি হবে স্বাভাবিক গতিতে।

এমনটাই কি?

কোরিয়াতে সর্বনিন্ম ১০০০ ডলার থেকে ১৫০০০ ডলার বেতন ও আছে।
আবার আছে ধনী ব্যবসায়ীও। কিন্তু সব নাগরিক সুযোগ বাসায়, অফিসে কিংবা সমাজে কিন্তু একজনের ৬০০ ডলারেই হয়ে যায়। বাড়তি সুবিধার জন্য বাড়তি কিছুর চিন্তাকরে এরা।



০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৩২

লেখক বলেছেন: ভাই আমি এই বিশাল পোস্টে প্যাঁচায়া-ট্যাঁচায়া যেই কথাগুলি কওয়ার চেষ্টা লইছিলাম আপনে তো দেখি মাত্র কয়েক লাইনেই তা বাইর কইরা আনলেন! কেমনে কী?

১৯. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ১০:০৭
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: আসিফ ভাইয়ের কমেন্টটা খুব সত্যি।
আমাদের দেশকে আস্তে আস্তে ওই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। যাতে তাদের জীবনধারনের জন্য নুন্যতম সংস্থানটুকু হয়ে যায়। সেজন্যে দেশের অর্থনীতি ঠিক রাখতে হবে। সেখানে রাজনীতির বড় ভুমিকা। দেশে তো এখন তা নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অর্থনীতি অনেক বেশামাল হয়ে পড়েছে। মানুষ ওই অবস্থায় পৌছানো থেমে গেছে প্রায়। তবে এই অবস্থা সাময়িক। পাল্টে যাবে।

অর্থনীতির বিকাশ হলেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, আয়ও বাড়বে। উদ্যোক্তা বড় হলে আর সংখ্যায় বাড়লে তা এর জন্যে সহায়ক হবে।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৪১

লেখক বলেছেন: রন্টিদা, শুধু এটা মনে রেখো আজ ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ১০:০৭ মিনিটে এই কথাগুলো বললে তুমি!

আসলে কি জানো, ক্ষুদ্রদের অধীনে বাস করতে করতে আমরাও ক্ষুদ্র হয়ে গেছি।

তুমি ভালো থেকো (তাহলেই চলবে হা হা হা!)।

২০. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৪০
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: তাই নাকি? একটু লজ্জা পাইলাম। :)

আসলে নিজে লিখলে অনেক সময় সরল করা যায়না।

পাঠক সেটা পারে, এটাই ব্লগের প্লাস পয়েন্ট।

আপনি তো তাও লিখেছেন, আমি তো লিখতেও পারিনি।

তবে আপনার পয়েন্ট ধরতে পেরেছি এটাই শুকরিয়া।

কারন আমার নিজের মনে হয়, দেশে কয়জন বিশাল ধনী আছে, সেটা জানা আমার দরকার না। সে হয়ত ১ লাখ টাকা দামের ওয়াশিং মেশিন ইউজ করবে, আমি হয়তো করবো ২০ হাজারের টা। কিন্তু করতে যেন পারি। আমিও যেন সহজেই সুবিধাটা ছুঁতে পারি।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: তথাস্তু!

২১. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:০৬
comment by: (অ)গাণিতিক বলেছেন: তারপরও আমি আশাবাদী!!
একটা দেশের ইতিহাস হিসেবে ৩৭ খুবই কম সময়। হয়তো আমাদের জীবনে আশাপুরন হবেনা। অবে আরো অনেক আশাবাদী মানুষ তৈরিকরতে চাই। আশাবাদী করতে চাই শিশুদের! তারাতো শুদ্ধতম অবস্থায় জন্ম নেয়। শুধু খেয়াল রাখতে হবে যেন তাদের মনজগৎকে কেউ যেন পঙ্কিল করে না দেয়।

আমরা হয়তো ধ্বংস করতে পারবো না ঋনাত্বক শক্তিকে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করলেই তাদের নপুংশক করে ফেলতে পারবো। যাতে তারা আর বিষিয়ে দিতে না পারে আর কোন শিশুর মন। নিস্পাপ কোন শিশু যেন জঙ্গি দের খাতায় নাম না লেখায়, নাম না লেখায় অইসব লোকের সাগরেদের দলে!!
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: এই কথা? তাইলে তোমারেও রন্টিদার কমেন্টের জবাবটা দিলাম।

মনে রাইখো আমি কিন্তুক হতাশাবাদী না। যেই জাগাটায় আমরা বারেবারে ভুল করতাছি তা হইলো- এই যে তুমি এত্তোডি পরিকল্পনা করলা, আমগো রাজনৈতিক চরিত্র ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এইগুলার বাস্তবায়ন আমরা কস্মিনকালেও করতারুম্না।

এহন কও রাজনীতি করবানি।

২২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৪
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: রিয়াজের কথা যদি হয় রাজনীতিতে ঢোকা, তাহলে বলব ঢোকা উচিত। সবার ঢোকা উচিত।
০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৭

লেখক বলেছেন: তোমারে একটা কাহিনী কই- একদিন রাইতের বেলা তিনটা দেশপ্রেমিক লোক হাঁইটা যাইতাছিলো। এরা সবাই দেশের বর্তমান অবস্থা লয়া বেশ আশাবাদী, দেশ আগায়া যাইতাছে তরতরায়া। হাঁটতে হাঁটতে তারা দেশের উন্নতির লাইগা কী কাজ করা উচিত সেইটা একটা একটা কইরা বাইর কইরা হেভী আলুছানা করলো, একজন একটা প্ল্যান বাইর করে আর বাকি দুইজন তোফা তোফা কয়া স্বাগত জানায়, দেশের উন্নতি আর ঠেকায় কিডা!

তারপরে যে যার বাসায় চইলা গেলো ঘুমাইতে।

২৩. ০৪ ঠা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৫
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: আমি রাজনীতি বুঝিনা