somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোবাইল টিজিং : আমাদের ভেতরের আরেক অন্ধকার

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে ভাবি, মোবাইল না থাকলে কী হতো। গভীর রাতে যাদের সাথে কথা বলি, তাদের সাথে আদৌ যোগাযোগ হতো কি? কী প্রয়োজন ছিলো কথোপকথন যন্ত্রের? মোবাইল কি মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়নি? নাকি কমেছে? চিঠি কী খারাপ ছিলো? এরচেয়ে বরং... ঘুম আসে না যখন জেগে থেকেই দুঃস্বপ্ন দেখি।

মোবাইল টিজিং বর্তমানে এত বেড়েছে যে এর প্রতিরোধ জরুরী। না-কি এর প্রতিরোধ নেই? আছে। অবশ্যই আছে। কেননা, বরাবরের মতো এর শিকার মেয়েরা। এর শিকার আমাদের বোনেরা। প্রিয়জন কিংবা তার মতোই দেখতে আরেকজন...

আগের একটা ঘটনা বলি। এক বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে গিয়েছি। তখন ডিজিটাল ক্যামেরা সবার হাতে হাতে মুড়ি-মুড়কির আসেনি। কিছু বখাটে ছেলে ক্যামেরা দিয়ে শিকার করতে চেষ্টা করছে। সেখানে আমার বোনও আছে। এগিয়ে গেলাম। বললাম, বাইরে গিয়ে ছবি তুলেন। এইখানে আপনাদের কাজ কী ? আমার প্রশ্নে তাদের চোয়াল হাঙরের মতো শক্ত হয়ে গেল। কেউ তাদের কিছু বলবে এটা তারা গেজ করতে পারেনি। আমি আবারো বললাম, বাইরে দাঁড়ায় ছবি তুলো। এইখানে কীসের ছবি তুলতেছো? তারা বাইরে গেল এবং অন্য কিছু ছেলের সাথে শলা-পরামর্শ চালাতে লাগলো। এদিকে আমি রাগে কাঁপছি। ক্লাস সেভেনে পড়ি। বয়সের চেয়ে শরীরের বাড় বেশি...

রিসেন্টলি সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। পার্থক্য, এই ছেলে অতি কৌশলে মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলছে মেয়েদের। দূর থেকে। অনেকের মনে হতে পারে ? আমার এত কীসের মাথা ব্যথা ? ওরা যা-ইচ্ছা তাই করুক তাতে আমার কী?আমি থাকি আমার মতো। কাপুরুষ হয়ে। লম্পট হয়ে। মেয়েদের ছবি তুলে ইন্টারনেটে ফ্ল্যাশ করি। ফোন নাম্বার কালেকশন করে ছড়িয়ে দেই বন্ধুদের হাতে হাতে। এটাও একটা বাণিজ্য। ডিজিটাল বাণিজ্য। সারা বিশ্বজুড়ে চলছে পর্ণোগ্রাফির রমরমা ব্যবসা। হট এমএমএস, নগ্ন ছবি, সুপার ইম্পোজ - এইসব নগ্ন স্রোতে নিজেদের নিশ্চিহ্ন করছি আমরা। অথচ আমরা তো হায়েনাদের হাত থেকে ছিনিয়ে এনেছিলাম সোনালি সূর্য। ৩৭ বছর পর বিজয় দিবসের দিনে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দূর থেকে ছবি তুলছে এক লম্পট বখাটে। এগিয়ে গেলাম। কাছে ক্যামেরা মোবাইল না পাওয়ায় করতে পারলাম না কিছুই... এখন পড়ি ইন্টারমিডিয়েট...

আমার সাথে তার পার্থক্যটা কোথায় ? আমিও কী কাপুরুষ নই?আমার কী করা উচিত ছিলো আর আমি কী করলাম! সামান্য ধমক দিয়ে ছেড়ে দেয়াটা কী এমন ইঁচড়ে পাকামো?অবশ্য সাথে মা ছিলো। করলে তিনি এগিয়ে যেতেন এবং ইন্টারফেয়ার করতেন। উল্টো আমি লজ্জা পেতাম। আমাকে থ্রেট করা হতো। এত কীসের ভয়? কীসের লজ্জা? অন্যায়ের কাছে কেন এত সব অনুতপ্ততা?

ভালো লাগে না কিছুই। প্রযুক্তির উল্টো ব্যবহার করে মেয়েদের কী ক্ষতিই না করছি আমরা... যু্বসমাজ!
১১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×